ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সেমিফাইনালের আগে ফের আলোচনায় স্কালোনি-বেকহ্যামের পুরোনো দ্বন্দ্ব এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস ইংল্যান্ড দলে কোনো বিভক্তি নেই: কেইন ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও প্রজেক্ট ম্যানেজারের কাজের মধ্যে পার্থক্য আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিট ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের দ্বিগুণেরও বেশি পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ জিতলে সোনার চেইন দুর্নীতির শিকারে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষে খুলনা: টিআইবি মেসিকে নয়, নিজেদের শান্ত রাখাই লক্ষ্য ইংল্যান্ডের: জর্ডান পিকফোর্ড আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি পানি কমতেই ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ ‘ফেভারিট শেফ’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি মাদিহা বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১১০৪ এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম কক্সবাজারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান খাদ্য অধ্যায়ের ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া দলিলে ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ ফ্রান্সের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে মাথা ন্যাড়ার ভিডিও: বিয়ের চাপ নয়, তরুণী জানালেন আসল কারণ

বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়/ খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) র‍্যাগিং প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আগমন নিয়ে এই অভিযোগ করা হয়েছে।

গত বছর র‍্যাগিং প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানোর পাশাপাশি একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়েছিল।

তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও গত বছরের বিজয়-২৪ হলের ছাদে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। এতে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ঘটনায় আরও ৯ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো র‍্যাগিংবিরোধী সচেতনতামূলক ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আর একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগিং সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য কোনো অভিযোগ বক্স দেখা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘নতুন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য র‍্যাগিং প্রতিরোধে নিয়মিত প্রচারণা, মনিটরিং এবং অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু নতুন ব্যাচ আসার আগেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই নোটিশ দেওয়া হবে।'

গাজী আজম/তামান্না রুপা/

এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে
ছবি: সংগৃহীত

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই এখনো কোটার ভিত্তিতে ভর্তি চলমান রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছেন পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, পোষ্যা কোটা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটাসহ বিভিন্ন কোটায় ভর্তি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও চূড়ান্ত নোটিশে কোটা-ভিত্তিক ভর্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কোটা সংস্কার, এবং এই কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়েই প্রথম শহিদ হন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কেন কোটা বহাল? এই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

আন্দোলনের মূল পটভূমি ছিল মেধাবৃত্তিক ও বৈষম্যহীন নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা। তাই শহিদ আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোটায় ভর্তি বিরাজমান থাকায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবু সাইদের সহযোদ্ধা ও সচেতন মহল।

এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শামসুর রহমান সুমন বলেন, ’কোটাবিরোধী আন্দোলনে আমাদের এক সহযোদ্ধাকে জীবন দিতে হয়েছে সেই কোটা দিয়েই ভর্তি চলছে আবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি নিশ্চয়ই দুঃখজনক। এটির একটি সুষ্ঠু সুরাহা দরকার। তা না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠে নামব। এবং আবারও এই কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হবে।’

শিক্ষার্থী আরিফ হাসান বলেন, ’এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের আবু সাঈদ ভাই জীবন দিয়েছে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোটা প্রথা বিদ্যমান। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে যুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য গড়ে তুললে এর ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি সুরাহা করা। তা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থী কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনের ঘোষণা দেবে।’

এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনি বাদ দিয়ে শুধু বাবা-মায়ের আছে। পোষ্য কোটা ২ শতাংশ আছে, আমাদের নির্ধারিত সিট রয়েছে এই সিটের বাইরে এগুলো। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আমরা এক-দুজন পাই, পাই না। এগুলো খুব বেশি তা কিন্তু না। সবদিক বিবেচনা করে নামমাত্র কোটা রাখা হয়েছে। মেধাবীদের ওপর যাতে কোনো ইফেক্ট (প্রভাব) না পড়ে সেটাও দেখা হচ্ছে।’

সেলিম সরকার/আজহার/

সিলেট পরিবেশ উৎসবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
সিলেট পরিবেশ উৎসবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন
কবির আহমেদ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটে ‘পরিবেশ উৎসব ২০২৬’-এর টেকসই প্রকল্প প্রদর্শনী (সাসটেইনেবল প্রজেক্ট ডিসপ্লে) প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র কবির আহমেদ। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ৬২তম ব্যাচের ছাত্র। সিলেট বিভাগে সিনিয়ির ক্যাটাগরিতে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানায়। 

জনসংযোগ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কবির আহমেদকে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিবেশ উৎসবে তিনি তার উদ্ভাবনী প্রজেক্ট ‘সাসটেইনেবল হাইব্রিড রিনিউয়েবল এনার্জি হার্ভেস্টিং সিস্টেম’ (টেকসই হাইব্রিড নবায়নযোগ্য শক্তি আহরণ পদ্ধতি) সফলভাবে প্রদর্শন করে বিচারকদের মন জয় করেন। কবির আহমেদের এই অসাধারণ সাফল্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগ আনন্দিত ও গর্বিত।

এদিকে, কবিরের সাফল্যকে অভিনন্দিত করেছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী। 

অভিনন্দন বার্তায় তারা বলেন, কবিরের এই গৌরবময় অর্জন তার অনন্য মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রকৌশল সমাধানের প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এই উদ্ভাবনী যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করছে এবং তার ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও পেশাগত জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় জাককানইবির শিক্ষার্থী নিহত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
সড়ক দুর্ঘটনায় জাককানইবির শিক্ষার্থী নিহত
জাহিদ হাসান

নিজ বাড়ি টাঙ্গাইল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার সহপাঠীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মামাতো বোনের বিয়েতে টাঙ্গাইল যান তিনি। বিয়ে শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। জাহিদ হাসানের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায়।

তার সহপাঠী ও ইএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ইরান মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘জাহিদ আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট ছেলে। আজ বিকেলেও ঘুরতে বের হওয়ার জন্য তাকে মেসেজ দিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ক্যাম্পাসে ফিরছে, অন্যদিন বের হবে। এই কথাই যে আমার বন্ধুর শেষ কথা হবে, কে জানতো! তার এমন মৃত্যুতে বিভাগের সবাই আমরা মর্মাহত। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।’

তাসনিম হক রাফি/অমিয়/

ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জাহিদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত না করায় প্রশাসনের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার একদিন পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জাহিদ হাসানকে প্রক্টর অফিসে তলব করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যকে নিয়ে মানহানিকর বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এছাড়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাকে আগামী ১৪ জুলাই সকাল ১০টায় প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে, রবিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে জাহিদ হাসান দাবি করেন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার বিষয়ে বিকেল থেকেই জকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও রাত পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সন্ধ্যার পর থেকে জকসুর নেতারা উপাচার্য ও ট্রেজারারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে উপাচার্য জকসুর ভিপির ফোনও রিসিভ করেননি বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

তিনি আরও লেখেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য পুরান ঢাকার ক্যাম্পাসে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হলেও প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। জকসুর কাজ প্রশাসনকে চাপ দেওয়া, আমরা দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন যদি সেই চাপ অনুভবই না করে, তাহলে এর দায় জকসুর নয়।


প্রক্টর অফিসের নোটিশ পাওয়ার পর সোমবার রাতে জাহিদ হাসান আরেকটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ।সোমবারের ফেসবুক পোস্টের বিপরীতে প্রক্টর অফিস থেকে আমাকে রবিবার ডাকা হয়েছে। জবি প্রশাসন এবং মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের বিরুদ্ধে নাকি মানহানিকর পোস্ট করেছি।

তিনি আরও লেখেন, আমার সোনার জগা বাবু! ধন্যবাদ! আর কত খেল দেখাবে প্রশাসন, স্রষ্টা জানেন! কমেন্টে সোমবারের  পোস্টের লিংক দিলাম। আপনারা একটু জানাইয়েন কোন বিষয়টা মানহানিকর ছিল?

এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কোন বক্তব্যকে মানহানিকর মনে করা হয়েছে, সেটি আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। জাহিদের ফেসবুক পোস্টেই বিষয়টি রয়েছে। পোস্টটি দেখলেই বোঝা যাবে।
 
উল্লেখ্য, জাহিদ হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আয়োজিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ কতেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হাসান। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার পশ্চিম বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মতো প্রচারণা করে নজড় কেড়েছিলেন জাহিদ। শিক্ষার্থীরা যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছে জাহিদ মামদানি।

মুজাহেদ বিল্লাহ/রিফাত/

ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা
ছবি: খবরের কাগজ

আগামী পহেলা আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের আগমন উপলক্ষ্যে জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলে একই আদলে জুলাই ফলক তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। যেটি ডামি গেটের অনুরূপ হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

উপাচার্য বলেন, "জুলাই গ্রাফিতি ও স্মৃতি অপসারণের বিষয়ে যে প্রচার চলছে তা বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা নেই। জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা শব্দটি অযাচিত ও অপকৌশল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণেই কাজ করছে। 

তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জুলাই স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই সংগ্রহশালা পুনরায় চালু, প্রধান ফটকের জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং একই আদলে ডামি গেট নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।  “আমাদের লক্ষ্য জুলাইয়ের স্মৃতিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা। এ জন্য স্মৃতিফলক ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জুলাই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে দুই দফায় অফিসে মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো। এ সময় জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলে তা সংরক্ষণের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। তবে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে শাখা বৈষম্যরিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তি।

জানা গেছে, গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় এবং আজ সোমবার বেলা ১১টায় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিল না শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। তবে পরে বিকেল ৩টায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে আলোচনা সভায় বসেন তারা। এ সময় তারা জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। 

এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, "শুধু ছাত্র সংগঠনগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেকহোল্ডার না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা হচ্ছে সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা চাই না কোনো ইন্টারনাল ছাত্র সংগঠনের ইন্টারনাল কোনো বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জুলাইয়ের যে স্পিরিট সেটা ভূলুণ্ঠিত হোক। জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য জুলাইয়ের সম্মুখ সারির শক্তিদেরকে তারা ডাকেনি। জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা এটা পরবর্তী টার্মের কোনো অপপ্রয়াস কি না সেটা আসলে আমরা বুঝতে পারছি না।"

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, "জুলাইয়ের যে স্মৃতি সেগুলো যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রং করা যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা সংলগ্ন প্রাচীর গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে জুলাইয়ের গ্রাফিতি এবং লেখাগুলো প্রদর্শন করা যায়। "

শাখা বৈছাআ'র আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, "জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর প্রশাসন জুলাই স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রধান ফটকে রং করতে পারে।"

এ বিষয়ে শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে, সর্বশেষ ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খুনি হাসিনা সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে আমরা বাংলাদেশকে মুক্ত করেছি। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, জুলাই বিপ্লবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টা তারই অংশ। গতকাল দুপুর ১২ টায় এবং আজ বেলা ১১টার দিকে দুই দফায় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়। প্রশাসন একতরফা ভাবে জুলাই দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলে রং করার সিদ্ধান্ত নেয়। শহিদদের রক্তস্নাত এই জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন ও দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার পক্ষে আমরা কোনোভাবেই মত দিতে পারি না।"

তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, সার্টিফিকেট উত্তোলনে ভোগান্তি, ইকসুসহ অসংখ্য সমস্যা বিদ্যমান এ নিয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই‌‌। অথচ জুলাই স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার ব্যাপারে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এটা খুবই হতাশাজনক।"

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের যেভাবে কাজ করবে সেটার সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করেছি। প্রশাসন বলেছে জুলাইয়ের যে স্মৃতি রয়েছে সেগুলো অন্য একটা জায়গায় সংরক্ষণ করা হবে। আমরা দাবি জানিয়েছি, প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের যে স্লোগান লেখা আছে সেগুলো মুছে ফেলতে হবে।"

নিয়ামতুল্লাহ/নাঈম