ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে স্বাস্থ্যচুক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও বন্যায় সবচেয়ে বেশি জরুরি শিশু সুরক্ষা সংগঠন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই সাধারণ নয়: ম্যারাডোনা জুনিয়র হামে আরও ৭ প্রাণহানি, উদ্বেগ বাড়ছে মেসির শতভাগ জয়ের রেফারি এবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর কানসাসকে ধন্যবাদ জানালো মেসি জুলাই আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত, নতুন গণআন্দোলনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের উত্তরায় ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ঘোষণা দিয়ে আবারও সড়ক অবরোধ বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা: কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঢাকা পলিটেকনিকের সুরাইয়ার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর... শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কিভাবে স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন? যৌতুক ছাড়া আসেননি বর রাজধানীর উত্তরায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল সাধারণ মানুষ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ফুলবাড়ীতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রেললাইন অবরোধ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর ডাচ রেফারির মৃত্যু জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের টঙ্গী কমিটির যাত্রা শুরু

টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে তাদের এ কর্মসূচির কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিরালা মোড়ে সমাবেশ করে। পরে সেখান থেকে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন এবং পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


জুয়েল রানা/এসএন

সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত
ছবি: খবরের কাগজ

মেঘের গর্জন থামেনি তখনো। আকাশের মুখভার। কিন্তু মাতামুহুরি নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঢলের সেই হিংস্র গর্জন এখন কিছুটা শান্ত। কক্সবাজারের চকরিয়ার গত কয়েকদিনের ভয়াবহ বন্যায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই বেরিয়ে আসছে এক মহাধ্বংসযজ্ঞের কঙ্কাল। ঢলের জল শুধু জনপদ ধুয়ে নিয়ে যায়নি, নিয়ে গেছে শত পরিবারের স্বপ্ন, শেষ সম্বল আর মাথা গোঁজার ঠাঁই। রেখে গেছে কেবল এক বুক হাহাকার আর কখনো না শুকাতে চাওয়া এক গভীর ক্ষত।

সোমবার (১৩ জুলাই) চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কোচপাড়া এলাকায় যখন পা রাখলাম, চারপাশের বাতাস তখন ভারী হয়ে আছে এক স্তব্ধ কান্নায়।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নির্বাক, জলভরা চোখে শূন্য নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন তাসমিন জন্নাত। কয়েকদিনে মাতামুহুরির রাক্ষুসী স্রোত গিলে খেয়েছে তাঁর বসতঘরের শেষ চিহ্নটুকু। যখন তাঁর ঘরটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছিল, তাসমিন তখন কেবল দুই হাতে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদেছেন, কিছুই করার ছিল না তাঁর।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাসমিন বলেন, ঢলের পানি তো চলে গেল ভাই, কিন্তু আমাদের সব কেড়ে নিয়ে গেল। আমার স্বামী বাজারে সবজি বিক্রি করে দিনরাত এক করে, অল্প অল্প সঞ্চয় জমিয়ে এই ঘরটা গড়েছিল। চোখের সামনে সেটা আজীবনের জন্য নদীতে তলিয়ে গেল, কিচ্ছু করতে পারলাম না। প্রকৃতির এই ক্ষত আমরা সারা জীবন কীভাবে বয়ে বেড়াব?

নদীপাড়ের মানুষগুলোর এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। তবে এই ব্যস্ততা বেঁচে থাকার নয়, এই ব্যস্ততা নিজের ধ্বংসাবশেষ কুড়ানোর। মাতামুহুরি নদী তীরবর্তী মানুষগুলো এখন হন্যে হয়ে ঘর ভেঙে আসবাবপত্র, টিন আর কাঠ সরিয়ে নিতে ব্যস্ত। কিন্তু এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করছে তাদের মনে। যে জমিটাই নদী কেড়ে নিয়েছে, সেখানে এই কাঠের টুকরো আর টিনের চালগুলো নিয়ে তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন? এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, শুধু তাসমিন জন্নাতই নন, মাতামুহুরির এই রুদ্রমূর্তির কারণে চরম নদীগর্ভে বিলীনের সব।

বসতবাড়ি রয়েছেন পূর্ব কোচপাড়ার নুরুল আবছার, নুরুল হুদা, নুরুল ইসলাম, আমির উদ্দিন, ওসমান, আব্দুল আজিজ পুতু এবং মানিকের মতো বহু মানুষ। নদী ভাঙন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে যে, যেকোনো মুহূর্তে আরও বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছে। আতঙ্ক এতটাই তীব্র যে, ক্লান্ত শরীরেও গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর আকুতিতে। গৃহহীন হওয়া পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে অথবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্রাণের লাইন কিংবা সরকারি সাহায্য- কোনো কিছুই এখন আর টানছে না এই সর্বস্বান্ত মানুষগুলোকে। তারা চান স্থায়ী মুক্তি।

নদীপাড়ের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, আমরা সরকারি চাল-ডাল চাই না, আমরা শুধু একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই। মাতামুহুরি নদীর তীরে একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ দেওয়া হোক, যেন আমাদের আর প্রতি বছর এভাবে ঘর হারিয়ে রাস্তায় বসতে না হয়। প্রতি বর্ষায় আসে, আর মাতামুহুরির বুক গ্রাস করে নেয় এক-একটা সাজানো সংসার। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুরতার কাছে হেরে যাওয়া এই মানুষগুলোর কান্না এখন নদীপাড়ের বাতাসে ভাসছে। কিন্তু এই কান্নার শেষ কোথায়?

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুল হক জানালেন এক দীর্ঘ উপেক্ষার গল্প। তাঁর মতে, মাতামুহুরির তীব্র স্রোতে পৌরসভায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশঘাটা, কোচপাড়া, পূর্ব কোচপাড়া, মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ্ পৌর দাখিল মাদ্রাসাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন- গত ১০ থেকে ১৫ বছরে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার এই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ছবি তুলেছেন, ফাইল ভারী হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবারকে এই ভাঙন আতঙ্কে চোখ থেকে ঘুম বিসর্জন দিতে হয়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। জিও ব্যাগের বদলে কংক্রিটের ব্লক দিতে যতটুকু ঢাল দরকার, ততটুকু ঢাল সেখানে নেই। তবে কংক্রিটের ব্লক দেওয়ার বিষয়টি আমাদের ভাবনায় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এই 'ভাবনা' কবে বাস্তবে রূপ নেবে, তা জানা নেই নদীপাড়ের মানুষের। চকরিয়ার মাতামুহুরির স্রোত এখনো প্রমত্তা। আর তার তীরে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ এখন শুধু একটা টেকসই বাঁধের অপেক্ষায় দিন গুনছে, যেন আগামী বর্ষায় তাদের আবার নতুন করে নিঃস্ব হতে না হয়।##

রাজু দাশ/এসএন

বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা: কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা: কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে কক্সবাজারে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষা পুনর্নির্ধারণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের গুনগাছ তলা এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বন্যা পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকলেও পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা করে সোমবার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে বহু পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েছেন এবং মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিক্ষোভ চলাকালে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী 'ভুয়া, ভুয়া' স্লোগান দিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং পথচারীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর আচরণের অভিযোগও ওঠে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের কারণে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বন্যাকবলিত এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারেকুর রহমান/এসএন

টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে তাদের এ কর্মসূচির কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নিরালা মোড়ে সমাবেশ করে। পরে সেখান থেকে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন এবং পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


জুয়েল রানা/এসএন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে নগরের টাউন হল মোড় এলাকায় তারা সড়ক অবরোধ করলে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

‘এইচএসসি শিক্ষার্থী’ ব্যানারে নগরের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা টাউন হল এলাকায় জড়ো হয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। এ সময় সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না।’ এসময় ‘নিরাপদ পরিবেশ নেই তো পরীক্ষা নেই’, ‘নিরাপত্তাই সবার আগে-আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের অধিকার, শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, স্বাভাবিক আবহাওয়া ও সুস্থ পরিবেশে পরীক্ষা নিতে হবে। প্রশ্নপত্রের অযৌক্তিক মানদণ্ড রাখা যাবে না। যৌক্তিক কারণে কেউ এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে প্রকাশ্যে জবাবদিহি করতে হবে এবং এইচএসসি-২৬ পরীক্ষার্থীরা তা যুক্তিসংগত মনে না করলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী দিদারুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডে বন্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত না করে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, আমরা নাকি ফার্মের মুরগি। আমরা দেখেছি, শিক্ষার্থীরা বুকসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষা দিতে গেছে। মাদরাসা বোর্ডে ছাতা মাথায় দিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। কেন আমাদের এই কষ্ট সহ্য করতে হবে? মন্ত্রী এসি রুমে বসে আছেন, আর শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দেশের এমন খারাপ আবহাওয়া কি তার চোখে পড়ে না?

শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের যোক্তিক দাবী ছিলো যে পরীক্ষা স্থগিত রাখে অথবা তারিখ পিছিয়ে নেয়। তিনি আমাদের দাবি তো মেনে না নিয়ে উল্টা শিক্ষার্থীদের অপবাদ দিলেন যে আমরা নাকি ফার্মের মুরগী। তিনি আমাদের কষ্ট কি বুঝবেন তার মেয়ে তো আমাদের ট্যাক্সের  টাকায় বিদেশে পড়াশোনা করে। তার মেয়েকে ভাল রেখে আমাদের বন্যার পানিতে কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে হবে কেন। ২৪ এর আন্দোলন কি আমরা এজন্য করেছি। এখন আমাদের দাবী একটাই এই শিক্ষা মন্ত্রী যেন পদত্যাগ করে।

আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, দেশের আবহাওয়া ভালো না থাকায় আমরা চলমান পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করবেন। কিন্তু তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন না করে শুধু পরীক্ষার ব্যবস্থাই পরিবর্তন করেছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়াকড়ি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। তবে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত তারা সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর ২নং গেট মোড়ে সড়ক অবরোধ করে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

জানা যায়, বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন। শিক্ষার্থী স্লোগান দিয়ে বলে, ভুয়া, ভুয়া, দফা এক দাবি এক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিরূপ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।

বিক্ষোভকারী ও চট্টগ্রাম সিএমপি কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন অভিন্ন পশ্নে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দেখা গেল চট্টগ্রামে পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল। এতে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে যাচ্ছি। পরীক্ষা বন্ধ থাকলে সারাদেশে বন্ধ থাকতে হবে। তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।

এদিকে, বিক্ষোভের কারণে ষোলশহর ২নং গেট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সড়কতে সরে নি। ষোলশহর ২নং গেইট এলাকায় সড়ক দখল করে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। বেলা ১১ থেকে সড়কে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ হাসান মোস্তাফা খবরের কাগজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু সড়কে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া চেষ্টা করেছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যাচ্ছেন না। তাদের নিদিষ্ট সময় বিক্ষোভ শেষে হয়ত চলে যাবে।

রিফাত/