ছবি: খবরের কাগজ
ফরিদপুর শহরের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন কোয়েল চৌধুরী (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। ফ্লাট থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর খবর কানাডিয়ান প্রবাসী একমাত্র বোন ও স্বজনদের জানালেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
পরে তার মরদেহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরের আলীপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে অচেতন অবস্থায় ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকার চৌধুরী ভিলা নামক একটি ভবন থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে থানা পুলিশ। প্রথমে তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কোয়েল চৌধুরী ওই ভবনের মালিক ও ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত হাশমত আলী চৌধুরীর ছেলে ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ওই বাসায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে কোয়েল চৌধুরীর বাবা তিনতলা ওই ভবনটি ক্রয় করে বসবাস করে আসছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। তাদের মধ্যে একমাত্র মেয়ে বর্তমানে কানাডিয়ান প্রবাসী। এছাড়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে কোয়েল চৌধুরী ও তার বড় ভাই বাবু চৌধুরী ওই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। এরমধ্যে কোয়েল চৌধুরী বিয়ে করলেও মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে ছেড়ে চলে যান তার স্ত্রী। তবে দুই ভাই ভবনটিতে থাকলেও প্রায় দেড় বছর আগে বড় ভাই বাবু চৌধুরী মারা যান। তখন থেকেই নিঃসঙ্গভাবে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন কোয়েল চৌধুরী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, কোয়েল চৌধুরীর বাবা-মা দুজনেই সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছোট সময়ে তারা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে দুই ভাইকে নিয়মিত ঘুমের ওষধ খাওয়াতেন। যার ফলে তারা আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।
এক প্রতিবেশী আশিকুর রহমান খান বলেন, ওই দুই ভাই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাদের দুই ভাইকে শহরের অনেকেই চিনতেন। তাদের মধ্যে খুব মিল ছিল। তারা যেখানেই যেতেন এক সঙ্গে হেটে আবার কখনও হাত ধরে রাস্তার একপাশ ধরে হেটে চলতেন। বড় ভাই মারা যাওয়ার পর থেকে তাকে তাদের ভাড়াটিয়ারা খাবার দিতেন।
তিনি বলেন, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো ওই ভবনের এক ভাড়াটিয়া কোয়েল চৌধুরীকে খাবার দিতে যান, তখন ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রতিবেশীদের জানান। প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে ঘরের দড়জা ভেঙে তাকে অচেতন অবস্থায় পায়। পরে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, মারা যাওয়ার পর তার বোনকে জানানো হয়। তবে তার বোন মরদেহ দাফন দিয়ে দিতে বলেন। এমনকি তার কোনো স্বজনও তার দাফনে আসেনি। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে আলীপুর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে অচেতন অবস্থায় তাকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
নয়ন/নাঈম