অষ্টম অধ্যায় : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-৩
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নের উত্তর লেখ।
বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষায় ১৯৪৬ সালে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে ওঠে। এই সংগঠন শিশুদের অধিকার রক্ষা, শিশু নির্যাতন, শিশু বঞ্চনা, শিশু মৃত্যুহার প্রভৃতি প্রতিরোধ ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
ক. UNDP-এর একটি লক্ষ্য উল্লেখ করো।
খ. আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে প্রদত্ত কার্যক্রমের সঙ্গে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যক্রমের মধ্যে উক্ত সংস্থার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি’ উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর: ক. UNDP-এর লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য হ্রাসকরণ।
খ. আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে একাধিক জাতির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে বোঝায়, যা একাধিক দেশে তার কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বা জাতির সমন্বয়ে গঠিত যেসব সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন ও প্রসারে নিয়োজিত থাকে সেসব সংস্থাকেই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলা হয়। যেমন- জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইত্যাদি। এসব সংস্থা নিজ নিজ নীতিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
গ. উদ্দীপকে প্রদত্ত কার্যক্রমের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে।
সারা বিশ্বের শিশুদের সার্বিক কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালে ইউনিসেফ যাত্রা শুরু করে। শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে ইউনিসেফ যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে সেগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচি অন্যতম। এ কর্মসূচির আওতায় ইউনিসেফ মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন, স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বিনামূল্যে নলকূপ স্থাপন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির টিকা দেওয়া জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষায় ১৯৪৬ সালে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে ওঠে। এই সংগঠন শিশুদের অধিকার রক্ষা, শিশু নির্যাতন, শিশু বঞ্চনা, শিশু মৃত্যুহার প্রভৃতি প্রতিরোধ ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ওই সংস্থার সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের কার্যক্রমের মিল রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যক্রমের মধ্যে ওই সংস্থা তথা ইউনিসেফের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি, উক্তিটি যথার্থ। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুদের সার্বিক কল্যাণে নানা ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সংস্থাটি উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের শিশুদের অকালমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে মাতৃসদন ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালি ব্যবস্থা, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় সংস্থাটি পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞানদান, দুর্যোগ-পরবর্তী খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা ধরনের পুষ্টিবিষয়ক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। সেই সঙ্গে নারীদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ইউনিসেফ নানা ধরনের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি নিয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে ইউনিসেফ। এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহায়তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, শিশুর জন্ম পরিচয়কে নিশ্চিত করার জন্য জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম, মাতৃমৃত্যু হ্রাসকরণ প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র, অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিতে সংস্থাটি কাজ করছে। ইউনিসেফ যেকোনো ধরনের বৈষম্যের বিরোধী। বৈষম্যবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে সংস্থাটি নারী শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।
ওপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে ইউনিসেফের সব কার্যক্রমের প্রতিফলন ঘটেনি।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর