ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জুলাই আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত, নতুন গণআন্দোলনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের উত্তরায় ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ঘোষণা দিয়ে আবারও সড়ক অবরোধ বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা: কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঢাকা পলিটেকনিকের সুরাইয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর... শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কিভাবে স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন? যৌতুক ছাড়া আসেননি বর রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ফুলবাড়ীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর ডাচ রেফারির মৃত্যু জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের টঙ্গী কমিটির যাত্রা শুরু সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়ির রাস্তার জন্য হাওর ধ্বংস করা হয়েছে: রিজভী জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা-বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন আটোয়ারীতে ৭ কেজি কষ্টিপাথরসহ আটক ২ তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে মাথার চুল কেটে স্ত্রীকে নির্যাতন কেন আর্জেন্টিনাকে ‘আলবিসেলেস্তে’ বলা হয়? জেনে নিন নামটির ইতিহাস হজে ৯৮ হাজার টাকায় যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বন্যপ্রাণীপ্রেমী সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ! জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে সেমিফাইনালের আগে এমবাপ্পের চোট নিয়ে শঙ্কা! দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার নারী উন্নয়নে ইসলামিক উম্মাহর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

স্কুল-কলেজ, আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা উত্তরা। সামনেই ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রধান সড়ক এবং সার্ভিস রোড। ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রধান এই সড়কের সার্ভিস রোডটি প্রায় দুই বছর ধরে রয়েছে বেহাল অবস্থায়। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। 

সার্ভিস রোডটি ভাঙা, বড় গর্ত, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম, রাস্তার পানি বের না হতে পারায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের।

রাস্তাটি অসমান আর বড় গর্ত থাকার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ময়লা-আবর্জনা আর জলাবদ্ধতার জন্য ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ; যা পরিণত হচ্ছে ডেঙ্গু মশার আবাসস্থলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দায়সারা কাজ করছে সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রধান সড়কের সার্ভিস রোডটিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটি ভাঙা আর খানাখন্দ থাকায় মালামাল বহনকারী ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার- কোনো যানবাহনই রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারছে না। বৃষ্টি হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পরেও রাস্তায় জমে রয়েছে পানি। 

জানা যায়, সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে রাস্তার ময়লাগুলো নিয়ে যায়, তবে সড়কটি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেয় না। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তাটি নিচু হওয়ায় সড়কের পানি ড্রেনে নামতে পারে না। উল্টো ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায় জমা হয়। 

হিমেল বঙ্গবাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. কাসেম বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায়। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটি ঠিক না করায় প্রায় দুই বছর ধরে এখানের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রাস্তা ঠিক থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এত ক্ষতি হতো না। কিছুদিন পর পর ড্রেন পরিষ্কার করলে ড্রেনের আবর্জনা ও ময়লা পানি রাস্তায় নামে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে কুশল সেন্টার, হিমেল বঙ্গবাজার, বেলি কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বেলি কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মো. জীবন বলেন, এই সার্ভিস রোড দিয়ে কোনো মালামালের গাড়ি আসতে পারে না। সামনে গিয়ে আবার উল্টো পথে আসতে হয়। এজন্য অনেক সময় পুলিশ ধরে মামলা দেয়। তাই সামনে গাড়ি রেখে আলাদা মজুরি দিয়ে মালামাল আনতে হয়। 

তিনি বলেন, এ ছাড়া রাস্তায় পানি জমলে দুর্গন্ধ ছড়ায়, ক্রেতা আসতে চায় না। দুর্গন্ধের কারণে ফুটপাত দিয়ে সাধারণ জনগণও ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। সার্ভিস রোড থেকে মানুষ যাতে ফুটপাতে উঠতে পারে, এজন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ইটের খোয়া, বালি দিয়ে সরু আইল তৈরি করেছি।

সার্ভিস রোডটি ঠিক করতে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো উদ্যোগ বা কোনো লোক এসে পর্যালোচনা করে কি না, জানতে চাইলে বেইলি কমপ্লেক্সের গার্ড মো. আবদুল মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিতে রাস্তাটিতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে দেখে গেছে অনেকবার। রাস্তা ঠিক না করে ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করেছে, বুলডোজার দিয়ে সমান করেছে। এতে রাস্তা আরও নিচু হয়ে গেছে। রাস্তাটি করার সময় অল্প এই রাস্তার কাজ করেনি।’

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চললেও স্থানীয় মানুষদের ব্যবহারের জন্য সার্ভিস রোডগুলো যে কতটা জরুরি, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আলোচনা বা গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না। অথচ সামান্য সদিচ্ছা এবং বড় কোনো বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই এই সড়কগুলোকে পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব। সড়ক নির্মাণ বা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালাতেই স্পষ্ট বলা আছে প্রকল্পের কাজ যাই হোক না কেন, কাজ শেষে রাস্তাটিকে পূর্বের সচল অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু উত্তরার সার্ভিস রোডের  ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির প্রমাণ। অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে এর জবাব দেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘১০-১২ বছর আগেও ঢাকার উত্তরার সার্ভিস রোডগুলো ছিল পুরো শহরের মধ্যে অন্যতম সেরা এবং আদর্শ উদাহরণ। এই সড়কগুলো অত্যন্ত কার্যকর ছিল এবং স্থানীয় যোগাযোগের প্রাণ হিসেবে কাজ করত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিআরটি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে উত্তরার পুরো সড়ক ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এই সার্ভিস রোডগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।  সার্ভিস রোডের নিরবচ্ছিন্নতা এবং কার্যকারিতা কোন পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন, সেই মৌলিক কাজটা কর্তৃপক্ষ করতে ব্যর্থ হলে এ শহরের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ঠিক রাখা সম্ভব হবে না।’

অমিয়/

ঢাকা পলিটেকনিকের সুরাইয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ঢাকা পলিটেকনিকের সুরাইয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

যৌতুকের দাবিতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার স্বর্ণকে (২০) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২ মাস ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না পেয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৪২, তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬। ধারা: ৩০৬, পেনাল কোড। মামলার আসামিরা হলেন- নাসির হোসেন মোমিন, নাদিম, শিমুল, রাতিন, সর্ব, বাবা বাবু মিয়া এবং বেবি বেগম। বাদী ও আসামিদের ঠিকানা: বাসা-৬, লাইন-১৭, রোড-১১, ব্লক-সি, সেকশন-১১, মিরপুর, পল্লবী, ঢাকা-১২১৬।

পরিবারের অভিযোগ, বাদী ও পরিবারের দেওয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য সুরাইয়া ও তার পরিবারের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ রাতে আসামিরা সুরাইয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত নাসির নিয়মিত সুরাইয়ার ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন।

নিহতের পরিবার গুরুতর অভিযোগ করে জানায়, থানায় মামলা করতে গেলে আসামিপক্ষের লোকজন আগেই সেখানে উপস্থিত ছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আবুসামা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চান। পরে ওসি এ কে এম আলমগীর জাহানের কাছে গেলে তিনি গালাগালি করেন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বাদীকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার ২ মাস ১৭ দিন পার হলেও এখনো পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। উল্টো আসামিরা বাদী পরিবারকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে মামলাটি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আজিজুল হাকিম/রিফাত/

রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

স্কুল-কলেজ, আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা উত্তরা। সামনেই ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রধান সড়ক এবং সার্ভিস রোড। ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রধান এই সড়কের সার্ভিস রোডটি প্রায় দুই বছর ধরে রয়েছে বেহাল অবস্থায়। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। 

সার্ভিস রোডটি ভাঙা, বড় গর্ত, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম, রাস্তার পানি বের না হতে পারায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের।

রাস্তাটি অসমান আর বড় গর্ত থাকার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ময়লা-আবর্জনা আর জলাবদ্ধতার জন্য ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ; যা পরিণত হচ্ছে ডেঙ্গু মশার আবাসস্থলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দায়সারা কাজ করছে সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রধান সড়কের সার্ভিস রোডটিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটি ভাঙা আর খানাখন্দ থাকায় মালামাল বহনকারী ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার- কোনো যানবাহনই রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারছে না। বৃষ্টি হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পরেও রাস্তায় জমে রয়েছে পানি। 

জানা যায়, সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে রাস্তার ময়লাগুলো নিয়ে যায়, তবে সড়কটি ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেয় না। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তাটি নিচু হওয়ায় সড়কের পানি ড্রেনে নামতে পারে না। উল্টো ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায় জমা হয়। 

হিমেল বঙ্গবাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. কাসেম বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায়। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটি ঠিক না করায় প্রায় দুই বছর ধরে এখানের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। রাস্তা ঠিক থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এত ক্ষতি হতো না। কিছুদিন পর পর ড্রেন পরিষ্কার করলে ড্রেনের আবর্জনা ও ময়লা পানি রাস্তায় নামে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে কুশল সেন্টার, হিমেল বঙ্গবাজার, বেলি কমপ্লেক্সে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বেলি কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মো. জীবন বলেন, এই সার্ভিস রোড দিয়ে কোনো মালামালের গাড়ি আসতে পারে না। সামনে গিয়ে আবার উল্টো পথে আসতে হয়। এজন্য অনেক সময় পুলিশ ধরে মামলা দেয়। তাই সামনে গাড়ি রেখে আলাদা মজুরি দিয়ে মালামাল আনতে হয়। 

তিনি বলেন, এ ছাড়া রাস্তায় পানি জমলে দুর্গন্ধ ছড়ায়, ক্রেতা আসতে চায় না। দুর্গন্ধের কারণে ফুটপাত দিয়ে সাধারণ জনগণও ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। সার্ভিস রোড থেকে মানুষ যাতে ফুটপাতে উঠতে পারে, এজন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ইটের খোয়া, বালি দিয়ে সরু আইল তৈরি করেছি।

সার্ভিস রোডটি ঠিক করতে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো উদ্যোগ বা কোনো লোক এসে পর্যালোচনা করে কি না, জানতে চাইলে বেইলি কমপ্লেক্সের গার্ড মো. আবদুল মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিতে রাস্তাটিতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে দেখে গেছে অনেকবার। রাস্তা ঠিক না করে ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করেছে, বুলডোজার দিয়ে সমান করেছে। এতে রাস্তা আরও নিচু হয়ে গেছে। রাস্তাটি করার সময় অল্প এই রাস্তার কাজ করেনি।’

এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চললেও স্থানীয় মানুষদের ব্যবহারের জন্য সার্ভিস রোডগুলো যে কতটা জরুরি, তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো আলোচনা বা গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না। অথচ সামান্য সদিচ্ছা এবং বড় কোনো বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই এই সড়কগুলোকে পুনরায় কার্যকর করা সম্ভব। সড়ক নির্মাণ বা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালাতেই স্পষ্ট বলা আছে প্রকল্পের কাজ যাই হোক না কেন, কাজ শেষে রাস্তাটিকে পূর্বের সচল অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু উত্তরার সার্ভিস রোডের  ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির প্রমাণ। অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে এর জবাব দেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘১০-১২ বছর আগেও ঢাকার উত্তরার সার্ভিস রোডগুলো ছিল পুরো শহরের মধ্যে অন্যতম সেরা এবং আদর্শ উদাহরণ। এই সড়কগুলো অত্যন্ত কার্যকর ছিল এবং স্থানীয় যোগাযোগের প্রাণ হিসেবে কাজ করত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিআরটি প্রজেক্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে উত্তরার পুরো সড়ক ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এই সার্ভিস রোডগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।  সার্ভিস রোডের নিরবচ্ছিন্নতা এবং কার্যকারিতা কোন পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন, সেই মৌলিক কাজটা কর্তৃপক্ষ করতে ব্যর্থ হলে এ শহরের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ঠিক রাখা সম্ভব হবে না।’

অমিয়/

জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রমও খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে পৃথক দুটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষা আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

অপরদিকে, সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা পদোন্নতি কার্যক্রম চালু করতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

মন্ত্রী আরও জানান, নতুন নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। এর আগে এ হার ছিল ৬৫ শতাংশ। নতুন বিধিমালা প্রণয়নের পর মামলা চলমান থাকায় পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় বিধিমালা অনুযায়ী দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হলে দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে।

এলিস/নাঈম

তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে, বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পথচলা সহজ নয়; সফলতার জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করতে হবে। তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সফলতা অর্জন সম্ভব।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য ও নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই নতুন উদ্যোক্তাদেরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের পথচলায় সহযোগিতা করার জন্য, দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও সাফলতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোর ও তরুণদের সৃজনশীলতা তাঁকে নতুন করে আশাবাদী করেছে। তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেখে তিনি বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা আজ যে পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি, যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাইছি, আগামী দিনে সেই দায়িত্ব গ্রহণের মতো দক্ষ ও যোগ্য তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সকল উদ্যোক্তার সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, উদ্ভাবননির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপনকালে বলেন, ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ শীর্ষক এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ছিল তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী চিন্তা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি উন্মুক্ত সংলাপের অনন্য প্ল্যাটফর্ম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের একটি সমন্বিত প্রয়াসকে প্রতিফলিত করেছে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তরুণদের জন্য মেন্টরিং, প্রশিক্ষণ, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন, ইনকিউবেশন এবং বিনিয়োগ সংযোগের যে সমন্বিত রোডম্যাপ গড়ে তোলা হয়েছে, তা উদ্ভাবনী ধারণাকে সফল উদ্যোগে রূপান্তরের পথকে আরও সহজ করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরাও গবেষণা ও শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং তরুণদের প্রতি তার আস্থা ও উৎসাহের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তরুণবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি দেশের যুবসমাজকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। জ্ঞান থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে উদ্যোগ এবং উদ্যোগ থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গীকারবদ্ধ।’

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সফল উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের এই সেশন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রদর্শনী স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন। এই প্রদর্শনী বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্বোধন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্যোক্তাদের জন্য একটি জাতীয় লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

আরিফ জাওয়াদ/রিফাত/

নারী উন্নয়নে ইসলামিক উম্মাহর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
নারী উন্নয়নে ইসলামিক উম্মাহর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

নারী উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক সমাজ গঠনে ইসলামিক উম্মাহর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নারী বিষয়ক ৯ম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

গত ১২-১৩ জুলাই এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নারীর অগ্রগতি শুধু একটি সামাজিক লক্ষ্য নয় বরং মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত সমৃদ্ধির জন্য একটি কৌশলগত বিষয়। ওআইসি সর্বদাই নারীর ক্ষমতায়ন উদ্যোগের অগ্রভাগে রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নারীর অধিকারকে জাতীয় সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব নারী উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে ‘Gender-Responsive Budgeting (GRB)’-এর অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত এবং বর্তমানে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। 

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এসডিজি ৪ -এর আলোকে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েছে, স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও উপবৃত্তি চালু রয়েছে এবং সরকার এটিকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম প্রদান করা হবে এবং প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্যখাতে এসডিজি-৩ অর্জনে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৩৬-এ নামিয়ে আনা হয়েছে এবং ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ১ লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া কার্যক্রম সরকার হাতে নিয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবে নারী।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এসডিজি ১ ও ১০ অর্জনে এ বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ দরিদ্র পরিবারের নারীকে ‘পরিবার প্রধান’ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে এবং আগামী চার বছরে এ সংখ্যা ১ কোটি ৬০ থেকে ৭০ লাখে উন্নীত করা হবে। 

এছাড়াও মা ও শিশু কল্যাণ ভাতা, দুঃস্থ নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী নারী-শিশু, বিধবা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত ভাতা চলমান রয়েছে।  

এসডিজি-৮ অর্জনে প্রান্তিক নারীদের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রারম্ভিক মূলধন দেওয়া হচ্ছে। দেশে কৃষি, পোশাক শিল্প, সাংবাদিকতাসহ রাজনীতিতেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসডিজি -১৩ অনুযায়ী নারীদের লাইফ স্কিলস ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে এবং তৃণমূলের জন্য স্থানীয় এনজিওগুলোকে আর্থিক মঞ্জুরী দেওয়া হচ্ছে। 

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ডে-কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। 

এসডিজি -১৬-এর আলোকে সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচারের জন্য উন্নত ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। 

মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চলমান রয়েছে।

সবশেষে তিনি মুসলিম উম্মাহর নারীদের অগ্রগতির জন্য ওআইসির প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অটূট রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

খাদিজা রুমি/অমিয়/