টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত ও নিম্নাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া মানুষ বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় এক সপ্তাহে ১০৫ জনকে সাপে কেটেছে। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। তবে মহিলা ও শিশু রোগীও রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ১০৫ জন সাপে কাটা রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, চমেক হাসপাতালে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আশা করছি ভর্তি থাকা রোগীরাও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হবেন। বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রপ দেখা দিয়েছে বন্যার কারণে সেটা সত্য কিন্তু চট্টগ্রামে যে ১৩জন ভর্তি রয়েছে সেটা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। চমেক হাসপাতালে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যানিটভেনম রয়েছে। এছাড়া চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে। সুতরায় সাপে কাটা রোগী নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, রোগীর দ্রুত চিকিৎসা সেবা দরকার, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সাপ কাটলে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্ষা ও বন্যার সময় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। ফলে কৃষিজমি, বাড়ির আঙিনা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতে টর্চ ব্যবহার, খালি পায়ে চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ১০৫জনকে সাপে কামড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ উপজেলায় সাপে কাটা রোগী পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ জন। কিন্তু বন্যার কারণে সাপের উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা মারাত্নক হারে বেড়েছে। তবে সাপে কামড়ালে আতংকিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া উত্তম। অনেকে ঝাড়ফুঁক করেন এতে সময় নষ্ট হয়। এটা না করে দ্রুত হাসপাতালে গেলে রোগী ভাল হয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮০০ ভায়াল এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩০০ ভায়ালসহ মোট ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।
এসএন/