ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইয়ামালের আলোয় স্পেনের স্বপ্ন ‘স্পাইডার’ আলভারেজ: ফুটবলের জন্যই যার জন্ম বিশ্বকাপ কি এবার সত্যিই ‘বিশ্বের’ হবে? প্রথম সেমিতে ইতিহাসের বাঁশি ‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ ‘শুধু এমবাপ্পেকে নয়, পুরো ফ্রান্সকেই থামাতে হবে’ মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি ‘স্পেনকে ভয় নয়, সম্মান’ মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘লাকি’ জার্সি পরে খেলবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর রেফারির মৃত্যু ১৩ বছর পর আবারও ক্রোয়েশিয়ার কোচ স্লাভেন বিলিচ হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সরলথকে আত্মহত্যা করার বার্তা! বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ ৪ দলের মধ্যে কার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ' ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা অনলাইনে মাদক-বাণিজ্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ ‘মাদক বহনকারীরা জেলে, কিন্তু কারবারিরা সংসদে কেন?’ ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার নতুন ডিরেক্টর ড. মাইক মিলার কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

‘স্পাইডার’ আলভারেজ: ফুটবলের জন্যই যার জন্ম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
‘স্পাইডার’ আলভারেজ: ফুটবলের জন্যই যার জন্ম
হুলিয়ান আলভারেজ। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র দুই বছর বয়সেই হাতে নয়, পায়ে লেগেছিল ফুটবলের স্পর্শ। অন্য শিশুরা যখন খেলনা নিয়ে ব্যস্ত, তখন হুলিয়ান আলভারেজের সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী ছিল একটি জিনিস; ফুটবল। স্কুলে শিক্ষকরা বড় হয়ে কী হতে চাও জানতে চাইলে প্রতিবারই একই উত্তর দিতেন; ‘ফুটবলার।’ 

আর্জেন্টিনার কর্দোবার ছোট্ট শহর কালচিন। মাত্র সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। এই জনপদেই জন্ম হুলিয়ান আলভারেজের। এখানেই শুরু হয়েছিল তার ফুটবল-পাগল হয়ে ওঠার গল্প। শৈশবের বন্ধুরা যখন ইংরেজি শেখা, টেনিস কিংবা বাড়ির পথে হাঁটত, তখন আলভারেজ নিমগ্ন অনুশীলনে। কোচ রাফায়েল ভারাসের কাছে কয়েকটি বল চাইতেন। এরপর শুরু হতো নিজের অনুশীলন। কখনো দুই দিক থেকে আসা ক্রসে দুই পায়ে শট, কখনো ফ্রি-কিক, পেনাল্টি, হেড, ড্রিবলিং, স্প্রিন্ট কিংবা প্রথম স্পর্শের অনুশীলন। তখনো তাঁর বয়স ১০ বছরও হয়নি।

কোচ রাফায়েল ভারাস ফিফাকে বলেন, ‘একদিন ওর দাদির দিকে তাকিয়ে মজা করেই বলেছিলাম, এই ছেলেটা একদিন আমাদের সবার ভাগ্য বদলে দেবে। কিন্তু কথাটা বলেছিলাম ওর অসাধারণ সম্ভাবনা দেখেই।’ চার থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত আলভারেজকে কোচিং করিয়েছেন ভারাস। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই আলভারেজ অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি।

১১ বা ১২ বছর বয়সে এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে চার গোল করেছিলেন আলভারেজ। কিন্তু সবার মনে জায়গা করে নেয় তার পঞ্চম মুহূর্তটি। দুই ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে রাবোনা শটে বল জালে পাঠান তিনি। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও এসে করমর্দন করেছিলেন তার সঙ্গে।

ছোটবেলায় আলভারেজের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল স্থানীয় ফুতুরাস এসত্রেয়িতাস ফুটবল স্কুল। মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই দুই বড় ভাই আগুস্তিন ও রাফায়েলের সঙ্গে সেখানে যেতেন। বাবা-মা কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রায়ই তাদের নিয়ে যেতেন দাদি টিটা। বল পেলেই শুরু হয়ে যেত খেলা। মা মারিয়ানা ছিলেন একটি নার্সারি স্কুলের শিক্ষক। বাবা গুস্তাভো কৃষিকাজ করতেন, পরে পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত হন। সাধারণ, পরিশ্রমী একটি পরিবারেই বেড়ে উঠেছেন আলভারেজ। স্কুলে শিক্ষকরা ভবিষ্যৎ জানতে চাইলে তার উত্তর কখনো বদলায়নি; ‘আমি ফুটবলার হব।’

তাঁর প্রতিভার খবর পৌঁছে গিয়েছিল রিভার প্লেট, বোকা জুনিয়র্সসহ বড় ক্লাবগুলোর কাছেও। কিন্তু পরিবার তাড়াহুড়ো করেনি। তারা চেয়েছিল ছেলে স্বাভাবিক পরিবেশেই বড় হোক। ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত কালচিনেই ছিলেন আলভারেজ। এরপর নিজেই সিদ্ধান্ত নেন, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে রিভার প্লেটে যোগ দেবেন।

২০১৮ সালে কিংবদন্তি কোচ মার্সেলো গালিয়ার্দোর অধীনে রিভার প্লেটের মূল দলে অভিষেক। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ম্যানচেস্টার সিটি আলোকিত করে এখন খেলছেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়কও ছিলেন তিনি।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের স্মৃতি মনে করে আলভারেজ বলেন, ‘কালচিনের নাম শুনলেই আমার বন্ধু, পরিবার আর শৈশবের কথা মনে পড়ে। আমি ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলোর একটি কেটেছে সেখানে। সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার কাছে অমূল্য।’

আলভারেজের সাফল্যে বদলে গেছে তার শৈশবের ক্লাবও। রিভার প্লেট, ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদে তার দলবদল থেকে পাওয়া অর্থে ক্লাবটি এখন আধুনিক ঘাসের মাঠ, স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা ও নানা সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছে। 

ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে তার একটি ডাকনামও জন্ম নেয়; ‘স্পাইডার’। মাঠজুড়ে অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটে বেড়াতেন, যেন একসঙ্গে অনেক জায়গায় উপস্থিত থাকতে পারেন। সেই থেকেই ‘মাকড়সা’। আজও সেই নামেই তাকে চেনে ফুটবলবিশ্ব। বিশ্বকাপজয়ী তারকা হওয়ার পরও বদলে যাননি আলভারেজ। কালচিনের মেয়র ক্লদিও কাওনের ভাষায়, ‘সে যখন বাড়ি ফেরে, খুব নীরবে বন্ধু আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শহর তার বাড়ির সামনে ভিড় করত। আর হুলিয়ানকে আমি চিনি; সে সবার জন্যই দরজা খুলে দিত।’

আজও কালচিনের শিশুরা বড় হয়ে হুলিয়ান আলভারেজ হতে চায়। আর আলভারেজ? তিনি কখনো ভোলেন না, তার ফুটবল-স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল সেই ছোট্ট শহরের ধুলোমাখা মাঠেই।

‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে সেনেগালের ব্যর্থতার পেছনে সাবেক কোচ পাপে থিয়াওর বেতন বাড়ানোর দাবিকেই দায়ী করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)। ফেডারেশনের দাবি, একপর্যায়ে থিয়াও হুমকি দিয়েছিলেন, দাবি না মানলে তিনি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানী ডাকারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফেডারেশনের সভাপতি আবদুলায়ে ফল। এর একদিন আগেই কোচ পাপে থিয়াওকে বরখাস্ত করা হয়।

আবদুলায়ে ফল বলেন, ‘পাপে থিয়াও ও আমাদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল।’ তার দাবি, নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় থিয়াও অতিরিক্ত বেতন দাবি করায় এই সংকটের শুরু। বিশ্বকাপ চলাকালীন থিয়াওর সঙ্গে বিরোধের কারণে দলের ভেতর ‘বিষাক্ত’ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা তাদের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

২০২৪ সালে সেনেগালের দায়িত্ব নেন থিয়াও। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তিনি মাসিক বেতন ২ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ (প্রায় ৮৭ হাজার ডলার) করার দাবি জানান।

শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষ বিশ্বকাপ চলাকালে মাসিক ৩ কোটি সিএফএ ফ্রাঁ বেতনে সমঝোতায় পৌঁছায়। পাশাপাশি বোনাসসহ অন্যান্য বিষয়েও সমাধান হয়।

তবে ফলের দাবি, একপর্যায়ে থিয়াও হুমকি দিয়েছিলেন, দাবি না মানলে তিনি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না। পরে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি করান।

ফেডারেশন সভাপতির ভাষ্য, নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত নতুন চুক্তি সই হয়নি। থিয়াও চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ডাগআউটে বসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

আবদুলায়ে ফল আরও বলেন, ‘থিয়াও মনে করতেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারাই তার শত্রু। এই মানসিকতা জাতীয় দলের কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল।’

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হারলেও শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে উঠে সেনেগাল। তবে শেষ ৩২-এ বেলজিয়ামের কাছে হেরে শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

এসজি/

ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ এএম
ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের কষ্ট ভুলে মার্টিন ওডেগার্ড-আর্লিং হালান্ডদের বীরোচিত সংবর্ধনা দিয়েছে নরওয়ের মানুষ। 

সোমবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাজধানী অসলোতে এক লাখেরও বেশি সমর্থক তাদের বরণ করে নেন। 

ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। তবে ঐতিহাসিক এই অভিযানের পরাজয় উদ্‌যাপনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠা দলটিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন লাখো মানুষ।

দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে বলেন, ‘আমরা যে সমর্থন পাচ্ছি এবং পুরো দেশ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। এটি সত্যিই অসাধারণ।’

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে নরওয়ে দলকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর রাজধানীতে শুরু হয় তাদের হোমকামিং প্যারেড। সমর্থকদের ভিড়ে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় রয়্যাল প্যালেস স্কয়ার। পরে সেই ভিড় ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর প্রধান সড়ক কার্ল জোহানস গেট পর্যন্ত। 

এর আগে খেলোয়াড়রা রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তারা রাজপ্রাসাদের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তবে উদ্‌যাপনের শেষ পর্বে ছিলেন না দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। আগেই চলে যাওয়ায় সতীর্থদের সঙ্গে প্রাসাদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদ্‌যাপনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকরাও এই উদ্‌যাপনে মাতে। 

নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাক্কেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার যাত্রা চার ঘণ্টা দেরি হওয়ায় হালান্ড ও সান্ডার বের্গেকে আগেই বিমানে উঠতে হয়েছে।

এরপরও উদ্‌যাপন থেমে থাকেনি। খোলা বাসে করে অসলো শহর ঘুরে সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপের স্মরণীয় যাত্রা উদ্‌যাপন করে নরওয়ে দল।

এসজি/

মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম
মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি
লিওনেল মেসি ও নিকো ও’রেইলি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় আছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার নিকো ও’রেইলি। ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ ফুটবলারের মতে, ক্যারিয়ারে এমন সুযোগ বারবার আসে না।

বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের ফাইনালে উঠার লড়াই। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় থমাস টুখেলের দল। অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে।

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন মেসি। তাই দলের পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়েও এখনো এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বিপক্ষে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা হয়নি ও’রেইলির।

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ও’রেইলি বলেন, ‘আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য অপেক্ষা করছি। এটি জীবনে একবারই আসা সুযোগ। সে (মেসি) ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছে। আমার কাছে ফুটবল মাঠে পা রাখা সেরা খেলোয়াড় তিনিই। তাই এই লড়াইয়ের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

ধারণা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের হয়ে বাঁ প্রান্তের রক্ষণে খেললে মেসিকে সামলানোর দায়িত্ব পড়তে পারে ও’রেইলির ওপর।

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি।

এসজি/

মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড!

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ এএম
মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড!
লিওনেল মেসি ও জো কোল। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আটলান্টার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ফুটবলবিশ্বে বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তেজনার পারদ। সাবেক তারকাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। থ্রি লায়ন্সদের সাবেক তারকা জো কোল তো লিওনেল মেসিকে নিয়ে রীতিমতো এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেছেন।

নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে সাবেক জাতীয় দলের তারকা গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শেয়ারার এবং মাইক রিচার্ডসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন জো কোল। থ্রি লায়ন্সের বিপক্ষে মেসির ম্যাচটি কেমন হতে পারে– এমন আলোচনার একপর্যায়ে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা কোল বেশ আক্রমণাত্মক সুরেই বলে ওঠেন, ‘ঠিক আছে, আমাদের তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছি। হ্যাঁ, ১০০ ভাগ।’

কোল যাতে নিজের কথায় পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয় এবং রোজারিওর এই খুদে জাদুকর যেন মাঠে আরেকটি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার না দেন, সে জন্য উপস্থিত বাকিরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, ‘এখনই এমন কথা বলো না। আমরা না হয় আট মাস পর এটা বলব।’ কিন্তু চেলসি ও লিভারপুলের সাবেক এই মিডফিল্ডার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসে বলেন, ‘আমি এখনই বলছি: আমরা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠছি।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে মাইক রিচার্ডস অবশ্য মনে করিয়ে দেন যে, আর্জেন্টিনাকে হারাতে ইংল্যান্ডকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। কারণ আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা ‘চতুর এবং জন্মগতভাবে বিজয়ী’। তবে একই সঙ্গে টমাস টুখেলের দলের শক্তির দিকটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টিনাকে টেক্কা দেওয়ার মতো গতি আমাদের দলে রয়েছে এবং আমরাই জিততে যাচ্ছি। আমার মন সেটাই বলছে।’

লিওনেল মেসিকে নিয়ে কোলের এমন কঠোর মন্তব্য অবশ্য কিছুটা চমকপ্রদ। কারণ এর আগে তিনি বহুবার প্রকাশ্যেই মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের আগেই কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাতে ঘুমানোর সময় হয়তো আফসোস করে ভাবেন, ‘ইস, আমি যদি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম!’ মেসি একদম নির্ভার। একমাত্র সেই ফুটবল ইতিহাসে সবকিছু অর্জন করতে পেরেছে। হ্যাঁ, একমাত্র সে-ই রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।’

ইতিহাস এবং আবেগের এই ম্যাচের আগে মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন আরেক সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল। তবে নেভিলের সমালোচনার তীর মেসির দিকে নয়, বরং ধেয়ে গেছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দিকে।

স্কাই বেটের বর্তমান এই ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘ওদের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজ রয়েছে, যাদের খেলা দেখে মনে হয় প্রতি ম্যাচেই তারা অন্তত একটি করে গোল উপহার দেবে। আবার পরক্ষণেই দেখবেন তারা গোল করছে, হেড করে বল ক্লিয়ার করছে এবং মাঠের সর্বত্র হাজির থাকছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ালে তাদের কী যে হয়! সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

আর্জেন্টাইন এই সেন্ট্রাল ব্যাক জুটিকে প্রশংসায় ভাসানোর পাশাপাশি খোঁচা দিতেও ছাড়েননি নেভিল। তিনি বলেন, “আমি ওদের বিশ্বের ‘সেরা-সবচেয়ে খারাপ’ সেন্টার ব্যাক জুটি বলি। কারণ কিছু মুহূর্তে ওরা যেমন অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই আবার একদম যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করে বসে।”

ইয়ামালের আলোয় স্পেনের স্বপ্ন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ এএম
ইয়ামালের আলোয় স্পেনের স্বপ্ন
লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আর মাত্র দুটি জয় দূরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট। সেই স্বপ্নের শেষ বাঁকেই আজ (১৪ জুলাই) রাতে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামালের দুরন্ত তারুণ্য। দুই প্রজন্মের দুই বিস্ময়ের লড়াইয়ে ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আরেকটি স্মরণীয় রাতের।

স্পেনের বর্তমান দলটি মূলত তারুণ্যনির্ভর। সেই তরুণ সেনাদলের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ১৩ জুলাই ১৮ থেকে ১৯ বছরে পা রাখা লামিনে ইয়ামাল। বয়সে কাঁচা হলেও মাঠে তার পরিণত সিদ্ধান্ত, ড্রিবলিং, গতি আর সৃজনশীলতা ইতোমধ্যেই তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন বানিয়েছে। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার জার্সিতে যেভাবে প্রতিপক্ষকে নাচিয়েছেন, সেই ঝলকই স্পেন আশা করছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। 

তবে সত্যিটা হলো, ক্লাব ফুটবলের সেই বিস্ফোরক ইয়ামালকে বিশ্বকাপের শুরুতে পুরোপুরি দেখা যায়নি। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের প্রথম দিকে তিনি নিজের সামর্থ্যের তুলনায় কিছুটা নিভে ছিলেন। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের সংখ্যাও প্রত্যাশার তুলনায় কম। তাই সমালোচনার তিরও ছুটেছিল তার দিকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ক্লাবের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরেও কি সমান প্রভাব রাখতে পারবেন এই বিস্ময়বালক?

এবারের বিশ্বকাপে ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মাত্র ১টি গোল করেছেন এবং কোনো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তিনি একমাত্র গোলটি করেন। গোল বা অ্যাসিস্টের সাধারণ পরিসংখ্যানের দিক থেকে তার বিশ্বকাপ যাত্রা কিছুটা নিভৃত মনে হতে পারে, তবে মাঠের খেলায় তার প্রভাব অনন্য। চলতি বিশ্বকাপে গোল-অ্যাসিস্টের সংখ্যার চেয়ে ইয়ামালের খেলার ধরন ফুটবল বিশ্লেষকদের বেশি নজর কেড়েছে। ৬ ম্যাচে মোট ২১টি সফল ড্রিবলিং সম্পন্ন করে তিনি এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ড্রিবলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড়ে ১২টি ড্রিবলিং করার রেকর্ড ১৯৯৮ সালের কিংবদন্তি জে-জে ওকোচার পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। ইয়ামালের নামের পাশে অ্যাসিস্ট না থাকার মূল কারণ প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশল। মাঠের ডানপ্রান্তে ইয়ামাল বল পেলেই প্রতিপক্ষের ২-৩ জন ডিফেন্ডার তাকে ঘিরে ধরেন। ফলে স্পেনের জন্য মাঠের অন্যপ্রান্তে ফাঁকা জায়গা বা স্পেস তৈরি হচ্ছে, যা মিকেল মেরিনো, নিকো উইলিয়ামস বা মিকেল ওয়ারসাবালদের গোল করতে সাহায্য করছে।

স্পেনকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলতে ইয়ামাল যেভাবে উইং ধরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অপরাজেয় স্প্যানিশ দলের মূল চালিকাশক্তি তিনিই। এই তরুণ মহাতারকাই এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন লা রোজাদের।

স্পেনের জন্য সবচেয়ে সুখের খবর হচ্ছে, ইয়ামাল ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে গোল না পেলেও ম্যাচজুড়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ইয়ামাল। তার দারুণ ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার অসাধারণ দক্ষতা, সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণে ধারাবাহিক উপস্থিতি স্পেনের খেলায় এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা। গোলশূন্য থেকেও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন ফরোয়ার্ডের অবদান শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ নয়। 

এই পারফরম্যান্সই এখন স্পেন শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে এমন এক ফ্রান্স, যাদের আক্রমণভাগে এমবাপ্পে, মাঝমাঠে গতি ও শক্তির মিশেল, আর রক্ষণে অভিজ্ঞতার প্রাচীর। এমন প্রতিপক্ষকে হারাতে হলে শুধু দলগত ফুটবল নয়। প্রয়োজন হবে এমন একজনের, যিনি এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। সেই দায়িত্বটাই স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়েছে ইয়ামালের কাঁধে।

ফুটবলের ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এমন এক মঞ্চ, যেখানে কিংবদন্তিদের জন্ম হয়। পেলের উত্থান, ম্যারাডোনার জাদু, রোনালদোর প্রত্যাবর্তন কিংবা এমবাপ্পের বিস্ফোরণ– সবই এসেছে এমন বড় মঞ্চে। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লেখানোর সুযোগ লামিনে ইয়ামালের সামনে। স্পেন ২০১০ সালে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বসেরার স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার সুযোগ এসেছে তাদের সামনে। অনেকের বিশ্বাস, ইয়ামাল যদি ঠিক সময়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারেন, তাহলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হয়ে যাবে।

ডালাসে সেমিফাইনালের এই লড়াই তাই শুধু স্পেন ও ফ্রান্সের নয়। এটি এমবাপ্পে-ইয়ামালের অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের, প্রতিষ্ঠিত নায়ক ও আগামীর মহাতারকার দ্বৈরথ। আর স্পেনের কোটি সমর্থকের প্রার্থনা একটাই– বিশ্বকাপের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো যেন ঠিক এই রাতেই ছড়িয়ে দেন ইয়ামাল। কারণ কখনো কখনো একটি মুহূর্তই বদলে দেয় একটি দেশের ইতিহাস। আর সেই মুহূর্তের অপেক্ষাতেই লা রোজারা।

এমবাপ্পে-ইয়ামালের মুখোমুখি পরিসংখ্যান
যেহেতু লামিনে ইয়ামালের এটিই প্রথম বিশ্বকাপ, ফলে এবারের আগে বিশ্বমঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তার কোনো দ্বৈরথ নেই। তবে ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে উয়েফা নেশনস লিগ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ক্লাব পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার জার্সিতে (এল ক্লাসিকো ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) মোট ১০ বার তারা একে অপরের বিপক্ষে খেলেছেন। জয়ের পাল্লা ইয়ামালেরই ভারী বেশি। জয়ী হয়েছেন ৮ বার। এমবাপ্পে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন মাত্র ২ বার।  গোল করার ক্ষেত্রে আবার এমবাপ্পে এগিয়ে। তিনি ৯ গোল করে অ্যাসিস্ট করেছেন ২টি।  ইয়ামালের  গোল ৬টি, অ্যাসিস্ট ৩টি। 

জাতীয় দলের হয়ে দুজনের উল্লেখযোগ্য দ্বৈরথ ২০২৪ সালের ইউরো সেমিফাইনাল। যেখানে স্পেন ২-১ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। এ ছাড়া উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। যেখানে জোড়া গোল করেছিলেন ইয়ামাল। ক্লাব ফুটবলে এখন পর্যন্ত ইয়ামাল ও এমবাপ্পে যতগুলো এল ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হয়েছেন, তার মধ্যে ইয়ামালের বার্সেলোনা প্রতিবারই জয় পেয়েছে। ক্লাব কিংবা জাতীয় দল সব পরিসংখ্যানেই এমবাপ্পের বিপক্ষে এগিয়ে থেকে মাঠে নামবেন ইয়ামাল।