ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা ১৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষ অধ্যায় আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ দুই বন্দুক, এক লক্ষ্য ফাইনালে চোখ আলভারেজের দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে? ‘এটা শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও লড়াই’ স্পেনের কাছে হেরে ‘বিধ্বস্ত’ ফ্রান্স, রেফারিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশমের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে, খেলা কবে-কখন? আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর ফ্রান্স বধে ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, বিশ্বরেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে লা রোজারা লাল কার্ডে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর চাপ আরও বাড়ে: বালোগুন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ‘বিশ্বকাপ জিততে সেরাদেরই হারাতে হবে’ ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ
সিস্টেম গ্রুপ চেয়ারম্যান ফজলুল আজিম সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দেন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১১ জন গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করেছে সিস্টেম গ্রুপ।

সোমবার (১৩) জুলাই গ্রুপটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, ডা:আবুল কাশেম ফাউন্ডেশন-এর প্রধান উপদেষ্টা আবু জাফর কাদেরী, সিস্টেম গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিছবাহ উদদীন কাদেরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন, বি এন পি নেতা সৈয়দ নুর ও জাফর মেম্বার।

এ সময় মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, গত আট দিনের টানা অতি বৃষ্টির কারণে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের ঘরে খাবার নাই। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ, অনেকে হারিয়েছেন সহায় সম্বল। এমতাবস্থায় সিস্টেম গ্রুপ সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি এ মুহূর্তে দল মতের ঊর্ধ্বে থেকে আর্ত মানবতার সেবায় সবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মাননীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মানুষকে সুখে শান্তিতে রাখার। সাতকানিয়া এবং লোহাগাড়ায় মাস্টার প্ল্যান করে আগামীতে যেন আর মানুষকে বন্যার পানিতে ডুবতে না হয় সে ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

নাঈম/

এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ এখন বেশি ঝুঁকিতে আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ১০৫ জন সাপে কাটা রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত এক সপ্তাহে ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বন্যার কারণে বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে এটা সত্যি। তবে চমেক হাসপাতালে এখন যে ১৩ জন ভর্তি আছেন, তা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। আমাদের এখানে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে। চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকেও রোগীরা সুফল পাচ্ছেন। তাই সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ১০৫ জনকে সাপে কামড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ উপজেলায় সাপে কাটা রোগী পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ জন। কিন্তু বন্যার কারণে সাপের উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা মারাত্মক হারে বেড়েছে। তবে সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। অনেকে ঝাড়ফুঁক করে সময় নষ্ট করেন। এটা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।’

সিভিল সার্জন আরও জানান, চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয়েছে। সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮০০ ভায়াল এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩০০ ভায়ালসহ মোট ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করলেই বুক কেঁপে ওঠে নদীপাড়ের মানুষের। লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে স্থায়ী নদীশাসনের কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অস্থায়ী প্রকল্প এবং বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। একই ধরনের বিড়ম্বনার শিকার নীলফামারী জেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা, বাঁধ মেরামত ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হলেও পানি বাড়লেই ক্ষতির শিকার হন নদীপাড়ের মানুষ। ফলে একই ধরনের কাজের জন্য বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কার্যকর সুফল মিলছে না। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বন্যা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকেও মুক্তি মিলছে না লাখো মানুষের। এতে প্রতিবছর কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। হঠাৎ পানিতে কৃষকের ফসল ডুবে যায়। ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, পাট, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুনসহ নানাবিধ ফসলের ক্ষতি হয়। গবাদিপশু নিয়েও চরম দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়।  সামান্য পানি এলেই প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। আর বাড়িঘরে পানি উঠলে গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে অবস্থান করতে হয়। 

আদিতমারী এলাকার ষাটোর্ধ্ব কাউয়ুম মিয়া বলেন, ‘৮-১০ বার বাড়ি-ভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও বর্ষায় তা ব্যর্থ হয়ে যায়। কখন পানি আসবে, সবকিছু ডুবিয়ে নিঃস্ব করে দেবে, সেই আতঙ্কে থাকি। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বছরের পর বছর শুনলেও এখন আর আশা জাগে না।’ একই এলাকার ইউপি সদস্য মতি মিয়া বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ও ভাঙন মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুকনো মৌসুমে কিছুটা চাষাবাদ করে ঘুরে দাঁড়ালেও আবারও বর্ষায় নিঃস্ব হয় সাধারণ মানুষ। চক্রাকারে এভাবেই চলে নদীপাড়ের মানুষের জীবন।’ 

২০২২ সালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, বাঁধটি তিস্তার বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে তাদের রক্ষা করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, তিস্তার পানি সামান্য বাড়লেই বাঁধের বিভিন্ন অংশ বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বাঁধের পেছনের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ শেষ হয় না। বাঁধের কারণে ভেতরে ঢুকে পড়া পানি সহজে বের হতে না পারায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকে এলাকা। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে স্থায়ী নদীশাসনের অভাবে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

নদী গবেষক রিভারাইন পিপলসের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিস্তা নদীর বয়স মাত্র ২৩৮ বছর। এখনো সে থিতু বা স্থায়ী হয়নি। এর আচরণ ও রূপ বোঝাও খুব মুশকিল। এ জন্য তিস্তাকে পাগলী নদীও বলা হয়। তিস্তার মাটির কণা বালুকণার থেকে ছোট ও পাড়ের মাটি নরম হওয়ায় ভাঙন বেশি দেখা দেয়। দেশে ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর বিশাল চরাঞ্চল ও শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকায় এর স্রোত খাড়া হয়। ফলে নিমেষেই সব ভেঙেচুরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, যখন থেকে মহাপরিকল্পনার কথা উঠেছে, পাউবো স্থায়ী কাজের দিকে মনোনিবেশ কমিয়ে এনেছে। কিন্তু অস্থায়ী কাজ দিয়ে তিস্তাকে আটকানো যাবে না। বিজ্ঞানসম্মতভাবে সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় সঠিক পরিকল্পনা করে প্রয়োজনে ধাপে ধাপে কাজ কতে হবে। এতে তিস্তাপাড়ের কোটি মানুষের সুফল মিলবে।

সার্বিক বিষয়ে  পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে, এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা তৈরি হতে পারে। ফলে আমরা সার্বক্ষণিক নদী এলাকায় খোঁজখবর রাখছি। নদীতীরের মানুষকে বন্যা নিয়ে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে।’

বর্ষায় তাণ্ডব, খরায় হাহাকার

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা এলেই শুরু হয় তাদের আতঙ্কের দিন। পানি বাড়ার খবর শুনে অনেক পরিবার আগেভাগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে। কেউ গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, কেউ আবার রাত জেগে পাহারা দেন ভিটেমাটি। আর শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলে কৃষকের চোখে ভেসে ওঠে নতুন দুশ্চিন্তা- কীভাবে সেচ দেবেন, কীভাবে বাঁচাবেন বছরের একমাত্র ফসল।

জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাইর রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য জাফর খান বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শুনলেও বাস্তবে নদীপাড়ের মানুষের ভাগ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্ষা এলেই বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, আর খরা মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। আমাদের দাবি, মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সেই প্রকল্পের অপেক্ষার অজুহাতে নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা যাবে না। তিস্তাপাড়ের মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনে আমার বাড়ি দুবার ভেঙে গেছে। একবার ভাঙনের শিকার হওয়ার পর আবার নতুন করে ঘর তৈরি করেছিলাম, কিন্তু নদী সেটিও কেড়ে নিয়েছে। এখন সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন আবার বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে শুধু আমার মতো পরিবার নয়, হাজারও মানুষ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।’

গৃহবধূ আসমা বেগম বলেন, ‘বর্ষার সময় পানি বাড়লে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঘরের চারপাশে পানি জমে যায়, অনেক সময় চুলার মধ্যেও পানি ঢুকে যায়। তখন রান্না করা সম্ভব হয় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়। বাধ্য হয়ে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করে চলতে হয়। শিশুসন্তানদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’

এদিকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় তিস্তাপাড়ের শিক্ষার্থীদের। বর্ষাকালে অনেক গ্রামের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। নৌকা ছাড়া স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে পারে না। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘আমার বন্ধুরা নিয়মিত স্কুলে যায়, কিন্তু আমরা অনেক সময় যেতে পারি না। বর্ষার সময় রাস্তা ডুবে যায়, নৌকা না পেলে বাড়ি থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।’ টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বাড়লেই আমাদের ইউনিয়নের হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।’ 

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি ওঠানামা করছে। এ কারণে কখনো কখনো পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ। উজানে গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করা হলে ভাটির দিকে পানির প্রবাহ কমে আসে। এর প্রভাব বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার মানুষ ও কৃষির ওপর পড়ে। প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলে, বর্তমানে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা বা নতুন কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নদী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা
কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার এলাকার বাড়ির সামনে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন একটি পরিবারের সদস্যরা। ছবি: খবরের কাগজ

‘আমি তো ভাবিনি, ঘরের পাশের এই পানিটাই আমার সন্তানকে কেড়ে নেবে। মৃত্যুর একটু আগেও উঠানে খেলছিল। চোখের আড়াল হতেই খুঁজতে শুরু করি। অনেকক্ষণ পরে যখন পানির মধ্যে পেলাম, তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার তিন বছরের ছোট্ট পুষ্প আর নেই।’

একই শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদও। দুই বছর বয়সী ছেলে ওয়াকিমকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা বাড়ির সামনে কত আনন্দে খেলছিল। কে জানত, কয়েক মিনিটের অসাবধানতায় তাকে আর ফিরে পাব না। বন্যার এই পানি আমার বুকটাই খালি করে দিল।’ গত বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকেলে এই দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় কক্সবাজারের ৯টি উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় ও ১৩ জন রোহিঙ্গা।

পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ কাটেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবা, সাপের কামড়, পানিবাহিত রোগ ও মানসিক আঘাত থেকে শিশুদের রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পানিতে খেলা নয়, সার্বক্ষণিক তদারকি

বন্যার পানি দেখতে শান্ত হলেও নিচে খোলা নালা, গর্ত বা তীব্র স্রোত থাকতে পারে। অল্প পানিতেও শিশু ডুবে যেতে পারে। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘দুর্যোগের সময় শিশুরা ঝুঁকির মাত্রা বোঝে না। তাই অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক তদারকিই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা। তাদের একা কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না। আশ্রয়কেন্দ্রেও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

সাপের উপদ্রব

বন্যার সময় গর্তে পানি ঢুকে পড়ায় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর, রান্নাঘর, খড়ের গাদা কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারে। কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও শিশুদের জুতা পরে চলাফেরা নিশ্চিত করা জরুরি। সাপে কামড়ালে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।’

বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা

নলকূপ ও পুকুরের পানি দূষিত হওয়ায় শিশুদের ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তৌসিফ উদ্দিন মিজবাহ বলেন, ‘শিশুদের সুস্থ রাখতে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।’

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জানান, বন্যা-পরবর্তী সময়ে শিশুদের নিউমোনিয়া, চোখ ওঠা ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে। জেলায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত আছে। যেকোনো অসুস্থতায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মানসিক যত্ন ও আশ্রয়কেন্দ্রে বাড়তি নজর

আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড়ের মধ্যে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তাদের সঙ্গে নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লেখা আইডি কার্ড রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার এলাকার চাকরিজীবী সাইদুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘বন্যায় আমার ছোট ছেলে খুব ভয় পেয়ে গেছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে আমরা ওর সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছি, খেলাধুলা করছি। এখন সে স্বাভাবিক হয়েছে।’

বিদ্যুৎ ও বজ্রপাত

বন্যার সময় ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার কিংবা পানিতে ডুবে থাকা বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুদের এসব থেকে নিরাপদ রাখতে হবে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় শিশুদের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।

পূর্বাভাস মেনে প্রস্তুতি

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘নিয়মিত পূর্বাভাস দেখা জরুরি। সে অনুয়ায়ী দেখে আগে থেকেই শুকনো খাবার, পানি, ওষুধ ও জরুরি কাগজপত্রের ব্যাগ গুছিয়ে রাখলে দুর্যোগের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়া সম্ভব হয়।’

সচল চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
সচল চট্টগ্রাম বন্দর
ছবি: খবরের কাগজ

আবহাওয়া অনুকূলে আসায় সচল হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। পাশাপাশি বেড়েছে কনটেইনার ডেলিভারি। 

গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। চলে ১২ জুলাই পর্যন্ত। সাগরের পরিস্থিতি ভাল না থাকায় গত ৬ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যায় লাইটার জাহাজ চলাচল। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থমকে পড়ে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম। অপরদিকে বন্দরের জেটিও তলিয়ে যায় পানিতে। সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় পণ্যবাহী পরিবহন। ফলে কনটেইনার ডেলিভারিসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বৈরি আবহাওয়ার কারণে বাধাগ্রস্থ হয়। বর্তমানে পুরোদমে কার্যক্রম চলছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিতে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ৯৫টি জাহাজ রয়েছে। এরমধ্যে ৬৭টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে ৪৬ হাজার ৩০২টি কনটেইনার রয়েছে। অপরদিকে ১৩ জুলাই বন্দর থেকে ২ হাজার ৬৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি হয়। ১৪ জুলাই বেড়ে ৩ হাজার ৭১৩টি কনটেইনার বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে। 

শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার হোসেন সাগর জানিয়েছেন, সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা পুরোদমে শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। এখন জাহাজ থেকে পণ্য নামানো হচ্ছে। এসব জাহাজে আমদানিকৃত গম, অপরিশোধিত চিনি, সয়াবিন তেল তৈরীর কাঁচামাল, সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল ক্লিংকার, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, রবিবার (১২ জুলাই) থেকেই লাইটার জাহাজগুলো কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। 

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। যা চট্টগ্রামের ইতিহাসে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। নষ্ট হয়েছে নিচু এলাকার বাসাবাড়ির আসবাবপত্র ও দোকানের মালামাল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সব ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। 

এসএন/

আখাউড়ায় নতুন বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
আখাউড়ায় নতুন বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বরিশাল গ্রামের মো. ফজলুর রহমান ভূঁইয়ার বাড়িতে স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ইউনিয়নের কার্যক্রমের সূচনা হয়।

অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া।

তিনি বলেন, ‘অস্থায়ী কার্যালয় চালুর মাধ্যমে নবগঠিত ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলো। প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টরা নিয়মিতভাবে ইউনিয়নের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

এর আগে চলতি মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন বরিশল ইউনিয়ন গঠন করে সরকার গেজেট প্রকাশ করে। একইসঙ্গে মো. ফজলুর রহমান ভূঁইয়াকে ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো. ফজলুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বরিশল ইউনিয়নকে জেলার অন্যতম আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘আমি কখনো দুর্নীতি করিনি, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। সরকারের সব ধরনের বরাদ্দ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে বণ্টন করা হবে। আমি নিজেও এ কার্যক্রম তদারকি করব।’

নতুন বরিশল ইউনিয়ন গঠনের ফলে আখাউড়া উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ইউনিয়নের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে।

এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিলউদ্দিন মাহমুদ, আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন, আখাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জুটন বনিক/রিফাত/