ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেনকে ভয় নয়, সমীহ করছে ফ্রান্স ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য আগামী ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবল কুমিল্লা, চরম দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে ইসকনের ৯ দিনব্যাপী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব ফরাসি দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, নিন্দার ঝড় পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’ বিশ্বকাপে ভিএআর সুবিধাভোগী আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো, খেসারত দিলো ক্রোয়েশিয়া-ইরান দুই দিনের ব্যবধানে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু আর্জেন্টিনার সাফল্যকে অস্বাভাবিক বললেন মেসি পেকুয়ায় পাহাড়ধসে মাটির নিচে পানের বরজ, নিঃস্ব প্রবাস ফেরত চাষিরা আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জে ৫ মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার হাতিয়ায় পানিবন্দিদের পাশে ছাত্রদল গাজীপুর থেকে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে তিন রোভার স্কাউট গোপালগঞ্জে ১২ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির পোনা জব্দ চাঁদাবাজির মামলায় কথিত সাংবাদিক শফিকুলসহ ৩ জনের কারাদণ্ড মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যমজ ৩ বোনের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি ব্যাংককে বারে আগুন, নিহত ২৭ নোবিপ্রবিতে গুচ্ছ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি, ক্লাস শুরু ১৯ জুলাই শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ, ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি শিবচরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আপন দুই ভাইয়ের অনন্য সাফল্য জাককানইবিতে শুরু হলো ৪র্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব সংবিধান সংশোধন-সংস্কার: মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দিল্লি ও ঢাকা–দুই রাজধানীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে নির্বাসিত এই নেত্রী আগামী ডিসেম্বর মাসের দিকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন এবং আত্মসমর্পণ করবেন।

শেখ হাসিনার এই আকস্মিক ঘোষণা বাংলাদেশ এবং ভারত–উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই মন্তব্যের পর শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের নীরবতা বা ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ সরকার এখন ভারতকে বলতে পারবে, যেহেতু শেখ হাসিনা নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাই তাকে দ্রুত ফেরত পাঠানো হোক। গতকাল রবিবার ভারতের সংবাদ সংস্থা ‘স্ক্রল ডট ইন’-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানান। প্রায় এক ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তাও আমাকে যেতে হবে। মৃত্যু যদি আসে, তবে আমি নিজের মাটিতেই মরতে চাই।’ একই সঙ্গে তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আদালতে হওয়া বিচার ও সাজাকে তিনি ‘প্রহসনমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

এর আগেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। গত জুনের শেষে এনডিটিভি এবং একটি নিবন্ধে তিনি চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এবারের রয়টার্সের সাক্ষাৎকারটি দুটি কারণে আলাদা। প্রথমত, তিনি এবারই প্রথম ‘ডিসেম্বর’ মাসের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত, অডিও বা লিখিত বার্তার বাইরে গিয়ে তিনি সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।

যদিও বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছেন, তবুও গত শুক্রবারের ছুটির দিনে এই সাক্ষাৎকারটি দেশের রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। তবে শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বরে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি আসলে বাস্তবে ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নয়, বরং হতাশ ও বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করার একটি কৌশল। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে আওয়ামী লীগ এক চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় শুরুর দিকে কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকলেও এখন তিনি দৃশ্যপটের আড়ালে চলে গেছেন। ফলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ধরে রাখার মতো শেখ হাসিনা ছাড়া দলে দ্বিতীয় কোনো মুখ নেই।

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরীর দেওয়া তথ্যমতে, দলটির ১৪০ জনেরও বেশি সাবেক সংসদ সদস্য, মেয়র ও চেয়ারম্যান বর্তমানে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার কর্মী। দলটির দাবি অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেড় বছরে তাদের বহু কর্মী নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতারা যখন বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন, তখন দেশের ভেতরে সাধারণ কর্মীরা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে কর্মীদের ক্ষোভ ও হতাশা দূর করতেই শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘোষণার পেছনে টাইমিং বা সময় নির্বাচনও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তি বা গণ-অভ্যুত্থানের মাস হিসেবে জুলাই মাস উদযাপন করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক প্রচারের মধ্যেই শেখ হাসিনা নিজের ফেরার বার্তা দিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছেন।

