ম্যাচ চলাকালীন বিরতি পেলেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, হ্যারি কেন কিংবা কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকা ফুটবলারদের মুখে পানি বা বিশেষ পানীয় নিয়ে কুলকুচি করে তা ফেলে দিতে দেখা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- তারা কেন এমন করেন?
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে একাধিকবার এভাবে কুলকুচি করতে দেখা গিয়েছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। চলতি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টগুলোতেও এমবাপে, রোনালদোসহ অনেক ফুটবলারকে একই অভ্যাস অনুসরণ করতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা কয়েকটি কারণ-
ঘন লালা দূর করতে
ম্যাচ চলাকালে তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের কারণে খেলোয়াড়দের শরীরে ‘MUC5B’ নামের একটি শ্লেষ্মাজাতীয় উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে মুখের লালা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও আঠালো হয়ে যায়, যা গিলে ফেলতে অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই অনেক ফুটবলার মুখে পানি নিয়ে কুলকুচি করে সেই ঘন লালা বাইরে ফেলে দেন।
মুখের শুষ্কতা কমাতে
দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর সময় খেলোয়াড়রা প্রায়ই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে মুখের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরেও পানিশূন্যতা তৈরি হয়। ফলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং গিলতে অসুবিধা হয়। পানি দিয়ে কুলকুচি করলে সাময়িকভাবে মুখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমে।
‘কার্ব রিনসিং’-এর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে সক্রিয় করতে
অনেক সময় ফুটবলাররা সাধারণ পানি নয়, বরং কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ বিশেষ স্পোর্টস ড্রিঙ্ক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলকুচি করে তা ফেলে দেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘কার্ব রিনসিং’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত তরল মুখে কিছুক্ষণ রাখলে মুখের রিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে শরীরে শক্তির জোগান আসছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মস্তিষ্ক পেশিগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়। ফলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং খেলোয়াড়রা সতেজ বোধ করেন।
পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন?
অনেকে ভাবতে পারেন, যদি এটি উপকারী হয়, তাহলে ফুটবলাররা পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন? এর কারণ হলো, ম্যাচ চলাকালে অতিরিক্ত তরল পান করলে পেট ভারী লাগা, অস্বস্তি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই তারা পানীয়টি শুধু মুখে কিছুক্ষণ রেখে কুলকুচি করে ফেলে দেন। এতে কার্ব রিনসিংয়ের সুফল পাওয়া যায়, আবার অতিরিক্ত তরল পান করার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ব রিনসিং সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং উচ্চমাত্রার শারীরিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি শরীরে প্রকৃত শক্তি সরবরাহ করে না; বরং মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: আনন্দবাজার
অমিয়/