২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ফুটবলবিশ্বে বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনার পারদ। সাবেক তারকাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। থ্রি লায়ন্সদের সাবেক তারকা জো কোল তো লিওনেল মেসিকে নিয়ে রীতিমতো এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেছেন।
নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে সাবেক জাতীয় দলের তারকা গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শেয়ারার এবং মাইক রিচার্ডসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন জো কোল। থ্রি লায়ন্সের বিপক্ষে মেসির ম্যাচটি কেমন হতে পারে– এমন আলোচনার একপর্যায়ে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা কোল বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই বলে ওঠেন, ‘ঠিক আছে, আমাদের তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, ১০০ ভাগ।’
কোল যাতে নিজের কথায় পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয় এবং রোজারিওর এই খুদে জাদুকর যেন মাঠে আরেকটি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার না দেন, সে জন্য উপস্থিত বাকিরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। আমরা না হয় আট মাস পর এটা বলব।’ কিন্তু চেলসি ও লিভারপুলের সাবেক এই মিডফিল্ডার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি: আমরা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠছি।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে মাইক রিচার্ডস অবশ্য মনে করিয়ে দেন যে, আর্জেন্টিনাকে হারাতে ইংল্যান্ডকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। কারণ আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা ‘চতুর এবং জন্মগতভাবে বিজয়ী’। তবে একই সঙ্গে টমাস টুখেলের দলের শক্তির দিকটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনাকে টেক্কা দেওয়ার মতো গতি আমাদের দলে রয়েছে এবং আমরাই জিততে যাচ্ছি। আমার মন সেটাই বলছে।’
লিওনেল মেসিকে নিয়ে কোলের এমন কঠোর মন্তব্য অবশ্য কিছুটা চমকপ্রদ। কারণ এর আগে তিনি বহুবার প্রকাশ্যেই মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের আগেই কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাতে ঘুমানোর সময় হয়তো আফসোস করে ভাবেন, ‘ইস, আমি যদি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম!’ মেসি একদম নির্ভার। একমাত্র সেই ফুটবল ইতিহাসে সবকিছু অর্জন করতে পেরেছে। হ্যাঁ, একমাত্র সে-ই রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।’
ইতিহাস এবং আবেগের এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন আরেক সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে নেভিলের সমালোচনার তীর মেসির দিকে নয়, বরং ধেয়ে গেছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দিকে।
স্কাই বেটের বর্তমান এই ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘ওদের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজ রয়েছে, যাদের খেলা দেখে মনে হয় প্রতি ম্যাচেই তারা অন্তত একটি করে গোল উপহার দেবে। আবার পরক্ষণেই দেখবেন তারা গোল করছে, হেড করে বল ক্লিয়ার করছে এবং মাঠের সর্বত্র হাজির থাকছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ালে তাদের কী যে হয়! সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
আর্জেন্টাইন এই সেন্ট্রাল ব্যাক জুটিকে প্রশংসায় ভাসানোর পাশাপাশি খোঁচা দিতেও ছাড়েননি নেভিল। তিনি বলেন, “আমি ওদের বিশ্বের ‘সেরা-সবচেয়ে খারাপ’ সেন্টার ব্যাক জুটি বলি। কারণ কিছু মুহূর্তে ওরা যেমন অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই আবার একদম যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করে বসে।”