ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ ‘শুধু এমবাপ্পেকে নয়, পুরো ফ্রান্সকেই থামাতে হবে’ মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি ‘স্পেনকে ভয় নয়, সম্মান’ মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘লাকি’ জার্সি পরে খেলবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর রেফারির মৃত্যু ১৩ বছর পর আবারও ক্রোয়েশিয়ার কোচ স্লাভেন বিলিচ হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সরলথকে আত্মহত্যা করার বার্তা! বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ ৪ দলের মধ্যে কার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ' ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা অনলাইনে মাদক-বাণিজ্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ ‘মাদক বহনকারীরা জেলে, কিন্তু কারবারিরা সংসদে কেন?’ ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার নতুন ডিরেক্টর ড. মাইক মিলার কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না? বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর রেফারির মৃত্যু

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর রেফারির মৃত্যু
রব ডিপেরিঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা গেছেন নেদারল্যান্ডসের রেফারি রব ডিপেরিঙ্ক। চলতি বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেল থেকে বাদ পড়ার দুই মাস পর সোমবার (১৩ জুলাই) নিজ বাসভবনের সামনের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।

ডিপেরিঙ্ককে বিশ্বকাপের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্যানেলের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যে একটি মামলায় জড়ানোর পর মে মাসে তাকে সেই তালিকা থেকে সরিয়ে দেয় ফিফা। যদিও পরে প্রমাণের অভাবে মামলাটি বাতিল হয়ে যায়।

ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ‘রব ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুর খবরে আমরা হতবাক ও গভীরভাবে শোকাহত। আমরা একজন সম্মানিত রেফারিকে হারালাম। তবে সর্বোপরি, আমরা হারালাম একজন ভালো মানুষ ও নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে।’

গত এপ্রিলে লন্ডনের একটি হোটেলে এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ডিপেরিঙ্ককে গ্রেপ্তার করেছিল ব্রিটিশ পুলিশ। তবে তদন্ত শেষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলাটি আর এগোয়নি।

ওই ঘটনায় নিজের হতাশা প্রকাশ করে ডিপেরিঙ্ক ডাচ সংবাদমাধ্যম ডি টেলিগ্রাফকে বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ভুল অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। শুরু থেকেই আমি পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা, উয়েফা ও কেএনভিবিকেও (ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) সবকিছু জানিয়েছি।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘কেএনভিবি যেভাবে আমাকে সমর্থন করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে বিশ্বকাপে আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আমি অবশ্যই হতাশ।’

রব ডিপেরিঙ্ক ২০১৭ সাল থেকে নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ লিগ এরেডিভিসিতে রেফারিং করছিলেন। এ ছাড়া ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি ভিএআর কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এসজি/ 

ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ এএম
ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের কষ্ট ভুলে মার্টিন ওডেগার্ড-আর্লিং হালান্ডদের বীরোচিত সংবর্ধনা দিয়েছে নরওয়ের মানুষ। 

সোমবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাজধানী অসলোতে এক লাখেরও বেশি সমর্থক তাদের বরণ করে নেন। 

ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। তবে ঐতিহাসিক এই অভিযানের পরাজয় উদ্‌যাপনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা দলটিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন লাখো মানুষ।

দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে বলেন, ‘আমরা যে সমর্থন পাচ্ছি এবং পুরো দেশ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। এটি সত্যিই অসাধারণ।’

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে নরওয়ে দলকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর রাজধানীতে শুরু হয় তাদের হোমকামিং প্যারেড। সমর্থকদের ভিড়ে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় রয়্যাল প্যালেস স্কয়ার। পরে সেই ভিড় ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর প্রধান সড়ক কার্ল জোহানস গেট পর্যন্ত। 

এর আগে খেলোয়াড়রা রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তারা রাজপ্রাসাদের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তবে উদ্‌যাপনের শেষ পর্বে ছিলেন না দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। আগেই চলে যাওয়ায় সতীর্থদের সঙ্গে প্রাসাদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদ্‌যাপনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকরাও এই উদ্‌যাপনে মাতে। 

নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার যাত্রা চার ঘণ্টা দেরি হওয়ায় হালান্ড ও সান্ডার বের্গেকে আগেই বিমানে উঠতে হয়েছে।

এরপরও উদ্‌যাপন থেমে থাকেনি। খোলা বাসে করে অসলো শহর ঘুরে সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপের স্মরণীয় যাত্রা উদ্‌যাপন করে নরওয়ে দল।

এসজি/

মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম
মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি
লিওনেল মেসি ও নিকো ও’রেইলি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় আছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার নিকো ও’রেইলি। ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ ফুটবলারের মতে, ক্যারিয়ারে এমন সুযোগ বারবার আসে না।

বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের ফাইনালে উঠার লড়াই। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় থমাস টুখেলের দল। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন মেসি। তাই দলের পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়েও এখনো এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বিপক্ষে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা হয়নি ও’রেইলির।

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ও’রেইলি বলেন, ‘আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষা করছি। এটি জীবনে একবারই আসা সুযোগ। সে (মেসি) ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছে। আমার কাছে ফুটবল মাঠে পা রাখা সেরা খেলোয়াড় তিনিই। তাই এই লড়াইয়ের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

ধারণা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের হয়ে বাঁ প্রান্তের রক্ষণে খেললে মেসিকে সামলানোর দায়িত্ব পড়তে পারে ও’রেইলির ওপর।

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি।

এসজি/

মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড!

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ এএম
মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড!
লিওনেল মেসি ও জো কোল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ফুটবলবিশ্বে বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনার পারদ। সাবেক তারকাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। থ্রি লায়ন্সদের সাবেক তারকা জো কোল তো লিওনেল মেসিকে নিয়ে রীতিমতো এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেছেন।

নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে সাবেক জাতীয় দলের তারকা গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শেয়ারার এবং মাইক রিচার্ডসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন জো কোল। থ্রি লায়ন্সের বিপক্ষে মেসির ম্যাচটি কেমন হতে পারে– এমন আলোচনার একপর্যায়ে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা কোল বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই বলে ওঠেন, ‘ঠিক আছে, আমাদের তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, ১০০ ভাগ।’

কোল যাতে নিজের কথায় পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয় এবং রোজারিওর এই খুদে জাদুকর যেন মাঠে আরেকটি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার না দেন, সে জন্য উপস্থিত বাকিরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। আমরা না হয় আট মাস পর এটা বলব।’ কিন্তু চেলসি ও লিভারপুলের সাবেক এই মিডফিল্ডার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি: আমরা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠছি।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে মাইক রিচার্ডস অবশ্য মনে করিয়ে দেন যে, আর্জেন্টিনাকে হারাতে ইংল্যান্ডকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। কারণ আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা ‘চতুর এবং জন্মগতভাবে বিজয়ী’। তবে একই সঙ্গে টমাস টুখেলের দলের শক্তির দিকটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনাকে টেক্কা দেওয়ার মতো গতি আমাদের দলে রয়েছে এবং আমরাই জিততে যাচ্ছি। আমার মন সেটাই বলছে।’

লিওনেল মেসিকে নিয়ে কোলের এমন কঠোর মন্তব্য অবশ্য কিছুটা চমকপ্রদ। কারণ এর আগে তিনি বহুবার প্রকাশ্যেই মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের আগেই কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাতে ঘুমানোর সময় হয়তো আফসোস করে ভাবেন, ‘ইস, আমি যদি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম!’ মেসি একদম নির্ভার। একমাত্র সেই ফুটবল ইতিহাসে সবকিছু অর্জন করতে পেরেছে। হ্যাঁ, একমাত্র সে-ই রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।’

ইতিহাস এবং আবেগের এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন আরেক সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে নেভিলের সমালোচনার তীর মেসির দিকে নয়, বরং ধেয়ে গেছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দিকে।

স্কাই বেটের বর্তমান এই ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘ওদের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজ রয়েছে, যাদের খেলা দেখে মনে হয় প্রতি ম্যাচেই তারা অন্তত একটি করে গোল উপহার দেবে। আবার পরক্ষণেই দেখবেন তারা গোল করছে, হেড করে বল ক্লিয়ার করছে এবং মাঠের সর্বত্র হাজির থাকছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ালে তাদের কী যে হয়! সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

আর্জেন্টাইন এই সেন্ট্রাল ব্যাক জুটিকে প্রশংসায় ভাসানোর পাশাপাশি খোঁচা দিতেও ছাড়েননি নেভিল। তিনি বলেন, “আমি ওদের বিশ্বের ‘সেরা-সবচেয়ে খারাপ’ সেন্টার ব্যাক জুটি বলি। কারণ কিছু মুহূর্তে ওরা যেমন অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই আবার একদম যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করে বসে।”

‘শুধু এমবাপ্পেকে নয়, পুরো ফ্রান্সকেই থামাতে হবে’

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ এএম
‘শুধু এমবাপ্পেকে নয়, পুরো ফ্রান্সকেই থামাতে হবে’
গোলের পর উদ্‌যাপনে ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে মাত্র একটি জয় দূরে স্পেন। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালকে ঘিরে তাই স্প্যানিশ শিবিরে উত্তেজনার পাশাপাশি রয়েছে আত্মবিশ্বাস, সতর্কতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে থেকে শুরু করে অধিনায়ক এবং দলের তারকা ফুটবলাররা সবাই একই বার্তা দিয়েছেন– ফ্রান্সকে হারাতে হলে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, সেমিফাইনালে কোনো দলই ফেভারিট নয়। তার মতে, ফ্রান্স বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল এবং এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সামান্য ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, স্পেন যদি নিজেদের স্বাভাবিক পজিশনভিত্তিক ফুটবল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত আক্রমণের ধার বজায় রাখতে পারে, তা হলে জয় পাওয়া সম্ভব। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু কাউকে ভয় পাই না। এই দলটি প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের উন্নত করেছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা।’

অধিনায়ক রদ্রি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ জীবনে বারবার আসে না। তাই এই সেমিফাইনালকে তিনি দলের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। রদ্রির ভাষায়, ‘ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে খেলতে হলে শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। এমবাপ্পে, দেম্বেলে কিংবা তাদের অন্য তারকাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবছি না। আমরা নিজেদের ফুটবলের ওপর বিশ্বাস রাখছি। মাঠে যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তা হলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ আমাদেরই থাকবে।’

দলের তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামালও আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, বড় ম্যাচই একজন ফুটবলারের আসল পরিচয় তুলে ধরে। ইয়ামাল বলেন, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামা মানেই বাড়তি অনুপ্রেরণা। আমরা জানি তারা কতটা শক্তিশালী। কিন্তু স্পেনও এখন একটি পরিণত দল। বড় ম্যাচে ভয় পেলে চলবে না, বরং উপভোগ করতে হবে।’

মিডফিল্ডার পেদ্রি মনে করেন, সেমিফাইনালের মূল লড়াই হবে মাঝমাঠে। তার মতে, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি। পেদ্রি বলেন, ‘ফ্রান্স খুব দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক করতে পারে। তাই বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের পাসিং ফুটবলও ধরে রাখতে হবে।’ 

ডিফেন্ডার মার্কোস লরেন্তো মনে করেন, এমবাপ্পেকে একা থামানোর পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স শুধু একজন খেলোয়াড়ের দল নয়। তাদের পুরো আক্রমণভাগই ভয়ংকর। তাই আমাদের রক্ষণকে দলগতভাবে খেলতে হবে। সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।’

চলতি বিশ্বকাপে স্পেন এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। গ্রুপপর্বে আধিপত্য দেখানোর পর নকআউটে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে তারা। দলের আত্মবিশ্বাসও তাই তুঙ্গে। তবে স্প্যানিশ শিবিরে কেউই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। ফরাসি আক্রমণভাগের গতি ও অভিজ্ঞতার বিপরীতে স্পেন ভরসা রাখছে নিজেদের বলের নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীল মিডফিল্ড এবং তরুণদের নির্ভীক মানসিকতার ওপর। দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাস, তার দল যদি নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তা হলে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

সব মিলিয়ে স্পেন শিবিরের বার্তা একটাই– ফ্রান্সকে যথেষ্ট সম্মান করা হচ্ছে, কিন্তু ভয় নয়। আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং দলগত ফুটবল দিয়েই তারা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চায়।

‘স্পেনকে ভয় নয়, সম্মান’

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ এএম
‘স্পেনকে ভয় নয়, সম্মান’
গোলের পর উদ্‌যাপনে স্পেনের খেলোয়াড়রা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া থেকে আর মাত্র একধাপ দূরে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। তবে শেষ বাধাটি সহজ নয়। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ। তাদেরকে হারিয়েই টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে হবে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের। আজ (১৪ জুলাই) রাতে ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালকে সামনে রেখে ফরাসি শিবিরে যেমন রয়েছে আত্মবিশ্বাস, তেমনি রয়েছে প্রতিপক্ষের প্রতি যথেষ্ট সম্মানও।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম শুরু থেকেই নিজের দলকে বাস্তববাদী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সেমিফাইনালে ওঠাই শেষ লক্ষ্য নয়, আসল কাজ এখনো বাকি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যেমন তিনি বলেছিলেন, অতীতের সাফল্য নয়, বর্তমানের পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এবারও সেই দর্শনেই দলকে এগিয়ে নিতে চান তিনি। দেশমের বিশ্বাস, স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারাতে হলে ফ্রান্সকে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য উজাড় করে দিতে হবে। 

অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও একই সুরে কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘বিশ্রামের একটাই উপায়– জয়। জয় না পাওয়া পর্যন্ত স্বস্তি নেই। আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি, কিন্তু কাজ এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তবে আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’ এমবাপ্পের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, ফ্রান্স আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না; বরং আরও একটি বড় মঞ্চ জয়ের জন্য মরিয়া।

দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে স্পেনকে নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে নারাজ। তার মতে, স্পেনকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে তাদের সামর্থ্যকে অবহেলা করারও সুযোগ নেই। বিশেষ করে লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে অতিরিক্ত পরিকল্পনার বদলে পুরো দলকে নিয়েই ভাবতে চান তিনি। কোনাতে বলেন, ‘স্পেন শুধু একজন ফুটবলারের দল নয়। তারা সমষ্টিগতভাবে দারুণ। আমরা কাউকে ভয় পাই না, তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং তাদের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 

একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন ডিফেন্ডার ম্যাকসেন্স লাকারিক্স। তার মতে, ইয়ামালের প্রতিভা অসাধারণ হলেও ফ্রান্স নিজেদের শক্তির ওপরই ভরসা রাখছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি স্পেন কতটা ভালো দল। কিন্তু আমরাও এখানে কাকতালীয়ভাবে আসিনি। আমরা বিশ্বাস করি, নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে জয় আমাদেরই হবে।’ 

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপপর্বে টানা তিন জয়ের পর নকআউট পর্বে সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে স্পেনও শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে এসেছে, মাত্র একটি গোল হজম করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। ফলে ডালাসের এই লড়াইকে অনেকেই আগাম ফাইনাল বলেই মনে করছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের কাছে একাধিকবার হেরেছে ফ্রান্স। সেই স্মৃতিও নিশ্চয়ই ফরাসিদের মনে রয়েছে। তবে এবার দেশমের দল প্রতিশোধের মঞ্চ হিসেবেই দেখছে এই সেমিফাইনালকে। আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড নিয়ে তারা বিশ্বাস করছে– আর মাত্র একটি জয়ই তাদের আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিতে পারে।