নেপালে ভূমিহীন বস্তিবাসীদের সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে কাঠমান্ডুর পথে নেমেছেন শত শত মানুষ।
শনিবার (১১ জুলাই) জেন-জি অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বেশ কয়েকজন আহত হন।
গত বছর জেন-জিদের তীব্র আন্দোলনের মুখে কেপি শর্মা অলির সরকারের পতন হয়। পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এখন সেই তরুণদেরই প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বালেন্দ্রর সরকারকে।
কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে কয়েক দিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। সম্প্রতি সরকার ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে পাঠালে তরুণরা একে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনে নামেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় বেশ কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরই মধ্যে সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে পুলিশের সঙ্গে বিরোধের জেরে গণেশ নেপালি (২৫) নামের এক তরুণ বিক্ষোভকারী নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘যৌথ জাতীয় স্কোয়াটার্স ফ্রন্ট’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে তরুণেরা ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ কর’ এবং ‘ভূমিহীনদের আশ্রয় দাও’ স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে সরকারি দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন শুক্রবার বন্যার কারণে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়। পরদিন সেখানকার অবস্থা দেখতে যাওয়া জেন-জি অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে বেশ কয়েকজন আহত হন। এই দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়ে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি গগন কুমার থাপা অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানে নেপালের প্রায় ২ হাজার ৬০০ পরিবারের ১৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। টাইফুন বা অন্যান্য দুর্যোগের মুখে কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো এখন পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তামান্না রুপা/