পাশাপাশি সামনেই স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দলটির নেতাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কর্মীদের মাঠে নামাতে এবং দলের ভিত্তি পুনর্গঠন করতেই শেখ হাসিনা এই রাজনৈতিক চাল চেলেছেন।

তবে এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

ভারত এত দিন এই বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে আসছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত এপ্রিল মাসে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সাধারণত কোনো রাজনৈতিক নেতা অন্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় বা ‘অ্যাসাইলাম’ চাইলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজেই যেহেতু প্রকাশ্যে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার বা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তাই ভারতের জন্য এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ের অজুহাতে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখা কঠিন হবে। বাংলাদেশ এখন ভারতকে বলতে পারবে, যেহেতু শেখ হাসিনা নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাই তাকে দ্রুত ফেরত পাঠানো হোক। তবে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন কি না, কিংবা ভারত তাকে হস্তান্তর করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র: স্ক্রল ডট কম

মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
মালয়েশিয়ায় বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক নিহত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের কাপার এলাকার একটি ইস্পাত প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। 

স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ওই বাংলাদেশির পরিচয় এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

৩০ বছর বয়সী ওই প্রবাসীর শরীর আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সেলাঙ্গর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্টের অপারেশন সহকারী পরিচালক আশরুল রিজাল আসবার জানান, শনিবার সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার খবর পান এবং ফায়ার স্টেশন থেকে দ্রুত একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠান।

কর্মকর্তারা জানান, কারখানার ২০ বাই ২০ ফুটের একটি বয়লারে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই কারখানার অন্য কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বাংলাদেশিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জালান জানাকুয়াসা এলাকার ওই কারখানায় কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সূত্র: দ্য স্টার

তামান্না রুপা/

ব্যাংককে বারে আগুন, নিহত ২৭

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ এএম
ব্যাংককে বারে আগুন, নিহত ২৭
থাইল্যান্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চাতুচাক জেলার একটি জনপ্রিয় বারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন মারা গেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) মধ্যরাতের দিকে ‘রং বিয়ার না লাত ফরাও’ নামের এই বারে আগুন লেগে যায়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে বারের ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ভুক্তভোগী বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

বারটিতে উপস্থিত এক সংগীতশিল্পী জানান, গানের অনুষ্ঠান চলার সময় মেইন সুইচে হঠাৎ আগুন লাগে এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই বারের পেছনের টয়লেটে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া বারের জরুরি বহির্গমন পথে টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র স্তূপ করে রাখায় অনেকে বের হতে না পেরে ভেতরেই অচেতন হয়ে পড়েন।

ব্যাংককের গভর্নর চাতচার্ট সিট্টিপুন্ট জানান, বারের সিলিংয়ে থাকা দাহ্য ডেকোরেশনের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফরেনসিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

তামান্না রুপা/

শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
শেখ হাসিনার ঘোষণা ঢাকা ও দিল্লির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দিল্লি ও ঢাকা–দুই রাজধানীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে নির্বাসিত এই নেত্রী আগামী ডিসেম্বর মাসের দিকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন এবং আত্মসমর্পণ করবেন।

শেখ হাসিনার এই আকস্মিক ঘোষণা বাংলাদেশ এবং ভারত–উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই মন্তব্যের পর শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের নীরবতা বা ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ সরকার এখন ভারতকে বলতে পারবে, যেহেতু শেখ হাসিনা নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাই তাকে দ্রুত ফেরত পাঠানো হোক। গতকাল রবিবার ভারতের সংবাদ সংস্থা ‘স্ক্রল ডট ইন’-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানান। প্রায় এক ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তাও আমাকে যেতে হবে। মৃত্যু যদি আসে, তবে আমি নিজের মাটিতেই মরতে চাই।’ একই সঙ্গে তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের আদালতে হওয়া বিচার ও সাজাকে তিনি ‘প্রহসনমূলক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

এর আগেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। গত জুনের শেষে এনডিটিভি এবং একটি নিবন্ধে তিনি চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এবারের রয়টার্সের সাক্ষাৎকারটি দুটি কারণে আলাদা। প্রথমত, তিনি এবারই প্রথম ‘ডিসেম্বর’ মাসের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত, অডিও বা লিখিত বার্তার বাইরে গিয়ে তিনি সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।

যদিও বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছেন, তবুও গত শুক্রবারের ছুটির দিনে এই সাক্ষাৎকারটি দেশের রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। তবে শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বরে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি আসলে বাস্তবে ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নয়, বরং হতাশ ও বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করার একটি কৌশল। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে আওয়ামী লীগ এক চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় শুরুর দিকে কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকলেও এখন তিনি দৃশ্যপটের আড়ালে চলে গেছেন। ফলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ধরে রাখার মতো শেখ হাসিনা ছাড়া দলে দ্বিতীয় কোনো মুখ নেই।

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরীর দেওয়া তথ্যমতে, দলটির ১৪০ জনেরও বেশি সাবেক সংসদ সদস্য, মেয়র ও চেয়ারম্যান বর্তমানে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার কর্মী। দলটির দাবি অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেড় বছরে তাদের বহু কর্মী নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতারা যখন বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন, তখন দেশের ভেতরে সাধারণ কর্মীরা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে কর্মীদের ক্ষোভ ও হতাশা দূর করতেই শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘোষণার পেছনে টাইমিং বা সময় নির্বাচনও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তি বা গণ-অভ্যুত্থানের মাস হিসেবে জুলাই মাস উদযাপন করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক প্রচারের মধ্যেই শেখ হাসিনা নিজের ফেরার বার্তা দিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছেন।

পাশাপাশি সামনেই স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দলটির নেতাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কর্মীদের মাঠে নামাতে এবং দলের ভিত্তি পুনর্গঠন করতেই শেখ হাসিনা এই রাজনৈতিক চাল চেলেছেন।

তবে এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

ভারত এত দিন এই বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে আসছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত এপ্রিল মাসে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সাধারণত কোনো রাজনৈতিক নেতা অন্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় বা ‘অ্যাসাইলাম’ চাইলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজেই যেহেতু প্রকাশ্যে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার বা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তাই ভারতের জন্য এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ের অজুহাতে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখা কঠিন হবে। বাংলাদেশ এখন ভারতকে বলতে পারবে, যেহেতু শেখ হাসিনা নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাই তাকে দ্রুত ফেরত পাঠানো হোক। তবে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন কি না, কিংবা ভারত তাকে হস্তান্তর করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। সূত্র: স্ক্রল ডট কম

আদালতের রায়ে আইনি সংকটে মমতা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আদালতের রায়ে আইনি সংকটে মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতর তীব্র কোন্দল শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই এ দ্বন্দ্ব চলছিল। ভেঙে যায় দল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপারসন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন ঋতব্রতরা। এরপর দুই পক্ষই আসল তৃণমূলের নেতা দাবি করছেন। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েন সাধারণ কর্মীরা।

আসল তৃণমূল কোনটি- এর ফয়সালা চেয়ে কলকাতার আলিপুর আদালতে কর্মীরা মামলা করেন। আদালত সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের নেতা অরূপ রায় যে কমিটির সর্বভারতীয় চেয়ারপারসন, সেটিই একমাত্র আইনগতভাবে স্বীকৃত আসল তৃণমূল। এই রায়ের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আইনি সংকটে পড়ল এবং ঋতব্রত শিবিরের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হলো।

রবিবার (১২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে এই খুশির খবর জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের মাধ্যমে যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেটিই একমাত্র বৈধ ও আইনগতভাবে স্বীকৃত দল। অরূপ রায়কে এই কমিটির চেয়ারপারসন ঘোষণা করা হয়েছে। ঋতব্রত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই কমিটি ছাড়া অন্য কেউ যদি নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য বা মূল দল বলে দাবি করে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হবে। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আদালতের রায়ের নথি তুলে ধরে ঋতব্রত আরও দাবি করেন, দলের সমস্ত কার্যালয় এবং আর্থিক তহবিল এখন থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটনের মূল ‘তৃণমূল ভবন’ এবং দলের তহবিল ঋতব্রত শিবিরের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি ছাড়া অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, কেউ যদি জোর করে পার্টি অফিসে ঢোকার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ্যে কোনো ‘মগের মুলুক’ চলবে না। এই রায়ের কপি খুব দ্রুতই নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। এখন আদালতের এই বড় ধাক্কার পর কালীঘাট শিবির বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

দ. চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলল ১৪ দেশ ও ইইউ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
দ. চীন সাগরে চীনের দাবিকে অবৈধ বলল ১৪ দেশ ও ইইউ
চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহরের উপকূলীয় দংশা গ্রামে গতকাল টাইফুন বাভির আঘাতে ধসে পড়া দেয়ালের পাশে বসে আছেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিস্তৃত সামুদ্রিক এলাকার দাবিকে ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে আবারও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১৪টি দেশ। একই সঙ্গে পৃথক বিবৃতিতে ওই রায়কে শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

রবিবার (১২ জুলাই) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করে এমন ‘উসকানিমূলক’ কর্মকাণ্ড তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

২০১৬ সালের ১২ জুলাই জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদ (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে গঠিত সালিশি ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছিলেন, তার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিবৃতি দেওয়া হয়। দেশগুলো বলেছে, ওই রায় চূড়ান্ত এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
চীন আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, ওই রায় ‘অকার্যকর, বাতিল এবং এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই’। বেইজিং এ রায়কে না স্বীকার করে, না মেনে নেয়।

ফিলিপিন্স ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক সালিশির আবেদন করলেও চীন শুরু থেকেই সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। এর এক বছর আগে বিতর্কিত প্রবালপ্রাচীর (স্কারবোরো শোল) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেয় বেইজিং।

২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনাল ফিলিপাইনের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদ (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী দক্ষিণ চীন সাগরে স্বীকৃত জলসীমার বাইরে ‘ঐতিহাসিক অধিকার’-এর ভিত্তিতে সম্পদের ওপর চীনের দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

রায় প্রত্যাখ্যান করলেও চীন এখনো প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বহাল রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই সমুদ্রপথ দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়ার অন্যতম বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এখানে চীনের পাশাপাশি ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানেরও আংশিক দাবি রয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “দক্ষিণ চীন সাগরে ‘ঐতিহাসিক অধিকার’-এর ভিত্তিসহ চীনের বিস্তৃত সামুদ্রিক দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই–সালিশি ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হবে।

এতে উপকূলরক্ষী বাহিনী, সামরিক বাহিনী বা সামুদ্রিক মিলিশিয়া ব্যবহার করে অন্য দেশের বৈধ নৌ ও আকাশপথের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, হয়রানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও তীব্র বিরোধিতা করা হয়। এসব কর্মকাণ্ড নৌযান, জেলে ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউএনসিএলওএস অনুযায়ী নৌ ও আকাশপথে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সমুদ্রের অন্যান্য বৈধ ব্যবহারের অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়।

বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সালিশি ট্রাইব্যুনাল এবং তার রায় আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ার সাধারণ চর্চার পরিপন্থি এবং ইউএনসিএলওএসের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে চীনের সার্বভৌম অধিকারকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চীন ওই রায়ের ভিত্তিতে উত্থাপিত কোনো দাবি বা পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেবে না। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি কিংবা চীনের ওপর কোনো সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাও বেইজিং প্রত্যাখ্যান করে।’

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে বিশেষ করে চীন, ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং মাছ ধরার নৌবহরের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান বেড়েছে।

ফিলিপিন্সের অভিযোগ, চীনের উপকূলরক্ষী জাহাজগুলো শক্তিশালী ওয়াটার ক্যানন, সামরিক মানের লেজার এবং বিপজ্জনকভাবে পথরোধের কৌশল ব্যবহার করছে। এতে সমুদ্রে একাধিক সংঘর্ষ ও আকাশে ঝুঁকিপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে ২০১৬ সালের সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায় মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন–উভয়ই সতর্ক করেছে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় ফিলিপিন্সের সেনা, জাহাজ বা বিমান সশস্ত্র হামলার শিকার হলে এশিয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ফিলিপিন্সকে রক্ষার চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।