ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ ‘ফেভারিট শেফ’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি মাদিহা বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১১০৪ এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম কক্সবাজারে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান খাদ্য অধ্যায়ের ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া দলিলে ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ ফ্রান্সের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে মাথা ন্যাড়ার ভিডিও: বিয়ের চাপ নয়, তরুণী জানালেন আসল কারণ খুলনায় মাটি খুঁড়ে ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার সবজির কেজি ১২০০, উপকারিতা কী? বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা, শুরু ১ আগস্ট সরকার স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ৪৩৬ পরিবার স্বর্ণের দাম আরও কমল, ভরি কত? সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

ফরাসি সৌরভ, না স্প্যানিশ সৌন্দর্য

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
ফরাসি সৌরভ, না স্প্যানিশ সৌন্দর্য
ছবি: সংগৃহীত

কেহ কারে নাহি  ছাড়ে সমানে  সমান-

ফ্রান্স-স্পেনের শুধু ফুটবলের সবুজ জমিনেই সমানে সমান নয়; ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতির দিক দিয়েও দুই দেশ অনেকটা সমানে সমান। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স একে, স্পেন  তিনে। আবার ভাষার দিক দিয়ে ফরাসি ভাষার ওপরে স্প্যানিশ ভাষা। বিশ্বের জনপ্রিয় ভাষাগুলোর মাঝে স্প্যানিশ ভাষা চারে, ফরাসি ভাষা পাঁচে। বিশ্বের  অনেক জনপ্রিয় ফুটবলারও এই দুই ভাষায় কথা বলে থাকেন। ফ্রান্সের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত। ইতালির নাগরিক লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির সৃষ্টি ‘মোনালিসা’ শিল্প কর্ম ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘরে সংরক্ষিত।

এটি এখন ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। ‘কান’ চলচিত্র উৎসবের জন্য জগৎ জুড়ে ফ্রান্সের আলাদা একটি সুখ্যাতি আছে। রাজধানী প্যারিসে ৩৩০ মিটার উচ্চতার ‘আইফেল টাইওয়ার’ বিশ্ববাসীর কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। স্পেনের আছে ‘পাবলো পিকাসো’ নামে বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিও বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। রোমানদের স্পেন শাসনের সময় রেখে যাওয়া স্থাপত্য আজও বিদ্যমান। সবার উপরে থাকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরই স্পেনের লা-লিগা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা জনপ্রিয় ফুটবল লীগ।

বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদে খেলে থাকেন জগৎ সেরা সব ফুটবলার। এই দুই ক্লাবের সমর্থকরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। ফ্রান্সের লিগ-ওয়ান আছে পাঁচে। এমন দুটি দেশ আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের মঞ্চে উঠার মহারণে নামবে। দুই দেশ সেমিতে মুখোমুখি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে ভেসে বেড়াচ্ছে ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল।’ ডালাসে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মঞ্চস্থ হবে এমন উত্তাপ ছড়ানো হাইভোল্টেজ ম্যাচ। 

ফ্রান্স-স্পেন দুই দলই তারকায় ঠাসা। ফ্রান্সের এমবাপ্পে, স্পেনের ইয়ামাল। ফ্রান্সের আছে দেম্বেলে, স্পেনের আছে ওয়ারজাবাল। এমনি করে দুই দলের লম্বা স্কোয়াড তারকায় ঠাসা। যারা বিশ্বের শীর্ষ লিগের সেরা সব ক্লাবে খেলে থাকেন। ৯০ মিনিটের ম্যাচে তাই চোখের পলক ফেলা দায়। প্রতিটি মুহূর্তই উত্তেজনায় ভরপুর। চোখের পলক সরানো মানেই অনেক কিছু মিস। আবার এমন ম্যাচ দেখার জন্য শক্ত মনোবল লাগে। দুর্বল চিত্তের দর্শকদের জন্য উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচের তাপ নেওয়া কঠিনই হবে। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক কী আজ ফরাসি সৌরভে বিমোহিত হবেন, নাকি স্প্যানিশ সৌন্দর্য অবলোকন করবেন? ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ তাই ফুটবল জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব। সেই জ্বরের তাপমাত্রা কত পর্যন্ত উঠে কে জানে?

৪৮ দলের বিশ্বকাপে এবারই প্রথম ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিতে উঠে এসেছে। অপর সেমির দুই দল আর্জেন্টিনা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে, ইংল্যান্ড তিনে। এই দুই দল আগামীকাল মুখোমুখি হবে আটলান্টায়। সেমিতে উঠে আসা দলগুলোর মাঝে যেমন শক্তির ব্যবধান খুব একটা থাকে না। ফিফা র‌্যাঙ্কিংও যেন সেটিই জানান দিচ্ছে। এই পর্যন্ত উঠে আসতে ফ্রান্সের চেয়ে স্পেনকে দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। ‘আই’ গ্রুপ থেকে ফ্রান্স রাজকীয়ভাবে গ্রুপ সেরা হয়ে উঠে আসে নকআউট পর্বে।

গ্রুপের তিন দল সেনেগাল (৩-১),  ইরাক (৩-০) ও নরওয়ে (৪-১) পাত্তাই পায়নি। সেখানে স্পেন নিজেদের ‘এইচ’ গ্রুপে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্যভাবে খেলা শেষ করে হতাশায় যাত্রা শুরু করে। তবে শুরুর এই ধাক্কা তাদের হৃদয়ে বেশ ভালোই ধাক্কা দিয়েছিল। যার প্রভাব দেখা যায় গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাাম্পিয়ন উরুগুয়েকে  ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা  হয়েই শেষ বত্রিশে নাম লেখায়।

নকআউট পর্বে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স অপ্রতিরোধ্য গতিই  ধরে রাখে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন ফিরে পায় ছন্দ।  গতির সঙ্গে ছন্দের লড়াইয়ের আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় নকআউট পর্বে ফ্রান্সের তুলনায় স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। যেমন শেষ বত্রিশে ফ্রান্স ৩-০ গোলে হারিয়েছিল র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৮ নম্বরে থাকা সুইডেনকে। এখানে স্পেন একই ব্যবধানে হারিয়েছিল অস্ট্রিয়াকে। তাদের র‌্যাঙ্কিং ২৪। প্রি কোয়ার্টারে ফ্রান্স র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়েকে (১-০) হারাতে ঘাম ঝরিয়েছিল।

স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল শিরোপাপ্রত্যাশী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বরে থাকা দলটিকে স্পেনও হারিয়েছিল ১-০ গোলে। পরের রাউন্ডে স্পেন পেয়েছিল ৯ নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা বেলজিয়ামকে। জয়ী হয়েছিল ২-১ গোলে। এই রাউন্ডে ফ্রান্স পেয়েছিল  শক্তিশালী প্রতিপক্ষ র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা মরক্কোকে। ২-০ গোলে হারিয়ে উঠে আসে সেমিতে। শুরু থেকে সৌরভ  ছিটানো লেস ব্লুজদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার হাতছানি। আগের দুইবারের মাঝে তারা একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

অধিনায়ক এমবাপ্পের এ নিয়ে নেই আত্মতুষ্টি। ৮ গোল করে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতার লক্ষ্যে থাকা এমবাপ্পে বলেন,  ‘আমরা ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। ২০২২ সালে রানার্সআপ ছিলাম। কিন্তু এই দল এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেনি। এর মাঝেও অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। দলে এত ভালো মানের প্লেয়ার আছে যে, তারা আপনাকে স্বপ্ন দেখাতে উৎসাহিত করে তুলবে। আমরা  সেমিতে উঠেছি। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’ ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জেতা  লা রোজারদের এবার দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠার সুযোগ। কোচ লুইস দা লে ফুয়েন্তের কণ্ঠে ছিল সে রকমই  আভাস,’ আমরা ফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া দলগুলোর মাঝে অন্যতম। আমরাই একমাত্র দল, যারা সেমিফাইনালে দুইবার ফ্রান্সকে হারিয়েছিলাম।’ 

