ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে সারাদেশে নারীসহ ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু ধামরাইয়ে শ্বশুরবাড়ির সামনে জামাইয়ের আত্মহত্যা অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য ব্র্যাক-লেগো ফাউন্ডেশনের ‘স্প্ল্যাশ’ উদ্যোগ পারিশ্রমিকে কফি ডেট থেকে ট্যুর, ভাইরাল ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ মূল্যতালিকা কুমারখালীতে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ স্পেনকে ভয় নয়, সমীহ করছে ফ্রান্স ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য আগামী ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা নাটোরে ১ কিমি রাস্তায় তিন ভাঙা, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে ইসকনের ৯ দিনব্যাপী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ফরাসি দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, নিন্দার ঝড় পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’ বিশ্বকাপে ভিএআর সুবিধাভোগী আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো, খেসারত দিলো ক্রোয়েশিয়া-ইরান দুই দিনের ব্যবধানে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু আর্জেন্টিনার সাফল্যকে অস্বাভাবিক বললেন মেসি পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার হাতিয়ায় পানিবন্দিদের পাশে ছাত্রদল গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট গোপালগঞ্জে ১২ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির পোনা জব্দ চাঁদাবাজির মামলায় কথিত সাংবাদিক শফিকুলসহ ৩ জনের কারাদণ্ড মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত

অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অনন্য বরকতময় নিয়ামত। বৃষ্টির পরশ পেয়ে মৃতপ্রায় পৃথিবী নতুন জীবন ফিরে পায়, জমিতে ফসল ফলে এবং মানবজাতিসহ সমস্ত জীবকূল বেঁচে থাকার রসদ পায়। এই ঐশী নিয়ামতের বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আমি আকাশ থেকে বরকতময় বৃষ্টি বর্ষণ করি, অতঃপর তা দ্বারা বাগান শস্যদানা উৎপন্ন করি। (সুরা কাফ, ৯)

তবে মাঝে মাঝে এই নিয়ামতই অতিবর্ষণ, বন্যা বা জলাবদ্ধতার রূপ নিয়ে আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে, যা মানুষের জন্য পরীক্ষা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের করণীয় কী, তা ইসলাম স্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছে। নিচে বিষয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল আলোচনা করা হলো:

. ধৈর্য ধারণ আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি, ফসল বা জানমালের ক্ষতি হলে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।(সূরা বাকারা, ১৫৫)

বিপদের সময় মুমিনের কোনো লোকসান নেই, যদি সে ধৈর্য ধরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের পুরো জীবনটাই চমৎকার। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর, যা মুমিন ছাড়া অন্য কেউ পায় না। সে যখন সুখের দেখা পায় তখন শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যখন কোনো বিপদে পড়ে তখন ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসনাদে আহমাদ)

. সুন্নাহ সম্মত দোয়া ইস্তিগফার

বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নাত। সাধারণ বৃষ্টির সময় তিনি বলতেন, আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এই বৃষ্টিকে আমাদের জন্য মুষলধারে বর্ষিত কল্যাণকর বৃষ্টি বানিয়ে দিন। (সহিহ বুখারি)

আবার বৃষ্টি যখন অতিবৃষ্টিতে রূপ নিত এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন রাসুল (সা.) আল্লাহর দরবারে এই দোয়া করতেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুত্বনিল আউদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার,

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকা বনাঞ্চলে এই বৃষ্টি ফিরিয়ে নিন। (সহিহ বুখারি)

. ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো

যেকোনো সংকটে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। অতিবর্ষণ বন্যার কারণে বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সামর্থ্যবান মুমিনের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তায়ালাও ততক্ষণ সেই বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন। (সুনানে আবু দাউদ)

. দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাসেবী হওয়া

যাদের শারীরিক সামর্থ্য শক্তি আছে, বিশেষ করে তরুণ সমাজের উচিত এই দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভূমিকা রাখা। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন পরিষ্কার করা, ভেঙে পড়া গাছ রাস্তা থেকে সরানো বা আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে মনের সুখে বিচরণ করতে দেখেছি, কারণ সে রাস্তা থেকে এমন একটি গাছ কেটে সরিয়েছিল যা মুসলিমদের যাতায়াতে কষ্ট দিচ্ছিল। (মুসলিম)

. সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একশ্রেণীর মানুষ আতঙ্ক ছড়াতে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করে। কেউবা আবার ভিউ লাইকের আশায় মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করে, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা বা ছড়ানো যাবে না। বিষয়ে মহান আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, হে মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তবে তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও। যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়। (সুরা হুজুরাত, ৬)

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের সমস্ত ক্ষমতার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই দুর্যোগের এই মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সাধ্যমতো মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

       

আজ ১৩ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (১৪ জুলাই)

.৫৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা
সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সদকা, আল্লাহু আকবর বলা সদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়। সুতরাং সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

বিয়েতে কুফুর গুরুত্ব

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বিয়েতে কুফুর গুরুত্ব
সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সমাজ, সভ্যতা কিংবা জনপদ টিকে থাকার মূল ভিত্তি হলো পরিবার। আর পরিবার গঠিত হয় বিবাহের মাধ্যমে। বিবাহ আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বর্তমান সমাজে দাম্পত্য জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, কিছু পরিবার শান্তি, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় পরিপূর্ণ; আবার কিছু পরিবার অভিযোগ, মতবিরোধ ও অশান্তিতে জর্জরিত। এর অন্যতম কারণ হলো বিবাহের আগে কুফু বা সামঞ্জস্যতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করা।

কুফু বজায় রেখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে দাম্পত্য জীবন সহজ, সুন্দর ও টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কুফু শব্দের অর্থ সামঞ্জস্যতা, সমতা বা পারস্পরিক উপযুক্ততা। বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর ও কনের মধ্যে ধর্মীয় জীবন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকাকে কুফু বলা হয়। তবে ইসলামে দ্বীনদারিতা ও উত্তম চরিত্রকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বংশধরদের জন্য উত্তম নারী নির্বাচন করো, সমতা (কুফু) বিবেচনায় বিবাহ করো এবং সমপদস্থদের কাছে বিবাহ দাও।’ (ইবনে মাজাহ, ১৯৬৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যখন এমন কোনো ব্যক্তি তোমাদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীনদারিতা ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয়, তখন তার সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করো। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি, ১০৮৪)

বিবাহের ক্ষেত্রে এক পক্ষ যদি দ্বীনদার হয়, তবে সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের ছাপ দেখতে চাইবে। অন্যদিকে অপর পক্ষ যদি ধর্মীয় অনুশীলন থেকে দূরে থাকে, তবে সে ইসলামি সীমারেখা মেনে চলতে অনাগ্রহী হতে পারে। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, মানসিক দূরত্ব ও অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ধর্মীয় জীবনে সামঞ্জস্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর ও কনের ধার্মিকতা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি বংশীয় ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব সামঞ্জস্য থাকা ভালো। কারণ, এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য থাকলে কখনো কখনো ভুল বোঝাবুঝি ও মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, যা দাম্পত্য জীবনকে তিক্ত করে তোলে। সমমর্যাদার পরিবারে বিবাহ হলে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয় এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে।

এছাড়া ইমাম শাফেয়ি (রহ.) আর্থিক সামঞ্জস্যতার গুরুত্বও স্বীকার করেছেন। আর্থিক অবস্থার কাছাকাছি মিল থাকলে জীবনযাত্রার ধরন, ব্যয়াভ্যাস ও প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে, যা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। যখন অর্থনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে, তখন সংসারে স্বচ্ছতা, স্বস্তি ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা সহজ হয়।

লেখক: শিক্ষার্থী

আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাহাবিদের গল্প-০৮ এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা
মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস ‘রুমা’ নামের একটি কূপ।

হিজরতের পর মদিনা। নতুন শহরে মুহাজিরদের সবচেয়ে বড় কষ্টসুপেয় পানি নেই। মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস ‘রুমা’ নামের একটি কূপ, যার মালিক পানি বিক্রি করত চড়া দামে। দরিদ্র মুসলমানদের জন্য প্রতিটি ঢোক পানি যেন বিলাসিতা।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করলেন, ‘কে রুমার কূপটি কিনে মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে, জান্নাতে এর চেয়ে উত্তম বিনিময়ের প্রতিশ্রুতিতে?’

এগিয়ে এলেন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু। নিজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ব্যয় করে কূপটি কিনলেন এবং ধনী-গরিব-মুসাফির সবার জন্য বিনামূল্যে খুলে দিলেন। বহু বছর পর, খলিফা থাকা অবস্থায় বিদ্রোহীরা যখন তার ঘর অবরোধ করল, তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আল্লাহর কসম দিয়ে বলছিতোমরা কি জানো না, আমি আমার মূল সম্পদ দিয়ে রুমার কূপ কিনে মুসলমানদের জন্য দিয়েছিলাম, আর আজ তোমরা আমাকে সেই কূপের পানি পান করতেই বাধা দিচ্ছ?’ উপস্থিত সবাই স্বীকার করেছিল, ‘হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!’ (জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৭০৩)

ইসলামের ইতিহাসবিদরা এই কূপকে বলেন প্রথম বড় ‘ওয়াকফ’গুলোর একটিএমন দান, যা দাতার মৃত্যুর পরও প্রজন্মের পর প্রজন্ম সওয়াবের ঝর্ণা হয়ে বইতে থাকে। ভেবে দেখুন, আজও মদিনায় ‘বিরে উসমান’ নামে কূপটি আছে; ১৪০০ বছর ধরে একটি দানের সওয়াব জমা হচ্ছে এক ব্যক্তির আমলনামায়!

আমরা দান করি, কিন্তু প্রায়ই তা মুহূর্তের দান; একবেলার খাবার, এক ঈদের কাপড়। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু শেখালেন দূরদর্শী দান; এমন কিছুতে বিনিয়োগ করুন. যা বছরের পর বছর মানুষের কাজে লাগবেনলকূপ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, গাছ। মৃত্যু আপনার আমল থামিয়ে দেবে, কিন্তু সদকায়ে জারিয়া থামবে না।

হে আল্লাহ! আমাদের এমন দানের তৌফিক দিন, যার সওয়াব কবরে শুয়েও আমাদের আমলনামায় জমা হতে থাকবে। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড
ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতির আত্মিক ও জাগতিক কল্যাণের জন্য অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হলো পবিত্র কোরআন। আধুনিক চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞান আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ঘোষিত কোরআনি নির্দেশনার যে অনন্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে, তা এক বিস্ময়কর সত্য। কোরআন কেবল ধর্মীয় বিধিনিষেধের গ্রন্থ নয়, বরং এতে সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবনধারার একটি নিখুঁত ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল হালাল বা বৈধ হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়নি, বরং এর সঙ্গে ‘তৈয়্যিব’ বা পবিত্র, বিশুদ্ধ ও গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট হওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও তৈয়্যিব (পবিত্র/উৎকৃষ্ট), তা থেকে তোমরা আহার করো। (সুরা বাকারাহ, ১৬৮)

পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় তৈয়্যিব হলো এমন খাদ্য যা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত এবং শরীরের জন্য সম্পূর্ণ উপকারী। অর্থাৎ, প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই কোরআনের মূল বার্তা। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থূলতা এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে সৃষ্ট রোগব্যাধি (যেমন–ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ)।

কোরআন এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সমাধান দিয়েছেন, তোমরা খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ, ৩১) বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বা পরিমিত আহার কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে, যা এই আয়াতে প্রতিফলিত। পবিত্র কোরআনে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট খাদ্যের উল্লেখ রয়েছে, যা আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীদের কাছে সুপারফুড হিসেবে সমাদৃত

মধু: সুরা আন-নাহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে মধুকে ‘মানবজাতির রোগ নিরাময়কারী’ বলা হয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞান বলে, মধুতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

খেজুর: সুরা মারিয়ামে প্রসববেদনার সময় হজরত মারিয়াম (আ.)-কে খেজুর খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞান বলছে, খেজুরে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার জরায়ুর পেশিকে সচল করে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

জলপাই ও ডালিম: কোরআনে জলপাই (অলিভ) এবং ডালিমের ঔষধি গুণের প্রশংসা করা হয়েছে। আধুনিক কার্ডিওলজি নিশ্চিত করেছে যে, অলিভ অয়েলে থাকা ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

আল কোরআন মানব শরীরকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করে। এর সঠিক সুরক্ষায় পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশেষে বলা যায়, পুষ্টিবিজ্ঞান আজ গবেষণার মাধ্যমে সুস্থতার যেসব সূত্র আবিষ্কার করছে, আল কোরআন ১৪০০ বছর আগেই মানবজাতিকে সেই ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাসের পথ দেখিয়ে রেখেছে।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রাজবাড়ী