পাবনার সাঁথিয়ায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ধর্ষক মহব্বত আলী খাঁকে (৫৫) ২০ ঘা জুতার বাড়ি দিয়ে অব্যাহতি দিয়েছেন গ্রামের প্রধানরা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ২টার দিকে প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মহব্বত আলী ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর কিশোরীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মহব্বতকে হাতেনাতে ধরেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম এলাকার হাঁড়িয়াকাহন এলাকার বাসিন্দা।
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ২০ ঘা জুতা পেটানোর শাস্তি দিয়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সন্ধার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশে মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয়। সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়।
একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ধরনের বিরোধে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযুক্ত মহব্বত আলীকে গুনে গুনে জুতার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সালিশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে থানায় মামলা না করে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ’ঘটনাটি নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমিনুল জুয়েল/খাদিজা রুমি/