ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চা-শিল্পের সংকট ও টেকসই উন্নয়নের পথ নাগেশ্বরীতে এইচএসসিতে ধার করা ট্যাগ অফিসারে পরীক্ষা! হাসপাতালের নিকৃষ্ট সিন্ডিকেট নির্মূল করুন ডিজিটাল জুয়ার মরণফাঁদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?

মৌলভীবাজারে পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
মৌলভীবাজারে পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ
মৌলভীবাজারে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নামলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত মানুষজনের / ছবি - মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টের।

মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি যত নামছে, ততই দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার ক্ষত। বন্যায় ঘরবাড়ি ও ঢলের পানিতে ফসলি জমি, বীজতলা ও সবজি খেত ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক। ডুবে গেছে নলকূপ ও পুকুর। অনেক এলাকায় এখনও বিশুদ্ধ পানিসহ খাবারের সংকটে দুর্ভোগে রয়েছেন বন্যাকবলিত মানুষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পানি কমলেও অসংখ্য বাড়িঘর, আঙিনা ও সড়কে এখনও কাদা এবং পানি জমে আছে। কিছু কিছু পরিবার ঘরে ফিরতে শুরু করলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনও পুরোপুরি ফিরেনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। অনেক কৃষকের আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। নলকূপ ও পুকুর ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনগর, কমলগঞ্জের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে ফসল হারিয়ে তারা এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। 

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় কবলিত এলাকায় ২৪৮ হেক্টর আউশ ধান, ৮৬.৫০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ও ৬৪.৫০ হেক্টর সবজি খেত পানিতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাদুর্গতদের জন্য ইতোমধ্যে এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

জেলা সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে, যাতে পানিবাহিত রোগে আক্রান্তরা দ্রুত চিকিৎসা পান।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।

পুলক পুরকায়স্থ/তামান্না রুপা/

নাগেশ্বরীতে এইচএসসিতে ধার করা ট্যাগ অফিসারে পরীক্ষা!

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
নাগেশ্বরীতে এইচএসসিতে ধার করা ট্যাগ অফিসারে পরীক্ষা!
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এইচএসসির তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। ধার করা কর্মকর্তাদের দিয়েই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। কোথাও আবার পরীক্ষা শুরুর পর মুঠোফোনে ডেকে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষার দিন এমন ঘটনা ঘটে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এ ঘটনাকে প্রশাসনের উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে মুঠোফোনে দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। ফলে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষাঙ্গণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলার অন্যতম নাগেশ্বরী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন। তিনি উপস্থিত না থাকায় সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা পর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। পরে তিনি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে যান।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের সঙ্গে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে ছিলাম। সোমবার (১৩ জুলাই) আমার অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপ থাকায় ছুটি নিয়েছি। কচাকাটা কেন্দ্রে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি জানি না। আজ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে কল করে সরকারি কলেজে আসতে বলেন। প্রথমে আমি না করেছি, কারণ সকাল ১১টায় আমার অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপ শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরে এসেছি।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। গত পরীক্ষাতেও দায়িত্বে ছিলাম। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আমি ছুটিতে এসেছি।’

নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আনোয়ার হোসেন মন্ডল বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। ওনার পারিবারিক সমস্যা আমাকেও বলেছে। যিনি এসেছেন তাকে আমি বলেছি চিঠি এনেছেন কিনা। বলল চিঠি হয়নি, ততক্ষণে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা শেষ করা।’

নাগেশ্বরী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ট্রেনিংএ থাকায় দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম নিজে।

নাগেশ্বরী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল হোসেন বলেন, ‘এ কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন দায়িত্বে ছিলেন। উনি ছুটি থাকায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম আছেন।’

কচাকাটা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছুটি নিয়েছেন তার অফিসে প্রতিবন্ধী জরিপ থাকার কারণে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই কেন্দ্রে মুঠোফোনে দায়িত্ব দেন কেদার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে। শুধু মুঠোফোনে এমন দায়িত্ব দেওয়া এত বড় পাবলিক পরীক্ষায় উদাসীনতা বলছেন অনেকে।

কেদার ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফোন করে বলেছেন। তাই দায়িত্বপালন করছি। ইউএনও স্যার ওনাকে বলেছেন কিনা জানিনা। আমাকে বলেনি।’ 

কচাকাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানকার ট্যাগ অফিসার ছুটিতে আছেন। সে কারণে ফোনে এ দুজনকে ইউএনও স্যার পাঠিয়েছেন তারা এটাই বলেছে।‘’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ উপজেলায় কেন্দ্র বেশি অফিসার নাই সে কারণে সহকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউএনও স্যার দায়িত্ব দেয়নি আমি দিয়েছি।’

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে চিঠি দিয়েছি তারা যেতে বাধ্য। যদি কেউ না যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুঠোফোনে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটা করে থাকলে দায় দায়িত্ব তার।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্যাগ অফিসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন। উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মুঠোফোনে দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি পারেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ইউএনওর দায়িত্ব।’

এবারে জেলায় এইচএসসির ২৭টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ২১০ জন, আলিম- ১০টি কেন্দ্রে এক হাজার ৮৯৮জন ও ভকেশনাল ট্রেডের ১৩টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৭২জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে যার মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৭৬ জন। 

সিরাজ/রিফাত/

ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর সদর উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিন বন্ধু। এ সময় বজ্রপাতে সাব্বির মোল্লা (১৭) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার(১৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সাব্বির মোল্লা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির সময় সাব্বির তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছের নিচে বসে ছিল। এ সময় হঠাৎ গাছের পাশে বজ্রপাত হলে তিনজনই ছিটকে পড়ে। এতে সাব্বির মোল্লা গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু অক্ষত রয়েছে এবং তারা সুস্থ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদ মুন্সী জানান, খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে সাব্বির মোল্লা নামে এক কিশোর বজ্রপাতে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। 

এনকেবি নয়ন/রিফাত/

দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পাহাড়ি ঢলের কারণে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি-৩৫)।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাথরের চর এলাকার ৩০টি পরিবারকে বিজিবির পক্ষ থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান নদী ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন, পাথরের চর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম মানবিক দায়িত্ব। আপদকালীন সময়ে বিজিবি সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। দুর্যোগময় ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ লিটার তেল, ১ কেজি মুড়ি, লবণ, স্যালাইন, গ্যাস লাইট ও মোমবাতি প্রদান করা হয়। বিজিবির ত্রাণ সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

রিফাত/

ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুর শহরের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন কোয়েল চৌধুরী (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। ফ্লাট থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর খবর কানাডিয়ান প্রবাসী একমাত্র বোন ও স্বজনদের জানালেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

পরে তার মরদেহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরের আলীপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে অচেতন অবস্থায় ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার চৌধুরী ভিলা নামক একটি ভবন থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে থানা পুলিশ। প্রথমে তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কোয়েল চৌধুরী ওই ভবনের মালিক ও ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত হাশমত আলী চৌধুরীর ছেলে ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ওই বাসায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বসবাস করে আসছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে কোয়েল চৌধুরীর বাবা তিনতলা ওই ভবনটি ক্রয় করে বসবাস করে আসছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একমাত্র মেয়ে বর্তমানে কানাডিয়ান প্রবাসী। এছাড়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে কোয়েল চৌধুরী ও তার বড় ভাই বাবু চৌধুরী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। এরমধ্যে কোয়েল চৌধুরী বিয়ে করলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে ছেড়ে চলে যান তার স্ত্রী। তবে দুই ভাই ভবনটিতে থাকলেও প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরী মারা যান। তখন থেকেই নিঃসঙ্গভাবে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন কোয়েল চৌধুরী। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, কোয়েল চৌধুরীর বাবা-মা দুজনেই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছোট সময়ে তারা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে দুই ভাইকে নিয়মিত ঘুমের ওষধ খাওয়াতেন। যার ফলে তারা আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। 

এক প্রতিবেশী আশিকুর রহমান খান বলেন, ওই দুই ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাদের দুই ভাইকে শহরের অনেকেই চিনতেন। তাদের মধ্যে খুব মিল ছিল। তারা যেখানেই যেতেন এক সঙ্গে হেটে আবার কখনও হাত ধরে রাস্তার একপাশ ধরে হেটে চলতেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে তাকে তাদের ভাড়াটিয়ারা খাবার দিতেন। 

তিনি বলেন, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো ওই ভবনের এক ভাড়াটিয়া কোয়েল চৌধুরীকে খাবার দিতে যান, তখন ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রতিবেশীদের জানান। প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে ঘরের দড়জা ভেঙে তাকে অচেতন অবস্থায় পায়। পরে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি আরও বলেন, মারা যাওয়ার পর তার বোনকে জানানো হয়। তবে তার বোন মরদেহ দাফন দিয়ে দিতে বলেন। এমনকি তার কোনো স্বজনও তার দাফনে আসেনি। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে আলীপুর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে অচেতন অবস্থায় তাকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। 

নয়ন/নাঈম 

ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ফোন করার অভিযোগ উঠেছে। ফোন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা চাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেসেজ পাঠিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

মেসেজে বলা হয়, একটি নম্বর থেকে ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে বন্যাদুর্গতদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই নম্বরের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ যেন ওই নম্বরে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রদান না করে, সে সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং বিষয়টি অন্যদেরও জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, প্রতারক এখনও টাকা পয়সা চায়নি, তবে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমি বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েছি। তারা এই ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং সাধারণ ডায়রি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে। নম্বরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাইনি। ইউএনও মহোদয় বিষয়টি জানিয়েছেন। এ চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো অপরাধ ঘটলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিব।’

উপজেলা প্রশাসন জানায়, সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে কেউ তথ্য চাইলে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত। সন্দেহজনক কোনো ফোনকল পেলে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

আতিকুল হা-মীম/থিওটোনিয়াস/