ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না? বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প বিদেশি বিনিয়োগে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাতকানিয়ায় বন্যায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি চা-শিল্পের সংকট ও টেকসই উন্নয়নের পথ নাগেশ্বরীতে এইচএসসিতে ধার করা ট্যাগ অফিসারে পরীক্ষা! হাসপাতালের নিকৃষ্ট সিন্ডিকেট নির্মূল করুন ডিজিটাল জুয়ার মরণফাঁদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র

অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির অন্যতম এক বিস্ময়কর নেয়ামত হলো বৃষ্টি। মহান রবের অসীম কুদরতের এক জীবন্ত নিদর্শন এটি। বৃষ্টির পানির ছোঁয়ায় মৃত পৃথিবী প্রাণ ফিরে পায়, শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে মাঠ-ঘাট, আর জীবকূল খুঁজে পায় বেঁচে থাকার রসদ। কিন্তু এই জীবনদায়ী বৃষ্টিই যখন অতিরিক্ত রূপ নেয় কিংবা দীর্ঘদিন উধাও থাকে, তখন তা মানবজাতির জন্য চরম বিপর্যয় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলাম আমাদের শেখায়, প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা আসলে কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে মহান স্রষ্টার গভীর হুকুম খোদায়ি রহস্য।

মহাবিশ্বের সবকিছুই এক সুনির্দিষ্ট নিয়মে মাপে পরিচালিত হচ্ছে। বৃষ্টি বর্ষণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি আকাশ থেকে পরিমিত পরিমাণে পানি বর্ষণ করি। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১৮)

এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন ধারণের জন্য যা কিছু অপরিহার্য, তা যদি সীমার বাইরে চলে যায়, তবে তা রহমতের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। যে পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, সেই পানিই যখন অতিবৃষ্টি আর বন্যার রূপ নেয়, তখন জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। তাই প্রজ্ঞাময় আল্লাহ সাধারণত সবকিছু পরিমাপ মতোই দেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি এর ব্যতিক্রম ঘটান মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য।

কখনো চারপাশ তীব্র খরায় পুড়তে থাকে, আবার কখনো অবিরাম বর্ষণে ভেসে যায় লোকালয়। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে মানুষেরই কর্মের ফল এবং এক ধরনের ঐশী সতর্কবার্তা। আল্লাহ বলেন, মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে। (সুরা রূম, আয়াত: ৪১)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যেদুর্ভিক্ষ, অনাবৃষ্টি, মহামারি, জলোচ্ছ্বাস বা অতিবৃষ্টির মতো সামষ্টিক বিপদগুলোর মূল কারণ মানুষের পাপাচার স্রষ্টার অবাধ্যতা। তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও আল্লাহর এক বিশেষ দয়া লুকিয়ে থাকে। কারণ, সাময়িক এই কষ্ট মানুষকে অহংকার ভুলে তওবা করার সঠিক পথে ফেরার সুযোগ করে দেয়।

অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টির সমাধান হিসেবে হাদিসে একটি চমৎকার শিক্ষণীয় ঘটনা রয়েছে। একবার জুমার দিন প্রিয় রাসুল (সা.) মদিনার মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক সাহাবি দাঁড়িয়ে আরজি জানালেন, হে আল্লাহর রাসুল! অনাবৃষ্টির কারণে খরা দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। পশুপাখি মানুষ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন।

তখন আকাশে মেঘের দূরতম কোনো চিহ্নও ছিল না। রাসুল (সা.) হাত তুলে দোয়া করতেই চারদিক থেকে মেঘ জমা হতে শুরু করল এবং প্রবল বেগে বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টি মদিনার মাঠ-ঘাট ভাসিয়ে একটানা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত চলতে থাকল।

পরের জুমায় যখন রাসুল (সা.) আবারও খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন সেই ব্যক্তি (বা অন্য কেউ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এবার তো অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে, চারপাশ ডুবে যাচ্ছে। দয়া করে বৃষ্টি বন্ধের দোয়া করুন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসলেন এবং আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করলেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের ওপর (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। (বুখারি, ১০১৩-১০১৫)

অলৌকিক বিষয় হলো, রাসুল (সা.) হাত দিয়ে আকাশের যেদিকে ইশারা করছিলেন, সেদিকের মেঘ কেটে যাচ্ছিল। মদিনার ওপর রোদ হেসে উঠল, আর শহরের চারপাশের উপত্যকায় বৃষ্টি হতে লাগল। ইসলাম শুধু বৃষ্টির আবেদন করতেই শেখায় না, বরং অতিবৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়ও বাতলে দেয়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না?
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার এক অনুপম উপহার হলো বৃষ্টি। মেঘভাঙা এই পানির ছোঁয়া যেমন তপ্ত মাটিকে শীতল উর্বর করে, তেমনি তা সৃষ্টিজগতের জন্য বয়ে আনে রিজিকের বার্তা। তবে বৃষ্টির গুরুত্ব কেবল প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর রহমত বর্ষণ এবং দোয়া কবুলের এক মোক্ষম সময়।

পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে বৃষ্টিকে মানবজাতির জন্য বিশেষ নেয়ামত রিজিকের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারায় আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, তিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন। আর আকাশ থেকে পানি (বৃষ্টি) বর্ষণ করে জীবিকাস্বরূপ তোমাদের জন্য ফলফলাদি উৎপন্ন করেছেন। (সুরা বাকারা২২)

অন্যত্র মহান আল্লাহ আরও বলেন, তিনি আকাশ থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং এর মাধ্যমে মানুষের ধনসম্পদ সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন (সুরা নুহ, আয়াত: ১১-১২) তাই বৃষ্টি কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মহান স্রষ্টার অসীম অনুগ্রহ প্রাচুর্যের প্রতিশ্রুতি।

অনেকেই বৃষ্টি নামলে যানজট কিংবা কাদা-পানির অজুহাতে বিরক্ত বোধ করেন। কিন্তু একজন প্রকৃত মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ আলাদা। কোরআন বলছে, মানুষ যখন হতাশ হয়ে পড়ে, তখনই আল্লাহ বৃষ্টি পাঠিয়ে পৃথিবীকে সজীব করেন। ইরশাদ হয়েছে, মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং (পৃথিবীতে) তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮)

যেহেতু বৃষ্টি আল্লাহর বিশেষ রহমতের বহিঃপ্রকাশ, তাই রহমত নাজিলের এই পবিত্র মুহূর্তটিকে দোয়া কবুলের জন্য শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়েছে। প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে, দুটি সময়ের দোয়া কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় নাআজানের সময়ের দোয়া এবং বৃষ্টির সময় করা দোয়া। (সহিহুল জামে৩০৭৮)

বৃষ্টির আগমন মানুষের মনকে কোমল করে এবং চারপাশের সতেজতা বান্দাকে আল্লাহর কুদরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বরকতময় সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন, হে আল্লাহ! এটিকে আমাদের জন্য একটি কল্যাণকর উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।বুখারি১০৩২)

শুধু দোয়াই নয়, আল্লাহর সদ্য প্রেরিত এই রহমতকে সশরীরে উদযাপন করার চমৎকার এক সুন্নতও রাসুল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে ছিলাম, এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো। রাসুল (সা.) তখন তাঁর গায়ের কাপড়ের কিছু অংশ সরিয়ে নিলেন, যেন বৃষ্টির পানি তাঁর পবিত্র শরীরে লাগে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমনটি কেন করলেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'কারণ এটি তাঁর প্রতিপালকের কাছ থেকে সদ্য আগত (নতুন রহমত)(সহিহ মুসলিম, ৮৯৮)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির অন্যতম এক বিস্ময়কর নেয়ামত হলো বৃষ্টি। মহান রবের অসীম কুদরতের এক জীবন্ত নিদর্শন এটি। বৃষ্টির পানির ছোঁয়ায় মৃত পৃথিবী প্রাণ ফিরে পায়, শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে মাঠ-ঘাট, আর জীবকূল খুঁজে পায় বেঁচে থাকার রসদ। কিন্তু এই জীবনদায়ী বৃষ্টিই যখন অতিরিক্ত রূপ নেয় কিংবা দীর্ঘদিন উধাও থাকে, তখন তা মানবজাতির জন্য চরম বিপর্যয় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলাম আমাদের শেখায়, প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা আসলে কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে মহান স্রষ্টার গভীর হুকুম খোদায়ি রহস্য।

