কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন আন্তর্জাতিক ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছেন। খ্যাতিমান শেফ কার্লা হল-এর উপস্থাপনায় এবং জেমস বেয়ার্ড ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জনভোটের মাধ্যমে সেমিফাইনালিস্ট নির্বাচিত হবে। আগামী ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী) ভোট গ্রহণ চলবে।
‘ইয়াম মোমেন্টস’-এর শেফ ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে মাদিহা তুরশীন এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সমকালীন খাদ্যসংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন। ধ্রুপদি রন্ধনপ্রযুক্তি, খাদ্যের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক গল্পবয়ান এবং শতাব্দীব্যাপী বাণিজ্য, অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ রন্ধনঐতিহ্যকে তিনি আধুনিক উপস্থাপনায় তুলে ধরছেন।
একটি নির্দিষ্ট পদকে নিজের পরিচয় না করে, মাদিহা তাঁর স্বকীয়তাকে বর্ণনা করেন ‘প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশের খাবারের আধুনিক উপস্থাপনা’ হিসেবে। প্রতিযোগিতায় তাঁর পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে ভার্দ্যুর (Verdure), রোহু আ লা বেঙ্গল (Rohu à la Bengal), কমফোর্ট, কালার্ড (Comfort, Coloured) এবং মনসুন টি অ্যান্ড মেমোরি (Monsoon Tea & Memory)।
প্রতিটি পদেই ঐতিহ্য, পরিচয়, অভিবাসন এবং সংস্কৃতির গল্প আধুনিক রন্ধনশৈলীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। লে কর্দোঁ ব্লু-এর গ্রঁ দিপ্লোম ডিগ্রিধারী মাদিহা তুরশীনের কাজ শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়; খাদ্যের ইতিহাস, গবেষণা, গণমাধ্যম এবং আন্তঃবিষয়ক সৃজনশীল চর্চাতেও তিনি সক্রিয়। ‘ইয়াম মোমেন্টস’-এর মাধ্যমে তিনি খাবারকে সংস্কৃতি, নকশা, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও গল্প বলার এক মিলনস্থল হিসেবে তুলে ধরছেন।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলে তিনি আধুনিক কৌশল ও বৈশ্বিক উপাদানের আলোকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্না নিয়ে একটি কফি-টেবিল গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা করেছেন। পাশাপাশি ঢাকায় ‘ইয়াম মোমেন্টস’ নামে একটি সমন্বিত রন্ধন ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে দেশি-বিদেশি শেফ, শিল্পী, গবেষক ও সৃজনশীল ব্যক্তিরা একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তাঁর বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রন্ধনভিত্তিক পর্যটনের বিকাশেও ভূমিকা রাখবে। প্রতিযোগিতায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার করে ভোট দেওয়া যাচ্ছে।
মাদিহা তুরশিনের এই অগ্রযাত্রা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ও সমৃদ্ধ রন্ধনঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
/এমটি