ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক ‘ফেভারিট শেফ ২০২৬’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা-বাংলাদেশি শেফ মাদিহা তুরশীন আটোয়ারীতে ৭ কেজি কষ্টিপাথরসহ আটক ২ তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে মাথার চুল কেটে স্ত্রীকে নির্যাতন কেন আর্জেন্টিনাকে ‘আলবিসেলেস্তে’ বলা হয়? জেনে নিন নামটির ইতিহাস হজে ৯৮ হাজার টাকায় যাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বন্যপ্রাণীপ্রেমী সীতেশ রঞ্জন দেব আর নেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ! জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে সেমিফাইনালের আগে এমবাপ্পের চোট নিয়ে শঙ্কা! দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার নারী উন্নয়নে ইসলামিক উম্মাহর সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন টেনশনে রহমত সাহেব বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ৩ দফা দাবিতে উত্তাল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে উদ্বোধন করা হবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সবচেয়ে প্রিয় বাগানটাই দান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বোয়ালমারীতে শিশু বলাৎকারের মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার র‍্যাগিং ও ব্যাচকল ঠেকাতে এবার কঠোর জাককানইবি প্রশাসন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার রামপুরায় নড়াই নদীর নামফলক উধাও, থানায় জিডি সেমিফাইনালের আগে ফের আলোচনায় স্কালোনি-বেকহামের পুরোনো দ্বন্দ্ব এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস ইংল্যান্ড দলে কোনো বিভক্তি নেই: কেইন

কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
কুড়িগ্রামে স্বামী হত্যার ২০ বছর পর স্ত্রী-প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়ক মন্ডল গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিনকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিকসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
 
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক জয়নাল আবেদীন এই রায় দেন।

যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামিরা হলেন,  স্ত্রী নুর নাহার, শাশুড়ি ছকিনা বেগম, শ্বশুর নুর মোহাম্মদ ও পরকীয়া প্রেমিক গফুর।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল উপজেলার গোড়কমন্ডল গ্রামে স্ত্রী নুরনাহার তার স্বামীকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে কৌশলে পাশ্ববর্তী তার প্রেমিকের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী নুর নাহার ও তার বাবা-মা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মিলে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জমিতে মরদেহ ফেলে রাখেন।
 
পরদিন (১৯ এপ্রিল) কেতাব উদ্দিনের বাবা আলী মুদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্ত ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো ও সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। 
 
গোলাম মওলা সিরাজ/আজহার/
 
 

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস
ছবি: মামুন হোসেন, খবরের কাগজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি এই মামলা থেকে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য চার আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। 

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা এজলাসে থাকেন। এরপর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা শুরু করেন।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে আসামিরা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের সরাসরি মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তখন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড, তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রমের সবশেষ পর্যায়- রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

শাকিলা ববি/অমিয়/

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে
আদালতে তোলা হয়েছে আট আসামিকে। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় পড়া চলছে।

ঘটনার পাঁচ বছর ৯ মাস ১৮ দিন পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা এজলাসের ভেতরে ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা করছেন।

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। মামলার আসামিরা হলেন, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয় এবং আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

তৎকালীন দেশজুড়ে আলোচিত হয় এই ধর্ষণকাণ্ড। তাই এ মামলার আসামি ধরা থেকে শুরু করে মামলার শুনানি ও রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় পটপরিবর্তনের পর মামলাটি ২০২৫ সালের মে মাসে দ্রুত নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মামলায় ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।

থিওটোনিয়াস/

গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ এএম
গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সুউচ্চ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ প্রকাশ করে সম্প্রতি তিনি আলোচিত হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট হরিদাসকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (১৩ জুলাই) রিমান্ডে নিয়েছে। 

এর আগে হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ‘মানি লন্ডারিং’-এর অভিযোগ এনে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় গত রবিবার দিনগত রাতে গাইবান্ধা থেকে সিআইডির একটি দল হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনে। পরে গতকাল হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবীর হোসেন।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পুরোনো শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ কালীমন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি রামমূতি নির্মাণের উদ্যোক্তা হিসেবে আলোচনায় আসেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি ও আন্দোলন হয়েছে। 

হরিদাসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা ও গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। 

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। তার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, হরিদাসের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক ধারায় মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

এতে আরও বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরণী দাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন। 

সিআইডির দাবি, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন হরিদাস। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে ‘সেভ’ করা ভুয়া ফোন কল প্রদর্শন করতেন। 

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা-প্রতিবাদ

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গতকাল এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলেছে, বেশ কিছুদিন ধরে উগ্র সাম্প্রদায়িক মহল মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে এসেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে, দেশজুড়ে অহেতুক ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। সেখানে সাম্প্রদায়িক হুমকির শিকার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য এবং তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের নির্লজ্জতম পরিপন্থি। ঐক্য পরিষদ অনতিবিলম্বে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের আশু মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড
আলম মন্ডল। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে ৭ম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের মামলায় আলম মন্ডল (৫৫) নামে একজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন।

আলম মন্ডল আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৩ বছর বয়সি ওই শিশু আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের স্থানীয় একটি মাদরাসায় ৭ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় মাদরাসা থেকে বাড়িতে এসে কাপড় পরিবর্তন করছিলেন ওই শিশু। সে সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী আলম মন্ডল ওই শিশুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে খাটের উপর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামি পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি পরিবারের সবাইকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরের দিন মেয়েটি অসুস্থ হলে তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত সোমবার এই রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসী রিনি বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদী খুশি। এমন রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যে কেউ অপরাধ করলে তার এমনই শাস্তি হবে।

সাগর কুমার/রিফাত/

২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগে মিলবে না পেনশন সুবিধা
হাইকোর্ট

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় কেউ পদত্যাগ করলে পেনশন বা অবসর-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের বিপরীতমুখী রায় বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এর আগে গত ১১ মার্চ বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মাহবুব মোরশেদ নিজেই নিজের পক্ষে শুনানি করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, আইনসভা যৌক্তিক ও নীতিগত বিবেচনায় এমন বিধান করেছে যে, সরকারি চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তিনি পেনশন বা অবসরজনিত কোনো সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। ফলে এ বিধান আইনসঙ্গত এবং কার্যকর।

মামলার নথি অনুযায়ী, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় ১৯ বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।

পরে ২০১৫ সালে চাকরির ১৯ বছর বিবেচনায় ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিক পাওয়ার আবেদন করেন তিনি। তবে একই বছরের ২৫ মার্চ প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় আইন মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয় এবং তা পেনশনের জন্য গণ্য করা যায় না। পাশাপাশি ২৫ বছর পূর্ণ না হওয়ায় ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের আওতায় তিনি পেনশনের যোগ্য নন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ওই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তার পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ ও পরিশোধের নির্দেশ দেন।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন। পরবর্তী শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী কর্মচারীরা পেনশন সুবিধা দাবি করতে পারবেন না- এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।