ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা-বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন আটোয়ারীতে ৭ কেজি কষ্টিপাথরসহ আটক ২ তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে মাথার চুল কেটে স্ত্রীকে নির্যাতন কেন আর্জেন্টিনাকে ‘আলবিসেলেস্তে’ বলা হয়? জেনে নিন নামটির ইতিহাস হজে ৯৮ হাজার টাকায় যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বন্যপ্রাণীপ্রেমী সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ! জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে সেমিফাইনালের আগে এমবাপ্পের চোট নিয়ে শঙ্কা! দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার নারী উন্নয়নে ইসলামিক উম্মাহর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন টেনশনে রহমত সাহেব বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ৩ দফা দাবিতে উত্তাল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে উদ্বোধন করা হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সবচেয়ে প্রিয় বাগানটাই দান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বোয়ালমারীতে শিশু বলাৎকারের মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার র‍্যাগিং ও ব্যাচকল ঠেকাতে এবার কঠোর জাককানইবি প্রশাসন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার রামপুরায় নড়াই নদীর নামফলক উধাও, থানায় জিডি সেমিফাইনালের আগে ফের আলোচনায় স্কালোনি-বেকহামের পুরোনো দ্বন্দ্ব এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস ইংল্যান্ড দলে কোনো বিভক্তি নেই: কেইন

টেনশনে রহমত সাহেব

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
টেনশনে রহমত সাহেব
এঁকেছেন মাসুম

রহমত সাহেব বউকে ফোন দিয়ে বললেন, বউ, আমি কই?
রাহেলা বেগম অবাক হয়ে বললেন, মর জ্বালা! আপনে কই মানে কী? আপনে না ঢাকায় গেলেন?
রহমত সাহেব চিন্তিত গলায় বললেন, সেইটা তো ঠিক আছে। কিন্তু বউ, আমি বোধহয় ভুল কইরা আর্জেন্টিনা আইয়া পড়ছি। বাসে না উইঠা রাতের বেলা বিমানে উইঠা গেছি।
রাহেলা বেগম বিরক্ত গলায় বললেন, কী বলেন এসব পাগল-ছাগলের কথা! নিশা-ফিসা করেন নাই তো! গাঁজায় দম দিছেন? মাথাটা কি পুরাই গেছে গা? এই জন্যই কইছিলাম, একা ঢাকা যাইয়েন না। 
রহমত সাহেব ফোন রেখে হাঁটা শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর আবার বউকে ফোন দিয়ে বললেন, বউ, আমি যেন কই যাইতেছিলাম?
রাহেলা এবারও বিরক্ত গলায় বললেন, আপনের হইছে কী, পথ হারায়ে ফেলছেন? আপনে এখন কোন চিপায়?
রহমত সাহেব কাঁচুমাচু মুখে বললেন, বউ, আমি বোধহয় ব্রাজিল চইলা আসছি। আলমারি খুইলা দেখ তো, আমার পাসপোর্টটা জায়গামতো আছে কি না, নাকি আমি সঙ্গে করে লইয়া আসছি! 
রাহেলা আলমারি খুলে দেখে বললেন, পাসপোর্ট তো বাসায় আছে। আপনের হইছে কী? একবার বলেন আর্জেন্টিনা, আবার ব্রাজিল! মাথামোতা গেছে গা?
রহমত বিড়বিড় করে বললেন, বউ, আমার মাথাটা বোধহয় আউলায় গেছে। কিছুই বুঝতেছি না। আমারে বোধহয় পাগলের ডাক্তার দেখাইতে হইব।
কথা শুনে রাহেলা হায় হায় করতে লাগলেন, আপনে গেলেন ভালো মানুষ, ঢাকায় গিয়া পাগল হয়ে গেলেন! হায় রে! আমার কী হবে গো!
বলেই তিনি কাঁদতে বসে গেলেন। তিনি ধরে নিলেন স্বামীর মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিন্তিত মুখে সব ছেলেমেয়েকে ফোন করতে লাগলেন। বড় ছেলে ঢাকায় থাকে, সে ফোন ধরছে না। মনে হয় সবাই ঘুমে।
রহমত সাহেব অজপাড়াগাঁয়ের সহজ-সরল একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক। ভাঙাচোরা স্কুলে প্রায় বিনা বেতনে পড়িয়েছেন। তাদের গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছে নাই, দুনিয়ায় খবর তেমন জানেন না। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। কষ্ট করে সবাইকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার পুরো জীবন কেটেছে গ্রামে সৎভাবে জীবনযাপন করে। 
তার এক ছেলে চাকরিসূত্রে ঢাকায় থাকে। এক ছেলে সৌদি আরব। তিনি রাহেলা বেগমকে নিয়ে গ্রামে বাস করেন। ছেলে বলেছিল ঢাকায় এসে থাকতে। তিনি রাজি হননি। 
সহজ-সরল মানুষ তিনি। এর আগে শহর বলতে মাত্র দুইবার ঢাকায় এসেছিলেন, যখন ছেলে নতুন বাসা নিয়েছে। অবশ্য চিকিৎসার জন্য একবার তাকে ভারত যেতে হয়েছিল, ছোট ছেলে নিয়ে গিয়েছিল। 
শহরের হাবভাব তিনি কিছুই জানেন না। ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি একাই তড়িঘড়ি করে বাসে চড়ে বসেছেন। 
গতকাল রাতে তিনি রংপুর থেকে বাসে উঠেছেন, ছেলের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। সকালে ঢাকায় নেমে তিনি হাঁটা শুরু করেছেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে এতটুকু পথ তিনি হেঁটেই ছেলের বাসায় যেতে চান। প্রতিদিন সকালে তার হাঁটার অভ্যাস।
বাস থেকে নেমে তিনি তাকিয়ে দেখেন প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে পতপত করে আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে। তিনি অবাক হয়ে ভাবলেন, এ আমি কোথায় এলাম! ভুল করে অন্য কোথাও আসি নাই তো!
সকালবেলা রাস্তাঘাট ফাঁকা, কাউকে কিছু জিগ্যেস করার উপায় নাই। হাঁটতে হাঁটতে দেখেন, একটা বাড়িতে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা উড়ছে। বাড়িটাও আর্জেন্টিনার পতাকার মতো রং করা। দুইটা বাচ্চাকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসতে দেখলেন। তাদের গায়ের গেঞ্জির কালার  আর্জেন্টিনার পতাকার মতো। তিনি বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন। তার পর বউকে ফোন দিলেন।
কিছুদূর হাঁটার পর দেখলেন এ পাড়ার অন্য একটা বিল্ডিংয়ে ব্রাজিলের পতাকা উড়ছে। এই বিল্ডিং ব্রাজিলের পতাকার আদলে রং করা। তিনি আশপাশের বিল্ডিংয়ে তাকিয়ে অনেকগুলো ব্রাজিলের পতাকা দেখতে পেলেন। ছাদে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে, তার গেঞ্জিতে ব্রাজিলের পতাকা দেখা যায়। তার মাথা গেল আউলাইয়া। তিনি আবার বউকে ফোন দিলেন। 
বউয়ের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি অসুস্থ বোধ করতে লাগলেন। টলতে টলতে কোনোরকমে ছেলের বাসায় উপস্থিত হলেন। গিয়ে দেখেন, বাসার সবাই তখনো ঘুমে। তখন তার বিশ্বাস হলো, নাহ, তিনি বাংলাদেশেই আছেন। এই তো ছেলের বাড়ি!

জিতলে সোনার চেইন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
জিতলে সোনার চেইন
এঁকেছেন মাসুম

বউ বলল, দল পাল্টে ব্রাজিলে চলে আসো। আত্মিক ও আর্থিক–দুই দিক দিয়েই লাভ হবে।
আত্মিক লাভের বিষয়টি না হয় বুঝলাম। শ্বশুরের সুদৃষ্টি থাকবে আমার ওপর। জামাইকে নিজের দলে পেয়ে খুশি হবেন, প্রশংসা করবেন। শ্বশুরের প্রশংসায় ভিজে আমারও খানিকটা ভালো লাগবে। কিন্তু আর্থিক লাভের বিষয়টি মাথায় ঢুকল না।
জিজ্ঞেস করলাম, আর্থিক লাভটা একটু বুঝিয়ে বলো তো।
বউ আহ্লাদিত গলায় বলল, ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলে বাবা তার সব ব্রাজিল সাপোর্টার আত্মীয়কে সোনার চেইন উপহার দেয়। সেমিফাইনালে উঠলে পাঞ্জাবি, কোয়ার্টারে শার্ট, আর সেকেন্ড রাউন্ডে গেলে লুঙ্গি।
আমি শান্ত গলায় বললাম, তা বুঝলাম। কিন্তু তাই বলে দল পাল্টাব?
– এখন সোনার যা দাম! এত দিনে একটা সোনার জিনিসও তো কিনে দিতে পারোনি। দল পাল্টে ব্রাজিলে গেলে অন্তত একটা সোনার চেইন তো দিতে পারবে।
বললাম, ব্রাজিল যে দল! চ্যাম্পিয়ন হবে, এমন ভরসাও তো নেই। বড়জোর লুঙ্গিটুঙ্গি পাওয়া যেতে পারে।
বউ সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, তবু একটা চান্স তো থাকবে। আর আর্জেন্টিনা জিতলে? ঘোড়ার ডিমও পাবে না।
কথাটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর্জেন্টিনা জিতলে লাভ বলতে কয়েক দিন ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুদের 
খোঁচা দিয়ে একটু শান্তি। কিন্তু ব্রাজিল সমর্থক সেজে যদি বউকে কয়েক মাস শান্ত রাখা যায়, তাহলে হিসাব-নিকাশে ব্রাজিলই এগিয়ে।
গাট্টি-বোচকা বেঁধে রওনা দিলাম শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে। এই মাসটা অফিসও ওখান থেকেই করব। রাতে শ্বশুরের পাশে বসে খেলা দেখব, ব্রাজিল গোল করলে বুক চাপড়ে হাততালি দেব।
গিয়ে দেখি, এ যেন শ্বশুরবাড়ি নয়–বিশ্বকাপ ক্যাম্প। মামা, খালু, ফুপা, চাচা–সবাই পরিবার নিয়ে হাজির। বাড়িতে উৎসবের আমেজ। 
আমাকে ব্রাজিলের জার্সি পরে ঢুকতে দেখে শ্বশুর বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হেক্সা আসবেই!
আমাদের জায়গা হলো চিলেকোঠায়। কারণ আমরা নাকি অনেক দেরিতে এসেছি। ছোট মামা তো বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগেই এসে সিট দখল করে বসে আছে! যাই হোক, সোনার চেইনের জন্য চিলেকোঠাও মেনে নেওয়া যায়। 
তবে বিপদ বাঁধল খাওয়া নিয়ে। শ্বশুরের ঘোষণা, ব্রাজিল বিশ্বকাপে যত দিন থাকবে, তত দিন রান্না হবে ব্রাজিলের পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শুধু খিচুড়ি আর সবুজ শাক।
খেলা শুরু হলে শ্বশুর আরও ভয়ংকর। কখনো টিভির সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন, কখনো খেলোয়াড়কে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘ওর গালে একটা চড় মার!’ কখনো আবার পর্দার দিকে ঘুষি ছুড়ছেন। মনে হচ্ছিল ফুটবল ম্যাচ না, অ্যাকশন সিনেমা দেখছি।
প্রথম ম্যাচে ব্রাজিল ড্র করল। মনে হলো, এরা সেকেন্ড রাউন্ডেই উঠতে পারবে তো? তখনই হিসাব কষতে শুরু করলাম–এখন যদি আবার আর্জেন্টিনায় ফিরে যাই, অন্তত ব্রাজিলভক্ত বন্ধুদের খোঁচা দেওয়ার অধিকারটা ফিরে পাব। কিন্তু বউয়ের শান্তির কথা ভেবে ব্রাজিলের সঙ্গেই রয়ে গেলাম। কষ্টেসৃষ্টে ব্রাজিল সেকেন্ড রাউন্ডে উঠল। হাতে এল লুঙ্গি। কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে পেলাম হলুদ শার্ট। সেমিফাইনালে উঠতেই হাতে এল ক্যাটক্যাটে হলুদ পাঞ্জাবি। এবার শুধু সোনার চেইনটা বাকি।
মনে মনে ভাবছি, ব্রাজিল ফাইনালে খুব একটা হারে না। ইতিহাসও তাই বলে, পরিসংখ্যানও তাই বলে। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন। আমার চোখে তখন আর বিশ্বকাপ নেই–শুধু সোনার চেইন ভাসছে।
ওদিকে ট্রফি দেওয়ার আগে বক্তৃতা চলছে। এদিকে শ্বশুরও গলা খাঁকারি দিয়ে বক্তব্য শুরু করলেন।
– হেক্সা চলে এসেছে। সবাই আনন্দ করো। তবে আগে আমার উপহার গ্রহণ করো।
উত্তেজনায় বুক ধড়ফড় করছে। অবশেষে বউকে একটা সোনার গহনা দিতে পারব!
শ্বশুর বললেন, আগে নিয়মটা বলি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একসময় কোনো দল তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে আসল ট্রফি স্থায়ীভাবে পেত। এখন বিজয়ী দলও রেপ্লিকা ট্রফি পায়। আমাদের বাড়িতেও সেই নিয়ম চালু করছি। 
আমরা সবাই হাঁ করে তাকিয়ে আছি।
– তাই আসল সোনার চেইন পাবে শুধু বড় মামা। ১৯৯৪, ২০০২ আর ২০২৬–এই তিনটি বিশ্বকাপ সে আমার সঙ্গে একসঙ্গে উপভোগ করেছে। বাকিরা পাবে...চেইনের রেপ্লিকা।
আমার মাথার ভেতর যেন বাঁশি বাজতে লাগল। এত দিন খিচুড়ি খেলাম, চিলেকোঠায় পড়ে রইলাম, নিজের দল ছেড়ে ব্রাজিল করলাম! শেষে পেলাম রেপ্লিকা চেইন!
চেইনটা হাতে নিয়ে শুধু একটা কথাই মনে হলো, চেইনটা যেমন রেপ্লিকা, আমার সমর্থনটাও তেমন রেপ্লিকা।

কারণ জানুন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
কারণ জানুন
এঁকেছেন মাসুম

পুরুষরা কেন ক্লাবে বা ক্যাফেতে বসে ফুটবল খেলা দেখতে পছন্দ করে? আসুন কারণটা জেনে নিই।


স্ত্রী: কোথায় যাচ্ছ?  
স্বামী:  ক্লাবে গিয়ে বিশ্বকাপের খেলা দেখব।  
স্ত্রী: আমার সঙ্গে দেখলে সমস্যা কী?  
স্বামী: আমি বন্ধুদের সঙ্গে দেখতে চাই।  
স্ত্রী: তা হলে আমি তোমার কাছে কিছুই না?  
স্বামী: আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি থাকছি।
স্ত্রী: গোলকিপার কালো জামা কেন পরে আছে?  
স্বামী: ওর মা মারা গেছে। তাই শোক পালন করছে।  
স্ত্রী: ধারাভাষ্যকার সব খেলোয়াড়ের নাম কীভাবে জানে?  
স্বামী: এটাই ওর কাজ।  
স্ত্রী: একটা গোল হলো!  
স্বামী: না, ওটা অফসাইড ছিল।  
স্ত্রী: অফসাইড আবার কী?  
স্বামী: না, ওটা গোলই ছিল। মজা করছিলাম।  
স্ত্রী: ঠিক আছে, কিন্তু অফসাইডটা আসলে কী?  
স্বামী: অফসাইড হলো কোচের নাম।  
স্ত্রী: কোচ কোথায়?  
স্বামী: উনি মাঠের বাইরে।  
স্ত্রী: উনি খেলছেন না কেন?  
স্বামী: না, উনি খেলেন না। উনি খেলোয়াড় বদলান আর খেলার কৌশল ঠিক করেন।  
স্ত্রী: আচ্ছা বলো তো, ম্যারাডোনা কি আছে ওখানে?  
স্বামী: না, উনি মারা গেছেন।  
স্ত্রী: হায় হায়! কীভাবে?  
স্বামী: উনি বউয়ের সঙ্গে বসে খেলা দেখছিলেন।

ব্রাজিলিন্টিনা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ব্রাজিলিন্টিনা
এঁকেছেন মাসুম

তিন গ্রামের মিলনস্থল একটা মোড়। মোড়ের ঠিক মাঝখানে মজনু ভাইয়ের একমাত্র দোকান ‘ব্রাজিলিন্টিনা টি স্টল’। বিকেলবেলা বেশ জমজমাট হয়। এই দোকানের রেগুলার আর সবচেয়ে ভিআইপি কাস্টমার দুজন মুরব্বি। একজন শফিক মুনশি, আরেকজন রহমত পালোয়ান। দুজনের বয়সই সত্তর ছুঁইছুঁই প্রায়। মুখভর্তি ধবধবে সাদা দাড়ি, পরনে লম্বা জোব্বা, মাথায় টুপি। দুজনেই এলাকার বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তি।
শফিক মুনশি কট্টর ব্রাজিল সাপোর্টার। তার জোব্বাটা এখন টকটকে হলুদ, হাতা-গলায় সবুজ পাইপিং, পিঠে বড় করে ‘BRASIL-5’ লেখা। টেইলার্স থেকে অর্ডার দিয়ে টুপি, লুঙ্গি, গামছা পর্যন্ত হলুদ-সবুজ রঙে কাস্টমাইজড ডিজাইন করেছেন। 
উনি বলেন, ‘ব্রাজিল মানে ফুটবলের শিল্প। ব্রাজিলের খেলোয়াড় হলো জন্মগত ফুটবলার।’ 
তিনি ১৯৮২ থেকে খেলা দেখেন। প্রিয় দলের প্রতি এতটাই দুর্বল যে, দোয়া করেন, ‘প্রভু, ব্রাজিলরে জিতায় দিও। আর মেসি যেন ইনজুরিতে পড়ে!’
রহমত পালোয়ান আবার আর্জেন্টিনার জন্য জান কোরবান। তার জোব্বা নীল-সাদা ডোরাকাটা, পিঠে সোনালি কালারে ‘MESSIDONA-10’ লেখা। তিনিও শফিক মুনশির মতোই লুঙ্গি, গামছা, টুপি, মোজা, এমনকি ভেতরের স্যান্ডো গেঞ্জিটাও নীল-সাদা রঙে কাস্টমাইজড ডিজাইন করে নিয়েছেন। 
উনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা খেলে দিল থেকে। মেসি আর ম্যারাডোনা হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেয়ার।’ 
তিনিও দোয়া করেন, ‘প্রভু, নেইমার যেন ফাউল করে লাল কার্ড খায়!’
দুই মুরব্বি এক বিষয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী; তা হলো ফুটবল। দুজন মিলে মজার পণ করেছেন। যেদিন আর্জেন্টিনা জিতবে বা যে কারও কাছে ব্রাজিল হারবে, সেদিন টি স্টলের সব দর্শকের নাশতার বিল দেবেন রহমত পালোয়ান। আর ব্রাজিল জিতলে অথবা আর্জেন্টিনা যে কারও কাছে হারলে বিল দেবেন শফিক মুনশি।
দুজনের এই পাগলামি আর ফ্রি নাশতার লোভে খেলার দিন দোকানে তিলধারণের জায়গা থাকে না। বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়। পোলাপান মজা করে তাই মজনু মিয়ার টি স্টলের নাম দিয়েছে ‘ব্রাজিলিন্টিনা টি স্টল’। দোকানের ভেতরে-বাইরে পুরোটাই ব্রাজিলিন্টিনা রঙে রাঙানো। খেলার দিন রীতিমতো এখানে মেলা বসে। কারণ এখানে খেলার চেয়ে বড় হলো দুই মুরব্বির তর্কাতর্কি। সেটাই পোলাপান বেশি উপভোগ করে।
চার বছর পর বিশ্বকাপ এলেই তুমুল তর্ক শুরু হয়। গতকাল ছিল ফাইনাল খেলা। পুরো গ্রামের লোক ‘ব্রাজিলিন্টিনা টি স্টলে’।
শফিক মুনশি বুক ফুলিয়ে বললেন, ‘দেখিস রহমত, আমার সবুজ-হলুদের বরকতে আজ ব্রাজিল হালি হালি গোল দেবে।’
রহমত পালোয়ানও দমবার পাত্র নন। তিনিও গামছা টেবিলে রেখে বললেন, ‘আর আমার নীল-সাদার অছিলায় মেসি আজ হ্যাটট্রিকের ইতিহাস লিখবে। ব্রাজিল গোলের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়বে!’
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে খেলা শুরু হলো। প্রথম গোলটা ব্রাজিল করলেও ৯০ মিনিট শেষে স্কোর হয় ২-২। অতিরিক্ত সময়েও গোল নাই! শেষ ভরসা পেনাল্টি। দোকানের সবারই দম বন্ধ, শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা! ব্রাজিল কয়েকটি পেনাল্টি মিস করল, শেষে আর্জেন্টিনাও মিস করল। পরিশেষে ম্যাচের ফলাফল হলো ড্র। এককভাবে ট্রফি কেউ পেল না। শেষমেশ দুদলকেই ট্রফি ভাগ করে দেওয়া হলো, যেন কেউই জয়ের স্বাদ থেকে বঞ্চিত না হয়; মন খারাপ না করে।
রাত সাড়ে ১২টায় খেলা শেষে দুই মুরব্বি চুপচাপ চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। মজনু মিয়া বলল, ‘চাচাজান, আপনাদের দল বিশ্বকাপ এককভাবে পায় নাই তো কী হয়েছে? এই নেন, আপনাদের জন্য আমি কাপ নিয়ে এসেছি। এইটাই আপনাদের কাপ।’
এ কথা বলেই চায়ের পাতির সঙ্গে ফ্রি পাওয়া আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির ডিজাইনে রং করা দুটি সিরামিকের মগ এগিয়ে দিল মজনু মিয়া।
তার পর আবার বলল, ‘শোনেন চাচা, আপনাদের তর্কাতর্কি শুনেই পাড়ার পোলাপান আজ ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখেছে।’
মজনু মিয়ার কথা শুনে শফিক মুনশি হাসলেন। তার পর বললেন, ‘ধন্যবাদ মজনু।’
একটু থেমে আবার বললেন, ‘নে রহমত, আজ থেকে আর ঝগড়া হবে না। তোর নীল-সাদার পাশে আমার সবুজ-হলুদ। আমরা দুজন মিলেই এক দল।’
রহমত পালোয়ান দাড়িতে হাত বুলিয়ে বললেন, “ঠিক কইছো বন্ধু। যেহেতু আমাদের দুই দলই সমান, তাই আমরা আজকে থেকে ‘ব্রাজিলিন্টিনা’।”

বহুরূপী মতিন ভাই

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
বহুরূপী মতিন ভাই
এঁকেছেন মাসুম

আমাদের মদনগঞ্জ গ্রামের অদ্ভুত ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে মতিন ভাই একজন।
কথা দিয়ে কথা রাখার ব্যাপারে তিনি যেন মেসির মতো—ডি-বক্সে বল পেলে যেমন গোল নিশ্চিত, মতিন ভাইয়ের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিশ্রুতিও তেমনই ফাইনাল। একবার সামান্য একটা বাজিতে হেরে তিনি মাথা ন্যাড়া করে পুরো গ্রাম সাতবার চক্কর দিয়েছিলেন। অথচ যিনি বাজিতে জিতেছিলেন, তিনিই পরে বলেছিলেন–বাদ দাও, লাগবে না।
কিন্তু মতিন ভাই? না। কথার বরখেলাপ হবে–এটা তিনি সহ্যই করতে পারেন না।
এই হলো মতিন ভাই। আর এই মতিন ভাইকেই মানুষ ‘বহুরূপী মতিন’ বলে উপহাস করে। বড়ই আশ্চর্য! তবে এটা তার সিজনাল নাম। ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই তার এই নামের প্রচলন শুরু হয়ে যায়।
চলছিল ২০০২ বিশ্বকাপের মৌসুম, সঙ্গে মতিন ভাইয়ের প্রেমের ভরা মৌসুম। ব্রাজিলের হাড্ডাহাড্ডি সাপোর্টার মতিন ভাইকে ডেকে তার তৎকালীন প্রেমিকা বললেন, ব্রাজিল ছাড়তে হবে। না ছাড়লে আমি ছেড়ে যাব। প্রেমের শুরুতে কথা দিয়েছিলে যা বলব তাই করবে।
মতিন ভাই একটু না ভেবে ব্রাজিল ছাড়লেন এবং যোগ দিলেন আর্জেন্টিনায়। ফলাফল–আর্জেন্টিনা প্রথম রাউন্ডেই বিদায়।
অন্যদিকে দুই বছর পর প্রেমিকাও মতিন ভাইকে বিদায় দিয়ে ইউরো দেখতে অন্য কারো হাত ধরে ইউরোপে উড়াল দিলেন।
প্রেমিকা ছেড়ে গেলেও মতিন ভাই দল ছাড়েননি। আর্জেন্টিনাকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু ২০০৬ বিশ্বকাপে বিপত্তি বাঁধালেন তার স্ত্রী। নতুন বউ আবদার করে বসল জিদানের দল সাপোর্ট করতে। মানে ফ্রান্স। ফ্রেঞ্চ ছেলেরা নাকি বউয়ের ক্রাশ।
মতিন ভাই ভাবলেন, প্রেমিকার জন্য যদি দল পাল্টাতে পারি, বউয়ের জন্য না পাল্টালে মান থাকে!
ব্যাস! মতিন ভাই যোগ দিলেন ফ্রান্স শিবিরে। সেবার ফ্রান্স দারুণ খেলে ফাইনালে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু জিদানের গুঁতোয় কাপটাও গুঁতো খেল।
সময় এল ‘ওয়াকা ওয়াকা’র। আফ্রিকা বিশ্বকাপ ২০১০। মতিন ভাই তখন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করেন। বস ভীষণ কড়া। টার্গেট অনুযায়ী কাজ না করতে পারলে বকার চোটে চেয়ারে বসা যায় না। বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে নোটিশ জারি করলেন, এই অফিসে কর্মরত সবাই যেন বিশ্বকাপ চলাকালীন ইংল্যান্ড জার্সি পরে অফিসে আসে এবং মনে-প্রাণে ইংল্যান্ড টিমকে সাপোর্ট করে।
আসলে কোম্পানি ব্রিটিশ ছিল তো। বসেরও নোটিশ না দিয়ে উপায় ছিল না। আর নোটিশ না মানলে কী হতো, সেটা তো বসের আচরণেই বোঝা যায়। তাই কী আর করা! চাকরি বাঁচাতে ঘাঁটি গাড়লেন ব্রিটিশ শিবিরে।
দ্বিতীয় রাউন্ডে ইংল্যান্ড বাদ। মতিন ভাইয়ের ইংল্যান্ড সাপোর্ট করাও বাদ।
২০১৪ বিশ্বকাপে মতিন ভাই ফিরে গেলেন তার পুরোনো প্রেম ব্রাজিলের কাছে। কিন্তু সেমিফাইনাল দেখার পর শপথ করলেন–কেউ বিনামূল্যে সেভেনআপ খাওয়াতে চাইলেও খাবেন না, বরং উল্টো টাকা দিয়ে তাকেই বিদায় করবেন।
২০১৮ বিশ্বকাপে ভাবলেন–আবেগে, প্রেশারে অনেক তো দল পাল্টালেন। এবার এমন একটা দল সাপোর্ট করা দরকার যারা সত্যিই ভালো খেলে। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আতঙ্ক জার্মানি সাপোর্ট করলে কেমন হয়! যেমন বলা তেমন কাজ। বিশ্বকাপ শুরু হতেই জার্মানির জার্সি গায়ে লাফালাফি। কিন্তু প্রথম রাউন্ড শেষ হতেই ছেলেমেয়েরা ছড়া বানাল–
জার্মানি তো গেল হারি
মতিন ভাইয়ের মাথায় বাড়ি।
২০২২ বিশ্বকাপে কুইজ জিতে ২০০টি স্পেনের জার্সি উপহার পেলেন। এতগুলো জার্সি ফেলে তো দেওয়া যায় না। নিজে কয়েকটা পরলেন, কয়েকটা বন্ধুদের দিলেন। চারদিকে রটে গেল মতিন ভাই এবার স্পেনের সাপোর্টার। মতিন ভাইও মেনে নিলেন। এতগুলো জার্সির মায়া তো কম কথা না। সেবার স্পেন বিশ্বকাপের মায়া কাটাল দ্বিতীয় রাউন্ডে।
আবারও বছর ঘুরে চলে এল বিশ্বকাপ। এইবার মতিন ভাই কোন দল সাপোর্ট করছেন তা এখনো শিওর হওয়া যায়নি। উড়ো খবর শোনা যাচ্ছে, আবারও নাকি আর্জেন্টিনায় ফিরে গেছেন তার সেই প্রেমিকার স্মরণে। কয়েকদিন আগে সেই প্রেমিকা একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে নাকি অস্পষ্টভাবে মতিন ভাইকে স্মরণ করা হয়েছে।
মানুষ তাকে বহুরূপী ডাকে, তাতে তার আফসোস নেই। কিন্তু তার কপাল এতটা খারাপ কেন! যাকেই সে আগলে ধরেছে, সেই তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
পুনশ্চ: আর্জেন্টিনা ফ্যানদের জন্য ছোট্ট সতর্কবার্তা–
মতিন ভাই যদি আবার সত্যিই আপনাদের দলে এসে থাকেন, তাহলে এবার বিশ্বকাপে নাটক জমে যেতে পারে।

বিশ্বকাপের আসল হিরো

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
বিশ্বকাপের আসল হিরো
ছবি এআই

বিশ্বকাপ শুরু হলেই আলোকদিয়ার বাজারের চেহারা বদলে যায়। বাজারের প্রতিটি দোকান, মোড় আর চায়ের দোকানে ফুটবল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক জমে ওঠে। কেউ ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ আবার জার্মানির সমর্থক।
আল্লেক ব্রাজিলের পাগল সমর্থক। মজিদ আর্জেন্টিনার। মফিজ জার্মানির। গেদু প্রতিদিন দল বদলায়। আর লেদু? সে ফুটবল ভালোবাসে, কিন্তু কোনো দলের জন্য কারও সঙ্গে ঝগড়া করে না।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক দিন পর বাজারে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করল।
রাতে যে দলের পতাকা টাঙানো হয়, সকালে দেখা যায় তার পাশে অন্য দলের পতাকা ঝুলছে। ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনার পাশে জার্মানি, জার্মানির পাশে আবার ব্রাজিল!
পুরো বাজারে হইচই পড়ে গেল।
আল্লেক রেগে বলল, এটা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাজ!
মজিদ প্রতিবাদ করল, বরং ব্রাজিলের লোকজন করছে!
মফিজ গম্ভীর মুখে বলল, আমার মনে হয়, এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
গেদু ফিসফিস করে বলল, আমি শুনেছি, বিশ্বকাপ দেখতে বিদেশি গুপ্তচর এসেছে।
এই কথা মুহূর্তেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ল। পরদিন সবাই একটাই কথা বলতে লাগল–‘আলোকদিয়ার বাজারে নাকি গুপ্তচর ঘুরছে!’
রাতে পাহারার ব্যবস্থা হলো। আল্লেক, মজিদ, মফিজ আর গেদু হাতে টর্চ নিয়ে বসে রইল। কিন্তু লেদু চুপচাপ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিল।
রাত গভীর হলো। হঠাৎ একটা ছায়ামূর্তি দেখা গেল। লোকটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে একটি পতাকা খুলে অন্য একটি পতাকা লাগাতে শুরু করল।
আল্লেক চিৎকার করে উঠল,–ধর! গুপ্তচর!
চারদিক থেকে সবাই ছুটে এল।
কিন্তু লেদু বলল, কেউ এগিয়ো না। আগে দেখি ব্যাপারটা কী।
লোকটি কাজ শেষ করে চলে যেতে লাগল। লেদু নিঃশব্দে তার পিছু নিল। বাজারের সবাই দূর থেকে অনুসরণ করতে লাগল। লোকটি বাজারের শেষ মাথায় পুরোনো একটি ঘরের সামনে এসে থামল।
লেদু এগিয়ে গিয়ে বলল, চাচা, ভয় পাবেন না। আমরা শুধু জানতে চাই, আপনি কেন এটা করছেন?
টর্চের আলোয় দেখা গেল, তিনি বাজারের বৃদ্ধ পাহারাদার।
চাচা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, বাবারা, তোমরা ফুটবল নিয়ে এত ঝগড়া করো যে আমার কষ্ট হয়। তাই আমি সব দলের পতাকা একসঙ্গে লাগিয়ে দিই, যেন কেউ কারও শত্রু না হয়।
কথা শুনে সবাই হতবাক। আল্লেক মাথা নিচু করল। মজিদও চুপ। মফিজের মুখে কোনো কথা নেই। শুধু গেদু বলল, তা হলে গুপ্তচর নেই?
–না।
–ভিনগ্রহবাসীও না?
–না।
–আহা! আমি তো তিন দিন ধরে দূরবিন নিয়ে পাহারা দিলাম!
এ কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
পরদিন লেদু বাজারে একটি নতুন প্রস্তাব দিল, আমরা কেন শুধু নিজের দলের পতাকা টাঙাব? বিশ্বকাপ তো সবার উৎসব। চলুন, বাজারের মাঝখানে সব দেশের পতাকা একসঙ্গে তুলি।
প্রথমে সবাই অবাক হলেও পরে রাজি হয়ে গেল।
নির্ধারিত দিনে বাজারে মানুষ জড়ো হলো। আল্লেক, মজিদ, মফিজ, গেদু সবাই কাজ করছে। কিন্তু পতাকা তোলার সময় আবার ঝামেলা।
আল্লেক বলল, ব্রাজিলের পতাকা মাঝখানে থাকবে।
মজিদ বলল, না, আর্জেন্টিনার থাকবে।
মফিজ বলল, জার্মানির আগে কিছু হবে না।
তর্ক শুরু হয়ে গেল।
ঠিক তখন লেদু দড়ি হাতে নিয়ে বলল, পতাকার জন্য যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়, তা হলে পতাকা তোলারই দরকার নেই।
সবাই চুপ হয়ে গেল। লেদুর কথা শুনে বাজারের মানুষ হাততালি দিল। শেষ পর্যন্ত সব দেশের পতাকা একসঙ্গে উড়ল আকাশে। সেদিন সন্ধ্যায় আলোকদিয়ার বাজার যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠল। গেদু হাসতে হাসতে বলল, আমি আজ থেকে সব দলের সমর্থক!
আল্লেক বলল, তা হলে হারলেও কষ্ট পাবি না।
গেদু উত্তর দিল, সেটাই তো সুবিধা!
এই কথা শুনে আবার হাসির রোল পড়ে গেল।
সেদিন থেকে আলোকদিয়ার বাজারে বিশ্বকাপ এলেই মানুষ লেদুর কথা মনে করে। কারণ সে সবাইকে বুঝিয়েছিল, ফুটবল মানুষকে ভাগ করার জন্য নয়, এক করার জন্য। আর সেই কারণেই লেদুই হয়ে উঠেছিল আলোকদিয়ার বাজারের বিশ্বকাপের আসল হিরো।