ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার সবজির কেজি ১২০০, উপকারিতা কী? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা, শুরু ১ আগস্ট সরকার স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ৪৩৬ পরিবার স্বর্ণের দাম আরও কমল, ভরি কত? সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন গুগলে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ লিখলেই আসছে ব্রাজিলের নাম মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বউকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ৯ টন জিরা জব্দ ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা চলন্ত ট্রেনে ‘হানিমুন স্যুইট’! বরখাস্ত টিটিই ‎সাঁথিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে রফাদফা নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিলেন বিএনপি নেতা! সিলেট পরিবেশ উৎসবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা ‘চোরের দলের খেলা কবে’ সার্চ করলেই আসছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ! কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ৬ লাখ টাকার ঋণ ও বিকল রিকশা বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অদ্ভুত সব গল্প

বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া নেপালে প্রবেশের চেষ্টার সময় উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দাবি করা ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম জর্ডান ব্রাউন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।

গত রবিবার সোনৌলি থানার মাইনিহওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে নিয়মিত টহলের সময় এসএসবির ২২তম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেন। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন।

মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় ব্রাউনের কাছে কোনো বৈধ ভ্রমণ বা পরিচয়পত্র ছিল না।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন জানান, তিনি পর্যটন ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি গোয়ায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তিনি গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান। তবে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ভ্রমণ নথি না থাকায় সীমান্ত পার হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

তল্লাশিতে তার কাছ থেকে নগদ ৩১ হাজার ৪৬০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে সোনৌলি থানায় অভিবাসন ও বিদেশি আইনের ২১ ও ২৩ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

 

পৃথক ঘটনায় আরও বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ ইউক্রেনীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে ৩ জুলাই পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে যান। সেখানে মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়।

এনআইএর দাবি, অভিযুক্তরা এসব গোষ্ঠীকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক
ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া নেপালে প্রবেশের চেষ্টার সময় উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দাবি করা ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম জর্ডান ব্রাউন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।

গত রবিবার সোনৌলি থানার মাইনিহওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে নিয়মিত টহলের সময় এসএসবির ২২তম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেন। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন।

মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় ব্রাউনের কাছে কোনো বৈধ ভ্রমণ বা পরিচয়পত্র ছিল না।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন জানান, তিনি পর্যটন ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি গোয়ায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তিনি গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান। তবে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো ভ্রমণ নথি না থাকায় সীমান্ত পার হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

তল্লাশিতে তার কাছ থেকে নগদ ৩১ হাজার ৪৬০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তার দেওয়া তথ্য ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে সোনৌলি থানায় অভিবাসন ও বিদেশি আইনের ২১ ও ২৩ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

 

পৃথক ঘটনায় আরও বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ ইউক্রেনীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে ৩ জুলাই পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে যান। সেখানে মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়।

এনআইএর দাবি, অভিযুক্তরা এসব গোষ্ঠীকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়েছেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা জোরদার হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বেড়েছে তেলের দাম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বেড়েছে তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করেছে ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ওমানে অবস্থিত মার্কিন রাডারব্যবস্থা ধ্বংস এবং জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি ট্যাংক ও গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গত রবিবার বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের সামরিক বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ছোট নৌকার ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের তথ্যমতে, গতকাল হরমুজ প্রণালির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কেশম দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইন জানিয়েছে, গতকাল ভোরে তারা ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান ঘটানো। তবে এই নতুন সহিংসতা সেই চুক্তির ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা ওদের কড়া জবাব দিচ্ছি।’ গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করলেও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছিলেন।

এদিকে ইরানের শীর্ষ পরমাণু পরিকল্পনাকারী ও আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘একতরফা চুক্তির দিন শেষ। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, কথা রাখুন, অন্যথায় মূল্য চোকান। বাস্তব পরিস্থিতি এখন সামনে।’

গতকাল আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো এই জলসীমায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বিশ্ব তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় ধরনের ‘দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে।

হামলার খবরের পর গতকাল বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে এই দাম যুদ্ধের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা কম রয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে পেট্রল ও জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিপ-ট্যাকিং সাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্য একটি ট্র্যাকিং সাইট কেপলার জানিয়েছে, রবিবার মাত্র ছয়টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান এখন এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্থায়ীভাবে ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। তারা ঘোষণা করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যেন এখানে চলাচল না করে। গত শনিবার ইরান একটি অনুমোদনহীন জাহাজকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে নৌপথটি বন্ধ করে দেয় এবং রবিবার দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজকে অচল করে দেওয়ার দাবি করে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা এ সপ্তাহে তিন রাতে ৩০০টিরও বেশি এবং শনিবার ১৪০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন মিত্রদের একটি কমান্ড সেন্টার ও ড্রোন হ্যাঙ্গার, কুয়েতে মার্কিন রাডার ও রকেট লঞ্চার সিস্টেম, ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি জেট রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

