বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে মাত্র একটি জয় দূরে স্পেন। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালকে ঘিরে তাই স্প্যানিশ শিবিরে উত্তেজনার পাশাপাশি রয়েছে আত্মবিশ্বাস, সতর্কতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে থেকে শুরু করে অধিনায়ক এবং দলের তারকা ফুটবলাররা সবাই একই বার্তা দিয়েছেন– ফ্রান্সকে হারাতে হলে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, সেমিফাইনালে কোনো দলই ফেভারিট নয়। তার মতে, ফ্রান্স বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল এবং এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সামান্য ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, স্পেন যদি নিজেদের স্বাভাবিক পজিশনভিত্তিক ফুটবল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত আক্রমণের ধার বজায় রাখতে পারে, তা হলে জয় পাওয়া সম্ভব। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু কাউকে ভয় পাই না। এই দলটি প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের উন্নত করেছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা।’
অধিনায়ক রদ্রি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ জীবনে বারবার আসে না। তাই এই সেমিফাইনালকে তিনি দলের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। রদ্রির ভাষায়, ‘ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে খেলতে হলে শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। এমবাপ্পে, দেম্বেলে কিংবা তাদের অন্য তারকাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবছি না। আমরা নিজেদের ফুটবলের ওপর বিশ্বাস রাখছি। মাঠে যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তা হলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ আমাদেরই থাকবে।’
দলের তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামালও আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, বড় ম্যাচই একজন ফুটবলারের আসল পরিচয় তুলে ধরে। ইয়ামাল বলেন, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামা মানেই বাড়তি অনুপ্রেরণা। আমরা জানি তারা কতটা শক্তিশালী। কিন্তু স্পেনও এখন একটি পরিণত দল। বড় ম্যাচে ভয় পেলে চলবে না, বরং উপভোগ করতে হবে।’
মিডফিল্ডার পেদ্রি মনে করেন, সেমিফাইনালের মূল লড়াই হবে মাঝমাঠে। তার মতে, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি। পেদ্রি বলেন, ‘ফ্রান্স খুব দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক করতে পারে। তাই বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের পাসিং ফুটবলও ধরে রাখতে হবে।’
ডিফেন্ডার মার্কোস লরেন্তো মনে করেন, এমবাপ্পেকে একা থামানোর পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স শুধু একজন খেলোয়াড়ের দল নয়। তাদের পুরো আক্রমণভাগই ভয়ংকর। তাই আমাদের রক্ষণকে দলগতভাবে খেলতে হবে। সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।’
চলতি বিশ্বকাপে স্পেন এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। গ্রুপপর্বে আধিপত্য দেখানোর পর নকআউটে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে তারা। দলের আত্মবিশ্বাসও তাই তুঙ্গে। তবে স্প্যানিশ শিবিরে কেউই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। ফরাসি আক্রমণভাগের গতি ও অভিজ্ঞতার বিপরীতে স্পেন ভরসা রাখছে নিজেদের বলের নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীল মিডফিল্ড এবং তরুণদের নির্ভীক মানসিকতার ওপর। দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাস, তার দল যদি নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তা হলে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে স্পেন শিবিরের বার্তা একটাই– ফ্রান্সকে যথেষ্ট সম্মান করা হচ্ছে, কিন্তু ভয় নয়। আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং দলগত ফুটবল দিয়েই তারা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চায়।