ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? মারিয়ানো রাখয়ের বর্ণবাদী মন্তব্যে যা বললেন স্পেন ডিফেন্ডার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা আখাউড়ার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেক্সিকোতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই শিশুসহ নিহত ১০ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন প্রস্তাব দিলো ইইউ হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধস, ৯ শ্রমিক নিহত ‘জুরাসিক পার্ক’ খ্যাত অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই ৩৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলো ২০২৬ বিশ্বকাপ অধরা স্বপ্ন পূরণের মিশনে কেইন রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের সন্তানদের বিয়েতে সহায়তা তাপমাত্রা নীতিমালা নিয়ে আলোচনায় ফিফা ও ফিফপ্রো গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদ ১১ বন্যা পরিস্থিতিতে যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধামরাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু, আশঙ্কায় স্থানীয়রা দাউদকান্দিতে বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান পেল সরকার শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণের চালান আটক বন্যায় মজুত পর্যাপ্ত হলেও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে সারাদেশে নারীসহ ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু নেপালে জেন-জিদের রোষানলে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ
দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ত্রাণ/ ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন। তলিয়ে গেছে নলকূপ ও শৌচাগার। যার ফলে তীব্র বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্যানিটেশন-সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নার সুযোগ না থাকায় দুর্গতরা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো সরকারি ত্রাণ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসন অবশ্য দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস দিয়েছে।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানিতে নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির উৎস প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বন্যার পানি ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে বাজার, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চাল, ডাল, শিশুখাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও সামান্য সহায়-সম্বল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু স্থান কিংবা ঘরের মাচায়। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। চকরিয়া উপজেলার কাকারা, বরইতলী, রসুলাবাদ, হারবাং ও বিবিরখীল এলাকার অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বন্যার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের এলাকায় এখনো কোনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি।

লক্ষ্যারচর এলাকার শামশুল আলম বলেন, ‘ঘরে এখনো পানি। রাতে ঠিকমতো ঘুমানোর জায়গা নেই, মাচায় কোনোমতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকছি। চুলা জ্বালাতে না পারায় কয়েক দিন ধরে রান্না করতে পারিনি। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট। শৌচাগারও পানির নিচে থাকায় খুব কষ্টে দিন কাটছে। ঘরে যা খাবার ছিল সব শেষ। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর দ্রুত ত্রাণ।’

বরইতলীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘ঘরে যা খাবার ছিল সব শেষ। বাজারে যেতে পারছি না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাবার আর বিশুদ্ধ পানির।’

কাকারা ইউনিয়নের আবদুল কাদের বলেন, ‘নৌকা ছাড়া বের হওয়ার উপায় নেই। কয়েক দিন ধরে অর্ধাহারে দিন কাটছে। দ্রুত ত্রাণ না এলে আরও বড় বিপদ হবে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরাও। অনেকের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ পানিতে ভেসে গেছে। রসুল্লাবাদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলে, ‘আমার সব বই-খাতা নষ্ট হয়ে গেছে। সামনে পরীক্ষা। এখন কীভাবে পড়াশোনা করব বুঝতে পারছি না।’

কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘মাতামুহুরী নদী খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিবছরই এ ধরনের দুর্যোগ আরও ভয়াবহ হবে। শুধু ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও দায়ী। কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করায় বন্যার সময়ও সময়মতো গেট খোলা হয় না। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘সময়ে গেট খুললে এতদিন পানি আটকে থাকত না। মানুষের দুর্ভোগও অনেক কম হতো।’

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানির উচ্চতা বেশি থাকায় স্লুইসগেট খুললেও পানি বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। নদীর পানি কমে গেলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘বন্যাকবলিত সব ইউনিয়নের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। যেসব দুর্গম এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে নৌকার মাধ্যমে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না।’

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য সরকারিভাবে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।’

নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ত্রাণ হিসেবেই মোট ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৬৪টি জেলার জন্য পৃথকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, এতে সর্বমোট চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। দুর্যোগ সহায়তায় নগদ অর্থের পরিমাণ ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সাতটি উপদ্রুত জেলায় গত কয়েক দিনের ত্রাণসহায়তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজার জেলায় ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবান জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে মন্ত্রণালয়। মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) তাদের কেন্দ্রীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন জেলা ইউনিটে নগদ অর্থ ও উদ্ধার সরঞ্জামও পাঠাচ্ছে তারা। দুর্যোগের তীব্রতা মোকাবিলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, সেভ দ্য চিলড্রেন ও কারিতাস বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও তাদের আগাম সতর্কতামূলক ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। 

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে যুবদল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে গঠিত মেডিকেল টিম মাঠপর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মেডিকেল টিম বন্যাদুর্গতদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. লোহানী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা.গালিব হাসান ও সহ স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন ও ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল ও ডা. সানিয়া নাসরিন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির দিকনির্দেশনায় এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা। ছবি: খবরের কগজ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন কালন্দি খালে পানি বেড়ে বন্দরের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে ভারতের ত্রিপুরা থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। কয়েকটি ঘর-বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বন্দরের কালন্দি খালের পানি বাড়ার ফলে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। তবে পানি এখনও বন্দরের মূল সড়কে না উঠায় যাত্রী পারাপার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে ঢলের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকলে স্থলবন্দর সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, এখনও পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নদ-নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে ৷ তবে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/আজহার/

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি তার দায়িত্ব বুঝে নেন এবং সকাল ৯টা থেকে অফিস করেন বলে বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা।  

জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায়। তিনি দেওয়া গ্রামের গোলাম মাওলা চৌধুরীর সন্তান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ জুলাই তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের ডিসি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে, ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যেতে হয় তাকে।

তারও আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। তিনি ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শাকিলা ববি/থিওটোনিয়াস/

হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
হবিগঞ্জে নেমেছে বন্যার পানি, কৃষি ও মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অবকাঠামো, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক হিসাবে  জেলাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত শত কোটি টাকার বেশি।

কৃষি খাত

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলার ৯ উপজেলায় ১হাজার ২৫৯ হেক্টর জমি আউশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট আবাদি আউশ জমির প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়াও ৬৮৫ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ১৫০ হেক্টর। আর ৬৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে ২৩৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষকের ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দ্বীপ কুমার পাল বলেন, ’প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিরূপণ করা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নামার পর শতভাগ ক্ষতির চিত্র জানা যাবে।’

মৎস্য ও প্রাণী খাত

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিন উপজেলায় অন্তত ১ হাজার ১০০টি মাছের খামার ও পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে ভেসে গেছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার মাছ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক পোল্ট্রি খামারি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার কারণে নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন গো-খাদ্য। ফলে কমেছে ডিম ও দুধের উৎপাদন। জেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ টন দুধ ও ১০ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও বন্যার কারণে দৈনিক দুধ উৎপাদন ২৫ টন। ডিম উৎপাদন নেমে এসেছে ৯০ হাজার পিসে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে উৎপাদিত ডিম, দুধ ও মাংস জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরে সরবরাহ করা হয়। তবে বন্যার কারণে বর্তমানে জেলার চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অসংখ্য উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

অবকাঠামো খাত

বন্যার কারণে সম্প্রতি সংস্কার করা হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনও সম্পূর্ণ ক্ষতির চিত্র জানা যায়নি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ৬ হাজার ৪৪৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা তালিকা তৈরি করা শুরু করেছি। ৪-৫ দিনের মধ্যেই ক্ষতির চিত্র নিরূপণ করা সম্ভব হবে। তালিকা তৈরি শেষ হলে আমরা সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। পর্যাক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া শুরু হবে।

কাজল সরকার/খাদিজা ‍রুমি/

রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্ক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন সালাউদ্দিন টুকু/ খবরের কাগজ

সরকার রাজশাহীর কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানাকে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিক মানের সাফারি পার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আলোকে চিড়িয়াখানাটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে পার্কটির ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি ধ্বংসের মুখে পড়ে। বর্তমান সরকার এ অবস্থার পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।'

তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ দল রাজশাহীতে এসে চিড়িয়াখানাটিকে আধুনিক সাফারি পার্কে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

চিড়িয়াখানা থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বা অন্যত্র স্থানান্তর করা প্রাণীগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে নতুন প্রাণী সংযোজনের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ ও জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ করা হবে।'

পার্কে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্যসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত হরিণ থাকায় খাদ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবেশসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।'

রাজশাহীতে আধুনিক স্লটারিং হাউস বা মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস বাজারজাত নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনায়েত করিম/তামান্না রুপা/

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের সন্তানদের বিয়েতে সহায়তা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের সন্তানদের বিয়েতে সহায়তা
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত সদস্যদের পরিবারকে এবং তাদের সন্তানদের বিয়ের জন্য ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে শ্রমিক ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি দানিউল হক, সিনিয়র সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি বজলার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার, সংগঠনটির সহসভাপতি আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সংগঠনটির ১১ জন মৃত সদস্যের পরিবারকে ৭০ হাজার করে মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ২৪ জন সদস্যের মেয়ের বিয়ের জন্য ৩০ হাজার এবং ৫ জন সদস্যের ছেলের বিয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
শ্রমিক ইউনিয়ন নিজস্ব তহবিল থেকে এ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানান তারা।

মো. আসাদুল্লাহ/থিওটোনিয়াস/