ঢাকার ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নে বংশী নদীর ওপর নির্মিত ২২ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ বেইলি সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে।
তবে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসন সেতুটির এমন দুর্দশার বিষয়ে অবগত রয়েছেন।
সেতুটি প্রায় ২২ বছর আগে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেতুটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও স্থায়ীভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যাতায়াতের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, এলাকার জনসাধারণ এ পথে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। কয়েক মাস আগেই সেতুটির মাঝের স্টিলের পাটাতন ভেঙে পড়ায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নামে মাত্র জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে দেয়। তারপরও যাত্রীদের এক মরণফাঁদে ঝুঁকি রয়েই গেছে।
আলী ইমাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, সেতুটির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই এখানে নতুন করে সেতু দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেতুর দুই পাশে রয়েছে খানাখন্দ। প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকি এড়াতে নতুন সেতু দরকার।
ভালুম গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, কিছু দিন আগে পাটাতন ভেঙে একটি মালবাহী ট্রাক ঝুলে পড়েছিল। পরে অনেক কষ্ট করে তা উত্তোলন করা হয়। পাটাতন নামমাত্র মেরামত করে পূনরায় যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়। এটি ঠিক নয়। যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সামাদ নামে এক সিএনজি চালক বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করি যেন দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিকল্প কোন পথ না থাকায় সব সময় এই সেতু দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।’
ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন নিজে সেতুটি বেইলীর (স্টিল) স্থলে আরসিসি করে পুনর্নির্মাণসহ কালামপুর- ভালুম, বান্নাখোলা- বিএমপি, বাজার- পাড়াগ্রাম পর্যন্ত সড়ক প্রসস্থ করানোর কাজ দ্রুত করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর বরাবর আবেদনপত্র দিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ’সেতুটিতে কয়েক মাস আগে ও মেরোমত করা হয়েছে। সেতুটি ভেঙে নতুন করে করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ডিজাইনের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত সেতুটির কাজ চালু হবে আশা করছি।’
রুহুল আমিন/খাদিজা রুমি/
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই ফেরত এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশী করে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার (২.১৬ কেজি) স্বর্ণের চালান আটক করেছে দায়িত্বরত এনএসআই ও ডিজিএফআই টিম।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিস্তারিত আসছে....
ঢাকার ধামরাইয়ে রাতের আধারে শ্বশুর বাড়ির সামনে গাছের ডালে ফাঁস দিয়ে হাসান মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) রাতে শ্বশুর আব্দুল খালেকের বাড়ির সামনে হাসান মোল্লা আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত হাসান মোল্লার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার হরগজ গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, হাসান মোল্লার একাধিক স্ত্রী রয়েছে। যেখানে যায় সেখানে সে বিয়ে করে। এ ছাড়াও সে মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। তবে পরিশোধ করতে পারে না।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলীম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
মো. রুহুল আমিন/থিওটোনিয়াস/
মাত্র তিন ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরী। রেকর্ড ১০৭ মিলিমিটারের আকস্মিক বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে ভেজা শরীর নিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে নগরীর কয়েকটি কন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের। এছাড়া কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষেরাও।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি। আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগেও পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে নগরর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় যান চলাচল। জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমে। অনেক পরীক্ষার্থী আবার নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছান।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুস সালাম জানান, কিছুই করার নেই। মেয়েকে নিয়ে এসেছি, কোমর ভিজিয়ে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এতক্ষণ ভেজা শরীর নিয়ে বসে কেমন পরীক্ষা দিবে জানি না। তার উপর রিকশা অটো কিছু নাই। চাঁনপুর থেকে আধাপথ হেঁটেই এসেছি।
কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নিতে দেখা গেছে। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা যেন দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হয় এজন্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোর থেকেই তারা কাজ করছেন।
অতিভারী বর্ষণে নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
জহির শান্ত/অন্তরা/