ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল জিন্নাত আলীর জলাবদ্ধ রাস্তায় গাড়ি-বাইক চালাবেন যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেনি: মাদারীপুর পুলিশ সুপার ভেজাল খাদ্য শনাক্তে জেলাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ল্যাবভ্যান চালু হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে কী করবেন ঢাবি অ্যালামনাই ১৯৯৯ থেকে ২০০০-এর রজত জয়ন্তীর প্রস্তুতি শুরু এনভিডিয়া উন্মোচন করল জিফোর্স ট্রেডিং কার্ডস পূর্বাচল ভ্যালিতে দ্বিতীয় ধাপের প্লট হস্তান্তর সম্পন্ন, আস্থার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন স্থগিত পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর দেশে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল বিক্রির মাইলফলক খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ উদ্বোধন চার মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন ডে-কেয়ার নয়, শিশুদের সময় দিন ইবিতে প্রধান ফটকের সামনে স্পিডব্রেকার প্রয়োজন তৃতীয় বিয়ে করলেন ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার ডায়েরিজ’ তারকা পল ওয়েসলি দুর্নীতির প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাব-নিকাশ যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও হেফাজতের আবির্ভাব আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল যমুনা ইলেকট্রনিক্স বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে স্বাস্থ্যচুক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও

এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত ও নিম্নাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া মানুষ বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় এক সপ্তাহে ১০৫ জনকে সাপে কেটেছে। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। তবে মহিলা ও শিশু রোগীও রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ১০৫ জন সাপে কাটা রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, চমেক হাসপাতালে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আশা করছি ভর্তি থাকা রোগীরাও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হবেন। বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রপ দেখা দিয়েছে বন্যার কারণে সেটা সত্য কিন্তু চট্টগ্রামে যে ১৩জন ভর্তি রয়েছে সেটা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। চমেক হাসপাতালে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যানিটভেনম রয়েছে। এছাড়া চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে। সুতরায় সাপে কাটা রোগী নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, রোগীর দ্রুত চিকিৎসা সেবা দরকার, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সাপ কাটলে।  


চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্ষা ও বন্যার সময় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। ফলে কৃষিজমি, বাড়ির আঙিনা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতে টর্চ ব্যবহার, খালি পায়ে চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ১০৫জনকে সাপে কামড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ উপজেলায় সাপে কাটা রোগী পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ জন। কিন্তু বন্যার কারণে সাপের উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা মারাত্নক হারে বেড়েছে। তবে সাপে কামড়ালে আতংকিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া উত্তম। অনেকে ঝাড়ফুঁক করেন এতে সময় নষ্ট হয়। এটা না করে দ্রুত হাসপাতালে গেলে রোগী ভাল হয়। 

তিনি জানান, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮০০ ভায়াল এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩০০ ভায়ালসহ মোট ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

এসএন/

রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল জিন্নাত আলীর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল জিন্নাত আলীর
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জিন্নাত আলী (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিন্নাত আলী ওই গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন জিন্নাত আলী। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমা‌নে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। 

গোলাম মাওলা/নাঈম

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেনি: মাদারীপুর পুলিশ সুপার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেনি: মাদারীপুর পুলিশ সুপার
ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল সফরে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরে কেউ ইটের টুকরা নিক্ষেপ করেনি বলে দাবি করেছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, সামনের গাড়ির চাকায় লেগে সড়কে থাকা একটি ইটের টুকরা ছিটকে পেছনে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িতে গিয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার।

ঘটনার অনুসন্ধান, এলাকা পরিদর্শন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের আলোকে পুলিশ সুপার বলেন, ‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকালে সড়কপথে গাড়িবহর নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বহরটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাধুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি ইটের টুকরা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) একটি জিপে এসে পড়ে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ইট বা পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডিসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গভীর তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ইটের টুকরা নিক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সড়কে থাকা ইটের টুকরা সামনের গাড়ির চাকায় লেগে ছিটকে পেছনের গাড়িতে গিয়ে পড়ে।’

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘ইটের টুকরা নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে সন্দেহ করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভিযুক্ত হিসেবে দাবি করা ওই যুবক ঘটনার পুরো সময় নিজের মোবাইল ফোনে সড়কের যানবাহনের ভিডিও ধারণ করছিল। প্রধানমন্ত্রী আসার আগে, আসার সময় এবং যাওয়ার পরও সে একটানা ভিডিও করেছে। তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। মূলত সড়কে থাকা ইটের টুকরা ছিটকে এসে গাড়িতে পড়েছে। এটি কেউ নিক্ষেপ করেনি। এ ঘটনায় রাজৈর থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।’

রফিকুল/রিফাত/

এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত ও নিম্নাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া মানুষ বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় এক সপ্তাহে ১০৫ জনকে সাপে কেটেছে। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। তবে মহিলা ও শিশু রোগীও রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ১০৫ জন সাপে কাটা রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, চমেক হাসপাতালে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আশা করছি ভর্তি থাকা রোগীরাও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হবেন। বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রপ দেখা দিয়েছে বন্যার কারণে সেটা সত্য কিন্তু চট্টগ্রামে যে ১৩জন ভর্তি রয়েছে সেটা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। চমেক হাসপাতালে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যানিটভেনম রয়েছে। এছাড়া চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে। সুতরায় সাপে কাটা রোগী নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, রোগীর দ্রুত চিকিৎসা সেবা দরকার, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সাপ কাটলে।  


চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্ষা ও বন্যার সময় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে। ফলে কৃষিজমি, বাড়ির আঙিনা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতে টর্চ ব্যবহার, খালি পায়ে চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ১০৫জনকে সাপে কামড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ উপজেলায় সাপে কাটা রোগী পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ জন। কিন্তু বন্যার কারণে সাপের উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা মারাত্নক হারে বেড়েছে। তবে সাপে কামড়ালে আতংকিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া উত্তম। অনেকে ঝাড়ফুঁক করেন এতে সময় নষ্ট হয়। এটা না করে দ্রুত হাসপাতালে গেলে রোগী ভাল হয়। 

তিনি জানান, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮০০ ভায়াল এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩০০ ভায়ালসহ মোট ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

এসএন/

বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে খাইরুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার খায়রুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার তাবিতলা ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার আব্দুল খলিলের ছেলে। বর্তমানে তিনি গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার মফিজ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
পরে মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত খাইরুলকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এএইচ এম সালাউদ্দিন জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটির মা পাশের একটি দোকানে গেলে সেই সুযোগে ভাড়া বাসায় থাকা খাইরুল ইসলাম বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুটিকে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করে। ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত খাইরুল ইসলামকে আটক করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। এঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত খাইরুলকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।

মো: রুবেল শিকদার/এসএন

সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত
ছবি: খবরের কাগজ

মেঘের গর্জন থামেনি তখনো। আকাশের মুখভার। কিন্তু মাতামুহুরি নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঢলের সেই হিংস্র গর্জন এখন কিছুটা শান্ত। কক্সবাজারের চকরিয়ার গত কয়েকদিনের ভয়াবহ বন্যায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে আসছে এক মহাধ্বংসযজ্ঞের কঙ্কাল। ঢলের জল শুধু জনপদ ধুয়ে নিয়ে যায়নি, নিয়ে গেছে শত পরিবারের স্বপ্ন, শেষ সম্বল আর মাথা গোঁজার ঠাঁই। রেখে গেছে কেবল এক বুক হাহাকার আর কখনো না শুকাতে চাওয়া এক গভীর ক্ষত।

সোমবার (১৩ জুলাই) চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কোচপাড়া এলাকায় যখন পা রাখলাম, চারপাশের বাতাস তখন ভারী হয়ে আছে এক স্তব্ধ কান্নায়।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নির্বাক, জলভরা চোখে শূন্য নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন তাসমিন জন্নাত। কয়েকদিনে মাতামুহুরির রাক্ষুসী স্রোত গিলে খেয়েছে তাঁর বসতঘরের শেষ চিহ্নটুকু। যখন তাঁর ঘরটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছিল, তাসমিন তখন কেবল দুই হাতে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদেছেন, কিছুই করার ছিল না তাঁর।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাসমিন বলেন, ঢলের পানি তো চলে গেল ভাই, কিন্তু আমাদের সব কেড়ে নিয়ে গেল। আমার স্বামী বাজারে সবজি বিক্রি করে দিনরাত এক করে, অল্প অল্প সঞ্চয় জমিয়ে এই ঘরটা গড়েছিল। চোখের সামনে সেটা আজীবনের জন্য নদীতে তলিয়ে গেল, কিচ্ছু করতে পারলাম না। প্রকৃতির এই ক্ষত আমরা সারা জীবন কীভাবে বয়ে বেড়াব?

নদীপাড়ের মানুষগুলোর এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। তবে এই ব্যস্ততা বেঁচে থাকার নয়, এই ব্যস্ততা নিজের ধ্বংসাবশেষ কুড়ানোর। মাতামুহুরি নদী তীরবর্তী মানুষগুলো এখন হন্যে হয়ে ঘর ভেঙে আসবাবপত্র, টিন আর কাঠ সরিয়ে নিতে ব্যস্ত। কিন্তু এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করছে তাদের মনে। যে জমিটাই নদী কেড়ে নিয়েছে, সেখানে এই কাঠের টুকরো আর টিনের চালগুলো নিয়ে তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন? এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, শুধু তাসমিন জন্নাতই নন, মাতামুহুরির এই রুদ্রমূর্তির কারণে চরম নদীগর্ভে বিলীনের সব।

বসতবাড়ি রয়েছেন পূর্ব কোচপাড়ার নুরুল আবছার, নুরুল হুদা, নুরুল ইসলাম, আমির উদ্দিন, ওসমান, আব্দুল আজিজ পুতু এবং মানিকের মতো বহু মানুষ। নদী ভাঙন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে যে, যেকোনো মুহূর্তে আরও বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছে। আতঙ্ক এতটাই তীব্র যে, ক্লান্ত শরীরেও গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর আকুতিতে। গৃহহীন হওয়া পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে অথবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্রাণের লাইন কিংবা সরকারি সাহায্য- কোনো কিছুই এখন আর টানছে না এই সর্বস্বান্ত মানুষগুলোকে। তারা চান স্থায়ী মুক্তি।

নদীপাড়ের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, আমরা সরকারি চাল-ডাল চাই না, আমরা শুধু একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই। মাতামুহুরি নদীর তীরে একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ দেওয়া হোক, যেন আমাদের আর প্রতি বছর এভাবে ঘর হারিয়ে রাস্তায় বসতে না হয়। প্রতি বর্ষায় আসে, আর মাতামুহুরির বুক গ্রাস করে নেয় এক-একটা সাজানো সংসার। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুরতার কাছে হেরে যাওয়া এই মানুষগুলোর কান্না এখন নদীপাড়ের বাতাসে ভাসছে। কিন্তু এই কান্নার শেষ কোথায়?

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুল হক জানালেন এক দীর্ঘ উপেক্ষার গল্প। তাঁর মতে, মাতামুহুরির তীব্র স্রোতে পৌরসভায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশঘাটা, কোচপাড়া, পূর্ব কোচপাড়া, মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ্ পৌর দাখিল মাদ্রাসাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন- গত ১০ থেকে ১৫ বছরে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার এই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ছবি তুলেছেন, ফাইল ভারী হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবারকে এই ভাঙন আতঙ্কে চোখ থেকে ঘুম বিসর্জন দিতে হয়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। জিও ব্যাগের বদলে কংক্রিটের ব্লক দিতে যতটুকু ঢাল দরকার, ততটুকু ঢাল সেখানে নেই। তবে কংক্রিটের ব্লক দেওয়ার বিষয়টি আমাদের ভাবনায় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এই 'ভাবনা' কবে বাস্তবে রূপ নেবে, তা জানা নেই নদীপাড়ের মানুষের। চকরিয়ার মাতামুহুরির স্রোত এখনো প্রমত্তা। আর তার তীরে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ এখন শুধু একটা টেকসই বাঁধের অপেক্ষায় দিন গুনছে, যেন আগামী বর্ষায় তাদের আবার নতুন করে নিঃস্ব হতে না হয়।##

রাজু দাশ/এসএন