অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের আকস্মিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন জনপদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে কিছু দুর্গম এলাকায় সময়মতো চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাস্তব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বন্যা পরিস্থিতিতে বেশকিছু প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বেশকিছু বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বন্যা পরিস্থিতিতে সাপের কামড়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও সরবরাহ দপ্তরে (সিএমএসডি) ১ হাজার ভায়াল এবং মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার ভায়ালসহ মোট ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাইপলাইনে থাকা আরও ২৫ হাজার ভায়াল ভেনম এসে পৌঁছাবে।
পানিবাহিত রোগ ও ডায়রিয়া মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে বর্তমানে ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট ওআরএস বা খাবার স্যালাইন এবং ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন মজুদ আছে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার (সিএমএসডি)-তে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন সংরক্ষিত রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে সর্বমোট ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) কাছে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত ট্যাবলেট মজুদ আছে। ইতিমধ্যে দুর্গত এলাকায় ৭ লাখ ২৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রসবকালীন জটিলতায় আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীদের সঙ্গেও সার্বিক সমন্বয় করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয় শিবিরগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ বা সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন হটলাইন ১৬২৬৩ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮।
জয়ন্ত সাহা/এএফ