ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ ৪ দলের মধ্যে কার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ' ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা অনলাইনে মাদক-বাণিজ্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ ‘মাদক বহনকারীরা জেলে, কিন্তু কারবারিরা সংসদে কেন?’ ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার নতুন ডিরেক্টর ড. মাইক মিলার কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না? বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প বিদেশি বিনিয়োগে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাতকানিয়ায় বন্যায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি চা-শিল্পের সংকট ও টেকসই উন্নয়নের পথ নাগেশ্বরীতে এইচএসসিতে ধার করা ট্যাগ অফিসারে পরীক্ষা! হাসপাতালের নিকৃষ্ট সিন্ডিকেট নির্মূল করুন ডিজিটাল জুয়ার মরণফাঁদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড'

ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর সদর উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিন বন্ধু। এ সময় বজ্রপাতে সাব্বির মোল্লা (১৭) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার(১৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সাব্বির মোল্লা খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির সময় সাব্বির তার দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছের নিচে বসে ছিল। এ সময় হঠাৎ গাছের পাশে বজ্রপাত হলে তিনজনই ছিটকে পড়ে। এতে সাব্বির মোল্লা গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু অক্ষত রয়েছে এবং তারা সুস্থ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদ মুন্সী জানান, খলিলপুর বিলডাঙ্গা গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে সাব্বির মোল্লা নামে এক কিশোর বজ্রপাতে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। 

এনকেবি নয়ন/রিফাত/

সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ'

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ'
সিরাজগঞ্জের আর্জেন্টিনা বটগাছ। ছবি: খবরের কাগজ

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ চলছে পুরোদমে। তারই অংশ হতে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির একটি বিশাল বটগাছ। দূর থেকে তাকালেই মনে হবে, সবুজ প্রকৃতির বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার বিশাল এক পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আজুগরা ও জামতৈল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটিকে ঘিরেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় প্রথম আকাশি-সাদা রঙে সাজানো হয়েছিল গাছটি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও নতুন করে রঙ করা হয়েছে গাছটিকে।

এ আয়োজনের পেছনে নেই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক অর্থায়ন। স্থানীয় প্রবীণ, তরুণ ও কিশোররা যার যতটুকু সামর্থ্য, ঠিক ততটুকু অর্থ দিয়েছেন। কেউ ৫ টাকা, কেউ ১০ টাকা, কেউ ৫০ বা ১০০ টাকা করে সহযোগিতা করেছেন। সবার ছোট ছোট অবদান মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাছটিকে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙানো হয়েছে।

শুধু একটি গাছ নয়, এলাকার পরিবেশও যেন ফুটবলের রঙে রঙিন। বিভিন্ন সড়কে উড়ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা। এক রিকশাচালক নিজের জীবিকার বাহনটিকেও সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। বিশ্বকাপ এলেই এলাকায় বসে খেলা দেখার আয়োজন, আড্ডা ও নৈশভোজে মেতে ওঠেন সব দলের সমর্থকরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে শুধু মাঠের খেলায়, বাস্তবে নয়।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. রাসেল হোসেন বলেন, আর্জেন্টিনা আমাদের আবেগের নাম। সেই ভালোবাসা প্রকাশ করতেই ২০২২ সালে প্রথম গাছটিকে রঙ করি। এবার বিশ্বকাপে আবারও নতুন করে সাজানো হয়েছে। এই আয়োজন কারও একার নয়, এলাকার সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ ও শ্রম দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফুটবল আমাদের আনন্দের উৎসব। আমরা যে যার পছন্দের দলকে সমর্থন করি, কিন্তু সম্পর্কের জায়গায় কোনো বিভেদ নেই। বিশ্বকাপ এলে পুরো এলাকা উৎসবের গ্রামে পরিণত হয়।

আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে নিজের রিকশা সাজানো চালক বলেন, রিকশাই আমার জীবিকা। কিন্তু আর্জেন্টিনা আমার ভালোবাসা। তাই নিজের রিকশাটাকেও প্রিয় দলের রঙে সাজিয়েছি। যাত্রীরাও রিকশা দেখে ছবি তোলেন, ভালো লাগে।

হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের আর্জেন্টিনা হয়ত কখনো জানবে না বেলকুচির এই গাছটির গল্প। তবে আকাশি-সাদা রঙে মোড়া এই গাছটি প্রমাণ করে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের ভালোবাসা, আবেগ আর সম্প্রীতির এক অনন্য ভাষা। তাই আর্জেন্টিনা গাছটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন আর্জেন্টিনা সমর্থক ফুটবল প্রেমীরা।

শিশির/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ পিএম
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১
প্রতীকী ছবি

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার একটি ফিশিং ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা জেলেদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রলারে থাকা অন্য সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ অমজাখালী এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ নাফিজ (২০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. করিম (২১), আব্দুল মাবুদের ছেলে আইয়ুব মনির (২০) এবং আলী আকবর ডেইল হায়দারপাড়ার কামাল (৪৮)।

এ ঘটনায় পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাগপাড়ার নাছির উদ্দীন (২১) নামে এক জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

কুতুবদিয়া মৎস্য ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম জানান, বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালীর নুরুল আবছারের মালিকানাধীন এফবি ফকিরা মসজিদ নামে একটি ফিশিং ট্রলার ১২ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে মাছ ধরতে সাগরে যায়। ভোরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে চার জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরেক জেলেকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক আহমেদ বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় চার জেলের মরদেহ উদ্ধার এবং একজনের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানা গেছে।

তারেকুর রহমান/নাঈম

ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লায় আলীগঞ্জ এলাকায় মেইন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আদিবা আক্তার (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত শিশুর চাচা মোহাম্মদ জুম্মন জানান, বিকেলের দিকে ফতুল্লার আলিগঞ্জ বাসার সামনে বড় বোন ফাতিমা আক্তারের সঙ্গে খেলছিল আদিবা, খেলার একপর্যায়ে আদিবা হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে বোন ফাতিমা দ্রুত বাসায় গিয়ে তার মাকে খবর দিলে, তার মা এসে আদিবাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মোস্তাফিজ সেন্টার নামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি আরও জানান, নিহত আদিবার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলা নিকলী থানার গৌরীপুর গ্রামের মোকলেস হোসেনের মেয়ে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। দুই বোনের মধ্যে আদিবা ছিল ছোট। নিহতের বাবা পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।

নাঈম/

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। যা বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে রবিবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

খোঁজ নিন জানা যায় এর মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্য দেখা দিতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় এ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বেড়েছে। রাতে আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ফরহাদ হোসাইন/রিফাত/

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়েছে ২২ ফুট। এতে কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী ৬ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এ দুর্যোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

রাঙামাটিতে অতিবর্ষণে পাহাড়ধস ও বন্যায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার ৯ উপজেলা ও ২ পৌর এলাকায় ৭ হাজার ৬শ ৪৬ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। আর ৭ উপজেলায় ১৩৫টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় অনেকে এরমধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছেন। এরপরও সোমবার পর্যন্ত জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫৮৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। 

দুর্যোগে জেলায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সেতু ধসে তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক। সড়ক ধসে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে পাঁচদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ায় বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও লংগূু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১০৯ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) ধারণক্ষম কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রবিবার ১৩ জুলাই দুপুর দুইটা পর্যন্ত ছিল ১০০ দশমিক ৮.০ ফুট। অবশ্য পানি বাড়ায় দেশের একমাত্র কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬ মেগাওয়াট। যা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। 

দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির পরিমাণ, বণ্টন, আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত মানুষের সংখ্যা, সড়ক, সেতু কালভার্ট, খেত-ফসলসহ সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ নিয়ে এই প্রথম বারের মতো জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লুকোচুরি, সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও স্থানীয় প্রশাসন থেকে যথেষ্ট ত্রাণ সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে। 

বাঘাইছড়ি প্রথম নিম্নাঞ্চল ডুবতে শুরু করে। সেখানে ৭ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পুকুর, মাছের ঘের ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির। ঘরবাড়ি, সহায় সম্পদ, গরু-ছাগল হাঁসমুরগি রেখে যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। আবার আশ্রয়কেন্দ্রে এসেও নিয়মিত খাবার, শিশুখাদ্য, ঔষধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

গণমাধ্যমে প্রচারের পর বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১১শ জন আশ্রয় নেওয়ার তথ্য সংশোধন করে মাত্র ৮২ জনে নামিয়ে আনে জেলা প্রশাসন। মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে তিনদিনে একবেলা খাবার দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার ৯ জুলাই ১২৯ পরিবার পানিবন্দি থাকার কথা বললেও এর চারদিনের মাথায় আজ ১৩ জুলাই বলা হয়েছে-৭ হাজার ৬শ ৪৬ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। 

৮ জুলাই রাতে আকস্মিক বন্যায় বিলাইছড়ির ফারুয়ায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও চারদিন পর ১২ জুলাই ২০০ জনকে দেওয়া হয় ১০ কেজি করে সরকারি চাল। যেখানে ফারুয়া বাজারের দেড় শতাধিক দোকান ডুবে যায়। সর্বশেষ রবিবার রাতে শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে বয়স্কদের খাবার দেওয়া হলেও বাচ্চাদের না দেওয়ায় খাবার বর্জন করেন দুর্গতরা। এমনকি এই দুর্যোগে সরকারি খাদ্যশস্য ও অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন সহায়তার পরিমাণও প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের এমন আচরণে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রিফাত/