মানবজাতির আত্মিক ও জাগতিক কল্যাণের জন্য অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হলো পবিত্র কোরআন। আধুনিক চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞান আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ঘোষিত কোরআনি নির্দেশনার যে অনন্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে, তা এক বিস্ময়কর সত্য। কোরআন কেবল ধর্মীয় বিধিনিষেধের গ্রন্থ নয়, বরং এতে সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবনধারার একটি নিখুঁত ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল হালাল বা বৈধ হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়নি, বরং এর সঙ্গে ‘তৈয়্যিব’ বা পবিত্র, বিশুদ্ধ ও গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট হওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও তৈয়্যিব (পবিত্র/উৎকৃষ্ট), তা থেকে তোমরা আহার করো। (সুরা বাকারাহ, ১৬৮)
পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় তৈয়্যিব হলো এমন খাদ্য যা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত এবং শরীরের জন্য সম্পূর্ণ উপকারী। অর্থাৎ, প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই কোরআনের মূল বার্তা। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থূলতা এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে সৃষ্ট রোগব্যাধি (যেমন–ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ)।
কোরআন এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সমাধান দিয়েছেন, তোমরা খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ, ৩১) বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বা পরিমিত আহার কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে, যা এই আয়াতে প্রতিফলিত। পবিত্র কোরআনে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট খাদ্যের উল্লেখ রয়েছে, যা আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীদের কাছে সুপারফুড হিসেবে সমাদৃত
মধু: সুরা আন-নাহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে মধুকে ‘মানবজাতির রোগ নিরাময়কারী’ বলা হয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞান বলে, মধুতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
খেজুর: সুরা মারিয়ামে প্রসববেদনার সময় হজরত মারিয়াম (আ.)-কে খেজুর খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞান বলছে, খেজুরে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার জরায়ুর পেশিকে সচল করে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।
জলপাই ও ডালিম: কোরআনে জলপাই (অলিভ) এবং ডালিমের ঔষধি গুণের প্রশংসা করা হয়েছে। আধুনিক কার্ডিওলজি নিশ্চিত করেছে যে, অলিভ অয়েলে থাকা ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
আল কোরআন মানব শরীরকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করে। এর সঠিক সুরক্ষায় পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশেষে বলা যায়, পুষ্টিবিজ্ঞান আজ গবেষণার মাধ্যমে সুস্থতার যেসব সূত্র আবিষ্কার করছে, আল কোরআন ১৪০০ বছর আগেই মানবজাতিকে সেই ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাসের পথ দেখিয়ে রেখেছে।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রাজবাড়ী