ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাঁচ বোনকে বঞ্চিত করে তিন শ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক বোন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের দারোগাবাড়ির বাসিন্দা নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে গত ২৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৪র্থ) আদালতে মামলাটি করেন। বিচারক মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামিরা হলেন- এ কে এম রফিকুল ইসলাম (৬৫), বশির আহমেদ (৫৩), সাব্বির আহমেদ (৪৪) ও খালেদ সাইফুল্লাহ (৪৬)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নার্গিস আক্তারের বাবা এ কিউ এম নূরুল হুদা সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২০০০ সালে অবসরে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইজড হন এবং দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি নূরুল হুদা মারা যান।
বাদীর অভিযোগ, তার বাবা শয্যাশায়ী থাকা অবস্থায় আসামিরা ২০০৯ সালের ৯ জুলাই এবং ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর অন্য একজনকে এ কিউ এম নূরুল হুদা পরিচয়ে হাজির করে ২৮৬৪/২০০৯, ৪৩৮৮/২০২০ ও ৮৩৮৯/২০২০ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়। পরে এসব দলিল গোপন রেখে অরুয়াইল ও বাদে অরুয়াইল মৌজার মূল্যবান পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।
অরুয়াইল ও বাদে অরুয়াইল মৌজার বিএস ২৫৫ ও ৪৩৬ নম্বর খতিয়ানের আওতাধীন মোট ৫৮৮ দশমিক ৭৪ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, যার বাজারমূল্য তিন শ কোটি টাকারও বেশি।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এ এস এম ইউসুফ ভূঁইয়া রিপন বলেন, হেবা দলিলে থাকা এ কিউ এম নূরুল হুদার স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার অন্যতম আসামি এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা সুস্থ মস্তিষ্কে আমাদের নামে সম্পত্তি দলিল করে দিয়েছেন। তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন না, যদিও শেষদিকে কথা বলতে অসুবিধা হতো। তিনি ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই সম্পত্তির ব্যবস্থা করে গেছেন। তাই নার্গিস আক্তারের অভিযোগ সঠিক নয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র গোপ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
আজিজুল সঞ্চয়/আজহার/