ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ হবে বিশ্বমঞ্চে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র অনন্য রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ মারিয়ানো রাখয়ের বর্ণবাদী মন্তব্যে যা বললেন স্পেন ডিফেন্ডার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেক্সিকোতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ নিহত ১০ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন প্রস্তাব দিলো ইইউ হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধস, ৯ শ্রমিক নিহত ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই ৩৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলো ২০২৬ বিশ্বকাপ অধরা স্বপ্ন পূরণের মিশনে কেইন রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের সন্তানদের বিয়েতে সহায়তা তাপমাত্রা নীতিমালা নিয়ে আলোচনায় ফিফা ও ফিফপ্রো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদ ১১ বন্যা পরিস্থিতিতে যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধামরাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু, আশঙ্কায় স্থানীয়রা দাউদকান্দিতে বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান পেল সরকার শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণের চালান আটক বন্যায় মজুত পর্যাপ্ত হলেও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য
ছবি: সংগৃহীত

ফুসফুস ক্যানসার নিরাময়ে সুইজারল্যান্ডের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রোশ-এর তৈরি একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। তিন ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর ‘ডিভারাসিব’ নামের এই ওষুধটি ‘নন স্মল সেল লাং ক্যানসার’ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্যানসারের নির্দিষ্ট জিনগত মিউটেশন রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ডিভারাসিব বাজারে থাকা প্রচলিত দুটি ওষুধ ‘সোটোরাসিব’ ও ‘অ্যাডাগ্রাসিব’-এর চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

‘ক্র্যাস্যান্ডো ১’ নামক এই গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এই ওষুধে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়া ছাড়াই দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন। এছাড়া রোগীদের সামগ্রিক বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফলাফল মিলেছে।

রোশ জানায়, ট্রায়াল চলাকালীন ওষুধটির কোনো নতুন বা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল, তা সহজেই নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময়যোগ্য। ক্যানসারের চিকিৎসায় এই ওষুধটিকে নতুন স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পরবর্তী চিকিৎসা সম্মেলনে এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে আরও দুটি ট্রায়ালে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছে রোশ। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

তামান্না রুপা/

চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’
নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি সরাসরি মানুষের চুলের গোড়ায় থাকা ডার্মাল প্যাপিলারি কোষকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ছবি: সংগৃহীত

চুল পড়া সমাধানে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা। দেশটির কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা একটি ফ্লেক্সিবল ‘লাইট থেরাপি টুপি’ উদ্ভাবন করছেন, যা ল্যাব পরীক্ষায় মানুষের চুলের কোষের বয়স বৃদ্ধির মূল লক্ষণ প্রায় ৯২ শতাংশ কমিয়ে দিতে সক্ষম।

গবেষকেরা জানান, এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিটি সরাসরি চুলের গোড়ায় থাকা ‘ডার্মাল প্যাপিলারি কোষ’কে লক্ষ্য করে কাজ করে, যা নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের ফলিকলগুলোতে ‘বিটা-গ্যালাক্টোসিডেস’ নামক একটি এনজাইম উৎপাদন বাড়ে, যা চুল পড়ার জন্য দায়ী।

এই নতুন প্রযুক্তিতে ৭৩০ থেকে ৭৪০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড’ সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশেষ আলো চুলের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতে আদর্শ হিসেবে কাজ করে এবং ল্যাব টেস্টে এটি কোষের বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ ৯২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে।

বাজারে বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসায় যেসব লেজার বা এলইডি হেলমেট পাওয়া যায় সেগুলোর তুলনায় এই নতুন ওলেড প্রযুক্তি অনেক পাতলা এবং নমনীয়। ফলে এটি খুব সহজেই সাধারণ টুপির ভেতরে মাথার ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায় এবং সমানভাবে আলো ছড়াতে পারে।

বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসায় মিনোক্সিডিল বা ফিনাস্টারাইড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই পরিধানযোগ্য টুপিটি এখনো সরাসরি মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি। তবে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুব দ্রুতই পরবর্তী ট্রায়াল শুরু করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

