মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি যত নামছে, ততই দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার ক্ষত। বন্যায় ঘরবাড়ি ও ঢলের পানিতে ফসলি জমি, বীজতলা ও সবজি খেত ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ সড়ক। ডুবে গেছে নলকূপ ও পুকুর। অনেক এলাকায় এখনও বিশুদ্ধ পানিসহ খাবারের সংকটে দুর্ভোগে রয়েছেন বন্যাকবলিত মানুষ।
সোমবার (১৩ জুলাই) জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পানি কমলেও অসংখ্য বাড়িঘর, আঙিনা ও সড়কে এখনও কাদা এবং পানি জমে আছে। কিছু কিছু পরিবার ঘরে ফিরতে শুরু করলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনও পুরোপুরি ফিরেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। অনেক কৃষকের আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। নলকূপ ও পুকুর ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনগর, কমলগঞ্জের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে ফসল হারিয়ে তারা এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় কবলিত এলাকায় ২৪৮ হেক্টর আউশ ধান, ৮৬.৫০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ও ৬৪.৫০ হেক্টর সবজি খেত পানিতে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাদুর্গতদের জন্য ইতোমধ্যে এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
জেলা সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে, যাতে পানিবাহিত রোগে আক্রান্তরা দ্রুত চিকিৎসা পান।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পুলক পুরকায়স্থ/তামান্না রুপা/