সংসার জীবনের ব্যস্ততায় আমরা স্ত্রীকে কত উপহারই না দিই–নতুন শাড়ি, গহনা কিংবা পছন্দের কোনো খাবার। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ভালোবাসার সবচেয়ে বড় এবং নিখরচায় দেওয়া উপহারটি আমরা দিতে ভুলে যাই? সেটি হলো–স্ত্রীর জন্য মন থেকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা। একজন স্বামীর করা দোয়ার চেয়ে স্ত্রীর জন্য আর বড় কোনো উপহার হতে পারে না, যা ইহকাল ও পরকালে তাদের বন্ধনকে আরও মজবুত করে।
ইসলামে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কেবল ভরণপোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার আত্মিক ও মানসিক কল্যাণ কামনা করাও এর অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং পবিত্র কোরআনের আলোকে স্ত্রীর জন্য দোয়া করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. স্ত্রীর জন্য ক্ষমা ও কল্যাণ প্রার্থনা
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই তাঁর স্ত্রীর সুস্থতা ও ক্ষমার জন্য দোয়া করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) একদিন মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘হায়! আমার মাথা।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রাসুল (সা.) গভীর মমতা নিয়ে বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় যদি তা ঘটে, তবে আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং তোমার জন্য দোয়া করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৭২৪)। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, স্ত্রীর অসুস্থতায় বা যেকোনো প্রয়োজনে তার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দোয়া করা স্বামীর অন্যতম সুন্নত।
২. দাম্পত্য জীবনে বরকতের দোয়া
বিয়ের পর থেকেই নবদম্পতির জন্য বরকতের দোয়া করার বিধান রয়েছে। রাসুল (সা.) নবদম্পতিকে এই বলে দোয়া দিতেন, বা-রাকাল্লা-হু লাকুমা ওয়া বা-রাকা ‘আলাইকুমা ওয়া জামা‘আ বায়নাকুমা ফী খায়রিন। অর্থাৎ, এই বিবাহে আল্লাহ তোমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সঙ্গে একত্রিত রাখুন। দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি ধরে রাখতে স্বামী নিয়মিত স্ত্রীর জন্য এবং নিজেদের বন্ধনের জন্য এই বরকতের দোয়া করতে পারেন।
৩. নেক সন্তানের জন্য যৌথ প্রার্থনা
পারিবারিক শান্তি ও ভবিষ্যতের কল্যাণে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য একটি বড় নেয়ামত হলো সৎ ও যোগ্য সন্তান। পবিত্র কোরআনে হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে স্ত্রীর বন্ধ্যত্ব ঘুচিয়ে নেক সন্তানের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে আরজি জানিয়েছিলেন: ‘রাব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুররিয়্যাতান তায়্যিবাহ, ইন্নাকা সামীউদ্দুয়া।’ যার অর্থ, ‘হে আমার রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সুরা আলে-ইমরান, আয়াত ৩৮)।
একটি আদর্শ মুসলিম পরিবার গড়ে তুলতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও দোয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই আসুন, শুধু বস্তুগত উপহার নয়, প্রতিদিনের মোনাজাতে স্ত্রীর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং ঈমানি দৃঢ়তার জন্য আল্লাহর কাছে হাত তুলি। কারণ, যে সংসারে একে অপরের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়, সেই সংসারে আল্লাহর রহমত ও বরকত সব সময় বজায় থাকে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক