ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১১০৪ এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম কক্সবাজারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান খাদ্য অধ্যায়ের ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া দলিলে ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ ফ্রান্সের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে মাথা ন্যাড়ার ভিডিও: বিয়ের চাপ নয়, তরুণী জানালেন আসল কারণ খুলনায় মাটি খুঁড়ে ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার সবজির কেজি ১২০০, উপকারিতা কী? বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা, শুরু ১ আগস্ট সরকার স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ৪৩৬ পরিবার স্বর্ণের দাম আরও কমল, ভরি কত? সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন গুগলে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ লিখলেই আসছে ব্রাজিলের নাম মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বউকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ৯ টন জিরা জব্দ ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অদ্ভুত সব গল্প

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অদ্ভুত সব গল্প
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার লড়াইয়ে টিকে আছে ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড। এবার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন এবং ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এর আগে খবরের কাগজ পাঠকদের জন্য বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের অদ্ভুত কিছু গল্প তুলে ধরা হলো-

ফ্রান্স ১৯৩৮

ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ইতালি। জয়ের গোলটি আসে গুইসেপ্পে মেজ্জার পেনাল্টি থেকে। তবে সেদিন শুধু স্নায়ুই নয়, আরও একটি জিনিস সামলে রাখতে হয়েছিল ‘ইল বালিলা’কে (দ্য লিটল বয়)।

মেজ্জা যখন পেনাল্টি নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ম্যাচের আগেই ছিঁড়ে যাওয়া তার শর্টসের ইলাস্টিক আবারও ছিঁড়ে যায়। ইন্টার মিলানের এই তারকা এক হাতে শর্টস ধরে রেখে অন্য হাতে নয়, বরং এক হাতেই ভারসাম্য রেখে বলটি ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি ঠেকানোর বিশেষজ্ঞ ওয়াল্টারের নাগালের বাইরে জালে পাঠান।

চিলি ১৯৬২

সান্তিয়াগোতে গারিঞ্চারই হওয়ার কথা ছিল এক নম্বর ‘জনশত্রু’। দুরন্ত এই উইঙ্গার তার কমিকসের চরিত্রের মতো ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বারবার নাকাল করেছিলেন। তিনি দুটি গোল করেন, আরেকটি গোলে সহায়তা করেন এবং লাল কার্ডও দেখেন– ব্রাজিল স্বাগতিক চিলিকে ৪-২ গোলে হারানোর ম্যাচে। কিন্তু চিলির মানুষ ‘দ্য জয় অব দ্য পিপল’কে ঘৃণা নয়, বরং ভালোবেসেই বিদায় জানায়।

যখন তারা জানতে পারে, লাল কার্ডের কারণে গারিঞ্চা ফাইনালে খেলতে পারবেন না, তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এমনকি চিলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে আলেসান্দ্রিও গারিঞ্চাকে ফাইনালে খেলার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে করা আবেদনের নেতৃত্ব দেন। শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন সফল হয়, যার জন্য চেক স্লোভাকিয়াকে পরে মূল্য দিতে হয়েছিল ফাইনাল হেরে।

স্পেন ১৯৮২

টোনি শুমাখার নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে নির্মমভাবে ধাক্কা মারেন প্যাট্রিক বাত্তিস্তোনকে। মাত্র কয়েক মিনিট আগে মাঠে নামা ফ্রান্সের ৩ নাম্বার খেলোয়াড়ের দুটি দাঁত ভেঙে যায়, তিনটি পাঁজরের হাড়ে ফাটল ধরে এবং মেরুদণ্ডের একটি কশেরুকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ পশ্চিম জার্মানির এক নম্বর গোলরক্ষক কোনো শাস্তিই পাননি। ফরাসিদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয় শুমাখারের আচরণ। আহত বাতিস্তোনকে কয়েক মিনিট ধরে চিকিৎসা দিয়ে স্ট্রেচারে মাঠের বাইরে নেওয়া হচ্ছিল, আর শুমাখার বিরক্তি প্রকাশ করে অধৈর্য আচরণ করছিলেন। এর পর টাইব্রেকারে দিদিয়ের সিক্স ও ম্যাক্সিম বোসিসের শট ঠেকিয়ে দেন শুমাখার। পশ্চিম জার্মানি উঠে যায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে।

ইতালি ১৯৯০

যে দেশ এক সময় ‘বিটল ম্যানিয়া’য় মেতেছিল, সেই দেশ তখন ডুবে ছিল ‘গাজ্জাম্যানিয়া’য়। পল গ্যাসকোইন (গাজ্জা) ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। তার অনুপ্রেরণায় ২৪ বছর পর প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। কিন্তু পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের ৯৮ মিনিটে তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। তখনই বুঝে যান, ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠলেও তিনি খেলতে পারবেন না। সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ‘গাজ্জা’।

তিনি পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম এবং আমি যুব ক্লাবে খেলতাম, তখন প্রতি রাতেই স্বপ্ন দেখতাম বিশ্বকাপে ফুটবল খেলব। ইতালিতে আমি সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলাম। কিন্তু হলুদ কার্ড দেখার পর বুঝে গিয়েছিলাম, সেই স্বপ্নের এখানেই সমাপ্তি।’

ইংল্যান্ডের কোচ ববি রবসন যোগ করেন, ‘আমার হৃদয় যেন পায়ের জুতায় নেমে গিয়েছিল। কারণ আমি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝেছিলাম, পল গ্যাসকোইনের জন্য এটাই শেষ– সে আর ফাইনালে নেই। এটা তার জন্য, আমার জন্য, দলের জন্য, দেশের জন্য, পুরো ফুটবলের জন্যই এক ট্র্যাজেডি। কারণ সে এতটাই ভালো ছিল, আর ওই ম্যাচে সে ছিল অসাধারণ।’

তবে এই ঘটনাই গ্যাসকোইনের জনপ্রিয়তাকে আকাশচুম্বী করে তোলে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছিল, ‘পল গ্যাসকোইনের আগে কি কেউ শুধু কেঁদে জাতীয় বীর এবং নিশ্চিত কোটিপতি হয়ে উঠেছিল? অবিশ্বাস্য। তুমি কাঁদো, আর পৃথিবীও তোমার সঙ্গে কাঁদে।’

ফ্রান্স ১৯৯৮

ফ্রান্সের হয়ে ১৪২ ম্যাচে লিলিয়ান থুরাম গোল করেছিলেন মাত্র একটিতে। আরও অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ক্লাব ফুটবলে ১১ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র একটি গোল করা এই ডিফেন্ডার সেই ম্যাচেই করে বসেন দুটি গোল! রাইট-ব্যাক থুরাম গোলদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর বেছে নিতে পারতেন না। ডান পায়ে একটি এবং বাঁ পায়ে আরেকটি গোল করে তিনি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

তখন থুরাম বলেছিলেন, ‘আমার মা গ্যালারিতে ছিলেন। তাকে যখন বলা হলো, তার ছেলে প্রথম গোলটি করেছে, তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। এর পর যখন বলা হলো আমি আবার গোল করেছি, তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। আমি মজা করছি না।’ মজার ব্যাপার হলো, শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বুকমেকাররা থুরামের যেকোনো সময় গোল করার সম্ভাবনার জন্য ৪০/১ অডস দিয়েছিল, যা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক হোসে লুইস চিলাভার্টের (৬/১) তুলনায় সাড়ে ছয় গুণেরও বেশি!

কোরিয়া/জাপান ২০০২

‘আমার পায়ের চোট নিয়ে সবাই কথা বলেই যাচ্ছিল। সবাই প্রশ্ন তুলছিল, আমি সেমিফাইনালে খেলতে পারব কি না,’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার পরের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন রোনালদো নাজারিও। ‘এসব শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমি ওই রকম করে চুল কেটে ফেললাম। এর পর সতীর্থদের জিজ্ঞেস করলাম, কেমন লাগছে? তারা বলল, ভয়ঙ্কর! তুমি এটা এভাবে রেখ না। আমি ভাবলাম, এটা কাজে লাগতে পারে। সত্যিই তাই হলো। সাংবাদিকরা সঙ্গে সঙ্গে আমার চোটের কথা ভুলে গেল। তারা শুধু আমার চুল নিয়েই প্রশ্ন করতে লাগল। আমি স্বস্তি পেলাম।’