মহাবিশ্বের সবকিছুই এক সুনির্দিষ্ট নিয়মে মাপে পরিচালিত হচ্ছে। বৃষ্টি বর্ষণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি আকাশ থেকে পরিমিত পরিমাণে পানি বর্ষণ করি। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১৮)

এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন ধারণের জন্য যা কিছু অপরিহার্য, তা যদি সীমার বাইরে চলে যায়, তবে তা রহমতের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। যে পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, সেই পানিই যখন অতিবৃষ্টি আর বন্যার রূপ নেয়, তখন জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। তাই প্রজ্ঞাময় আল্লাহ সাধারণত সবকিছু পরিমাপ মতোই দেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি এর ব্যতিক্রম ঘটান মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য।

কখনো চারপাশ তীব্র খরায় পুড়তে থাকে, আবার কখনো অবিরাম বর্ষণে ভেসে যায় লোকালয়। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে মানুষেরই কর্মের ফল এবং এক ধরনের ঐশী সতর্কবার্তা। আল্লাহ বলেন, মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে। (সুরা রূম, আয়াত: ৪১)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যেদুর্ভিক্ষ, অনাবৃষ্টি, মহামারি, জলোচ্ছ্বাস বা অতিবৃষ্টির মতো সামষ্টিক বিপদগুলোর মূল কারণ মানুষের পাপাচার স্রষ্টার অবাধ্যতা। তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও আল্লাহর এক বিশেষ দয়া লুকিয়ে থাকে। কারণ, সাময়িক এই কষ্ট মানুষকে অহংকার ভুলে তওবা করার সঠিক পথে ফেরার সুযোগ করে দেয়।

অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টির সমাধান হিসেবে হাদিসে একটি চমৎকার শিক্ষণীয় ঘটনা রয়েছে। একবার জুমার দিন প্রিয় রাসুল (সা.) মদিনার মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক সাহাবি দাঁড়িয়ে আরজি জানালেন, হে আল্লাহর রাসুল! অনাবৃষ্টির কারণে খরা দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। পশুপাখি মানুষ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন।

তখন আকাশে মেঘের দূরতম কোনো চিহ্নও ছিল না। রাসুল (সা.) হাত তুলে দোয়া করতেই চারদিক থেকে মেঘ জমা হতে শুরু করল এবং প্রবল বেগে বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টি মদিনার মাঠ-ঘাট ভাসিয়ে একটানা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত চলতে থাকল।

পরের জুমায় যখন রাসুল (সা.) আবারও খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন সেই ব্যক্তি (বা অন্য কেউ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এবার তো অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে, চারপাশ ডুবে যাচ্ছে। দয়া করে বৃষ্টি বন্ধের দোয়া করুন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসলেন এবং আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করলেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের ওপর (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। (বুখারি, ১০১৩-১০১৫)

অলৌকিক বিষয় হলো, রাসুল (সা.) হাত দিয়ে আকাশের যেদিকে ইশারা করছিলেন, সেদিকের মেঘ কেটে যাচ্ছিল। মদিনার ওপর রোদ হেসে উঠল, আর শহরের চারপাশের উপত্যকায় বৃষ্টি হতে লাগল। ইসলাম শুধু বৃষ্টির আবেদন করতেই শেখায় না, বরং অতিবৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়ও বাতলে দেয়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অনন্য বরকতময় নিয়ামত। বৃষ্টির পরশ পেয়ে মৃতপ্রায় পৃথিবী নতুন জীবন ফিরে পায়, জমিতে ফসল ফলে এবং মানবজাতিসহ সমস্ত জীবকূল বেঁচে থাকার রসদ পায়। এই ঐশী নিয়ামতের বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আমি আকাশ থেকে বরকতময় বৃষ্টি বর্ষণ করি, অতঃপর তা দ্বারা বাগান শস্যদানা উৎপন্ন করি। (সুরা কাফ, ৯)

তবে মাঝে মাঝে এই নিয়ামতই অতিবর্ষণ, বন্যা বা জলাবদ্ধতার রূপ নিয়ে আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে, যা মানুষের জন্য পরীক্ষা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের করণীয় কী, তা ইসলাম স্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছে। নিচে বিষয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল আলোচনা করা হলো:

