ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ উদ্বোধন চার মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন ডে-কেয়ার নয়, শিশুদের সময় দিন ইবিতে প্রধান ফটকের সামনে স্পিডব্রেকার প্রয়োজন তৃতীয় বিয়ে করলেন ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার ডায়েরিজ’ তারকা পল ওয়েসলি দুর্নীতির প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাব-নিকাশ যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও হেফাজতের আবির্ভাব আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল যমুনা ইলেকট্রনিক্স বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে স্বাস্থ্যচুক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও বন্যায় সবচেয়ে বেশি জরুরি শিশু সুরক্ষা সংগঠন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই সাধারণ নয়: ম্যারাডোনা জুনিয়র হামে আরও ৭ প্রাণহানি, উদ্বেগ বাড়ছে মেসির শতভাগ জয়ের রেফারি এবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর কানসাসকে ধন্যবাদ জানালো মেসি জুলাই আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত, নতুন গণআন্দোলনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের

বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত ত্রাণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-ভেনম ইনজেকশন, প্রতিষেধক ওষুধ ও খাবার স্যালাইন মজুদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের দুর্গম ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পোঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, বন্যা আক্রান্ত দেশের ১১টি জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ে এবং অনেক সময় সাপের কামড়ে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এটি প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন এবং পানিবাহিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

ব্রিফিংয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ইনজেকশন মজুদ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে মজুদ রয়েছে আরও ১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম। মাঠপর্যায়ে কলেরার স্যালাইন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি, খাবার স্যালাইন প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। পাশাপাশি নরমাল স্যালাইন রয়েছে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ এবং ডেঙ্গু কিট সিডিসি (মাঠ ও কেন্দ্রীয় মিলিয়ে) ১ লাখ ১৯ হাজার ৯২০টি মজুদ রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জÑএই ৭টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে ৫৯টি উপজেলার ৩ শত ৪৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন এবং ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা নাগরিকদের অনতিবিলম্বে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে খাদ্যশস্যের কোনো সংকট নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছেন।

ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থেকে ক্ষয়ক্ষতির তদারকি করছেন।

রিফাত/

খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃৃহীত

দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম আট বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন বা প্রতিষ্ঠার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, উন্মুক্ত খেলার স্থান সংকোচন এবং অতি-নগরায়ণের ফলে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং প্রতিমন্ত্রী। এই শক্তিশালী কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত আট বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভূমি একটি সীমিত জাতীয় সম্পদ হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো বিদ্যমান খেলার মাঠ নেই, সেখানে ভবিষ্যতে মাঠ প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত কোনোভাবেই কৃষি জমি বিপন্ন করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে ইউনিয়নের অধিভুক্ত এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বা গ্রোথ সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে সরকারি খাসজমি হতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ন্যূনতম আট বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তৃণমূলের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের আটটি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ক্রীড়াবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ এবং আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যবান, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে যুগান্তকারী অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলী/রিফাত/

বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত ত্রাণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-ভেনম ইনজেকশন, প্রতিষেধক ওষুধ ও খাবার স্যালাইন মজুদ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের দুর্গম ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পোঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, বন্যা আক্রান্ত দেশের ১১টি জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বন্যার সময় পাহাড়ি ও নদীপ্রধান এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ে এবং অনেক সময় সাপের কামড়ে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এটি প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন এবং পানিবাহিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

ব্রিফিংয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম ইনজেকশন মজুদ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে মজুদ রয়েছে আরও ১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম। মাঠপর্যায়ে কলেরার স্যালাইন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি, খাবার স্যালাইন প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে। পাশাপাশি নরমাল স্যালাইন রয়েছে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ এবং ডেঙ্গু কিট সিডিসি (মাঠ ও কেন্দ্রীয় মিলিয়ে) ১ লাখ ১৯ হাজার ৯২০টি মজুদ রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জÑএই ৭টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এতে ৫৯টি উপজেলার ৩ শত ৪৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন এবং ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের জন্য সরকার ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা নাগরিকদের অনতিবিলম্বে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান।

উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে খাদ্যশস্যের কোনো সংকট নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটি অঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেছেন।

ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত থেকে ক্ষয়ক্ষতির তদারকি করছেন।

রিফাত/

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ সময় শিক্ষার্থী আন্দোলন ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সারা দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। 

দাবিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত।

‎এর আগে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখান থেকে তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঘেরাও করেন।

এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মিরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে শিক্ষার্থীদের একদল ঢাকা কলেজের সামনে ও আরেক দল টিএসসির দিকে যান। এক ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেন।

আলী/রিফাত/

সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন  শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শেষে সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার পর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে শত শত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের দিকে রওনা দেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-  আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

এ ছাড়া ১৩ জুলাই অস্বস্তিকর পরিবেশে যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং যারা অংশ নিতে পারেননি, সবার জন্য ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাশাপাশি ১৫ জুলাইয়ের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা।

দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করারও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

রিফাত/

তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল
ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ক্ষমা প্রার্থনাসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সকাল ১১টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-বিমানবন্দর সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টার পর থেকে শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি মানবিক ও শিক্ষার্থী-বান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতি চলছে। বৃষ্টির পানিতে ঢাকার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। বৃষ্টি ও যানজটের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। অথচ শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তাই তারা তার পদত্যাগও দাবি করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চান না। কিন্তু প্রশ্নপত্রে গুরুতর ত্রুটি এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই সড়কে নেমেছেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে হচ্ছে- পরীক্ষা স্থগিত; দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।
পুনঃপরীক্ষা; বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ১৩ জুলাই যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ; আন্দোলনকারীদের অভিযোগ উপেক্ষা করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও তার জায়গায় একজন শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিক্ষার্থী-বান্ধব ও চাপমুক্ত করা, গত দুই বছরের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের সড়কেও যানবাহনের ব্যাপক চাপ দেখা গেছে।

এদিকে, উত্তরার এ আন্দোলনের কারণে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় বিভিন্ন পেশার মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। মহাসড়কের পাশ দিয়ে মানুষদের পায়ে হাঁটতে দেখা যায়। 

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, ‘এখনও শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান করছেন। কিছুক্ষণ পরপর তারা উত্তেজিত হয়ে উঠে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

পলাশ প্রধান/রিফাত/