মসজিদে নববির ঠিক উল্টো দিকে এক স্বপ্নের মতো বাগান ‘বায়রুহা’। সারি সারি খেজুরগাছ, ছায়াঘেরা পথ, আর মিষ্টি পানির ঝর্ণাধারা। স্বয়ং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন, সেই সুপেয় পানি পান করতেন। বাগানের মালিক আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু–মদিনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী। আর এই বায়রুহা ছিল তার সম্পদের মুকুটমণি, তার চোখের শীতলতা।
তারপর একদিন নাজিল হলো একটি আয়াত, ‘তোমরা কখনোই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান, ৯২)
আয়াত শোনামাত্র আবু তালহা ছুটে গেলেন নবিজির কাছে, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ বলেছেন, প্রিয় বস্তু ব্যয় না করা পর্যন্ত পুণ্য মিলবে না। আর আমার সম্পদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো বায়রুহা।
এটি আজ থেকে আল্লাহর জন্য সদকা! আমি এর কল্যাণ ও প্রতিদান আশা করি আল্লাহর কাছে।’ নবিজি আনন্দিত হয়ে বললেন, ‘বাহ! এ তো লাভজনক সম্পদ, লাভজনক সম্পদ!’ এরপর পরামর্শ দিলেন বাগানটি নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিতে; আবু তালহা তা-ই করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৬১; সহিহ মুসলিম)
লক্ষণীয় বিষয়টি হলো গতি। আবু তালহা ভাবলেন না, হিসাব কষলেন না, ‘পরে দেখা যাবে’ বললেন না। আয়াত শুনলেন, আর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা দিয়ে দিলেন–যেন আয়াতটা নাজিলই হয়েছিল তার জন্য।
আমাদের পরীক্ষাটাও ঠিক এখানে। আমরা দান করি বটে, তবে বাছাই করে–পুরোনো কাপড়, বাড়তি জিনিস, যা না দিলেও চলত। অথচ কোরআনের মানদণ্ড উল্টো; দানের ওজন মাপা হয় জিনিসের দামে নয়, আপনার হৃদয়ে সেটির দামে। প্রশ্ন করুন নিজেকে, সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর জন্য ছাড়তে পারবেন তো?
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর থেকে সম্পদের মোহ দূর করুন, আর প্রিয় বস্তু আপনার পথে বিলিয়ে দেওয়ার সাহস দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক