ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ র‍্যাগিং ও ব্যাচকল ঠেকাতে এবার কঠোর জাককানইবি প্রশাসন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার সেমিফাইনালের আগে ফের আলোচনায় স্কালোনি-বেকহ্যামের পুরোনো দ্বন্দ্ব এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস ইংল্যান্ড দলে কোনো বিভক্তি নেই: কেইন ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও প্রজেক্ট ম্যানেজারের কাজের মধ্যে পার্থক্য আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিট ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের দ্বিগুণেরও বেশি ফরিদপুরে ৫ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘কাগজের মানুষ’ সাংবাদিকতার ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে: ডা. জাহেদ মৌলভীবাজারে বন্যায় আটকা ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, মেলেনি সহায়তা পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ জিতলে সোনার চেইন দুর্নীতির শিকারে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষে খুলনা: টিআইবি মেসিকে নয়, নিজেদের শান্ত রাখাই লক্ষ্য ইংল্যান্ডের: জর্ডান পিকফোর্ড আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি পানি কমতেই ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ ‘ফেভারিট শেফ’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি মাদিহা বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১১০৪ এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে
আদালতে তোলা হয়েছে আট আসামিকে। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় পড়া চলছে।

ঘটনার পাঁচ বছর ৯ মাস ১৮ দিন পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা এজলাসের ভেতরে ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা করছেন।

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। মামলার আসামিরা হলেন, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এবং আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

তৎকালীন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড। তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর মামলাটি ২০২৫ সালের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মামলায় ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

থিওটোনিয়াস/

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে
আদালতে তোলা হয়েছে আট আসামিকে। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় পড়া চলছে।

ঘটনার পাঁচ বছর ৯ মাস ১৮ দিন পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা এজলাসের ভেতরে ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা করছেন।

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। মামলার আসামিরা হলেন, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এবং আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

তৎকালীন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড। তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর মামলাটি ২০২৫ সালের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মামলায় ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

থিওটোনিয়াস/

গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সুউচ্চ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ প্রকাশ করে সম্প্রতি তিনি আলোচিত হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট হরিদাসকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১৩ জুলাই) রিমান্ডে নিয়েছে। 

এর আগে হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ‘মানি লন্ডারিং’-এর অভিযোগ এনে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় গত রবিবার দিনগত রাতে গাইবান্ধা থেকে সিআইডির একটি দল হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনে। পরে গতকাল হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবীর হোসেন।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরোনো শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ কালীমন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি রামমূতি নির্মাণের উদ্যোক্তা হিসেবে আলোচনায় আসেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি ও আন্দোলন হয়েছে। 

হরিদাসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা ও গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। 

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। তার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, হরিদাসের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক ধারায় মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

এতে আরও বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরণী দাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন। 

সিআইডির দাবি, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন হরিদাস। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে ‘সেভ’ করা ভুয়া ফোন কল প্রদর্শন করতেন। 

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা-প্রতিবাদ

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গতকাল এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেছে, বেশ কিছুদিন ধরে উগ্র সাম্প্রদায়িক মহল মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে এসেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে, দেশজুড়ে অহেতুক ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। সেখানে সাম্প্রদায়িক হুমকির শিকার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য এবং তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের নির্লজ্জতম পরিপন্থি। ঐক্য পরিষদ অনতিবিলম্বে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের আশু মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড
আলম মন্ডল। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে ৭ম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের মামলায় আলম মন্ডল (৫৫) নামে একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন।

আলম মন্ডল আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৩ বছর বয়সি ওই শিশু আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের স্থানীয় একটি মাদরাসায় ৭ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় মাদরাসা থেকে বাড়িতে এসে কাপড় পরিবর্তন করছিলেন ওই শিশু। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী আলম মন্ডল ওই শিশুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে খাটের উপর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামি পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি পরিবারের সবাইকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরের দিন মেয়েটি অসুস্থ হলে তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত সোমবার এই রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসী রিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদী খুশি। এমন রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যে কেউ অপরাধ করলে তার এমনই শাস্তি হবে।

সাগর কুমার/রিফাত/

২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা
হাইকোর্ট

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় কেউ পদত্যাগ করলে পেনশন বা অবসর-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের বিপরীতমুখী রায় বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা অবসরজনিত কোনো সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। ফলে এ বিধান আইনসঙ্গত এবং কার্যকর।

মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছর বিবেচনায় ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক পাওয়ার আবেদন করেন তিনি। তবে একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণ্য করা যায় না। পাশাপাশি ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের আওতায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ ও পরিশোধের নির্দেশ দেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী কর্মচারীরা পেনশন সুবিধা দাবি করতে পারবেন না- এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকায় দেশে ফেরামাত্রই গ্রেপ্তার করে তাকে জেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো তিনি নিজে নিজে আসার কোনো সুযোগ নেই। হয় প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।

আর শেখ হাসিনা (রয়টার্সে) যেটা বলছেন, তিনি এবং তার দলীয় নেতা-কর্মীরা একত্রে এসে আত্মসমর্পণ করবেন। এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তিনি তো এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি তো স্বাধীন নেই অথবা তিনি আত্মগোপনে নেই।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয় তার বক্তব্য বাংলাদেশে তার নেতা-কর্মীদের কোনোভাবে একটু উজ্জীবিত রাখা কিংবা একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।’

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ-পরবর্তী আপিল প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সেকশন ২১-এর ৩ পরিষ্কার করে বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকায় তিনি প্রথমত জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয়, তা হবে।