ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? মারিয়ানো রাখয়ের বর্ণবাদী মন্তব্যে যা বললেন স্পেন ডিফেন্ডার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেক্সিকোতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ নিহত ১০ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন প্রস্তাব দিলো ইইউ হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধস, ৯ শ্রমিক নিহত ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই ৩৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলো ২০২৬ বিশ্বকাপ অধরা স্বপ্ন পূরণের মিশনে কেইন রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের সন্তানদের বিয়েতে সহায়তা তাপমাত্রা নীতিমালা নিয়ে আলোচনায় ফিফা ও ফিফপ্রো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদ ১১ বন্যা পরিস্থিতিতে যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধামরাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু, আশঙ্কায় স্থানীয়রা দাউদকান্দিতে বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান পেল সরকার শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণের চালান আটক বন্যায় মজুত পর্যাপ্ত হলেও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে সারাদেশে নারীসহ ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু নেপালে জেন-জিদের রোষানলে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

মাত্র তিন ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরী। রেকর্ড ১০৭ মিলিমিটারের আকস্মিক বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে ভেজা শরীর নিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে নগরীর কয়েকটি কন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের। এছাড়া কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষেরাও। 

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগেও পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে নগরর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় যান চলাচল। জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমে। অনেক পরীক্ষার্থী আবার নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছান।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুস সালাম জানান, কিছুই করার নেই। মেয়েকে নিয়ে এসেছি, কোমর ভিজিয়ে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এতক্ষণ ভেজা শরীর নিয়ে বসে কেমন পরীক্ষা দিবে জানি না। তার উপর রিকশা অটো কিছু নাই। চাঁনপুর থেকে আধাপথ হেঁটেই এসেছি।

কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নিতে দেখা গেছে। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা যেন দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হয় এজন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোর থেকেই তারা কাজ করছেন। 

অতিভারী বর্ষণে নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জহির শান্ত/অন্তরা/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা। ছবি: খবরের কগজ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন কালন্দি খালে পানি বেড়ে বন্দরের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে ভারতের ত্রিপুরা থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। কয়েকটি ঘর-বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বন্দরের কালন্দি খালের পানি বাড়ার ফলে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তবে পানি এখনও বন্দরের মূল সড়কে না উঠায় যাত্রী পারাপার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে ঢলের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকলে স্থলবন্দর সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, এখনও পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে ৷ তবে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/আজহার/

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি তার দায়িত্ব বুঝে নেন এবং সকাল ৯টা থেকে অফিস করেন বলে বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা।  

জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায়। তিনি দেওয়া গ্রামের গোলাম মাওলা চৌধুরীর সন্তান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ জুলাই তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের ডিসি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে, ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যেতে হয় তাকে।

তারও আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। তিনি ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শাকিলা ববি/থিওটোনিয়াস/

প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
আখাউড়া উপজেলার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ
ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আবারও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সেরা হয়েছে।
 
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয়টির ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন বৃত্তি পেয়েছে। এ ফলাফলের ভিত্তিতে 
বিদ্যালয়টি উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন ট্যালেন্টপুল এবং ১২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো-ফাহমিদা জান্নাত নওরিন, আফনান রহমান নিহা, রাকাত মনি, মো. রাইয়ান ইসলাম ও আসোয়াত ইসলাম তাফসির।
 
সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে জাকিয়া সুলতানা, রাইসা নূর, মারিয়াম নূর ইন্তু, শতাব্দী পাল, রিতু আক্তার, সামিরা আক্তার, সোনিয়া আক্তার, নাদিয়া আক্তার লিমু, অর্পিতা ঘোষ বৃষ্টি, মো. তাসকিন আহমেদ, ওমর ফারুক পরশ ও জারিফ ইসলাম।
 
এর আগে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। সে সময় ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নয়জন ট্যালেন্টপুল ও ১০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। ওই ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি উপজেলা ও জেলা-উভয় পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।
 
এ ছাড়া করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে। একই বছরে চারজন ট্যালেন্টপুল ও ছয়জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়। তখনও বিদ্যালয়টি উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে।
 
করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আয়োজিত পরীক্ষায় আগের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল।
 
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল কৃতিত্ব শিক্ষার্থী ও তাদের সচেতন অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই এ সাফল্য এসেছে। শিক্ষক হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। প্রতিদিনের পাঠদানের পাশাপাশি বিশেষ ক্লাস, সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা, বাড়িতে পড়াশোনার নিয়মিত তদারকি এবং মাসে অন্তত একটি অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেছি। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা পড়ার রুটিন তৈরি করে তা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত খোঁজ নিয়েছি।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়গুলোকেও এ সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
 
 জুটন বণিক/আজহার/

হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অবকাঠামো, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক হিসাবে  জেলাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত শত কোটি টাকার বেশি।

কৃষি খাত

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলার ৯ উপজেলায় ১হাজার ২৫৯ হেক্টর জমি আউশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট আবাদি আউশ জমির প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়াও ৬৮৫ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ১৫০ হেক্টর। আর ৬৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ২৩৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষকের ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দ্বীপ কুমার পাল বলেন, ’প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিরূপণ করা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নামার পর শতভাগ ক্ষতির চিত্র জানা যাবে।’

মৎস্য ও প্রাণী খাত

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিন উপজেলায় অন্তত ১ হাজার ১০০টি মাছের খামার ও পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে ভেসে গেছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাছ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক পোল্ট্রি খামারি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার কারণে নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন গো-খাদ্য। ফলে কমেছে ডিম ও দুধের উৎপাদন। জেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ টন দুধ ও ১০ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও বন্যার কারণে দৈনিক দুধ উৎপাদন ২৫ টন। ডিম উৎপাদন নেমে এসেছে ৯০ হাজার পিসে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে উৎপাদিত ডিম, দুধ ও মাংস জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরে সরবরাহ করা হয়। তবে বন্যার কারণে বর্তমানে জেলার চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অসংখ্য উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

অবকাঠামো খাত

বন্যার কারণে সম্প্রতি সংস্কার করা হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও সম্পূর্ণ ক্ষতির চিত্র জানা যায়নি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ৬ হাজার ৪৪৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা তালিকা তৈরি করা শুরু করেছি। ৪-৫ দিনের মধ্যেই ক্ষতির চিত্র নিরূপণ করা সম্ভব হবে। তালিকা তৈরি শেষ হলে আমরা সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। পর্যাক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া শুরু হবে।

কাজল সরকার/খাদিজা ‍রুমি/

রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন সালাউদ্দিন টুকু/ খবরের কাগজ

সরকার রাজশাহীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানাকে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিক মানের সাফারি পার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আলোকে চিড়িয়াখানাটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে পার্কটির ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি ধ্বংসের মুখে পড়ে। বর্তমান সরকার এ অবস্থার পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।'

তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ দল রাজশাহীতে এসে চিড়িয়াখানাটিকে আধুনিক সাফারি পার্কে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

চিড়িয়াখানা থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা অন্যত্র স্থানান্তর করা প্রাণীগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে নতুন প্রাণী সংযোজনের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ ও জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ করা হবে।'

পার্কে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্যসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত হরিণ থাকায় খাদ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবেশসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।'

রাজশাহীতে আধুনিক স্লটারিং হাউস বা মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস বাজারজাত নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনায়েত করিম/তামান্না রুপা/