বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্যার্তদের কল্যাণে কাজ করছেন। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের সংস্কৃতি। দেশের যেকোনো সংকট মিলেমিশে একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। আমি মনে করি এটা দোষারোপের সময় নয়, আমরা প্রতিজন বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। হয়তোবা কারো কাছে আগে অথবা কারো কাছে পরে, আমরা পৌঁছাবোই।’
সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নস্থ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘সরকার যখন আমাকে ত্রাণ ব্যবস্থাপনার তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন তাই, বন্যা শুরুর প্রথম থেকেই আমি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও কি কাজ করছেন জেনেছি এবং কি করতে হবে তা নির্দেশনা দিয়েছি। রবিবার সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের ১১৭টি ওয়ার্ড আমাদের বিবেচনায় রেখেছি। শনিবার রাতেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম। তারই অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন দুর্গতদের শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এই তথ্যটা আমাদের অনেকেরই কাছে নেই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘কারো পক্ষেই বিগত সাত দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং কেউ এখনও পৌঁছাতেও পারেনি। পানি কমার সঙ্গে আমরা পুনর্বাসনের কাজ শুরু করব। একজন মানুষও যাতে দুর্ভোগ ও কষ্ট না থাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তা আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ, বিমান বাহিনীর চট্টগ্রামের উইং কমান্ডার খায়রুল মামুন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পিডবোর্ডযোগে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, ধর্মপুর ও বাজালিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
আরিফুল ইসলাম/রিফাত/