রিজার্ভ গোলরক্ষক দিদার ক্লিপারের ‘কীর্তি’ মাথায় নিয়েও রোনালদো তুরস্কের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করে ব্রাজিলকে ফাইনালে তুলে দেন।

পরে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল ভয়াবহ! যেসব মা তাদের ছেলেদের একই রকম চুল কাটতে দেখেছেন, তাদের সবার কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’

জার্মানি ২০০৬

উচ্চতার দিক থেকে বিচার করলে ফাবিও কান্নাভারো চাইলে হয়তো পরবর্তী ফ্র্যাঙ্কি ডেট্টোরি (সাবেক ইতালিয়ান জকি) হতে পারতেন। আর ‘বিএফজি’ নামে পরিচিত পার মের্তেসাকারকে বাস্কেটবল কোর্টে ডির্ক নোভিৎসকির পাশেও বেমানান লাগত না। কিন্তু ওয়েস্টফালেনস্টাডিয়নের ঘাসে ফুটবল যুক্তির সব হিসাব পাল্টে দেয়। ২২ সেন্টিমিটারের উচ্চতার পার্থক্য উপেক্ষা করে স্টপেজ টাইমে মের্তেসাকারের বিপক্ষে হেডে বল জিতে নেন কান্নাভারো।

এর পর নিজের ক্লিয়ার করা বলের পেছনে ছুটে গিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লুকাস পোদলস্কির সামনে থেকে আবারও হেড করে বল সরিয়ে দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় ইতালির পাল্টা আক্রমণ, যার শেষটা করেন আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে করা গোল, যা নিশ্চিত করে দেয় ফাইনালে ইতালির জায়গা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সতর্ক স্প্যানিশ শিবির। নিজেদের ভুল শুধরে স্বাভাবিক খেলাই খেলার ওপর জোর দিয়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ম্যাচের কথা বলছি। এটি আরেকটি সেমিফাইনাল। আগের ম্যাচের ভালো দিকগুলো ধরে রাখতে চাই এবং যেসব ভুল করেছিলাম, সেগুলো এড়াতে চাই। আমরা ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যবধান ৫-৪ হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। আমাদের নিজেদের খেলাই খেলতে হবে। দুই দলের খেলার ধরন ভিন্ন, তাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে।’

ফরাসি দলকে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী বলেও মন্তব্য করেন স্প্যানিশ কোচ। তার ভাষ্যে, ‘আমি মনে করি ফ্রান্স এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব ও শক্তিশালী দল। গত দুই বছরে তাদের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলগত উন্নতি হয়েছে, যা তাদের আরও ভয়ংকর প্রতিপক্ষ করে তুলেছে।’

দে লা ফুয়েন্তে জানান, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে স্পেনের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের চাপমুক্ত থেকে ম্যাচ উপভোগ করার পরামর্শ দেন।

সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের কঠিন লড়িইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স। তবে এই ম্যাচের আগে ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনো স্পেনকেই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে দেখছেন।

এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আলো ছড়িয়েছে ফরাসিরা। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে শক্তির বিচারে বেশ পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে শুরুতেই হোঁচট খায় স্পেন। তবে সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নিয়েছে তারা।

স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে দেশম বলেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচের কথা ভুলে যান। এরপর থেকে স্পেন প্রতিটি ম্যাচেই প্রমাণ করেছে যে তারাই টুর্নামেন্টের ফেভারিট।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি লুইস এবং তার দলের ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে দর্শকরা স্পেনের কাছ থেকে অনেক বড় কিছু প্রত্যাশা করছে।’

স্পেনের শক্তিমত্তার প্রশংসা করে ফরাসি কোচ বলেন, ‘স্পেন যেমন আক্রমণভাগে দারুণ, তেমনি রক্ষণেও অত্যন্ত মজবুত। শেষ ছয় বা সাত ম্যাচে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে।’

দেশম মনে করছেন এই ম্যাচটি একটি চিরস্মরণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দুই দলের আক্রমণভাগের যে মান, তাতে আশা করাই যায় যে দর্শকরা একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নান্দনিক ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করতে যাচ্ছেন।’

পাপ্পু/অন্তরা/

ফ্রান্সের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ফ্রান্সের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই জয় তুলে নিতে চায় তার দল।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক বল দখলভিত্তিক ও আক্রমণাত্মক কৌশল বজায় রাখবে। তার বিশ্বাস, দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এই লড়াই দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য হবে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে ও উসমান ডেম্বেলের মতো তারকাসমৃদ্ধ দলটি বিধ্বংসী আক্রমণভাগের শক্তিতেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনে সর্বশেষ দুই দেখাতেই ফ্রান্সকে হারিয়েছে স্পেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবারও জয় ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘আমরা ফ্রান্সকে নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছি। আমরা একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। গত কয়েক বছরে নিয়মিত মুখোমুখি হয়েছি। তাদের যেমন বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে, আমাদের দলেও তেমন মানসম্পন্ন ফুটবলার আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে এবং প্রতিপক্ষের শক্তিকে যতটা সম্ভব নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করতে হবে। ফুটবলে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারা দলই সাধারণত এগিয়ে থাকে। ব্যক্তিগত দ্বৈরথে জয়ী হতে হবে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের চেষ্টা করব।’

পাপ্পু/অন্তরা/

ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল
তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ১৯ বছরে পা দিলেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। জন্মদিন, পরিবার এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ম্যাচকে ঘিরে আলোচনার মধ্যেও তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেন ফুটবলের সামাজিক ভূমিকার ওপর।

স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের বিতর্কিত মন্তব্য-ফ্রান্স দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’-সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়ামাল বলেন, ফুটবলের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে একত্রিত করা। মরোক্কান বাবা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মায়ের সন্তান এই তরুণ ফুটবলার জানান, ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশই বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সফল উদাহরণ এবং ফুটবল সেই ঐক্যের প্রতীক।

ইয়ামাল বলেন, ‘আগামীকাল আমরা একটি দারুণ ম্যাচ খেলব। তবে ফুটবলের যদি কোনো উদ্দেশ্য থেকে থাকে, তা হলো মানুষকে একত্রিত করা। অন্য কেউ কী বলল, তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনো মানে নেই।’

নিজের তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কেইনেকে নিয়েও কথা বলেন ইয়ামাল। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে শিশুসুলভ দুষ্টুমির কারণে কেইনে দর্শকদের মন জয় করেছে। এ প্রসঙ্গে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার ভাই তো এসব বোঝে না। ও বাড়িতে যেমন থাকে, ক্যামেরার সামনেও তেমনই থাকে। মানুষ ওকে পছন্দ করলে আমার ভালো লাগে।’

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বলে উল্লেখ করেন ইয়ামাল। তার ভাষ্যে, ‘এটি এমন একটি ম্যাচ, যার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক-দুই ধরনের ফুটবলই খেলতে সক্ষম। তাই এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ হবে।’

পাপ্পু/ অন্তরা/

সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর মধ্যেও দর্শক-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠন। তারা বলেছে, এই ম্যাচকে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ইস্যু বা অতীতের যুদ্ধের প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, সেমিফাইনাল কোনো ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ’ নয়। তারা সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘৃণা বা বর্ণবাদ ছড়িয়ে নয়, বরং যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইন সেনাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলাটি উপভোগ করতে।

‘২ এপ্রিল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ফেডারেশন’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, মালভিনাস (ফকল্যান্ডস) ইস্যুতে আর্জেন্টিনার দাবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফোরাম, ঐতিহাসিক সত্য এবং দেশের সংবিধানে বর্ণিত শান্তিপূর্ণ নীতির ভিত্তিতেই অব্যাহত থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘খেলার মাঠের আবেগ আর জাতীয় ইস্যুর মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি। মাঠে ফুটবল চলবে, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি আমাদের গর্ব আরও বাড়বে, কিন্তু যুদ্ধের স্মৃতি সবসময় অম্লান থাকবে।’

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। ওই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছে।

চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একটি জনপ্রিয় গান গাইতে দেখা গেছে, যেখানে মালভিনাস, কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কথা উঠে এসেছে।

পাপ্পু/অন্তরা/