বাংলাদেশে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান পেল সরকার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই অনুদানের মধ্য দিয়ে গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ এএফসিপি-এর অধীনে বাংলাদেশে ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সম্পন্ন হল।
এএফসিপি তহবিলের আওতায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক ‘মুসা খান মসজিদ’-এর ইসলামিক স্থাপত্যবৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এছাড়া পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাঁখারী বাজার, লালবাগ কেল্লার একাংশ সংরক্ষণ এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প এবং প্রাচীন ধাতব ঢালাইয়ের মতো বাংলাদেশের অমূল্য লোকশিল্প ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দলিলকরণেও এই তহবিল কাজ করছে।
বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোনারগাঁওয়ের প্রাচীন ঐতিহাসিক পানাম সিটির সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ইউএস-বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন, যৌথ ইভেন্ট শো এবং কালচারাল আর্টিস্ট এক্সচেঞ্জ (সাংস্কৃতিক শিল্পী বিনিময়) কর্মসূচির সম্ভাব্যতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
এছাড়া ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি ও আইনি যাচাই সম্পন্ন হলেই এটি নিয়ে দ্রুত কাজ করা হবে।
বৈঠকে নজরুল সাহিত্যের অনুবাদ কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হলে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’ বিশ্বসাহিত্যের অনন্য সংগ্রহশালা এবং তারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে বিশেষভাবে আগ্রহী।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারোহা সোহরাওয়ার্দী; পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার স্কট ই. হার্টম্যান, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর তরিকুল ইসলাম নাহিন এবং প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট এম. বি. এম. সাদ বিন এলাহী।
জয়ন্ত সাহা/ অন্তরা/