গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতর তীব্র কোন্দল শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই এ দ্বন্দ্ব চলছিল। ভেঙে যায় দল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপারসন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন ঋতব্রতরা। এরপর দুই পক্ষই আসল তৃণমূলের নেতা দাবি করছেন। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েন সাধারণ কর্মীরা।
আসল তৃণমূল কোনটি- এর ফয়সালা চেয়ে কলকাতার আলিপুর আদালতে কর্মীরা মামলা করেন। আদালত সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের নেতা অরূপ রায় যে কমিটির সর্বভারতীয় চেয়ারপারসন, সেটিই একমাত্র আইনগতভাবে স্বীকৃত আসল তৃণমূল। এই রায়ের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আইনি সংকটে পড়ল এবং ঋতব্রত শিবিরের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হলো।
রবিবার (১২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে এই খুশির খবর জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী গত ২২ জুন জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের মাধ্যমে যে কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেটিই একমাত্র বৈধ ও আইনগতভাবে স্বীকৃত দল। অরূপ রায়কে এই কমিটির চেয়ারপারসন ঘোষণা করা হয়েছে। ঋতব্রত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই কমিটি ছাড়া অন্য কেউ যদি নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য বা মূল দল বলে দাবি করে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হবে। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
আদালতের রায়ের নথি তুলে ধরে ঋতব্রত আরও দাবি করেন, দলের সমস্ত কার্যালয় এবং আর্থিক তহবিল এখন থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটনের মূল ‘তৃণমূল ভবন’ এবং দলের তহবিল ঋতব্রত শিবিরের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি ছাড়া অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত বলেন, কেউ যদি জোর করে পার্টি অফিসে ঢোকার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ্যে কোনো ‘মগের মুলুক’ চলবে না। এই রায়ের কপি খুব দ্রুতই নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। এখন আদালতের এই বড় ধাক্কার পর কালীঘাট শিবির বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন