বাংলাদেশে প্রায় দেড় শ বছরেরও বেশি সময় ধরে চা চাষ হচ্ছে। বর্তমানে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, পঞ্চগড় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৬৮টি বাণিজ্যিক চা-বাগান প্রায় আড়াই লাখ একরের বেশি জমিতে বিস্তৃত। উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের নবম বৃহত্তম চা উৎপাদক এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ আসে আমাদের দেশ থেকে। কিন্তু এত বড় উৎপাদন সত্ত্বেও বাংলাদেশের চা-শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আজও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। এর প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপণন ও মূল্য সংযোজন ঘাটতি, সেকেলে নিলাম পদ্ধতি, উচ্চ উৎপাদন খরচ ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, ঋণপ্রাপ্তিতে জটিলতা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি।
নিলাম পদ্ধতির নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, মিসরের বাজারে চায়ের চাহিদার সুযোগ গ্রহণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। প্যাকেজিং উন্নতকরণ ও নিজস্ব ব্রান্ড তৈরি করে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হবে। বোতলজাত বা ইনস্ট্যান্ট টি-এর মতো নতুন পণ্যের প্রচলন করা যেতে পারে। চা-শিল্পকে শিল্প খাতের পাশাপাশি কৃষিশিল্পের অন্তর্গত করা জরুরি, যাতে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন। চা-শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অত্যন্ত নগণ্য। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ের কারণে তারা তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার জোগাতে হিমশিম খায়। এ ছাড়া অনেক চা-বাগানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার এখনো ঘাটতি রয়েছে। তাই শ্রমিকদের কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এতে তাদের কাজের দক্ষতা ও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমেই চা-শিল্পের প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
বি এম হিশাম লাজ
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]