বার্নহ্যামকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের ভাবনা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বার্নহ্যামকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের ভাবনা
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তার নেতৃত্বকে ঘিরে ট্রাম্প, পুতিনসহ বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারা কী ভাবছেন, তা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে। ইউরোপ, রাশিয়া, ইউক্রেন ও এশিয়ায় নিযুক্ত বিবিসির সংবাদদাতারা এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পকে জয় করার সুযোগ রয়েছে বার্নহ্যামের

এখন পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাব বেশ তাচ্ছিল্যপূর্ণ। বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি এবং উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান– স্টারমার সরকারের বিরুদ্ধে তার এই দুটি প্রধান সমালোচনার পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়েও ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের কাছে বার্নহ্যামের পরিচয় মূলত একজন শহরের মেয়র এবং উদারপন্থি রাজনীতিক হিসেবেই সীমিত। এর বাইরে তাকে নিয়ে ট্রাম্পের তেমন ধারণা আছে বলে মনে হয় না। তাই বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বার্নহ্যাম এখনো তুলনামূলকভাবে অপরিচিত মুখ। এ জন্য ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ থাকবে, তেমনি তৈরি হবে নতুন সুযোগও। রাজনৈতিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে, স্যার কিয়ার স্টারমারের মতো তিনিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থা অর্জন করতে পারেন।

চীন: নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনে হতাশা

উত্তর ইংল্যান্ডের উন্নয়নে এক সময় চীনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের প্রশংসা করেছিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাকে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। তাই তার প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নজর রাখছেন দেশটির কর্মকর্তারা। বেইজিং আশা করছে, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করবে। তবে লন্ডনে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে চীনে হতাশারও সৃষ্টি হয়েছে। চীনা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ যুক্তরাজ্যের এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অস্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ব্রেক্সিটের পর দেশটি এক ধরনের ‘পরিচয় সংকটে’ ভুগছে। এমন মন্তব্য করেছেন চায়না ইনস্টিটিউটস অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের বিশ্লেষক ঝাং জিয়ান।

রাশিয়া: যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তনের আশা নেই

মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যকে ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার কড়া সমালোচক এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। বার্নহ্যামও সম্প্রতি স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের বিরোধিতা করেছিলেন, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনের সমালোচনা করেছিলেন এবং ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন ও দেশটির মেয়রদের সমর্থন করে আসছেন। তবে ক্রেমলিনের ধারণা, যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও রাশিয়াবিষয়ক ব্রিটিশ নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের মতে, বার্নহ্যামের অবস্থান স্যার কিয়ার স্টারমারের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইউক্রেন: যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে কিয়েভে উদ্বেগ

রাশিয়ার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পঞ্চম বছরে ইউক্রেন পেতে যাচ্ছে তার পঞ্চম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও কিয়েভের মূল প্রত্যাশা, যুক্তরাজ্য যেন সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা আগের মতোই অব্যাহত রাখে। বরিস জনসন থেকে কিয়ার স্টারমার– সব ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আমলেই ইউক্রেনের প্রতি লন্ডনের সমর্থন অবিচল ছিল। বার্নহ্যামের অতীত অবস্থানও ইঙ্গিত দেয়, তার নেতৃত্বে এ নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। যদিও বার্নহ্যামের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের প্রত্যাশা তিনি রাশিয়ার হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে ইউক্রেনের আত্মরক্ষা এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।

ইউরোপীয়রা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দিকে উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে

ইউরোপের দৃষ্টিতে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন আর ব্যতিক্রম নয়; জার্মানি, ফ্রান্স ও ডেনমার্কসহ অনেক দেশই একই ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নজর এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকে। ইইউ জানতে চায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি কিয়ার স্টারমারের মতোই আগ্রহী হবেন কি না এবং অবাধ চলাচল, ইইউ শুল্ক ইউনিয়ন বা একক বাজারের মতো ইস্যুতে লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না। এদিকে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রত্যাশা, যুক্তরাজ্য ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াবে। একই সঙ্গে তাদের বড় প্রশ্ন– দেশীয় অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বার্নহ্যাম ইউরোপের নিরাপত্তা ও ইউক্রেন ইস্যুকেও সমান গুরুত্ব দেবেন কি না।

ফ্রান্স: প্যারিস আশা করে বার্নহ্যামের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি স্টারমারের মতো হবে

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখনো তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। বিশেষ করে ফ্রান্সে তার পররাষ্ট্রনীতি ও বৈদেশিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে প্যারিসের ধারণা, বার্নহ্যাম ইউরোপপন্থি হলেও যুক্তরাজ্যের ইইউতে পুনরায় যোগদানের পক্ষে নন। সে কারণে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তার অবস্থান কিয়ার স্টারমারের নীতির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে পারে। ফ্রান্সের প্রত্যাশা, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ও হরমুজ প্রণালির মতো নিরাপত্তা ইস্যুতেও যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বিবিসি

যেভাবে কাতারকে গড়ে তোলেন শেখ হামাদ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
যেভাবে কাতারকে গড়ে তোলেন শেখ হামাদ
প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি

কাতারের ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি গত রবিবার (১২ জুলাই) ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। প্রায় ১৮ বছরের শাসনামলে তিনি জ্বালানিনির্ভর ছোট উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতারকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতি ও বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তিও গড়ে তোলেন।

১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় আসার সময় কাতারের অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর ছিল। তবে দুই দশকেরও কম সময়ে দেশটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক এবং মাথাপিছু আয়ের শীর্ষ দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

ক্ষমতায় বসার আগেই ১৯৮৯ সালে শেখ হামাদ ‘সুপ্রিম কাউন্সিল ফর প্ল্যানিং’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব পান। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তার অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করে।

গ্যাসসম্পদকে অর্থনীতিতে রূপান্তর

কাতারের অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয় বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ‘নর্থ ফিল্ড’-এর উন্নয়নের মাধ্যমে। নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাস উত্তোলন ও এলএনজি প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ দেশটির জ্বালানি খাতে নতুন যুগের সূচনা করে।

১৯৯৬ সালে প্রথম এলএনজি চালান রপ্তানির পর মাত্র ১৫ বছরের কম সময়ে কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারকে পরিণত হয়। এর ফলে শুধু রাষ্ট্রীয় আয়ই বাড়েনি, বরং এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও কাতারের অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে।

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

গ্যাস খাতের এই উত্থান কাতারের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হামাদের শাসনামলে কাতারের জিডিপি প্রায় ২০ গুণ বেড়ে ২০১৩ সালে প্রায় ১৯ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর একটি ছিল কাতার। 

গ্যাসের আয়ের বাইরে বৈশ্বিক বিনিয়োগ

অর্থনৈতিক রূপান্তর শুধু উৎপাদন ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আসে। ২০০১ সালে শেখ হামাদের নেতৃত্বে ‘সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’ গঠন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বৃদ্ধি এবং আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ।

এর চার বছর পর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি’ (কিউআইএ), যা তেল ও গ্যাস থেকে অর্জিত অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্যবহার হয়। পরবর্তী সময়ে কিউআইএ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে পরিণত হয়।

নাগরিকদের জীবনমানে উন্নয়ন

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনমানেও। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হামাদের আমলে মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে কাতার বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে উঠে আসে। ক্রয়ক্ষমতা সমতার (পিপিপি) হিসাবে মাথাপিছু আয় ৯০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার নেমে আসে খুবই নিম্ন পর্যায়ে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ

জ্বালানি খাতের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও জোর দেন শেখ হামাদ। ১৯৯৫ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘কাতার ফাউন্ডেশন ফর এডুকেশন’, ‘সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট’। শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি কাজ শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম, কার্নেগি মেলনসহ বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় কাতারে ক্যাম্পাস স্থাপন করে, যা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বকাপ ও ভবিষ্যতের অর্থনীতি

শেখ হামাদের শাসনামলে গ্যাস থেকে অর্জিত আয় থেকে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। এ সময় হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হামাদ বন্দর, লুসাইল সিটি, আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক এবং পরবর্তী সময়ে দোহা মেট্রোর ভিত্তি স্থাপনকারী প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়। এসব উন্নয়ন কাতারকে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের সক্ষমতা এনে দেয়। 

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার

২০০৮ সালে চালু করা হয় ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’। যার লক্ষ্য ছিল জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এই নীতিমালাই এখনো কাতারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০ এবং শিক্ষা-অবকাঠামো খাতে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো আজও দেশটির অর্থনৈতিক নীতির ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করছেন তার ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের টার্গেটে ট্রাম্পসহ যেসব বিশ্বনেতা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ইরানের টার্গেটে ট্রাম্পসহ যেসব বিশ্বনেতা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির রক্ষণশীল সংবাদপত্র হামশাহরি। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের শীর্ষ নেতাদের নাম ও ছবি স্থান পেয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে পত্রিকাটি অনলাইন সংস্করণে একটি ইনফোগ্রাফ প্রকাশ করে। এতে ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি এবং খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির একটি বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

শনিবার দেওয়া প্রথম বার্তায় মোজতবা বলেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির ইচ্ছা এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। যাদের নাম তালিকায় রয়েছে, তারা শান্তিতে বিছানায় মৃত্যুবরণ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই কবরে যাবে।’

নিজের বক্তব্যে মোজতবা খামেনি ইরান একটি লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করেছে বলে উল্লেখ করলেও কোনো নাম প্রকাশ করেননি। ফলে হামশাহরির প্রকাশিত তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সরকারের অনুমোদিত কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইনফোগ্রাফে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর, প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অফ দ্য জেনারেল স্টাফ ইয়াল জামির, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক কমান্ডার জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির ছবি দেওয়া হয়।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে হামলার নিন্দা না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল।

প্রসঙ্গত, বাবার ওপর চালানো একই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি