ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার সবজির কেজি ১২০০, উপকারিতা কী? শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় সড়ক অবরোধ ফুটবল হোক ঐক্যের প্রতীক: ইয়ামাল মাঝ নদীতে আটকা হাতিয়ার ফেরি, ব্যাহত নৌ চলাচল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে টাইফয়েডের টিকা, শুরু ১ আগস্ট সরকার স্টার্টআপের নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ হাজার ৪৩৬ পরিবার স্বর্ণের দাম আরও কমল, ভরি কত? সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিন সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান আর্জেন্টিনার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন গুগলে ‘সেভেন আপ খাওয়া দল’ লিখলেই আসছে ব্রাজিলের নাম মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বউকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর হরমুজ প্রণালী মার্কিন ‘দখলে’, নিরাপত্তার বিপরীতে অর্থ নেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ ৯ টন জিরা জব্দ ট্রাফিকে এআই ক্যামেরার পর নতুন প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা চলন্ত ট্রেনে ‘হানিমুন স্যুইট’! বরখাস্ত টিটিই ‎সাঁথিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে রফাদফা নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিলেন বিএনপি নেতা! সিলেট পরিবেশ উৎসবে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা ‘চোরের দলের খেলা কবে’ সার্চ করলেই আসছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ! কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ৬ লাখ টাকার ঋণ ও বিকল রিকশা বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অদ্ভুত সব গল্প

১৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
১৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (১৬ জুলাই)

.৫৫ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে ঘেঁষে যখন কোনো উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ে, তার ঠিক ১৬৫ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব সাক্ষী আজ নিথর, নিস্তব্ধ। যে সুরম্য মিনার থেকে দীর্ঘ ১৩৬ বছর ধরে ভেসে আসত শান্তির আজান, সেখানে আজ ঝুলছে তালা। বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠারও ৩৪ বছর আগে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ (সাবেক গৌরীপুর জামে মসজিদ) আজ থমকে গেছে নিরাপত্তার বেড়াজালে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মসজিদের প্রবেশদ্বার, থমকে গেছে শত বছরের চেনা প্রার্থনার সুর।

গত শুক্রবারও যেখানে শত শত মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল জুমার নামাজ, ঠিক তার পরদিন শনিবার থেকেই বদলে যায় চেনা দৃশ্যপট। মসজিদের একমাত্র প্রবেশপথ কলকাতা বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটটি হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন অত্যন্ত দুঃখের সাথে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে রানওয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বিকল্প হিসেবে কাছাকাছি কোনো সুবিধাজনক ও প্রশস্ত জায়গা দেওয়া হবে। কিন্তু এভাবে হঠাৎ পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে, তা আমাদের কাম্য ছিল না।

আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধিমালার কড়া নিয়মকেই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এনেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থায়ী স্থাপনার দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ ঐতিহাসিক এই মসজিদটি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। মসজিদটি বিমানবন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত জোনের ভেতরে পড়ে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স' (CISF) অতীতেও এই স্থাপনাটির অবস্থান নিয়ে একাধিকবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

আজ থেকে ১৩৬ বছর আগে, ১৮৯০ সালে যখন অবিভক্ত বাংলার আকাশে-বাতাসে ব্রিটিশ রাজত্বের ডামাডোল, তখন এই মসজিদটি গৌরীপুর জামে মসজিদ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ঠিক ৩৪ বছর পর, ১৯২৪ সালে প্রথম ডানা মেলে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অর্থাৎ, বিমানবন্দর আসার অনেক আগে থেকেই এই মাটি ছিল প্রার্থনার, ছিল আত্মিক প্রশান্তির।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও ইতিহাসবিদদের মতে, একসময় অবিভক্ত বাংলার দূর-দূরান্ত, এমনকি বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকেও মানুষ নদী-পথ পাড়ি দিয়ে এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতেন। দেশভাগের পরও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজারো মুসল্লির আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ছিল এই বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ।

উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নিয়মকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, আবার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য আর মানুষের ধর্মীয় আবেগকে অবহেলা করাও যায় না। কলকাতা বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদের স্থানান্তর হয়তো সময়ের দাবি, কিন্তু তা করতে হবে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে।

মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন একটাই আকুল আবেদন—আইন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কিন্তু তাঁদের প্রাণের এই ঐতিহ্যকে যেন উপযুক্ত সম্মান দিয়ে একটি সুন্দর ও প্রশস্ত বিকল্প স্থানে দ্রুত পুনর্বাসিত করা হয়। রানওয়ের কাঁটাতারে যেন চিরতরে হারিয়ে না যায় ১৩৬ বছরের এক জীবন্ত ইতিহাস।

 

১৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
১৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (১৬ জুলাই)

.৫৫ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না?
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার এক অনুপম উপহার হলো বৃষ্টি। মেঘভাঙা এই পানির ছোঁয়া যেমন তপ্ত মাটিকে শীতল উর্বর করে, তেমনি তা সৃষ্টিজগতের জন্য বয়ে আনে রিজিকের বার্তা। তবে বৃষ্টির গুরুত্ব কেবল প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর রহমত বর্ষণ এবং দোয়া কবুলের এক মোক্ষম সময়।

পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে বৃষ্টিকে মানবজাতির জন্য বিশেষ নেয়ামত রিজিকের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারায় আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, তিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন। আর আকাশ থেকে পানি (বৃষ্টি) বর্ষণ করে জীবিকাস্বরূপ তোমাদের জন্য ফলফলাদি উৎপন্ন করেছেন। (সুরা বাকারা২২)

অন্যত্র মহান আল্লাহ আরও বলেন, তিনি আকাশ থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং এর মাধ্যমে মানুষের ধনসম্পদ সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন (সুরা নুহ, আয়াত: ১১-১২) তাই বৃষ্টি কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মহান স্রষ্টার অসীম অনুগ্রহ প্রাচুর্যের প্রতিশ্রুতি।

অনেকেই বৃষ্টি নামলে যানজট কিংবা কাদা-পানির অজুহাতে বিরক্ত বোধ করেন। কিন্তু একজন প্রকৃত মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ আলাদা। কোরআন বলছে, মানুষ যখন হতাশ হয়ে পড়ে, তখনই আল্লাহ বৃষ্টি পাঠিয়ে পৃথিবীকে সজীব করেন। ইরশাদ হয়েছে, মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং (পৃথিবীতে) তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮)

যেহেতু বৃষ্টি আল্লাহর বিশেষ রহমতের বহিঃপ্রকাশ, তাই রহমত নাজিলের এই পবিত্র মুহূর্তটিকে দোয়া কবুলের জন্য শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়েছে। প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে, দুটি সময়ের দোয়া কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় নাআজানের সময়ের দোয়া এবং বৃষ্টির সময় করা দোয়া। (সহিহুল জামে৩০৭৮)

বৃষ্টির আগমন মানুষের মনকে কোমল করে এবং চারপাশের সতেজতা বান্দাকে আল্লাহর কুদরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই বরকতময় সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন, হে আল্লাহ! এটিকে আমাদের জন্য একটি কল্যাণকর উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।বুখারি১০৩২)

শুধু দোয়াই নয়, আল্লাহর সদ্য প্রেরিত এই রহমতকে সশরীরে উদযাপন করার চমৎকার এক সুন্নতও রাসুল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমরা আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে ছিলাম, এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো। রাসুল (সা.) তখন তাঁর গায়ের কাপড়ের কিছু অংশ সরিয়ে নিলেন, যেন বৃষ্টির পানি তাঁর পবিত্র শরীরে লাগে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমনটি কেন করলেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'কারণ এটি তাঁর প্রতিপালকের কাছ থেকে সদ্য আগত (নতুন রহমত)(সহিহ মুসলিম, ৮৯৮)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির অন্যতম এক বিস্ময়কর নেয়ামত হলো বৃষ্টি। মহান রবের অসীম কুদরতের এক জীবন্ত নিদর্শন এটি। বৃষ্টির পানির ছোঁয়ায় মৃত পৃথিবী প্রাণ ফিরে পায়, শস্য-শ্যামল হয়ে ওঠে মাঠ-ঘাট, আর জীবকূল খুঁজে পায় বেঁচে থাকার রসদ। কিন্তু এই জীবনদায়ী বৃষ্টিই যখন অতিরিক্ত রূপ নেয় কিংবা দীর্ঘদিন উধাও থাকে, তখন তা মানবজাতির জন্য চরম বিপর্যয় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলাম আমাদের শেখায়, প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা আসলে কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে মহান স্রষ্টার গভীর হুকুম খোদায়ি রহস্য।

মহাবিশ্বের সবকিছুই এক সুনির্দিষ্ট নিয়মে মাপে পরিচালিত হচ্ছে। বৃষ্টি বর্ষণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি আকাশ থেকে পরিমিত পরিমাণে পানি বর্ষণ করি। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১৮)

এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন ধারণের জন্য যা কিছু অপরিহার্য, তা যদি সীমার বাইরে চলে যায়, তবে তা রহমতের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। যে পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, সেই পানিই যখন অতিবৃষ্টি আর বন্যার রূপ নেয়, তখন জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। তাই প্রজ্ঞাময় আল্লাহ সাধারণত সবকিছু পরিমাপ মতোই দেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি এর ব্যতিক্রম ঘটান মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য।

কখনো চারপাশ তীব্র খরায় পুড়তে থাকে, আবার কখনো অবিরাম বর্ষণে ভেসে যায় লোকালয়। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে মানুষেরই কর্মের ফল এবং এক ধরনের ঐশী সতর্কবার্তা। আল্লাহ বলেন, মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে। (সুরা রূম, আয়াত: ৪১)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যেদুর্ভিক্ষ, অনাবৃষ্টি, মহামারি, জলোচ্ছ্বাস বা অতিবৃষ্টির মতো সামষ্টিক বিপদগুলোর মূল কারণ মানুষের পাপাচার স্রষ্টার অবাধ্যতা। তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও আল্লাহর এক বিশেষ দয়া লুকিয়ে থাকে। কারণ, সাময়িক এই কষ্ট মানুষকে অহংকার ভুলে তওবা করার সঠিক পথে ফেরার সুযোগ করে দেয়।

অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টির সমাধান হিসেবে হাদিসে একটি চমৎকার শিক্ষণীয় ঘটনা রয়েছে। একবার জুমার দিন প্রিয় রাসুল (সা.) মদিনার মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক সাহাবি দাঁড়িয়ে আরজি জানালেন, হে আল্লাহর রাসুল! অনাবৃষ্টির কারণে খরা দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। পশুপাখি মানুষ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আপনি আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য দোয়া করুন।

তখন আকাশে মেঘের দূরতম কোনো চিহ্নও ছিল না। রাসুল (সা.) হাত তুলে দোয়া করতেই চারদিক থেকে মেঘ জমা হতে শুরু করল এবং প্রবল বেগে বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টি মদিনার মাঠ-ঘাট ভাসিয়ে একটানা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত চলতে থাকল।

পরের জুমায় যখন রাসুল (সা.) আবারও খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন সেই ব্যক্তি (বা অন্য কেউ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এবার তো অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে, চারপাশ ডুবে যাচ্ছে। দয়া করে বৃষ্টি বন্ধের দোয়া করুন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুচকি হাসলেন এবং আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করলেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের ওপর (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। (বুখারি, ১০১৩-১০১৫)

অলৌকিক বিষয় হলো, রাসুল (সা.) হাত দিয়ে আকাশের যেদিকে ইশারা করছিলেন, সেদিকের মেঘ কেটে যাচ্ছিল। মদিনার ওপর রোদ হেসে উঠল, আর শহরের চারপাশের উপত্যকায় বৃষ্টি হতে লাগল। ইসলাম শুধু বৃষ্টির আবেদন করতেই শেখায় না, বরং অতিবৃষ্টির ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়ও বাতলে দেয়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মুমিনের করণীয় ৫ আমল
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি মহান আল্লাহর এক অনন্য বরকতময় নিয়ামত। বৃষ্টির পরশ পেয়ে মৃতপ্রায় পৃথিবী নতুন জীবন ফিরে পায়, জমিতে ফসল ফলে এবং মানবজাতিসহ সমস্ত জীবকূল বেঁচে থাকার রসদ পায়। এই ঐশী নিয়ামতের বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আমি আকাশ থেকে বরকতময় বৃষ্টি বর্ষণ করি, অতঃপর তা দ্বারা বাগান শস্যদানা উৎপন্ন করি। (সুরা কাফ, ৯)

তবে মাঝে মাঝে এই নিয়ামতই অতিবর্ষণ, বন্যা বা জলাবদ্ধতার রূপ নিয়ে আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে, যা মানুষের জন্য পরীক্ষা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের করণীয় কী, তা ইসলাম স্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছে। নিচে বিষয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল আলোচনা করা হলো:

. ধৈর্য ধারণ আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ি, ফসল বা জানমালের ক্ষতি হলে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।(সূরা বাকারা, ১৫৫)

বিপদের সময় মুমিনের কোনো লোকসান নেই, যদি সে ধৈর্য ধরে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের পুরো জীবনটাই চমৎকার। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর, যা মুমিন ছাড়া অন্য কেউ পায় না। সে যখন সুখের দেখা পায় তখন শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যখন কোনো বিপদে পড়ে তখন ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসনাদে আহমাদ)

. সুন্নাহ সম্মত দোয়া ইস্তিগফার

বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নাত। সাধারণ বৃষ্টির সময় তিনি বলতেন, আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এই বৃষ্টিকে আমাদের জন্য মুষলধারে বর্ষিত কল্যাণকর বৃষ্টি বানিয়ে দিন। (সহিহ বুখারি)

আবার বৃষ্টি যখন অতিবৃষ্টিতে রূপ নিত এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন রাসুল (সা.) আল্লাহর দরবারে এই দোয়া করতেন, আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুত্বনিল আউদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার,

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর (ক্ষতিগ্রস্ত করে) নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকা বনাঞ্চলে এই বৃষ্টি ফিরিয়ে নিন। (সহিহ বুখারি)

. ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো

যেকোনো সংকটে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। অতিবর্ষণ বন্যার কারণে বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সামর্থ্যবান মুমিনের দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তায়ালাও ততক্ষণ সেই বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন। (সুনানে আবু দাউদ)

. দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাসেবী হওয়া

যাদের শারীরিক সামর্থ্য শক্তি আছে, বিশেষ করে তরুণ সমাজের উচিত এই দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভূমিকা রাখা। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন পরিষ্কার করা, ভেঙে পড়া গাছ রাস্তা থেকে সরানো বা আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে মনের সুখে বিচরণ করতে দেখেছি, কারণ সে রাস্তা থেকে এমন একটি গাছ কেটে সরিয়েছিল যা মুসলিমদের যাতায়াতে কষ্ট দিচ্ছিল। (মুসলিম)

. সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একশ্রেণীর মানুষ আতঙ্ক ছড়াতে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করে। কেউবা আবার ভিউ লাইকের আশায় মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করে, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা বা ছড়ানো যাবে না। বিষয়ে মহান আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, হে মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী যদি তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তবে তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও। যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়। (সুরা হুজুরাত, ৬)

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের সমস্ত ক্ষমতার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই দুর্যোগের এই মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সাধ্যমতো মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক