ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ জিতলে সোনার চেইন দুর্নীতির শিকারে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষে খুলনা: টিআইবি মেসিকে নয়, নিজেদের শান্ত রাখাই লক্ষ্য ইংল্যান্ডের: জর্ডান পিকফোর্ড আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ ‘ফেভারিট শেফ’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি মাদিহা বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১১০৪ এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম কক্সবাজারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান খাদ্য অধ্যায়ের ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া দলিলে ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ ফ্রান্সের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে মাথা ন্যাড়ার ভিডিও: বিয়ের চাপ নয়, তরুণী জানালেন আসল কারণ খুলনায় মাটি খুঁড়ে ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার সবজির কেজি ১২০০, উপকারিতা কী? বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা, শুরু ১ আগস্ট

মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল
মেঘনা নদীর চরে আটকা পড়া ফেরি মহানন্দা। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট-নলচিরা ঘাট চলাচলকারী ফেরি মহানন্দা মেঘনা নদীর চরে আটকা পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে এ ফেরিটি মেঘনা নদীর চরে আটকে যায় বলে নিশ্চিত করেন, ফেরিটির মাস্টার মো. করিম।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ফেরিটিতে আড়াই শতাধিক যাত্রীবাহী এবং ১৬টি পণ্যবাহী যানবাহন আছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরিটি সকাল সাড়ে ৬টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও একঘণ্টা দেরিতে ছাড়া হয়। ফলে জোয়ারের অভাবে ফেরি আটকে পড়েছে এবং তারা ভোগান্তিতে পড়েন।

হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের মাছের আড়তদার আকবর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, নদীতে নাব্যতা সংকট এবং দেরিতে ফেরি ছাড়ার কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।

তবে মাস্টার মো. করিমের দাবি, ঘাটে নাব্য সংকট সংকটসহ নানা কারণে ফেরি ছাড়তে মিনিট দশেক দেরি হয়েছে। ৭টা ৪০ মিনিটে ভাটার শেষ দিকে ফেরি ছাড়ায় এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

ফেরির উদ্ধার নিয়ে তিনি বলেন, আসলে এখন কিছুই করার নাই। সাড়ে ১০টার দিকে জোয়ার আসলে তখন ফেরি ছাড়া যাবে।

হানিফ উদ্দিন/থিওটোনিয়াস/

পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব শেষে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে আকাশ মেঘমুক্ত হয়েছে, কমতে শুরু করেছে মাতামুহুরী নদীর পানি। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই লোকালয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন। নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

টানা বর্ষণ আর ঢলের পানিতে লোকালয়ের হাজার হাজার নলকূপ ও শৌচাগার তলিয়ে গেছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এখন এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও স্যানিটেশন সংকট। অধিকাংশ ঘরে কয়েকদিন ধরে চুলা না জ্বালিয়ে শুকনা খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনও সরকারি সাহায্য না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন চরম সংকটে থাকা ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বন্যাকবলিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার দূষিত পানি চারদিকে থৈ থৈ করলেও পানযোগ্য এক ফোঁটাও পানি নেই। নলকূপগুলো পানির নিচে নিমজ্জিত থাকায় বিশুদ্ধ পানির উৎস সম্পূর্ণ অচল। জীবন বাঁচাতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বন্যার নোংরা ও দূষিত পানি ব্যবহার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাহাড়ি ঢলে গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় চকরিয়া উপজেলার কাকারা, বরইতলী, রসুলাবাদ, ডেইঙ্গাকাটা, বিবিরখীল ও হারবাং ইউনিয়নের বিশাল এলাকা এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় বন্যাকবলিত মানুষের পক্ষে বাজারে গিয়ে চাল, ডাল বা শিশুখাদ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, মানুষ ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছে। হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। বাজার থেকে কোনোকিছু কিনে খাওয়ার উপায়ও নেই। বেশিরভাগ পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত সরকারি ত্রাণ না এলে মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষুধা আরও চরম আকার ধারণ করবে। আশ্রয়হীন হাজারও পরিবার বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় রান্নার কোনো পরিবেশ নেই। দুর্গতদের দিন কাটছে কেবল শুকনো খাবার খেয়ে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ ঘরের ভেতরে এখনও পানি। রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। চুলা জ্বলছে না কয়েকদিন ধরে। নলকূপ আর শৌচাগার তলিয়ে থাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। এই মুহূর্তে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট (জলকপাট) ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা দায়ী। স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এলাকার কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করছে। ফলে বন্যার সময়ও তারা সময়মতো গেট খোলে না।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শাহীন দেলোয়ার দৈনিক খবরে কাগজকে জানান, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ মিলেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে। যে সমস্ত দুর্গম এলাকায় যাতায়াত কঠিন, সেখানে নৌকার মাধ্যমে ত্রাণ পাঠানোর কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারই সহায়তার বাইরে থাকবে না। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজু দাশ/থিওটোনিয়াস/

রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ
রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ/ খবরের কাগজ

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে শ্রমিকরা সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সভা করা সম্ভব নয় জানিয়ে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। শ্রমিকদের একাংশ ধর্মঘটের ডাক দিলে, রাত ৮টা থেকে সব আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকা কোচ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, 'শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী শ্রমিকরা সকাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।'

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, 'আসলে রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের কোনো কমিটি নেই। বর্তমানে সাধারণ শ্রমিকেরা এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রায় মাস দেড়েক আগে ডিসির হস্তক্ষেপে সাধারণ শ্রমিকরা গাড়ি চলাচল সচল করেছিল।'

আসাদুল্লাহ/তামান্না রুপা/

সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ
ছবি: খবরের কাগজ

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিয়ে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যুবাহিনী বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ সময় তাদের কাছে থাকা ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশিয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশিয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড কার্তুজ ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

আত্মসমর্পণকারীরা হলো, জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮) খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার বাসিন্দা।

এ ছাড়াও আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা এবং মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বাসিন্দা। ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিফাত মাহামুদ/থিওটোনিয়াস/

কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পানিতে ভেসে ওঠা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। 

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মরদেহটি দেখতে পান, পরে খবর পেয়ে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে।

মৃতের নাম সোলায়মান। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিন আগে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নদীর উজান থেকে ভেসে আসা লাকড়ি কুড়াতে গিয়েছিলেন সোলায়মান। কর্ণফুলীর তীরে দাঁড়িয়ে লাকড়ি সংগ্রহের সময় হঠাৎ স্রোতের টানে তিনি গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

আশপাশের মানুষ তার চিৎকার শুনে ছুটে এলেও স্রোতের প্রবল বেগের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি নদীটিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেও উদ্ধার করতে পারেনি।

প্রায় দুই দিন অনুসন্ধানের পর সোমবার সকালে ভান্ডালজুড়ি এলাকায় নদীর পানিতে মরদেহটি ভেসে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের টিম লিডার জাহেদুর রহমান জানান, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার পর তাদের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে কর্ণফুলী নদীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল/খাদিজা রুমি/

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম
কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা
তিস্তা-দুধকুমারে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা/ খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে ভাঙন তীব্র আকার দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি বেড়ে তিস্তা-দুধকুমারে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতলে বাড়ছে। উক্ত নদ-নদীর পানি সমতলে বেড়ে তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

চিলমারী উপজেলার শাখাহাটির চর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান (৫৫) বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১৫ বার বসতভিটা হারিয়েছি। এবার শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উজানের ঢলে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন মোকাবেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চার কিলোমিটারে কাজ চলছে। বাকি দুই কিলোমিটারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’ 

সিরাজ/তামান্না রুপা/