অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের আকস্মিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন জনপদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে কিছু দুর্গম এলাকায় সময়মতো চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাস্তব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতা ও পানিবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় পৌঁছাতে বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা আমরা স্বীকার করি। এসব প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অতিক্রম করে সেবা পৌঁছাতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সমস্যা থাকলে হটলাইন বা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জানানোর অনুরোধ করছি; আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও ফেনী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহসহ নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আগাম ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সেসব জেলায় অতিরিক্ত মেডিকেল টিম, ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমগুলো পরিস্থিতি নিয়মিত হালনাগাদ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলসহ নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সাতটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার।
জয়ন্ত সাহা/এএফ