৮৩ সদস্য ও ৬ প্রজন্ম, এক অনন্য যৌথ পরিবার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:২০ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
৮৩ সদস্য ও ৬ প্রজন্ম, এক অনন্য যৌথ পরিবার
অন্ধ্রপ্রদেশের এক অনন্য যৌথ পরিবার/ সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে একক পরিবারের ভিড়েও ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার কুরলাপল্লী গ্রামে যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে নাগাপ্পা পরিবার। পাশাপাশি চারটি বাড়িতে থাকলেও তারা মূলত একটি একক পরিবার হিসেবেই বসবাস করছেন। বর্তমানে এই পরিবারে ছয় প্রজন্ম মিলিয়ে মোট ৮৩ জন সদস্য রয়েছেন, যার প্রধান হনুমানথারায়ুডু এবং মুথিয়ালপ্পা। পরিবারটিতে ৬ জন শাশুড়ি, ১৪ জন পুত্রবধূ এবং ২০ জন শিশুসহ দাদা-দাদি ও বয়স্ক সদস্যরা রয়েছেন।

সংবাদসংস্থা পিটিআই প্রতিবেদনে জানায়, বিশাল এই পরিবারটির প্রতিদিনের কাজকর্ম চলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে। প্রতিদিন সকালে পরিবারের বয়স্করা কফি খেতে খেতে পুরো দিনের পরিকল্পনা করেন। কার কী কাজ, রান্নার মেনু কী হবে- সবই সেখানে ঠিক করা হয়। কেউ মাঠে কৃষিকাজে যান, আবার কেউ রান্নাবান্না ও ঘরের কাজ সামলান।

বাড়িগুলো আলাদা হলেও পুরো পরিবারের জন্য রান্না হয় একটি রান্নাঘরেই। পুত্রবধূরা মিলে সবার জন্য খাবার তৈরি করেন। চাষবাসের পাশাপাশি এই পরিবারের চারটি যাত্রীবাহী বাস রয়েছে, যা অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের মধ্যে চলাচল করে। কৃষিকাজ ও পরিবহন ব্যবসা থেকে আসা সমস্ত আয় এক জায়গায় জমা করা হয় এবং যৌথভাবেই তা খরচ করা হয়।

৮৩ জনের পরিবারে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক হলেও বয়স্করা জানান, দিন শেষ হওয়ার আগেই তারা সব ঝামেলা মিটিয়ে নেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের কারণেই ছয়টি প্রজন্ম আজ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’
বর্ষাকালের জয়েন্ট পেইনের তীব্রতা কমাতে দারুণ কার্যকরী এক কাপ হলুদ চা

বর্ষার বৃষ্টি যেমন স্বস্তি আনে, তেমনি অনেকের জন্য বয়ে আনে জয়েন্ট পেইন বা গিটে ব্যথা। বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন এবং বৃষ্টির কারণে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এই ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যা দূর করতে প্রাকৃতিকভাবে দারুণ কাজ করে হলুদ চা।

হলুদ চা কেন উপকারী?

কারকিউমিন: হলুদে থাকা এই প্রধান উপাদানটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণসম্পন্ন। এটি শরীরের ভেতরের ফোলা ভাব ও ব্যথা কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হাঁটুর ক্ষয়জনিত ব্যথা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এটি জয়েন্টের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হাড় ও সংযোগস্থলকে মজবুত করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দূর করে।

গতিশীলতা বাড়ায়: গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হলুদ চা জয়েন্টের ভেতরের মৃদু প্রদাহ কমিয়ে হাঁটাচলার ক্ষমতা বা গতিশীলতা বাড়ায়। এমনকি ব্যথানাশক ওষুধের তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম।

কীভাবে বানাবেন? 

রেডিমেড টি-ব্যাগ ব্যবহারের চেয়ে কাঁচা হলুদ বাটা দিয়ে এই চা বানানো সবচেয়ে ভালো।

উপকরণ: ১ কাপ পানি, আধা থেকে ১ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা (স্বাদের জন্য সামান্য মধু এবং কার্যকারিতা বাড়াতে আদা বা দারুচিনি মেশাতে পারেন)।

কালো গোলমরিচের ভূমিকা: হলুদ চায়ের সঙ্গে মাত্র ২০ মিলিগ্রাম কালো গোলমরিচ মেশানো উচিত। গোলমরিচের 'পিপারিন' উপাদানটি শরীরে হলুদের কারকিউমিন শোষণের গতি দ্বিগুণ করে দেয়।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?

বয়স্ক ব্যক্তি- যাদের জয়েন্টে শক্ত ভাব বা স্টিফনেস থাকে, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা বাতের রোগী, ডেস্কে বসে কাজ করা চাকুরিজীবী- যারা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন, বর্ষাজনিত গিটের ব্যথায় ভুগছেন এমন যে কেউ।

ব্যথামুক্ত থাকতে বর্ষাকালের কিছু জরুরি অভ্যাস

ঘরের ভেতরেই শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন এবং নিয়মিত স্ট্রেচিং করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

অতিরিক্ত সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সংবেদনশীল মানুষদের পেটের সমস্যা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স (গ্যাস্ট্রিক) হতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে এটি বিক্রিয়া করতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি জয়েন্টে অনবরত ফোলা ভাব থাকে, জয়েন্ট লাল বা গরম হয়ে যায়, ব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যথার কারণে হাঁটাচলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়- তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

বর্ষার জয়েন্ট পেইন কমাতে হলুদ চা একটি চমৎকার ও কম ঝুঁকিপূর্ণ ঘরোয়া উপায়। তবে এটি কোনো রোগের একমাত্র বা স্থায়ী নিরাময় নয়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

তামান্না রুপা/

বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি, আহত ১২

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি, আহত ১২
ছবি: গ্রোক

বিয়েবাড়ির ভোজের মেনু নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ভারতের বিহারের সাহারসা জেলার। মূল ঝামেলাটি বাধে খাবারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে। বরযাত্রীদের খাসির মাংস খাওয়ানোর কথা থাকলেও তাদের পাতে পরিবেশন করা হয় মুরগির মাংস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়েবাড়ির আমন্ত্রিত অতিথিদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে এবং কয়েকজনকে তলোয়ার উঁচিয়ে তাণ্ডব চালাতেও দেখা গেছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাহারসা জেলার সিমরী বখতিয়ারপুর শহরের রাজনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ আনোয়ারের ছেলে মহম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের সঙ্গে মহম্মদ জাভেদের মেয়ের বিয়ে হয়। দুপুর ৩টা নাগাদ উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছিল।

ঝামেলাটি শুরু হয় বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীরা যখন খাবার টেবিলে বসেন। বরপক্ষের দাবি, কনেপক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ভোজে খাসির মাংস থাকবে। কিন্তু খাবার টেবিলে খাসির মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস দেখে ক্ষুব্ধ হন বরযাত্রীরা।

এই মেনু পরিবর্তন নিয়ে বরপক্ষের লোকজন কনেপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মুহূর্তের মধ্যে যুক্তি-তর্ক ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। বিয়েবাড়ির আনন্দঘন পরিবেশ নিমেষেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কনেপক্ষের লোকজন বরযাত্রীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। হামলায় বর ও বরপক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এই সংঘর্ষে আহত অন্তত ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/

প্রথমে বিদায় নেবে কোডিং, এরপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং: অ্যানথ্রোপিক সিইও

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
প্রথমে বিদায় নেবে কোডিং, এরপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং: অ্যানথ্রোপিক সিইও
অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। ছবি: সংগৃহীত

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোডিংয়ের কাজটিকে স্বয়ংক্রিয় করে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন এআই স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই।

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী বছরগুলোতে মানুষের নিজস্ব দক্ষতা, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং এআই-কেন্দ্রিক শিল্পগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

ভারতীয় উদ্যোক্তা নিখিল কামাথের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে আমোদেই আলোচনা করেন কীভাবে এআই মানুষের ক্যারিয়ার, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা অর্জনের বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।

কোন কোন শিল্পে এআই-এর কারণে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে আমোদেই জানান, সফটওয়্যার উন্নয়ন খাত দিন দিন এআই-নির্ভর হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সবার আগে কোডিংয়ের দিন শেষ হয়ে যাবে।’

তার মতে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আরও বড় ও জটিল দায়িত্বগুলো সামলানোর আগেই এআই মডেলগুলো কোডিংয়ের কাজকে পুরোপুরি নিজের দখলে নিয়ে নেবে।

তবে তিনি যোগ করেন, ‘সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সামগ্রিক কাজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে একটু বেশি সময় লাগলেও, এক সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই এআই-এর মাধ্যমে হওয়া সম্ভব।’

অবশ্য আমোদেই উল্লেখ করেছেন, সফটওয়্যার উন্নয়নের কিছু ক্ষেত্রে মানুষের সম্পৃক্ততা সবসময়ই প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোডাক্ট ডিজাইন বা পণ্যের নকশা করা, ব্যবহারকারীর চাহিদা বোঝা, বাজারের চাহিদা চিহ্নিত করা এবং এআই সিস্টেমের দলগুলোকে পরিচালনা করা।

মানুষ যদি কাজের কেবল একটি ছোট অংশও করে, তবুও এআই-এর সহায়তায় উৎপাদনশীলতা নাটকীয়ভাবে বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি কাজের মাত্র ৫ শতাংশও করেন এবং বাকি ৯৫ শতাংশ কাজ এআই করে দেয়, তবে আপনার উৎপাদনশীলতা ২০ গুণ বেড়ে যাবে।’

বর্তমান তরুণদের কোন ধরনের দক্ষতা অর্জন করা উচিত- এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যানথ্রোপিক প্রধান পরামর্শ দেন, এআই-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে বরং এমন ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া উচিত যা এআই-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। তিনি সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পাশাপাশি মানবিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পেশাগুলোর ওপর জোর দেন।

আমোদেই আরও জানান, এআই-চালিত এই পৃথিবীতে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা অন্যতম মূল্যবান দক্ষতা হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, যেহেতু এআই যেকোনো কিছু তৈরি বা জেনারেট করতে পারে, তাই মৌলিক বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনার দক্ষতাই হবে সফলতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, দিন দিন এআই-দ্বারা তৈরি ছবি ও ভিডিও এত বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে যে আসল এবং নকল তথ্যের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তথ্য যাচাইয়ের ক্ষমতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির ব্যবহার এখন অত্যন্ত জরুরি।

অতিরিক্ত মাত্রায় এআই-নির্ভরতার নেতিবাচক দিক নিয়েও সতর্ক করেন এই এআই প্রধান।

তিনি বলেন, অসতর্কভাবে এর ব্যবহার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতাগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার করে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করার প্রবণতাকে তিনি মূলত ‘হোমওয়ার্কে ফাঁকি দেওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি জানান, অ্যানথ্রোপিকের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা গেছে, কোডিংয়ের জন্য এআই-এর কিছু ভুল ব্যবহার মানুষের দক্ষতা কমিয়ে দেয়, যেখানে চিন্তাভাবনা করে সঠিক উপায়ে এর ব্যবহার মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

আগামী দশকে এআই মানুষকে আরও কম বুদ্ধিমান বা ‘বোকা’ বানিয়ে দেবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আমোদেই বলেন, এর ফলাফল নির্ভর করবে সমাজ কীভাবে এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে তার ওপর।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি অসতর্কভাবে এআই ব্যবহার করি, তবে হ্যাঁ, মানুষ সত্যিই বোকা হয়ে যেতে পারে। তবে কোনো কাজে এআই আপনার চেয়ে সবসময় ভালো করলেও, আপনি নিজে সেই কাজটি শিখতে পারেন এবং নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটাতে পারেন।’ সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/