ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপ কি এবার সত্যিই ‘বিশ্বের’ হবে? প্রথম সেমিতে ইতিহাসের বাঁশি ‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ ‘শুধু এমবাপ্পেকে নয়, পুরো ফ্রান্সকেই থামাতে হবে’ মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি ‘স্পেনকে ভয় নয়, সম্মান’ মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘লাকি’ জার্সি পরে খেলবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর রেফারির মৃত্যু ১৩ বছর পর আবারও ক্রোয়েশিয়ার কোচ স্লাভেন বিলিচ হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সরলথকে আত্মহত্যা করার বার্তা! বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ ৪ দলের মধ্যে কার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ' ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা অনলাইনে মাদক-বাণিজ্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ ‘মাদক বহনকারীরা জেলে, কিন্তু কারবারিরা সংসদে কেন?’ ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার নতুন ডিরেক্টর ড. মাইক মিলার কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না?

প্রথম সেমিতে ইতিহাসের বাঁশি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
প্রথম সেমিতে ইতিহাসের বাঁশি
ইভান বারটন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে গড়ায়, রেফারিদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি ভুল সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য রেফারিদেরই দায়িত্ব দিচ্ছে ফিফা। আজ (১৪ জুলাই) ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের জন্য প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এল সালভাদরের ইভান বারটন। সাধারণত ম্যাচের এক দিন আগে রেফারিদের নাম ঘোষণা করে ফিফা, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এই ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও গড়তে যাচ্ছেন ইভান বারটন। পুরুষদের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পাওয়া প্রথম এল সালভাদরীয় রেফারি হতে চলেছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে এটি হবে বারটনের চতুর্থ ম্যাচ। এর আগে তিনি গ্রুপ পর্বের তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ও জাপান-সুইডেন ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। শেষ ষোলোয় ছিলেন কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচেরও দায়িত্বে। কনকাকাফ অঞ্চলের অন্যতম অভিজ্ঞ এই রেফারি নিয়মিত গোল্ড কাপ ও কনকাকাফ নেশনস লিগে ম্যাচ পরিচালনা করেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল তার প্রথম বিশ্বকাপ। এবার সেমিফাইনালের দায়িত্ব পেয়ে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।

চলতি বিশ্বকাপে বারটন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছিলেন তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ম্যাচে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন মুখ ঢেকে তুরস্কের মের্ত মুলদুরকে কিছু বললে মুলদুর অভিযোগ করেন রেফারির কাছে। পরে ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পর্যালোচনা করে আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান বারটন। বিশ্বকাপে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে কিছু বলার কারণে এটিই ছিল প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। পরে টুর্নামেন্টে আর এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেখা যায়নি।

ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচে বারটনের দুই সহকারী হবেন তারই স্বদেশি ডেভিড মোরান ও আন্তোনিও পুপিরো। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন সুইডেনের গ্লেন নিয়বার্গ। রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন মাহবোদ বেগি।

‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে সেনেগালের ব্যর্থতার পেছনে সাবেক কোচ পাপে থিয়াওর বেতন বাড়ানোর দাবিকেই দায়ী করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)। ফেডারেশনের দাবি, একপর্যায়ে থিয়াও হুমকি দিয়েছিলেন, দাবি না মানলে তিনি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানী ডাকারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফেডারেশনের সভাপতি আবদুলায়ে ফল। এর একদিন আগেই কোচ পাপে থিয়াওকে বরখাস্ত করা হয়।

আবদুলায়ে ফল বলেন, ‘পাপে থিয়াও ও আমাদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল।’ তার দাবি, নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় থিয়াও অতিরিক্ত বেতন দাবি করায় এই সংকটের শুরু। বিশ্বকাপ চলাকালীন থিয়াওর সঙ্গে বিরোধের কারণে দলের ভেতর ‘বিষাক্ত’ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা তাদের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

২০২৪ সালে সেনেগালের দায়িত্ব নেন থিয়াও। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তিনি মাসিক বেতন ২ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৮৭ হাজার ডলার) করার দাবি জানান।

শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ বিশ্বকাপ চলাকালে মাসিক ৩ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ বেতনে সমঝোতায় পৌঁছায়। পাশাপাশি বোনাসসহ অন্যান্য বিষয়েও সমাধান হয়।

তবে ফলের দাবি, একপর্যায়ে থিয়াও হুমকি দিয়েছিলেন, দাবি না মানলে তিনি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না। পরে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি করান।

ফেডারেশন সভাপতির ভাষ্য, নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত নতুন চুক্তি সই হয়নি। থিয়াও চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ডাগআউটে বসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

আবদুলায়ে ফল আরও বলেন, ‘থিয়াও মনে করতেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারাই তার শত্রু। এই মানসিকতা জাতীয় দলের কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল।’

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হারলেও শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে উঠে সেনেগাল। তবে শেষ ৩২-এ বেলজিয়ামের কাছে হেরে শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

এসজি/

ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ এএম
ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের কষ্ট ভুলে মার্টিন ওডেগার্ড-আর্লিং হালান্ডদের বীরোচিত সংবর্ধনা দিয়েছে নরওয়ের মানুষ। 

সোমবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাজধানী অসলোতে এক লাখেরও বেশি সমর্থক তাদের বরণ করে নেন। 

ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। তবে ঐতিহাসিক এই অভিযানের পরাজয় উদ্‌যাপনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা দলটিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন লাখো মানুষ।

দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে বলেন, ‘আমরা যে সমর্থন পাচ্ছি এবং পুরো দেশ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। এটি সত্যিই অসাধারণ।’

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে নরওয়ে দলকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর রাজধানীতে শুরু হয় তাদের হোমকামিং প্যারেড। সমর্থকদের ভিড়ে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় রয়্যাল প্যালেস স্কয়ার। পরে সেই ভিড় ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর প্রধান সড়ক কার্ল জোহানস গেট পর্যন্ত। 

এর আগে খেলোয়াড়রা রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তারা রাজপ্রাসাদের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তবে উদ্‌যাপনের শেষ পর্বে ছিলেন না দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। আগেই চলে যাওয়ায় সতীর্থদের সঙ্গে প্রাসাদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদ্‌যাপনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকরাও এই উদ্‌যাপনে মাতে। 

নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার যাত্রা চার ঘণ্টা দেরি হওয়ায় হালান্ড ও সান্ডার বের্গেকে আগেই বিমানে উঠতে হয়েছে।

এরপরও উদ্‌যাপন থেমে থাকেনি। খোলা বাসে করে অসলো শহর ঘুরে সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপের স্মরণীয় যাত্রা উদ্‌যাপন করে নরওয়ে দল।

এসজি/

মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম
মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি
লিওনেল মেসি ও নিকো ও’রেইলি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় আছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার নিকো ও’রেইলি। ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ ফুটবলারের মতে, ক্যারিয়ারে এমন সুযোগ বারবার আসে না।

বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের ফাইনালে উঠার লড়াই। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় থমাস টুখেলের দল। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন মেসি। তাই দলের পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়েও এখনো এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বিপক্ষে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা হয়নি ও’রেইলির।

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ও’রেইলি বলেন, ‘আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষা করছি। এটি জীবনে একবারই আসা সুযোগ। সে (মেসি) ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছে। আমার কাছে ফুটবল মাঠে পা রাখা সেরা খেলোয়াড় তিনিই। তাই এই লড়াইয়ের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

ধারণা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের হয়ে বাঁ প্রান্তের রক্ষণে খেললে মেসিকে সামলানোর দায়িত্ব পড়তে পারে ও’রেইলির ওপর।

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি।

এসজি/

মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড!

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ এএম
মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড!
লিওনেল মেসি ও জো কোল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ফুটবলবিশ্বে বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনার পারদ। সাবেক তারকাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। থ্রি লায়ন্সদের সাবেক তারকা জো কোল তো লিওনেল মেসিকে নিয়ে রীতিমতো এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেছেন।

নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে সাবেক জাতীয় দলের তারকা গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শেয়ারার এবং মাইক রিচার্ডসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন জো কোল। থ্রি লায়ন্সের বিপক্ষে মেসির ম্যাচটি কেমন হতে পারে– এমন আলোচনার একপর্যায়ে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা কোল বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই বলে ওঠেন, ‘ঠিক আছে, আমাদের তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, ১০০ ভাগ।’

