ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল শুধু তাদের সাফল্য বা তারকা খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, বরং ‘আলবিসেলেস্তে’ নামেও সমানভাবে পরিচিত। ডিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে লিওনেল মেসি-প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নামটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্য, জাতীয় পরিচয় এবং সমর্থকদের আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
‘আলবিসেলেস্তে’ শব্দের অর্থ কী?
‘আলবিসেলেস্তে’ একটি স্প্যানিশ শব্দ, যা দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। ‘আলবি’ এসেছে লাতিন শব্দ আলবুস থেকে, যার অর্থ ‘সাদা’। আর ‘সেলেস্তে’ স্প্যানিশ ভাষায় ‘আকাশী নীল’ বোঝায়। ফলে ‘আলবিসেলেস্তে’-র আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ‘সাদা ও আকাশী নীল’।
আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে এই দুটি রঙের আধিপত্য থাকায় দলটির সঙ্গে এই নামটি স্থায়ীভাবে জড়িয়ে গেছে।
পতাকার রং থেকেই পরিচয়ের শুরু
আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার নকশা করেন দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা মানুয়েল বেলগ্রানো। ১৮১২ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রথম এই পতাকা উন্মোচন করেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, বুয়েনস আইরেসের আকাশের নীল রং এবং সাদা মেঘ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পতাকার জন্য আকাশী নীল ও সাদা রং বেছে নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে এক আন্তর্জাতিক ম্যাচে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো সাদা-আকাশী নীল ডোরাকাটা জার্সি পরে মাঠে নামে। সেই জার্সিই সময়ের সঙ্গে দেশটির ফুটবল পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে।
যেভাবে ‘আলবিসেলেস্তে’ নামটি জনপ্রিয় হয়
জাতীয় পতাকার রং ধারণ করা জার্সিকে আর্জেন্টিনাবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখে। ধীরে ধীরে সমর্থক, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং বিশ্লেষকরা আর্জেন্টিনা দলকে ‘লা আলবিসেলেস্তে’-অর্থাৎ ‘সাদা ও আকাশী নীলের দল’-বলে সম্বোধন করতে শুরু করেন।
ক্রমেই এই নামটি শুধু একটি ডাকনামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার স্বতন্ত্র পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।