ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ডিজিটাল জুয়ার মরণফাঁদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন?

ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা?

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা?
ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ চলাকালীন বিরতি পেলেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, হ্যারি কেন কিংবা কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকা ফুটবলারদের মুখে পানি বা বিশেষ পানীয় নিয়ে কুলকুচি করে তা ফেলে দিতে দেখা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- তারা কেন এমন করেন?

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে একাধিকবার এভাবে কুলকুচি করতে দেখা গিয়েছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। চলতি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টগুলোতেও এমবাপে, রোনালদোসহ অনেক ফুটবলারকে একই অভ্যাস অনুসরণ করতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা কয়েকটি কারণ-

ঘন লালা দূর করতে

ম্যাচ চলাকালে তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের কারণে খেলোয়াড়দের শরীরে ‘MUC5B’ নামের একটি শ্লেষ্মাজাতীয় উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে মুখের লালা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও আঠালো হয়ে যায়, যা গিলে ফেলতে অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই অনেক ফুটবলার মুখে পানি নিয়ে কুলকুচি করে সেই ঘন লালা বাইরে ফেলে দেন।

মুখের শুষ্কতা কমাতে

দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর সময় খেলোয়াড়রা প্রায়ই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে মুখের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরেও পানিশূন্যতা তৈরি হয়। ফলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং গিলতে অসুবিধা হয়। পানি দিয়ে কুলকুচি করলে সাময়িকভাবে মুখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমে।

‘কার্ব রিনসিং’-এর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে সক্রিয় করতে

অনেক সময় ফুটবলাররা সাধারণ পানি নয়, বরং কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ বিশেষ স্পোর্টস ড্রিঙ্ক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলকুচি করে তা ফেলে দেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘কার্ব রিনসিং’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত তরল মুখে কিছুক্ষণ রাখলে মুখের রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে শরীরে শক্তির জোগান আসছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মস্তিষ্ক পেশিগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়। ফলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং খেলোয়াড়রা সতেজ বোধ করেন।

পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন?

অনেকে ভাবতে পারেন, যদি এটি উপকারী হয়, তাহলে ফুটবলাররা পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন? এর কারণ হলো, ম্যাচ চলাকালে অতিরিক্ত তরল পান করলে পেট ভারী লাগা, অস্বস্তি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই তারা পানীয়টি শুধু মুখে কিছুক্ষণ রেখে কুলকুচি করে ফেলে দেন। এতে কার্ব রিনসিংয়ের সুফল পাওয়া যায়, আবার অতিরিক্ত তরল পান করার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ব রিনসিং সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং উচ্চমাত্রার শারীরিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি শরীরে প্রকৃত শক্তি সরবরাহ করে না; বরং মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: আনন্দবাজার

অমিয়/

ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ফুসফুস ক্যানসারের ওষুধের ট্রায়ালে বড় সাফল্য
ছবি: সংগৃহীত

ফুসফুস ক্যানসার নিরাময়ে সুইজারল্যান্ডের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রোশ-এর তৈরি একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। তিন ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর ‘ডিভারাসিব’ নামের এই ওষুধটি ‘নন স্মল সেল লাং ক্যানসার’ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্যানসারের নির্দিষ্ট জিনগত মিউটেশন রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ডিভারাসিব বাজারে থাকা প্রচলিত দুটি ওষুধ ‘সোটোরাসিব’ ও ‘অ্যাডাগ্রাসিব’-এর চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

‘ক্র্যাস্যান্ডো ১’ নামক এই গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এই ওষুধে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়া ছাড়াই দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন। এছাড়া রোগীদের সামগ্রিক বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফলাফল মিলেছে।

রোশ জানায়, ট্রায়াল চলাকালীন ওষুধটির কোনো নতুন বা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল, তা সহজেই নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময়যোগ্য। ক্যানসারের চিকিৎসায় এই ওষুধটিকে নতুন স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পরবর্তী চিকিৎসা সম্মেলনে এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে আরও দুটি ট্রায়ালে ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখছে রোশ। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি

তামান্না রুপা/

চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
চুল পড়া ৯২ শতাংশ কমিয়ে দেয় ‘লাইট থেরাপি’
নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি সরাসরি মানুষের চুলের গোড়ায় থাকা ডার্মাল প্যাপিলারি কোষকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ছবি: সংগৃহীত

চুল পড়া সমাধানে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা। দেশটির কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা একটি ফ্লেক্সিবল ‘লাইট থেরাপি টুপি’ উদ্ভাবন করছেন, যা ল্যাব পরীক্ষায় মানুষের চুলের কোষের বয়স বৃদ্ধির মূল লক্ষণ প্রায় ৯২ শতাংশ কমিয়ে দিতে সক্ষম।

গবেষকেরা জানান, এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিটি সরাসরি চুলের গোড়ায় থাকা ‘ডার্মাল প্যাপিলারি কোষ’কে লক্ষ্য করে কাজ করে, যা নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের ফলিকলগুলোতে ‘বিটা-গ্যালাক্টোসিডেস’ নামক একটি এনজাইম উৎপাদন বাড়ে, যা চুল পড়ার জন্য দায়ী।

এই নতুন প্রযুক্তিতে ৭৩০ থেকে ৭৪০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ‘নিয়ার-ইনফ্রারেড অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড’ সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশেষ আলো চুলের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতে আদর্শ হিসেবে কাজ করে এবং ল্যাব টেস্টে এটি কোষের বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ ৯২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে।

বাজারে বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসায় যেসব লেজার বা এলইডি হেলমেট পাওয়া যায় সেগুলোর তুলনায় এই নতুন ওলেড প্রযুক্তি অনেক পাতলা এবং নমনীয়। ফলে এটি খুব সহজেই সাধারণ টুপির ভেতরে মাথার ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায় এবং সমানভাবে আলো ছড়াতে পারে।

বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসায় মিনোক্সিডিল বা ফিনাস্টারাইড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই পরিধানযোগ্য টুপিটি এখনো সরাসরি মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি। তবে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুব দ্রুতই পরবর্তী ট্রায়াল শুরু করা হবে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

৮৩ সদস্য ও ৬ প্রজন্ম, এক অনন্য যৌথ পরিবার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:২০ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
৮৩ সদস্য ও ৬ প্রজন্ম, এক অনন্য যৌথ পরিবার
অন্ধ্রপ্রদেশের এক অনন্য যৌথ পরিবার/ সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে একক পরিবারের ভিড়েও ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার কুরলাপল্লী গ্রামে যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে নাগাপ্পা পরিবার। পাশাপাশি চারটি বাড়িতে থাকলেও তারা মূলত একটি একক পরিবার হিসেবেই বসবাস করছেন। বর্তমানে এই পরিবারে ছয় প্রজন্ম মিলিয়ে মোট ৮৩ জন সদস্য রয়েছেন, যার প্রধান হনুমানথারায়ুডু এবং মুথিয়ালপ্পা। পরিবারটিতে ৬ জন শাশুড়ি, ১৪ জন পুত্রবধূ এবং ২০ জন শিশুসহ দাদা-দাদি ও বয়স্ক সদস্যরা রয়েছেন।

সংবাদসংস্থা পিটিআই প্রতিবেদনে জানায়, বিশাল এই পরিবারটির প্রতিদিনের কাজকর্ম চলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে। প্রতিদিন সকালে পরিবারের বয়স্করা কফি খেতে খেতে পুরো দিনের পরিকল্পনা করেন। কার কী কাজ, রান্নার মেনু কী হবে- সবই সেখানে ঠিক করা হয়। কেউ মাঠে কৃষিকাজে যান, আবার কেউ রান্নাবান্না ও ঘরের কাজ সামলান।

বাড়িগুলো আলাদা হলেও পুরো পরিবারের জন্য রান্না হয় একটি রান্নাঘরেই। পুত্রবধূরা মিলে সবার জন্য খাবার তৈরি করেন। চাষবাসের পাশাপাশি এই পরিবারের চারটি যাত্রীবাহী বাস রয়েছে, যা অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের মধ্যে চলাচল করে। কৃষিকাজ ও পরিবহন ব্যবসা থেকে আসা সমস্ত আয় এক জায়গায় জমা করা হয় এবং যৌথভাবেই তা খরচ করা হয়।

৮৩ জনের পরিবারে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক হলেও বয়স্করা জানান, দিন শেষ হওয়ার আগেই তারা সব ঝামেলা মিটিয়ে নেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের কারণেই ছয়টি প্রজন্ম আজ একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’
বর্ষাকালের জয়েন্ট পেইনের তীব্রতা কমাতে দারুণ কার্যকরী এক কাপ হলুদ চা

বর্ষার বৃষ্টি যেমন স্বস্তি আনে, তেমনি অনেকের জন্য বয়ে আনে জয়েন্ট পেইন বা গিটে ব্যথা। বায়ুমণ্ডলের চাপের পরিবর্তন এবং বৃষ্টির কারণে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এই ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যা দূর করতে প্রাকৃতিকভাবে দারুণ কাজ করে হলুদ চা।

হলুদ চা কেন উপকারী?

কারকিউমিন: হলুদে থাকা এই প্রধান উপাদানটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণসম্পন্ন। এটি শরীরের ভেতরের ফোলা ভাব ও ব্যথা কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হাঁটুর ক্ষয়জনিত ব্যথা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এটি জয়েন্টের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হাড় ও সংযোগস্থলকে মজবুত করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দূর করে।

গতিশীলতা বাড়ায়: গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হলুদ চা জয়েন্টের ভেতরের মৃদু প্রদাহ কমিয়ে হাঁটাচলার ক্ষমতা বা গতিশীলতা বাড়ায়। এমনকি ব্যথানাশক ওষুধের তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম।

কীভাবে বানাবেন? 

রেডিমেড টি-ব্যাগ ব্যবহারের চেয়ে কাঁচা হলুদ বাটা দিয়ে এই চা বানানো সবচেয়ে ভালো।

উপকরণ: ১ কাপ পানি, আধা থেকে ১ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা (স্বাদের জন্য সামান্য মধু এবং কার্যকারিতা বাড়াতে আদা বা দারুচিনি মেশাতে পারেন)।

কালো গোলমরিচের ভূমিকা: হলুদ চায়ের সঙ্গে মাত্র ২০ মিলিগ্রাম কালো গোলমরিচ মেশানো উচিত। গোলমরিচের 'পিপারিন' উপাদানটি শরীরে হলুদের কারকিউমিন শোষণের গতি দ্বিগুণ করে দেয়।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?

বয়স্ক ব্যক্তি- যাদের জয়েন্টে শক্ত ভাব বা স্টিফনেস থাকে, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা বাতের রোগী, ডেস্কে বসে কাজ করা চাকুরিজীবী- যারা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন, বর্ষাজনিত গিটের ব্যথায় ভুগছেন এমন যে কেউ।

ব্যথামুক্ত থাকতে বর্ষাকালের কিছু জরুরি অভ্যাস

ঘরের ভেতরেই শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন এবং নিয়মিত স্ট্রেচিং করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

অতিরিক্ত সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সংবেদনশীল মানুষদের পেটের সমস্যা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স (গ্যাস্ট্রিক) হতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে এটি বিক্রিয়া করতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি জয়েন্টে অনবরত ফোলা ভাব থাকে, জয়েন্ট লাল বা গরম হয়ে যায়, ব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যথার কারণে হাঁটাচলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়- তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

বর্ষার জয়েন্ট পেইন কমাতে হলুদ চা একটি চমৎকার ও কম ঝুঁকিপূর্ণ ঘরোয়া উপায়। তবে এটি কোনো রোগের একমাত্র বা স্থায়ী নিরাময় নয়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

তামান্না রুপা/

বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি, আহত ১২

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি, আহত ১২
ছবি: গ্রোক

বিয়েবাড়ির ভোজের মেনু নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ভারতের বিহারের সাহারসা জেলার। মূল ঝামেলাটি বাধে খাবারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে। বরযাত্রীদের খাসির মাংস খাওয়ানোর কথা থাকলেও তাদের পাতে পরিবেশন করা হয় মুরগির মাংস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়েবাড়ির আমন্ত্রিত অতিথিদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে এবং কয়েকজনকে তলোয়ার উঁচিয়ে তাণ্ডব চালাতেও দেখা গেছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাহারসা জেলার সিমরী বখতিয়ারপুর শহরের রাজনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ আনোয়ারের ছেলে মহম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের সঙ্গে মহম্মদ জাভেদের মেয়ের বিয়ে হয়। দুপুর ৩টা নাগাদ উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছিল।

ঝামেলাটি শুরু হয় বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীরা যখন খাবার টেবিলে বসেন। বরপক্ষের দাবি, কনেপক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ভোজে খাসির মাংস থাকবে। কিন্তু খাবার টেবিলে খাসির মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস দেখে ক্ষুব্ধ হন বরযাত্রীরা।

এই মেনু পরিবর্তন নিয়ে বরপক্ষের লোকজন কনেপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মুহূর্তের মধ্যে যুক্তি-তর্ক ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। বিয়েবাড়ির আনন্দঘন পরিবেশ নিমেষেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কনেপক্ষের লোকজন বরযাত্রীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। হামলায় বর ও বরপক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এই সংঘর্ষে আহত অন্তত ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/