সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় কেউ পদত্যাগ করলে পেনশন বা অবসর-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের বিপরীতমুখী রায় বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা অবসরজনিত কোনো সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। ফলে এ বিধান আইনসঙ্গত এবং কার্যকর।
মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছর বিবেচনায় ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক পাওয়ার আবেদন করেন তিনি। তবে একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণ্য করা যায় না। পাশাপাশি ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের আওতায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ ও পরিশোধের নির্দেশ দেন।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী কর্মচারীরা পেনশন সুবিধা দাবি করতে পারবেন না- এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।