কোল যাতে নিজের কথায় পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয় এবং রোজারিওর এই খুদে জাদুকর যেন মাঠে আরেকটি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার না দেন, সে জন্য উপস্থিত বাকিরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। আমরা না হয় আট মাস পর এটা বলব।’ কিন্তু চেলসি ও লিভারপুলের সাবেক এই মিডফিল্ডার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি: আমরা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠছি।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে মাইক রিচার্ডস অবশ্য মনে করিয়ে দেন যে, আর্জেন্টিনাকে হারাতে ইংল্যান্ডকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। কারণ আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা ‘চতুর এবং জন্মগতভাবে বিজয়ী’। তবে একই সঙ্গে টমাস টুখেলের দলের শক্তির দিকটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনাকে টেক্কা দেওয়ার মতো গতি আমাদের দলে রয়েছে এবং আমরাই জিততে যাচ্ছি। আমার মন সেটাই বলছে।’

লিওনেল মেসিকে নিয়ে কোলের এমন কঠোর মন্তব্য অবশ্য কিছুটা চমকপ্রদ। কারণ এর আগে তিনি বহুবার প্রকাশ্যেই মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের আগেই কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাতে ঘুমানোর সময় হয়তো আফসোস করে ভাবেন, ‘ইস, আমি যদি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম!’ মেসি একদম নির্ভার। একমাত্র সেই ফুটবল ইতিহাসে সবকিছু অর্জন করতে পেরেছে। হ্যাঁ, একমাত্র সে-ই রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।’

ইতিহাস এবং আবেগের এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন আরেক সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে নেভিলের সমালোচনার তীর মেসির দিকে নয়, বরং ধেয়ে গেছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দিকে।

স্কাই বেটের বর্তমান এই ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘ওদের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজ রয়েছে, যাদের খেলা দেখে মনে হয় প্রতি ম্যাচেই তারা অন্তত একটি করে গোল উপহার দেবে। আবার পরক্ষণেই দেখবেন তারা গোল করছে, হেড করে বল ক্লিয়ার করছে এবং মাঠের সর্বত্র হাজির থাকছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ালে তাদের কী যে হয়! সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

আর্জেন্টাইন এই সেন্ট্রাল ব্যাক জুটিকে প্রশংসায় ভাসানোর পাশাপাশি খোঁচা দিতেও ছাড়েননি নেভিল। তিনি বলেন, “আমি ওদের বিশ্বের ‘সেরা-সবচেয়ে খারাপ’ সেন্টার ব্যাক জুটি বলি। কারণ কিছু মুহূর্তে ওরা যেমন অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই আবার একদম যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করে বসে।”

বিশ্বকাপ কি এবার সত্যিই ‘বিশ্বের’ হবে?

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম
বিশ্বকাপ কি এবার সত্যিই ‘বিশ্বের’ হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরা ৩২ দল, এই ধারণা এখন ইতিহাস। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়িয়েছে ৪৮ দল। সফল এই টুর্নামেন্টের সমাপ্তির আগেই শুরু হয়ে গেছে আরও বড় স্বপ্নের আলোচনা। সেই স্বপ্নের নাম– ৬৪ দলের বিশ্বকাপ।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো এবার স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ৬৪ দলের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। তার যুক্তি একটাই– বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, এটি পুরো বিশ্বের জন্য। ইনফ্যান্তিনোর ভাষায়, ‘এসব বিষয় আমরা বিশ্বকাপের পর পর্যালোচনা করব। বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি পুরো বিশ্বের জন্য আয়োজন করা– শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, কার্যত সমগ্র বিশ্বের জন্য। বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত।’

ফিফা সভাপতির বিশ্বাস, বিশ্ব ফুটবলের মান এখন আর কয়েকটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ছোট ছোট দেশও দ্রুত উন্নতি করছে। কিন্তু তাদের সামনে যদি বিশ্বকাপে খেলার দরজাই না খোলা থাকে, তা হলে উন্নতির প্রেরণাও কমে যাবে। তিনি বলেন, ‘আপনি দেখতে পাচ্ছেন, দলগুলোর মান অত্যন্ত উঁচু এবং বিশ্বজুড়ে সেই মান আরও বাড়ছে। আপনি যদি ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেন, তা হলে উন্নতি করে যাওয়ার প্রেরণাও তাদের থাকবে না।’

ইনফ্যান্তিনোর দাবি, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন আফ্রিকার সাফল্য। এবার নকআউট পর্বে আফ্রিকার ১০ দলের মধ্যে ৯টিই জায়গা করে নিয়েছে। ফিফা সভাপতির বক্তব্য, ‘গত বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে মাত্র পাঁচটি দল ছিল। এটিই প্রমাণ করে, সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অংশগ্রহণের এই সুযোগ করে দেওয়া কতটা জরুরি।’

বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ অবশ্য নতুন কোনো ধারণা নয়। ২০১৭ সালে ফিফা কাউন্সিল ৩২ দলের বিশ্বকাপকে ৪৮ দলে উন্নীত করার অনুমোদন দেয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। এর পর থেকেই আলোচনা চলছিল, ফিফা কি এখানেই থামবে? ২০২৫ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব দেয়। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মূলত আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। কারণ ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে।

সবাই অবশ্য একমত নন
ইনফ্যান্তিনো যেখানে বিশ্বকাপকে আরও বড় করতে চান, সেখানে ফুটবলের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ধারণার বিরোধিতা করছেন। উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার চেফেরিনের মতে, ‘এটি টুর্নামেন্ট এবং বাছাইপর্ব– উভয়ের জন্যই খারাপ ধারণা।’ এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও মনে করেন, আরও সম্প্রসারণ ফুটবলে ‘বিশৃঙ্খলা’ তৈরি করবে। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানিও সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, ‘এই প্রস্তাবটি সঠিক বলে মনে হয় না।’ তার আশঙ্কা, এতে ‘সামগ্রিক ফুটবল ইকোসিস্টেমের’ ক্ষতি হতে পারে।

তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিড করার কথা ভাবতে পারে। এমনকি ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট হলেও সেটি আয়োজন করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন– আয়োজন করবে কে?
৬৪ দলের বিশ্বকাপ মানেই শুধু আরও বেশি দল নয়। এর অর্থ আরও বেশি ম্যাচ, আরও বেশি স্টেডিয়াম, আরও বেশি শহর, আরও বেশি যাতায়াত এবং বিশাল আয়োজন। ফুটবলবিষয়ক সংবাদদাতা ডেল জনসন মনে করিয়ে দেন, ইনফ্যান্তিনো ২০১৬ সালে প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় বিশ্বকাপকে ৪০ দলে উন্নীত করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ে সেটি ৪৮ দলে পৌঁছে যায়। এর পর থেকেই ফিফা আরও সম্প্রসারণের পথ খুঁজছে।

২০২২ বিশ্বকাপেই ৪৮ দল রাখার আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কাতার একা এত বড় আয়োজন করতে পারবে না বলেই সেটি সম্ভব হয়নি। জনসনের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটা এখানেই। বিশ্বকাপ যত বড় হবে, সেটি আয়োজন করাও তত কঠিন হয়ে উঠবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনটি দেশে। ২০৩০ সালে ম্যাচ হবে ছয়টি দেশে। আর ২০৩৪ সালে সৌদি আরবকে যদি ৬৪ দলের, ১২৮ ম্যাচের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে হয়, তা হলে সেই বিশাল চ্যালেঞ্জ তারা কীভাবে সামাল দেবে– তার উত্তর এখনো অজানা।

তবু কেন এগোতে চাইছে ফিফা?
কারণ, এর লাভও কম নয়। প্রথমত, আরও বেশি দেশের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হবে। ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। দ্বিতীয়ত, বড় টুর্নামেন্ট মানেই আরও বেশি ম্যাচ, আরও বেশি সম্প্রচারস্বত্ব, আরও বেশি স্পনসরশিপ এবং আরও বেশি আয়। সেই অর্থ আবার সদস্য ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যেও বণ্টন করা যাবে।

তাই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ এখনো বাস্তবতা না হলেও, এটি আর নিছক কল্পনা নয়। ইনফ্যান্তিনোর বক্তব্য পরিষ্কার–বিশ্বকাপকে আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলবিশ্ব শেষ পর্যন্ত ‘সবার বিশ্বকাপ’-এর স্বপ্নকে বেছে নেয়, নাকি ঐতিহ্য ও বাস্তবতার যুক্তিকেই প্রাধান্য দেয়।