ফুয়েন্তে যে দুটি সেমি ফাইনালের কথা উল্লেখ করেছেন, তার একটি ছিল গত বছর উয়েফা ন্যাশনস লিগ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় স্পেন জিতেছিল ৫-৪ গোলে। অপরটি ছিল তার আগের বছর ২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। স্পেন জয়ী হয়েছিল ২-১ গোলে। দুই দলের মুখোমুখি দেখায়  স্পেনের জয়ের পাল্লা ভারী। ৩৮ বারের দেখায় জয়ী হয়েছে ১৮ বার। ফ্রান্সের জয় ১৩ বার। বাকি ৭ বার ড্র হয়েছে। স্পেন দলে কোনো কার্ড বা ইনজুরি সমস্যা নেই। সেরা একাদশ নিয়েই তারা নামবে। এখানে আবার ফ্রান্স নির্ভার না। কার্ডজনিত সমস্যা না থাকলেও ইনুজরির শঙ্কা রয়ে গেছে রক্ষণের সাবিলা ও উপামেকানো এবং মধ্যমাঠে কোনে ও চুয়ামেনির। তবে তারা খেলবেনই না এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। 

ফ্রান্সের শক্তি গতি। স্পেনের শক্তি ছন্দ। গতি আর ছন্দে মিলে ডালাসে ফুটবলের কী সুর লহরি তৈরি হয়, সেই অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।    

 

 

ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সতর্ক স্প্যানিশ শিবির। নিজেদের ভুল শুধরে স্বাভাবিক খেলাই খেলার ওপর জোর দিয়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ম্যাচের কথা বলছি। এটি আরেকটি সেমিফাইনাল। আগের ম্যাচের ভালো দিকগুলো ধরে রাখতে চাই এবং যেসব ভুল করেছিলাম, সেগুলো এড়াতে চাই। আমরা ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যবধান ৫-৪ হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। আমাদের নিজেদের খেলাই খেলতে হবে। দুই দলের খেলার ধরন ভিন্ন, তাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে।’

ফরাসি দলকে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী বলেও মন্তব্য করেন স্প্যানিশ কোচ। তার ভাষ্যে, ‘আমি মনে করি ফ্রান্স এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব ও শক্তিশালী দল। গত দুই বছরে তাদের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলগত উন্নতি হয়েছে, যা তাদের আরও ভয়ংকর প্রতিপক্ষ করে তুলেছে।’

দে লা ফুয়েন্তে জানান, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে স্পেনের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের চাপমুক্ত থেকে ম্যাচ উপভোগ করার পরামর্শ দেন।

সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
সেমিফাইনালের আগে স্পেনই ফেবারিট: দেশম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের কঠিন লড়িইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স। তবে এই ম্যাচের আগে ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনো স্পেনকেই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে দেখছেন।

এবারের বিশ্বকাপে একের পর এক চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আলো ছড়িয়েছে ফরাসিরা। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে শক্তির বিচারে বেশ পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে শুরুতেই হোঁচট খায় স্পেন। তবে সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নিয়েছে তারা।

স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে দেশম বলেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচের কথা ভুলে যান। এরপর থেকে স্পেন প্রতিটি ম্যাচেই প্রমাণ করেছে যে তারাই টুর্নামেন্টের ফেভারিট।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি লুইস এবং তার দলের ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে দর্শকরা স্পেনের কাছ থেকে অনেক বড় কিছু প্রত্যাশা করছে।’

স্পেনের শক্তিমত্তার প্রশংসা করে ফরাসি কোচ বলেন, ‘স্পেন যেমন আক্রমণভাগে দারুণ, তেমনি রক্ষণেও অত্যন্ত মজবুত। শেষ ছয় বা সাত ম্যাচে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে।’

দেশম মনে করছেন এই ম্যাচটি একটি চিরস্মরণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দুই দলের আক্রমণভাগের যে মান, তাতে আশা করাই যায় যে দর্শকরা একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নান্দনিক ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করতে যাচ্ছেন।’

পাপ্পু/অন্তরা/

ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল
তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ১৯ বছরে পা দিলেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। জন্মদিন, পরিবার এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ম্যাচকে ঘিরে আলোচনার মধ্যেও তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলেন ফুটবলের সামাজিক ভূমিকার ওপর।

স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয়ের বিতর্কিত মন্তব্য-ফ্রান্স দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’-সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়ামাল বলেন, ফুটবলের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে একত্রিত করা। মরোক্কান বাবা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মায়ের সন্তান এই তরুণ ফুটবলার জানান, ফ্রান্স ও স্পেন উভয় দেশই বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সফল উদাহরণ এবং ফুটবল সেই ঐক্যের প্রতীক।

ইয়ামাল বলেন, ‘আগামীকাল আমরা একটি দারুণ ম্যাচ খেলব। তবে ফুটবলের যদি কোনো উদ্দেশ্য থেকে থাকে, তা হলো মানুষকে একত্রিত করা। অন্য কেউ কী বলল, তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনো মানে নেই।’

নিজের তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কেইনেকে নিয়েও কথা বলেন ইয়ামাল। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে শিশুসুলভ দুষ্টুমির কারণে কেইনে দর্শকদের মন জয় করেছে। এ প্রসঙ্গে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার ভাই তো এসব বোঝে না। ও বাড়িতে যেমন থাকে, ক্যামেরার সামনেও তেমনই থাকে। মানুষ ওকে পছন্দ করলে আমার ভালো লাগে।’

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বলে উল্লেখ করেন ইয়ামাল। তার ভাষ্যে, ‘এটি এমন একটি ম্যাচ, যার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক-দুই ধরনের ফুটবলই খেলতে সক্ষম। তাই এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ হবে।’

পাপ্পু/ অন্তরা/

সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ এএম
সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর মধ্যেও দর্শক-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংগঠন। তারা বলেছে, এই ম্যাচকে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ইস্যু বা অতীতের যুদ্ধের প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, সেমিফাইনাল কোনো ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ’ নয়। তারা সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘৃণা বা বর্ণবাদ ছড়িয়ে নয়, বরং যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইন সেনাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলাটি উপভোগ করতে।

‘২ এপ্রিল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ফেডারেশন’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, মালভিনাস (ফকল্যান্ডস) ইস্যুতে আর্জেন্টিনার দাবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফোরাম, ঐতিহাসিক সত্য এবং দেশের সংবিধানে বর্ণিত শান্তিপূর্ণ নীতির ভিত্তিতেই অব্যাহত থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘খেলার মাঠের আবেগ আর জাতীয় ইস্যুর মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি। মাঠে ফুটবল চলবে, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি আমাদের গর্ব আরও বাড়বে, কিন্তু যুদ্ধের স্মৃতি সবসময় অম্লান থাকবে।’

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। ওই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছে।

চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একটি জনপ্রিয় গান গাইতে দেখা গেছে, যেখানে মালভিনাস, কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কথা উঠে এসেছে।

পাপ্পু/অন্তরা/

ফরাসি সৌরভ, না স্প্যানিশ সৌন্দর্য

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
ফরাসি সৌরভ, না স্প্যানিশ সৌন্দর্য
ছবি: সংগৃহীত

কেহ কারে নাহি  ছাড়ে সমানে  সমান-

ফ্রান্স-স্পেনের শুধু ফুটবলের সবুজ জমিনেই সমানে সমান নয়; ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতির দিক দিয়েও দুই দেশ অনেকটা সমানে সমান। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স একে, স্পেন  তিনে। আবার ভাষার দিক দিয়ে ফরাসি ভাষার ওপরে স্প্যানিশ ভাষা। বিশ্বের জনপ্রিয় ভাষাগুলোর মাঝে স্প্যানিশ ভাষা চারে, ফরাসি ভাষা পাঁচে। বিশ্বের  অনেক জনপ্রিয় ফুটবলারও এই দুই ভাষায় কথা বলে থাকেন। ফ্রান্সের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত। ইতালির নাগরিক লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির সৃষ্টি ‘মোনালিসা’ শিল্প কর্ম ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘরে সংরক্ষিত।

এটি এখন ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। ‘কান’ চলচিত্র উৎসবের জন্য জগৎ জুড়ে ফ্রান্সের আলাদা একটি সুখ্যাতি আছে। রাজধানী প্যারিসে ৩৩০ মিটার উচ্চতার ‘আইফেল টাইওয়ার’ বিশ্ববাসীর কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। স্পেনের আছে ‘পাবলো পিকাসো’ নামে বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিও বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। রোমানদের স্পেন শাসনের সময় রেখে যাওয়া স্থাপত্য আজও বিদ্যমান। সবার উপরে থাকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরই স্পেনের লা-লিগা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা জনপ্রিয় ফুটবল লীগ।

বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদে খেলে থাকেন জগৎ সেরা সব ফুটবলার। এই দুই ক্লাবের সমর্থকরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। ফ্রান্সের লিগ-ওয়ান আছে পাঁচে। এমন দুটি দেশ আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের মঞ্চে উঠার মহারণে নামবে। দুই দেশ সেমিতে মুখোমুখি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে ভেসে বেড়াচ্ছে ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল।’ ডালাসে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মঞ্চস্থ হবে এমন উত্তাপ ছড়ানো হাইভোল্টেজ ম্যাচ। 

ফ্রান্স-স্পেন দুই দলই তারকায় ঠাসা। ফ্রান্সের এমবাপ্পে, স্পেনের ইয়ামাল। ফ্রান্সের আছে দেম্বেলে, স্পেনের আছে ওয়ারজাবাল। এমনি করে দুই দলের লম্বা স্কোয়াড তারকায় ঠাসা। যারা বিশ্বের শীর্ষ লিগের সেরা সব ক্লাবে খেলে থাকেন। ৯০ মিনিটের ম্যাচে তাই চোখের পলক ফেলা দায়। প্রতিটি মুহূর্তই উত্তেজনায় ভরপুর। চোখের পলক সরানো মানেই অনেক কিছু মিস। আবার এমন ম্যাচ দেখার জন্য শক্ত মনোবল লাগে। দুর্বল চিত্তের দর্শকদের জন্য উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচের তাপ নেওয়া কঠিনই হবে। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক কী আজ ফরাসি সৌরভে বিমোহিত হবেন, নাকি স্প্যানিশ সৌন্দর্য অবলোকন করবেন? ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ তাই ফুটবল জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব। সেই জ্বরের তাপমাত্রা কত পর্যন্ত উঠে কে জানে?

৪৮ দলের বিশ্বকাপে এবারই প্রথম ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল সেমিতে উঠে এসেছে। অপর সেমির দুই দল আর্জেন্টিনা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে, ইংল্যান্ড তিনে। এই দুই দল আগামীকাল মুখোমুখি হবে আটলান্টায়। সেমিতে উঠে আসা দলগুলোর মাঝে যেমন শক্তির ব্যবধান খুব একটা থাকে না। ফিফা র‌্যাঙ্কিংও যেন সেটিই জানান দিচ্ছে। এই পর্যন্ত উঠে আসতে ফ্রান্সের চেয়ে স্পেনকে দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। ‘আই’ গ্রুপ থেকে ফ্রান্স রাজকীয়ভাবে গ্রুপ সেরা হয়ে উঠে আসে নকআউট পর্বে।

গ্রুপের তিন দল সেনেগাল (৩-১),  ইরাক (৩-০) ও নরওয়ে (৪-১) পাত্তাই পায়নি। সেখানে স্পেন নিজেদের ‘এইচ’ গ্রুপে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্যভাবে খেলা শেষ করে হতাশায় যাত্রা শুরু করে। তবে শুরুর এই ধাক্কা তাদের হৃদয়ে বেশ ভালোই ধাক্কা দিয়েছিল। যার প্রভাব দেখা যায় গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলোতে। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাাম্পিয়ন উরুগুয়েকে  ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা  হয়েই শেষ বত্রিশে নাম লেখায়।

নকআউট পর্বে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স অপ্রতিরোধ্য গতিই  ধরে রাখে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন ফিরে পায় ছন্দ।  গতির সঙ্গে ছন্দের লড়াইয়ের আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় নকআউট পর্বে ফ্রান্সের তুলনায় স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। যেমন শেষ বত্রিশে ফ্রান্স ৩-০ গোলে হারিয়েছিল র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৮ নম্বরে থাকা সুইডেনকে। এখানে স্পেন একই ব্যবধানে হারিয়েছিল অস্ট্রিয়াকে। তাদের র‌্যাঙ্কিং ২৪। প্রি কোয়ার্টারে ফ্রান্স র‌্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা প্যারাগুয়েকে (১-০) হারাতে ঘাম ঝরিয়েছিল।

স্পেনের প্রতিপক্ষ ছিল শিরোপাপ্রত্যাশী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বরে থাকা দলটিকে স্পেনও হারিয়েছিল ১-০ গোলে। পরের রাউন্ডে স্পেন পেয়েছিল ৯ নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা বেলজিয়ামকে। জয়ী হয়েছিল ২-১ গোলে। এই রাউন্ডে ফ্রান্স পেয়েছিল  শক্তিশালী প্রতিপক্ষ র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা মরক্কোকে। ২-০ গোলে হারিয়ে উঠে আসে সেমিতে। শুরু থেকে সৌরভ  ছিটানো লেস ব্লুজদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার হাতছানি। আগের দুইবারের মাঝে তারা একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

অধিনায়ক এমবাপ্পের এ নিয়ে নেই আত্মতুষ্টি। ৮ গোল করে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতার লক্ষ্যে থাকা এমবাপ্পে বলেন,  ‘আমরা ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। ২০২২ সালে রানার্সআপ ছিলাম। কিন্তু এই দল এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেনি। এর মাঝেও অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। দলে এত ভালো মানের প্লেয়ার আছে যে, তারা আপনাকে স্বপ্ন দেখাতে উৎসাহিত করে তুলবে। আমরা  সেমিতে উঠেছি। কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’ ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জেতা  লা রোজারদের এবার দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠার সুযোগ। কোচ লুইস দা লে ফুয়েন্তের কণ্ঠে ছিল সে রকমই  আভাস,’ আমরা ফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া দলগুলোর মাঝে অন্যতম। আমরাই একমাত্র দল, যারা সেমিফাইনালে দুইবার ফ্রান্সকে হারিয়েছিলাম।’ 

ফুয়েন্তে যে দুটি সেমি ফাইনালের কথা উল্লেখ করেছেন, তার একটি ছিল গত বছর উয়েফা ন্যাশনস লিগ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় স্পেন জিতেছিল ৫-৪ গোলে। অপরটি ছিল তার আগের বছর ২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। স্পেন জয়ী হয়েছিল ২-১ গোলে। দুই দলের মুখোমুখি দেখায়  স্পেনের জয়ের পাল্লা ভারী। ৩৮ বারের দেখায় জয়ী হয়েছে ১৮ বার। ফ্রান্সের জয় ১৩ বার। বাকি ৭ বার ড্র হয়েছে। স্পেন দলে কোনো কার্ড বা ইনজুরি সমস্যা নেই। সেরা একাদশ নিয়েই তারা নামবে। এখানে আবার ফ্রান্স নির্ভার না। কার্ডজনিত সমস্যা না থাকলেও ইনুজরির শঙ্কা রয়ে গেছে রক্ষণের সাবিলা ও উপামেকানো এবং মধ্যমাঠে কোনে ও চুয়ামেনির। তবে তারা খেলবেনই না এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। 

ফ্রান্সের শক্তি গতি। স্পেনের শক্তি ছন্দ। গতি আর ছন্দে মিলে ডালাসে ফুটবলের কী সুর লহরি তৈরি হয়, সেই অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।