সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাথা ন্যাড়া করার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তরুণী কীর্তনা মেননকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, পরিবার ও সমাজে বিয়ের চাপের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কীর্তনা জানান, বিষয়টির সঙ্গে বিয়ের কোনো সম্পর্কই নেই।
ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, শান্তভাবে বসে একজনের মাধ্যমে নিজের লম্বা চুল কেটে ফেলছেন কীর্তনা। চুলগুলো যাতে মাটিতে না পড়ে, সেজন্য তিনি মাথার নিচে একটি কাপড় ধরে রেখেছিলেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘My mom planned my marriage’। এই ক্যাপশন দেখেই অনেক নেটিজেন মনে করেন, বিয়ে এড়াতে তিনি মাথা ন্যাড়া করেছেন।
তবে এনডিটিভিকে দেওয়া এক বক্তব্যে কীর্তনা জানান, ভিডিওটির ক্যাপশন থেকেই ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবে তাকে বিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের চাপ ছিল না।
তিনি বলেন, মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং তাৎক্ষণিক। পরিবর্তন পছন্দ করেন বলেই এক সকালে হঠাৎ তার মনে হয় মাথা ন্যাড়া করবেন। বিষয়টি মাকে জানালে দুজন একসঙ্গে কাছের একটি মন্দিরে গিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন।
কীর্তনার ভাষায়, ‘এটি ছিল আমার হঠাৎ নেওয়া একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার বিয়ের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পুরো ঘটনাটি আমি ইউটিউবেও শেয়ার করেছি। কখনো ভাবিনি ভিডিওটি এতটা ভাইরাল হবে। নারীদের মাথা ন্যাড়া করাকে স্বাভাবিকভাবে দেখা উচিত। শুধু আমি একজন মেয়ে বলেই বিষয়টি এত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।’
তার এই ব্যাখ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নারীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে অযথা নানা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখনো সমাজে বিদ্যমান।
এদিকে এই ঘটনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এসেছে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী @kajals_move–এর একটি পুরোনো ভিডিও। সেখানে কাজল জানান, পরিবারের লাগাতার বিয়ের চাপের প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি নিজের মাথা ন্যাড়া করেছিলেন। যদিও নিজের চুল তিনি খুব ভালোবাসতেন, তবু পরিস্থিতির কারণে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
কাজল আরও বলেন, ‘মাথা ন্যাড়া করার পর অনেকেই তার দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নারী নিজের চেহারা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে কেন তা নিয়ে এত সমালোচনা হয়, অথচ একই সিদ্ধান্ত নিলে পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন প্রতিক্রিয়া খুব কমই দেখা যায়। তার মতে, নারীদের প্রতি এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজের প্রচলিত দ্বৈত মানসিকতার প্রতিফলন।’ সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/