. ধৈর্য ধারণ আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি, ফসল বা জানমালের ক্ষতি হলে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।(সূরা বাকারা, ১৫৫)

বিপদের সময় মুমিনের কোনো লোকসান নেই, যদি সে ধৈর্য ধরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের পুরো জীবনটাই চমৎকার। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর, যা মুমিন ছাড়া অন্য কেউ পায় না। সে যখন সুখের দেখা পায় তখন শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যখন কোনো বিপদে পড়ে তখন ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসনাদে আহমাদ)

. সুন্নাহ সম্মত দোয়া ইস্তিগফার

বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নাত। সাধারণ বৃষ্টির সময় তিনি বলতেন, আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এই বৃষ্টিকে আমাদের জন্য মুষলধারে বর্ষিত কল্যাণকর বৃষ্টি বানিয়ে দিন। (সহিহ বুখারি)

আবার বৃষ্টি যখন অতিবৃষ্টিতে রূপ নিত এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন রাসুল (সা.) আল্লাহর দরবারে এই দোয়া করতেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুত্বনিল আউদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার,

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকা বনাঞ্চলে এই বৃষ্টি ফিরিয়ে নিন। (সহিহ বুখারি)

. ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো

যেকোনো সংকটে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। অতিবর্ষণ বন্যার কারণে বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সামর্থ্যবান মুমিনের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তায়ালাও ততক্ষণ সেই বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন। (সুনানে আবু দাউদ)

. দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাসেবী হওয়া

যাদের শারীরিক সামর্থ্য শক্তি আছে, বিশেষ করে তরুণ সমাজের উচিত এই দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভূমিকা রাখা। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন পরিষ্কার করা, ভেঙে পড়া গাছ রাস্তা থেকে সরানো বা আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে মনের সুখে বিচরণ করতে দেখেছি, কারণ সে রাস্তা থেকে এমন একটি গাছ কেটে সরিয়েছিল যা মুসলিমদের যাতায়াতে কষ্ট দিচ্ছিল। (মুসলিম)

. সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একশ্রেণীর মানুষ আতঙ্ক ছড়াতে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করে। কেউবা আবার ভিউ লাইকের আশায় মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করে, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা বা ছড়ানো যাবে না। বিষয়ে মহান আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, হে মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তবে তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও। যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়। (সুরা হুজুরাত, ৬)

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের সমস্ত ক্ষমতার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই দুর্যোগের এই মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সাধ্যমতো মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

       

আজ ১৩ জুলাই ২০২৬, সোমবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (১৪ জুলাই)

.৫৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে আমল ৩৬০ জোড়ার সদকা
সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় আমাদের অন্তহীন কর্মব্যস্ততা। অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই এই মানবদেহের কথা, যা ৩৬০টি হাড়ের জোড়া নিয়ে গঠিত। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই প্রতিটি জোড়া সচল ও সুস্থ থাকা অপরিহার্য।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক সহজ আমল শিখিয়েছেন, যা প্রতিদিন সকালে আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতার পক্ষ থেকে এক মহত্তম শুকরিয়া বা সদকা হিসেবে গণ্য হয়। তা হলো–চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা)।

ইসলামে সকালের এই নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় সকাল করে যে, তার (শরীরের) প্রত্যেক জোড়ার বিপরীতে একটি করে সদকা দেওয়া আবশ্যক।

কাজেই প্রত্যেকবার সুবহানাল্লাহ বলা সদকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সদকা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সদকা, আল্লাহু আকবর বলা সদকা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া সদকা এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর এই সবকিছুর পক্ষ থেকে চাশতের দুই রাকাত নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০)

এই নামাজের নিয়ম ও সময় অত্যন্ত সহজ। সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৯টার পর) থেকে শুরু করে ঠিক দুপুর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়। চাশতের নামাজ কমপক্ষে দুই রাকাত, তবে চাইলে চার, আট বা তার বেশিও পড়া যায়। সুতরাং সকালের শত ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ৫টি মিনিট বরাদ্দ করে আসুন আমরা চাশতের এই অনন্য সুন্নতের সুবাসে নিজেদের জীবনকে ধন্য করি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক