ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্বর্ণের দাম আরও কমলো , ভরি কত? সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন গুগলে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ লিখলেই আসছে ব্রাজিলের নাম মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বউকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ৯ টন জিরা জব্দ ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা চলন্ত ট্রেনে ‘হানিমুন স্যুইট’! বরখাস্ত টিটিই ‎সাঁথিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে রফাদফা নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিলেন বিএনপি নেতা! সিলেট পরিবেশ উৎসবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা ‘চোরের দলের খেলা কবে’ সার্চ করলেই আসছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ! কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ৬ লাখ টাকার ঋণ ও বিকল রিকশা বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অদ্ভুত সব গল্প ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ হোম লোন সুবিধা পাবেন এসইএলের গ্রাহক ও কর্মীরা অনন্ত রিয়েল এস্টেটের নতুন সিইও আলীনূর রহমান সোনারগাঁয়  জাপান প্রবাসীর পথ আটকে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪ ১৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বেড়েছে তেলের দাম হবিগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ২০ চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা

দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ এএম
দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন
ছবি: খবরের কাগজ

জনপ্রশাসনে বড় রদবদলের অংশ হিসেবে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ১০১ জন যুগ্মসচিবকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সরকার। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন।

রবিবার (১২ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উনি-২ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু এর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসব বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (যুগ্মসচিব) পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে উল্লেখিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সংযুক্তিকৃত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফরমস ও প্রকাশনা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

খাদিজা রুমি/

ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

রাজধানীর রাস্তায় ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন প্রযুক্তির পরিধি বাড়াচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এআই ক্যামেরার উচ্চ খরচ কমাতে এবার কম ব্যয়ের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর একটি বড় অংশকে সহজেই ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান রাজধানীর ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরও বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

ভবিষ্যতে যানজট নিরসনে নতুন কোনো প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিকের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এআই প্রযুক্তির যে ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলো কার্যকর হলেও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। কিন্তু ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের জন্য খুব দ্রুত আমাদের নজরদারির আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে নতুন ধরনের ক্যামেরা নিয়ে আসছি।’

তিনি আরও বলেন, এসব ক্যামেরার দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর হবে। এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো গেলে আশা করি, ট্রাফিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন। এর অর্থ, কাউকে জোর করে আইন মানানো হচ্ছে না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম মেনে চলছেন।’

মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ মিশ্র যানবাহন। এ শহরে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করে। অটোরিকশা এখন আরেকটি বড় সমস্যা। বর্তমানে এটি সবার জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যানবাহনের ওপর চালকের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অন্যদিকে, একটি শহরের যানবাহন ধারণক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা থাকে। কিন্তু এই মহানগরে যানবাহনের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে। এটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটিও বলা কঠিন।

রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক আনফিট গাড়ি চলাচল করে জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই মেগাসিটির জন্য এখনো উন্নত কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত কখনোই সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

আনিছুর রহমান বলেন, পথচারীদের চলাচলের ধরনও সমস্যা সৃষ্টি করছে। প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করেন। তাদের নিয়মের মধ্যে আনা কঠিন। আমরা এখন কিছু জায়গায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করেছি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি গাড়ি হয়তো এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে, অথচ এই স্বল্প সময়ের জন্যও পথচারীরা অপেক্ষা করতে চান না। তারা হাত তুলে রাস্তা পার হতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু গাড়ির চালক, মালিক বা ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। এর বড় একটি অংশ নির্ভর করে সড়ক ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে পথচারীদের মানসিকতা ও আচরণগত অভ্যাসের ওপর। আমাদের বাস্তবতায় সেই পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি।

যেসব এলাকায় যানজট বেশি, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)। 

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তাই ঢাকা মহানগরীর কোথায়, কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, আবার কোথাও অফ-পিক আওয়ার থাকে। সে অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এলাকা ও যানজটের মাত্রা বিবেচনায় কোথাও কম, কোথাও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর প্রায় ২৫টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ সেখানে সার্বক্ষণিক যানবাহনের চাপ থাকে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন এভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। সূত্র: বাসস

খাদিজা রুমি/অমিয়/

দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ এএম
দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা
জলাবদ্ধ ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকার সংগ্রাম, এভাবেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে  রাজধানীর জনজীবন। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে সড়ক, অলিগলি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা  রয়ে গেছে।

নাগরিক সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ) প্লাস্টিক ও পলিথিনে নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি  অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার ঘাটতি–সবগুলোই ভূমিকা রাখছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শাম্মী আক্তার সেতু খবরের কাগজকে বলেন, এজন্য দায়ী মূলত জনসচেতনতার অভাব। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেওয়ার কারণে ড্রেনে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের প্রস্তাব তৈরি করা আছে। এখানে ভবন তৈরির সময় কতটুকু খালি রাখতে হবে, রাজধানীর কোথায় বন্যা প্রবাহ এলাকা থাকতে হবে বলা আছে। পরিকল্পনা ও নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় যা আছে তাও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মনিটরিংয়ের অভাব আছে। মূল কথা জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। মনিটরিং করতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করতে পারি।

শাম্মী আক্তার বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকও দায়ী। ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া, সঠিক উপায়ে রিসাইক্লিং না করাতে জলাবদ্ধতা তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ ও দেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সবাইকে যার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পলিথিনের ব্যবহার কমাতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা বিকল্প পণ্য বাজারে সরবরাহ করা যথেষ্ট নয়। এজন্য মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

কর্মকর্তারা বলেছেন, অনেকের ধারণা পাট পলিথিনের একমাত্র বিকল্প। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। পাট পলিথিনের পরিপূরক হতে পারে। বিকল্প নয়। বিশ্বে যে পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, তার তুলনায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন এখনো অনেক কম। বাংলাদেশে বছরে ১২ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত হয়। উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে ৬ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদার জন্য ২ থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন পাট মজুত রাখা হয়। ফলে সব ধরনের পলিথিনের বিকল্প হিসেবে শুধু পাটের ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল কাঁচা পাট। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার রপ্তানিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ, পাটপণ্য মেলা এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, পাটের ব্যবহার বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের স্কুলব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে এসব ব্যাগ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এভাবে দেশের প্রায় দেড় কোটি প্রাইমারি শিক্ষার্থীর হাতে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেবে সরকার। সরকার মনে করছে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার শিখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবেই পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব উপলব্ধি করে এর ব্যবহার কমিয়ে আনবে।

তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু পাটের ব্যাগ বিতরণ বা কম দামে সরবরাহ করলেই মানুষ পলিথিন ব্যবহার ছেড়ে দেবে না। বাজারে যাওয়ার সময় নিজের ব্যাগ সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস, যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার মতো নাগরিক আচরণ গড়ে তুলতে হবে। বেসরকারি খাত ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে সরকারকে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য কোনো একটি সংস্থাকে দায়ী করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ প্রণয়ন করেছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর)’ নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নগর বনায়ন এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ‘থ্রি-আর’ (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) নীতির আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ ধরনের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্র, স্টিরার ও কটন বাডের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সহজলভ্য বিকল্প পণ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। কারণ, নাগরিকরা নিজেরাই যদি পলিথিন ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পরিবেশ রক্ষা যেমন সহজ হবে, তেমনি রাজধানীর জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাও অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এই কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। 

গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে বিরোধী দলের বিরোধিতা এবং ওয়াকআউট সত্ত্বেও বিলটি সংসদে পাস করা হয়।

সংবিধান সংশোধনে নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জয়নাল আবেদিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান পার্থ, মোহাম্মদ নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, সাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ। সরকার জানিয়েছে, বিরোধী দল চাইলে পরে তাদের সদস্যদের নাম কমিটিতে সংযোজন করা হবে। 

চিফ হুইপ বলেন, সরকার শুরু থেকেই সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। বিরোধী দল সদস্যদের নাম না দেওয়ায় আপাতত ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পরে প্রতিনিধি দিতে চাইলে সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটিতে তাদের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 

কমিটি গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন এবং উভয় শপথই তাদের কাছে বৈধ। সেই সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হলে তা গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন নয়, জনগণ মৌলিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে নীতিগত কারণে তাদের দল এই কমিটিতে অংশ নেবে না। বক্তব্য শেষে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দীর্ঘ বক্তব্যে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন এবং দুই শপথের বিতর্কে কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সংসদ গঠিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সেই সংবিধান অনুযায়ীই সরকারি ও বিরোধী উভয় দল সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নেওয়া দ্বিতীয় শপথের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে কোথাও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নেওয়ার বিধান নেই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ ও তৃতীয় তফসিলের বাইরে গিয়ে নেওয়া ওই শপথ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং আইনগতভাবে ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’। তার ভাষায়, দুটি শপথ একসঙ্গে বৈধ হতে পারে না; দ্বিতীয় শপথের দাবি মানলে প্রথম শপথের সাংবিধানিক ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নামে জারি করা আদেশ সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে ছিল। সংবিধানের ৬৫ ও ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের একমাত্র ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। তাই জুলাই সনদের সাংবিধানিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের অন্যতম প্রত্যাশা হলো পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করা। সংসদ যদি এই সংশোধনী বাতিল না করে, তবে আদালতের কোনো রায় এলেও রাষ্ট্রকে বিদ্যমান সংশোধিত সংবিধানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হতে হবে। সে কারণেই বিশেষ কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নবগঠিত কমিটি অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করে সুপারিশ প্রস্তুত করা হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে।

সংসদে কমিটি গঠনের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে বিরোধী দলের ওয়াকআউট এবং সংবিধান সংশোধন বনাম সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান স্পষ্টভাবে মুখোমুখি হওয়ায় বিষয়টি দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।