ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ উদ্বোধন চার মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন ডে-কেয়ার নয়, শিশুদের সময় দিন ইবিতে প্রধান ফটকের সামনে স্পিডব্রেকার প্রয়োজন তৃতীয় বিয়ে করলেন ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার ডায়েরিজ’ তারকা পল ওয়েসলি দুর্নীতির প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাব-নিকাশ যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও হেফাজতের আবির্ভাব আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল যমুনা ইলেকট্রনিক্স বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে স্বাস্থ্যচুক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও বন্যায় সবচেয়ে বেশি জরুরি শিশু সুরক্ষা সংগঠন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই সাধারণ নয়: ম্যারাডোনা জুনিয়র হামে আরও ৭ প্রাণহানি, উদ্বেগ বাড়ছে মেসির শতভাগ জয়ের রেফারি এবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর কানসাসকে ধন্যবাদ জানালো মেসি জুলাই আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত, নতুন গণআন্দোলনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের

অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ পুরুষ ও কিশোররা যৌন হয়রানিমূলক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় ‘বড় ধরনের ঘাটতি’ রয়েছে বলেও  উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে যৌন হয়রানিমূলক বা সেক্সটর্শন সংক্রান্ত ২ হাজার ২০০টির বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রতারণায় অপরাধীরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করতে প্রলুব্ধ করে। পরে অর্থ দাবি করে এবং ছবি পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষরা। এই বয়সী তরুণদের কাছ থেকে ৮০৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরাও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাদের মধ্যে ছেলেদের কাছ থেকে ১৮৬টি এবং মেয়েদের কাছ থেকে ৫৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হলো ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে টিকটককে এমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশি চিহ্নিত করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে ১৬ বছর বয়সী ‘স্যাম’-এর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করার সময় সে ‘জেসিকা’ নামের এক প্রতারকের সঙ্গে পরিচিত হয়।

পরে স্যামকে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি নগ্ন ছবি পাঠাতে বলা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে ২০০ ডলার দিতে বলা হয়। এমনকি  ডলার না দিলে ছবিটি তার অনলাইন পরিচিত সবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে অভিভাবকদের কাছ থেকে ডলার চুরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি’ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘অত্যন্ত জরুরি’।

তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য প্রায়ই দ্রুত অর্থ আদায় করা। তারা ভুক্তভোগীদের অর্থ দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের চাঁদাবাজি ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, আতঙ্ক, মানসিক কষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এসব প্ল্যাটফর্মকে প্রমাণ দিয়েছি যে, কীভাবে অপরাধীরা তাদের সেবা ব্যবহার করে ভয়াবহ ক্ষতি করছে। অপব্যবহার বন্ধের উপায় সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা এখনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’

গ্রান্ট বলেন, বিভিন্ন যৌন হয়রানি প্রতারণায় একই ধরনের কৌশল, বার্তা ও ছবি বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এসব শনাক্ত করার দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মগুলোর নেওয়া উচিত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, যৌন হয়রানিমূলক প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদাবাজি শনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভাষা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। তবে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের সেবায় এনক্রিপশন ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হয়।

গত মার্চ মাসে মেটা জানিয়েছে যে, তারা ইনস্টাগ্রামের ব্যক্তিগত বার্তা ব্যবস্থা থেকে এনক্রিপশন তুলে দেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও
ছবি: ভিডিও থেকে

ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের ওরিখোভ শহরে তিন টনের একটি শক্তিশালী গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। 

স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) চালানো ওই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিও ও উন্মুক্ত তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল রাশিয়ার FAB-3000 গ্লাইড বোমা। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত (নন-নিউক্লিয়ার) বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমাগুলোর একটি। 

বোমাটিতে প্রায় ১ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ৫ টন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বহন করা যায় এবং এটি গাইডেড কিটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বোমাটি আঘাত হানার পর বিশাল বিস্ফোরণে আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আগুন এবং ধ্বংসস্তূপের দৃশ্যও দেখা যায়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, বিস্ফোরণে এলাকাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রুশপন্থি সামরিক সূত্রের দাবি, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে একটি যুদ্ধবিমান থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয় এবং এর লক্ষ্য ছিল ওরিখোভ এলাকার ইউক্রেনীয় সেনাদের অবস্থান ও লজিস্টিক হাব। 

 

একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হামলায় প্রায় ৪০ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো যাচাই বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওরিখোভ শহরটি জাপোরিঝিয়া ফ্রন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতে শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে Al Arabiya English ও jurgen_nauditt অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। 

প্রকাশের পর থেকেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হামলার ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখে অনেক ব্যবহারকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বেসামরিক এলাকায় ভারী বোমা ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন। সূত্র: আনন্দবাজার

অমিয়/

হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম
হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই জলপথের ‘অভিভাবক’ হিসেবে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ আদায় করবে বলেও জানান তিনি। 

সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সব কথা বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। সম্প্রতি দুই দেশের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ চলছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান সামরিকভাবে কার্যত পর্যুদস্ত। আমরা প্রণালীটি দখল করে নিচ্ছি। ইরানের কিছুই নেই। তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের এই হুমকির মোকাবিলা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ বছর আগেই করা উচিত ছিল। ইরানের সঙ্গে অতীতে অনেক চুক্তি হলেও তারা তা মানেনি। ফলে এবার ওয়াশিংটন ইরানে কঠোর আঘাত করবে এবং হরমুজ প্রণালী পাহারার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করবে।’

থিওটোনিয়াস/

বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া নেপালে প্রবেশের চেষ্টার সময় উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দাবি করা ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম জর্ডান ব্রাউন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।

গত রবিবার সোনৌলি থানার মাইনিহওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে নিয়মিত টহলের সময় এসএসবির ২২তম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেন। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন।

মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় ব্রাউনের কাছে কোনো বৈধ ভ্রমণ বা পরিচয়পত্র ছিল না।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন জানান, তিনি পর্যটন ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি গোয়ায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তিনি গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান। তবে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ভ্রমণ নথি না থাকায় সীমান্ত পার হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

তল্লাশিতে তার কাছ থেকে নগদ ৩১ হাজার ৪৬০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে সোনৌলি থানায় অভিবাসন ও বিদেশি আইনের ২১ ও ২৩ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

 

পৃথক ঘটনায় আরও বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ ইউক্রেনীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে ৩ জুলাই পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে যান। সেখানে মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়।

এনআইএর দাবি, অভিযুক্তরা এসব গোষ্ঠীকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা জোরদার হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বেড়েছে তেলের দাম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বেড়েছে তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করেছে ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ওমানে অবস্থিত মার্কিন রাডারব্যবস্থা ধ্বংস এবং জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি ট্যাংক ও গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গত রবিবার বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের সামরিক বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ছোট নৌকার ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের তথ্যমতে, গতকাল হরমুজ প্রণালির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইন জানিয়েছে, গতকাল ভোরে তারা ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান ঘটানো। তবে এই নতুন সহিংসতা সেই চুক্তির ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা ওদের কড়া জবাব দিচ্ছি।’ গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করলেও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছিলেন।

এদিকে ইরানের শীর্ষ পরমাণু পরিকল্পনাকারী ও আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘একতরফা চুক্তির দিন শেষ। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, কথা রাখুন, অন্যথায় মূল্য চোকান। বাস্তব পরিস্থিতি এখন সামনে।’

গতকাল আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো এই জলসীমায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বিশ্ব তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় ধরনের ‘দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে।

হামলার খবরের পর গতকাল বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে এই দাম যুদ্ধের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা কম রয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে পেট্রল ও জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিপ-ট্যাকিং সাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্য একটি ট্র্যাকিং সাইট কেপলার জানিয়েছে, রবিবার মাত্র ছয়টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান এখন এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্থায়ীভাবে ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। তারা ঘোষণা করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যেন এখানে চলাচল না করে। গত শনিবার ইরান একটি অনুমোদনহীন জাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে নৌপথটি বন্ধ করে দেয় এবং রবিবার দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজকে অচল করে দেওয়ার দাবি করে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা এ সপ্তাহে তিন রাতে ৩০০টিরও বেশি এবং শনিবার ১৪০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন মিত্রদের একটি কমান্ড সেন্টার ও ড্রোন হ্যাঙ্গার, কুয়েতে মার্কিন রাডার ও রকেট লঞ্চার সিস্টেম, ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি জেট রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

বার্নহ্যামকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের ভাবনা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বার্নহ্যামকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের ভাবনা
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তার নেতৃত্বকে ঘিরে ট্রাম্প, পুতিনসহ বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা কী ভাবছেন, তা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে। ইউরোপ, রাশিয়া, ইউক্রেন ও এশিয়ায় নিযুক্ত বিবিসির সংবাদদাতারা এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পকে জয় করার সুযোগ রয়েছে বার্নহ্যামের

এখন পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাব বেশ তাচ্ছিল্যপূর্ণ। বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি এবং উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান– স্টারমার সরকারের বিরুদ্ধে তার এই দুটি প্রধান সমালোচনার পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়েও ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের কাছে বার্নহ্যামের পরিচয় মূলত একজন শহরের মেয়র এবং উদারপন্থি রাজনীতিক হিসেবেই সীমিত। এর বাইরে তাকে নিয়ে ট্রাম্পের তেমন ধারণা আছে বলে মনে হয় না। তাই বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বার্নহ্যাম এখনো তুলনামূলকভাবে অপরিচিত মুখ। এ জন্য ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ থাকবে, তেমনি তৈরি হবে নতুন সুযোগও। রাজনৈতিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে, স্যার কিয়ার স্টারমারের মতো তিনিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থা অর্জন করতে পারেন।

চীন: নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনে হতাশা

উত্তর ইংল্যান্ডের উন্নয়নে এক সময় চীনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের প্রশংসা করেছিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাকে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। তাই তার প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নজর রাখছেন দেশটির কর্মকর্তারা। বেইজিং আশা করছে, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে। তবে লন্ডনে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে চীনে হতাশারও সৃষ্টি হয়েছে। চীনা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ যুক্তরাজ্যের এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অস্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ব্রেক্সিটের পর দেশটি এক ধরনের ‘পরিচয় সংকটে’ ভুগছে। এমন মন্তব্য করেছেন চায়না ইনস্টিটিউটস অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের বিশ্লেষক ঝাং জিয়ান।

রাশিয়া: যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তনের আশা নেই

মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যকে ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার কড়া সমালোচক এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। বার্নহ্যামও সম্প্রতি স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের বিরোধিতা করেছিলেন, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনের সমালোচনা করেছিলেন এবং ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন ও দেশটির মেয়রদের সমর্থন করে আসছেন। তবে ক্রেমলিনের ধারণা, যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও রাশিয়াবিষয়ক ব্রিটিশ নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের মতে, বার্নহ্যামের অবস্থান স্যার কিয়ার স্টারমারের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইউক্রেন: যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে কিয়েভে উদ্বেগ

রাশিয়ার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পঞ্চম বছরে ইউক্রেন পেতে যাচ্ছে তার পঞ্চম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও কিয়েভের মূল প্রত্যাশা, যুক্তরাজ্য যেন সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আগের মতোই অব্যাহত রাখে। বরিস জনসন থেকে কিয়ার স্টারমার– সব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আমলেই ইউক্রেনের প্রতি লন্ডনের সমর্থন অবিচল ছিল। বার্নহ্যামের অতীত অবস্থানও ইঙ্গিত দেয়, তার নেতৃত্বে এ নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। যদিও বার্নহ্যামের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের প্রত্যাশা তিনি রাশিয়ার হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে ইউক্রেনের আত্মরক্ষা এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।

ইউরোপীয়রা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দিকে উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে

ইউরোপের দৃষ্টিতে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন আর ব্যতিক্রম নয়; জার্মানি, ফ্রান্স ও ডেনমার্কসহ অনেক দেশই একই ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নজর এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকে। ইইউ জানতে চায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি কিয়ার স্টারমারের মতোই আগ্রহী হবেন কি না এবং অবাধ চলাচল, ইইউ শুল্ক ইউনিয়ন বা একক বাজারের মতো ইস্যুতে লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না। এদিকে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রত্যাশা, যুক্তরাজ্য ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াবে। একই সঙ্গে তাদের বড় প্রশ্ন– দেশীয় অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বার্নহ্যাম ইউরোপের নিরাপত্তা ও ইউক্রেন ইস্যুকেও সমান গুরুত্ব দেবেন কি না।

ফ্রান্স: প্যারিস আশা করে বার্নহ্যামের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি স্টারমারের মতো হবে

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখনো তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। বিশেষ করে ফ্রান্সে তার পররাষ্ট্রনীতি ও বৈদেশিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে প্যারিসের ধারণা, বার্নহ্যাম ইউরোপপন্থি হলেও যুক্তরাজ্যের ইইউতে পুনরায় যোগদানের পক্ষে নন। সে কারণে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তার অবস্থান কিয়ার স্টারমারের নীতির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে পারে। ফ্রান্সের প্রত্যাশা, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ও হরমুজ প্রণালির মতো নিরাপত্তা ইস্যুতেও যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বিবিসি